📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দু'আ ও আরোগ্য

📄 দু'আ ও আরোগ্য


দু'আ ও আরোগ্য
সে সময় কোন ব্যক্তির হঠাৎ কোন অসুখ - বিসুখ হলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে , ফায়মিয়ূন তার জন্য দু'আ করতেন এবং তৎক্ষণাৎ সে ভালো হয়ে যেত । কিন্তু কোন বিপন্ন বা রুগ্ন ব্যক্তির বাড়িতে তাঁকে ডাকলে তিনি যেতেন না । একবার এক গ্রামবাসীর ছেলের অসুখ হল । সে ফায়মিয়ূনে বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানল যে , কারো বাড়িতে তাকে ডাকা হলে তিনি যান না । তবে মজুরীর বিনিময়ে মানুষের বাড়িঘর নির্মাণ করেন । লোকটি তার অন্ধ ছেেেলকে নিজের ঘরে রাখল এবং তাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল । তারপর সে ফায়মিয়ূন কাছে গিয়ে বললো : ফায়মিয়ূন ! আমি নিজের বাড়িতে কিছু কাজ করাতে চাই । তুমি আমার সাথে চল , কি কাজ করতে হবে তা দেখে আসবে । ফায়মিয়ূন তার সাথে গেলেন এবং তার ঘরে প্রবেশ করলেন । তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন : আপনার এ ঘরে আপনি কি কাজ করাতে চান ? লোকটি কাজের বিবরণ দিয়ে বালকের ওপর থেকে চাদর সরিয়ে ফেলল এবং বলল : হে ফায়মিয়ূন ! এ আল্লাহ্ এক অসুস্থ বান্দা । তার ভাল হওয়ার জন্য দু'আ করুন । তিনি দু'আ করতেই বালক সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠে দাঁড়াল ।
ফায়মিয়ূন বুঝলেন , এখানেও তিনি পরিচিত হয়ে গেছেন । তাই তিনি ঐ গ্রাম থেকে প্রস্থান করলেন । সালিহ তাঁর সাথে চলল । সিরিয়ার একটি অঞ্চল দিয়ে একটি বড় গাছের পাশ দিয়ে তিনি যখন যাচ্ছিলেন , তখন ঐ গাছ থেকে এক ব্যক্তি তাকে দেখে ডাকল : হে ফায়মিয়ূন ! ফায়মিয়ূন ডাকে সাড়া দিলেন । সে বলল : আমি তোমার অপেক্ষায় রয়েছি এবং ভাবছি , কখন তুমি আসবে । সহসা তোমার আওয়াজ শুনে চিনলাম যে , তুমি এসেছ । তুমি যেওনা । আমি এক্ষুণি মারা যাচ্ছি । তুমি আমার জানাযা পড়াবে । লোকটি সত্যই মারা গেল । ফায়মিয়ূন তার জানাযা পড়ালেন এবং দাফন করলেন । তারপর আবার রওয়ানা হলেন এবং সালিহ তাঁকে অনুসরণ করল । সে সময় তারা কোন আরব ভূ - খণ্ডে প্রবেশ করলেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 গোলামী এবং কারামত

📄 গোলামী এবং কারামত


গোলামী এবং কারামত
সহসা একটি আরব কাফেলা তাদের উভয়কে অপহরণ করে নাজরানে নিয়ে বিক্রি করল । নাজরানবাসী তখন আরবদের মত পৌত্তলিক ছিল । তারা তাদের সামনে অবস্থিত একটি দীর্ঘ খেজুর গাছের পূজা করত । প্রতি বছর তার কাছে মেলা বসত । মেলার সময় লোকেরা ঐ গাছকে সবচেয়ে সুন্দর কাপড় ও অলংকারাদি দ্বারা সুসজ্জিত করত । কাফেলাটি ঐ গাছের কাছে গেল এবং সেখানে একদিন অবস্থান করল । নাজরানের জনৈক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি কাফেলার কাছ থেকে ফায়মিয়ূনকে এবং অপর একজন সালিহকে কিনে নিল । রাতে ফায়মিয়ূনকে তার মনিব যে ঘরে থাকতে দিত , তিনি সেখানে তাহাজ্জুদের নামায পড়তেন । তাঁর ঘরটি কোন আলো ছাড়াই সারা রাত আলোকিত থাকত । তাঁর মনিব এটা দেখতে পেয়ে বিস্মিত হল । সে তাঁকে তাঁর ধর্ম কি জিজ্ঞেস করল । ফায়মিয়ূন তাকে তাঁর ধর্মের বিষয়ে অবহিত করলেন এবং বললেন : তোমরা গুমরাহীতে লিপ্ত আছ । এই খেজুর গাছ কারো ক্ষতি বা উপকার কিছুই করতে পারে না । আমি যে আল্লাহ্র ইবাদত করি , তাঁকে যদি আমি গাছকে ধ্বংস করে দিতে বলি , তবে তিনি অবশ্যই তাকে ধ্বংস করে দেবেন । তিনি আল্লাহ্ , তাঁর কোন শরীক নেই । তাঁর মনিব বলল : বেশ , তুমি গাছটিকে ধ্বংস করে দেখাও তো দেখি । এটা করতে পারলে আমরা সকলে তোমার ধর্ম গ্রহণ করব এবং আমাদের ধর্ম ত্যাগ করব । ফায়মিয়ূন উযূ করে দু'রাকআত নামায পড়ে আল্লাহ্র দরবারে ঐ গাছটি ধ্বংসের জন্য দু'আ করলেন । আল্লাহ্ তৎক্ষণাৎ একটা ঝড় বইয়ে দিয়ে গাছটিকে সমূলে উৎপাটিত করে ফেললেন । তখন নাজরানবাসী তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হল । তারা হযরত ঈসা , ( আ ) -এর আসল ও অবিকৃত শরীআতের অনুসারী হলো । এরপর নাজরানবাসীর ওপর এমন কিছু আপদ নেমে আসে , যা দুনিয়ার সর্বত্র সত্য দীনের অনুসারীদের ওপর নেমে থাকে । সেই থেকে আরব ভূখণ্ডের নাজরানে ঈসায়ী ধর্মের অভ্যুদয় ঘটে ।
ইবন ইসহাক বলেন : ওয়াহব ইব্‌ন মুনাব্বিহ্ এ ঘটনা নাজরানবাসীদের কাছ থেকেই শুনেছেন ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00