📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 লাখনিআর পাপাচার ও তার পরিণতি

📄 লাখনিআর পাপাচার ও তার পরিণতি


লাখনিআর পাপাচার ও তার পরিণতি
লাখানিআ ছিল একজন ভয়ংকর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি । তার সবচেয়ে জঘন্য পাপাচার ছিল সমকামিতা । রাজ - পরিবারের এক - একজন কিশোরকে সে ডেকে পাঠাত এবং আগে থেকে তৈরি করা একটি পানশালায় সে সেই কিশোরের সাথে অপকর্মে লিপ্ত হত । এভাবে রাজ - পরিবারের পুত্র সন্তানদের বেছে বেছে সে এই জঘন্য লালসার শিকার বানাত এ উদ্দেশ্যে যে , তারা যেন আর কখনো রাজা না হতে পারে । এরপর সে তার ঐ পানশালা থেকে বেরিয়ে একটি মিসওয়াক মুখে নিয়ে স্বীয় প্রহরী ও সৈনিকদের কাছে যেত । মিসওয়াক মুখে নেয়া দ্বারা সে সবাইকে সুকৌশলে জানিয়ে দিত যে , সে তার ঐ অপকর্ম সমাপ্ত করেছে । একদিন তার এই বিকৃত লাম্পট্যের শিকার বানানোর জন্য ডাকা হয় হাসানের ভাই যুরআ যুনুয়াস ইব্‌ন তুব্বান আসআদকে । হাসান নিহত হওয়ার সময় যুনুয়াস ছিল শিশু । এরপর বয়স বাড়ার সাথে সে একটি অনিন্দ্যসুন্দর , সুঠামদেহী ও বুদ্ধিমান কিশোরে পরিণত হয় । যখন লাখানিআর দূত তাকে ডাকতে এল , তখন সে তার কুমতলব আঁচ করতে পারল । সে একখানা তীক্ষ্ণ ধারালো হালকা ছুরি নিজের পায়ের তলায় জুতার ভেতরে লুকিয়ে নিয়ে লাখামিআর কাছে গেল । লাখানিআ যেই যুনুয়াসকে নিভৃতে নিয়ে তার ওপর চড়াও হতে উদ্যত হল , অমনি যুনুয়াস তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলল ।
হত্যা করার পর যুনুয়াস লাখানিআর মাথা কেটে আলাদা করে ফেলল এবং যে চিলেকোঠা থেকে লাখানিআ রাজধানী পর্যবেক্ষণ করত , মাথাটা সেখানে রেখে দিল । মিসওয়াকটাও তার মুখে ঢুকিয়ে রাখল । তারপর সে জনসাধারণের সামনে বেরিয়ে এলো এবং সগর্বে জানাল যে , সে লাখানিআকে হত্যা করেছে । লোকেরা চিলেকোঠায় গিয়ে লাখানিআর ছিন্ন মস্তক দেখল । এরপর জনগণ যুনুয়াসের কাছে গিয়ে বলল : “ তুমি আমাদের এ নরাধমের হাত থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছ । সুতরাং তোমাকে ছাড়া আর কাউকে আমরা রাজা বানাতে পারি না । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যুনুয়াসের রাজত্ব

📄 যুনুয়াসের রাজত্ব


যুয়াসের রাজত্ব
হিময়ার গোত্র ও সমগ্র ইয়ামানবাসীর সম্মতিক্রমে যুনুয়াস ইয়ামানে দীর্ঘস্থায়ী পরাক্রমশালী রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করল । তবে সে ছিল হিময়ার রাজবংশের সর্বশেষ সম্রাট । কুরআনের সূরা বুরূজে পরিখার আগুনে বহু সংখ্যক ঈমানদার নরনারীকে হত্যা করার যে ঘটনার উল্লেখ রয়েছে , এই ব্যক্তি সেই লোমহর্ষক গণহত্যার নায়ক । সে ইউসূফ নামে পরিচিত ছিল । তার রাজত্ব দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়েছিল ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নাজরানে খ্রিস্টধর্মের সূচনা

📄 নাজরানে খ্রিস্টধর্মের সূচনা


নাজরানে খ্রিস্টধর্মের সূচনা
ইয়ামানের নাজরান প্রদেশে হযরত ঈসা আলায়হিস সালামের আসল অনুসারীদের অবশিষ্ট একটি গোষ্ঠী তখনো অবশিষ্ট ছিল । তাঁরা ছিলেন জ্ঞানী গুণী ও সুদৃঢ় মনোবলের অধিকারী । তাদের নেতা ছিলেন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সামির । একমাত্র নাজরানেই তখন হযরত ঈসা ( আ ) -এর দীন আসল ও অবিকৃত ছিল ।
তৎকালে নাজরান ছিল আরব ভূখণ্ডের সবচাইতে উত্তম এলাকা । এখানকার অধিবাসী এবং গোটা আরববাদী ছিল পৌত্তলিক । তাদের ধর্মীয় পরিবর্তন আসার কারণ এই যে , ঈসা ( আ ) -এর একজন প্রবীণ অনুসারী যার নাম ছিল ফায়মিয়ূন , তিনি তাদের কাছে আসেন এবং তাদের খ্রিস্টধর্মের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন । ফলে তারা সে দীন কবূল করে ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00