📄 যুরুআইন-এর কবিতা
যুরুআইন - এর কবিতা
“ সাবধান ! নিজের নিদ্রা হারিয়ে নিদ্রাহীনতাকে বরণ করে নেবে , এমন বোকা কে আছে ? যে ব্যক্তি তার সুখময় জীবন নিয়ে রাত্র যাপন করে , সে - ই প্রকৃত ভাগ্যবান । হিময়ার যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে , তবে যুরুআইনের কোন দোষ নেই । আল্লাহ্র কাছে সে অপ্রাধমুক্ত রইলো । ”
যুক্তআইন তার লেখা এই কবিতার লাইন দু'টি একটি চিরকুটে লিখে তাতে সীল মেরে তা আমরের কাছে নিয়ে গেল । তাকে বলল : “ আমার লেখা এই চিরকুটটা আপনার কাছে রেখে দিন । ” আমর সেটা রেখে দিল । তারপর সে তার ভাই হাস্সানকে হত্যা করল এবং দলবল নিয়ে ইয়ামানে প্রত্যাবর্তন করল ।
এ সময় হিময়ার গোত্রের এক ব্যক্তি আবৃত্তি করলেন : আল্লাহ্র কসম , যে ব্যক্তির চোখ হাসানের মত ব্যক্তিকে নিহত হতে দেখেছে , সে যেন অতিক্রান্ত হয়েছে ( অর্থাৎ মারা গেছে ) ।
তাকে নেতৃস্থানীয় লোকেরা হত্যা করেছে , ( অথচ ) গ্রেফতারীর ভয়ে প্রাতঃকালে তারাই বলেছে , কোন ক্ষতি নেই ।
তোমাদের মৃত ব্যক্তিরা যেমন আমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ , তেমনি তোমাদের জীবিত লোকেরাও আমাদের প্রভু । তোমাদের সকলেই আমাদের প্রভু । ”
📄 আমরের মৃত্যু ও হিময়ার গোত্রের শতধা বিভক্তি
আমরের মৃত্যু ও হিময়ার গোত্রের শতধা বিভক্তি
ইবন ইসহাক বলেন : আমর ইব্ন তুব্বান যখন ইয়ামানে ফিরে গেল , তখন সে ঘোর অনিদ্রার রোগে আক্রান্ত হল । রোগ যখন মারাত্মক আকার ধারণ করল , তখন সে জ্যোতিষী ও ভবিষ্যদ্বক্তাদের মধ্যে যারা চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শী তাদেরকে ডাকল এবং তার রোগ সম্পর্কে তাদের মতামত জানতে চাইল । তাদের একজন তাকে বলল , “ আপনি যেভাবে নিজের ভাইকে হত্যা করেছেন , এভাবে আপন ভাই বা রক্ত সম্পর্কীয় আপনজনকে যখনই কেউ হত্যা করেছে , তাকে এ ধরনের নিদ্রাহীনতায় ভুগতেই হয়েছে । ” কথা শোনার পর আমর তার ভাই হাসানকে হত্যার পরামর্শ দানকারী ইয়ামানের সকল প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যা করা শুরু করল । একে একে তাদের সবাইকে হত্যা করার পর যখন ফুরুআইনের কাছে এলো , তখন যুরুরাইন তাকে বলল : “ আমি যে নির্দোষ , তার প্রমাণ আপনার কাছেই রয়েছে । ” আমর বলল : সেটা কি ? যুরুআইন বলল : আমার লেখা একটা চিরকুট , যা আমি আপনাকে দিয়েছিলাম । তখন আমর সেটা বের করে দেখল , তাতে দুটো পংক্তি লেখা রয়েছে । সে বুঝতে পারল যে , যরুআইন তাকে সদুপদেশই দিয়েছিল । তাই সে তাকে হত্যা থেকে অব্যাহতি দিল ।
এরপর হঠাৎ আমর মারা গেল । তার মৃত্যুর পর হিময়ারী শাসনের ক্ষেত্রে বিশৃংখলা দেখা দিল এবং তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ল ।