📄 তুব্বানের মদীনায় আগমন
ইবন ইসহাক বলেন : তুব্বান আসআদ আগে থেকেই পূর্বদিক দিয়ে মদীনায় আসতেন এবং এভাবে মদীনাবাসীদের বিব্রত না করেই সুকৌশলে আপন , আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেন । সেখানে তিনি নিজের এক পুত্রকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন । কিন্তু উক্ত পুত্র গুপ্তঘাতক কর্তৃক নিহত হয় । এরপর তুব্বান মদীনা ধ্বংস ও তার অধিবাসীদের নির্মূল করার পরিকল্পনা নিয়ে আবার সেখানে আসেন । এরপর বনূ নাজ্জারের সদস্য আমর ইব্ন তাল্লার নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে বনূ আমর ইবন মাবফুলের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে অনুগত লোকদের একটি দল সংঘবদ্ধ হয় । মাবযুলের আসল নাম ‘ আমির এবং তার বংশ পরিচয় হলো : আমির ইব্ন মালিক ই নাজ্জার । নাজ্জারের আসল নাম তায়মুল্লাহ্ ইব্ন সা'লাবা ইব্ন আমর ইব্ন খাযরাজ ইব্ন হারিসা , ইব্ন সা'লাবা ইব্ন আমর ইবন আমির ।
**টিকাঃ**
১. কুতবী লিখেছেন যে , তুব্বান মদীনা আক্রমণ করতে চাননি , কেবল সেখানকার ইয়াহুদীদেরকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন । কারণ আওস ও খাযরাজ গোত্র ইয়ামান থেকে এসে মদীনায় ইয়াহুদীদের পাশাপাশি বসতি স্থাপন করে এবং তাদের সাথে কিছু চুক্তি ও শর্ত সম্পাদন করে । ইয়াহুদীরা এই চুক্তি ভংগ করে এবং তাদেরকে উত্ত্যক্ত করে । এ জন্য আওস ও খাযরাজ তুব্বানের সাহায্য চায় এবং এ কারণেই তুব্বান আসেন ।
📄 আমর ইব্ন তাল্লা ও তার বংশ পরিচয়
আমর ইব্ন তাল্লা ও তার বংশ পরিচয়
ইব্ন হিশামের মতে ' আমর ইব্ন তাল্লার পূর্বপুরুষরা হলো : আমর ইব্ন মুআবিয়া ইন আমর ইবন আমির ইবন মালিক ইব্ন নাজ্জার । তাল্লা হলো আমরের মায়ের নাম ।
📄 তাল্লার বংশ পরিচয়
তাল্লার বংশ পরিচয়
তাল্লা বিন্ত আমির ইবন যুরায়ক ইব্ন আবদে হারিসা ইব্ন মালিক ইব্ন গাযাব ইব্ন জুশাম ইব্ন খাযরাজ ।
📄 মদীনাবাসীর সাথে তুব্বানের যুদ্ধের ঘটনা
মদীনাবাসীদের সাথে তুব্বানের যুদ্ধের ঘটনা -
ইবন ইসহাক বলেন : বনূ নাজ্জার গোত্রের বনূ আদী শাখার আহমার নামক এক ব্যক্তি তুব্বানের অনুসারীদের একজনকে মদীনায় অবস্থানকালে হত্যা করে । হত্যার কারণ ছিল এই যে , আহমার তুব্বানের অনুসারী লোকটিকে তার এক খেজুর বাগানে খেজুর পাড়তে দেখছিল । সে তখন তাকে নিজের দা দিয়ে কোপ দিয়ে খুন করে ফেলে এবং বলে : " খেজুর গাছের যে তত্ত্বাবধান করে , খেজুর পাড়ার অধিকার তারই । " তুব্বানের কাছে এ খবর পৌছামাত্রই যুদ্ধ বেধে যায় । কিন্তু মদীনাবাসী তুব্বানের সাথে এমনভাবে যুদ্ধ চালায় যে , দিনের বেলায় তার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং রাতের বেলায় তার আতিথেয়তা করে । তুব্বান তাদের এ আচরণ দেখে তাজ্জব হয়ে যান এবং মন্তব্য করেন যে , আল্লাহর শপথ ! আমাদের কাওম তো খুবই ভদ্র । এভাবে যুদ্ধে লিপ্ত থাকাকালে বনূ কুরায়যা গোত্রের দু'জন ইয়াহুদী পণ্ডিত " তুব্বানের সাথে দেখা করে । বনূ কুরায়যা গোত্রটি কুরায়যার বংশধর । এই কুরায়যা , নযীর , নাজ্জাম , ' আমর ( আসল নাম হাদাল ) এরা সবাই খাযরাজ ইব্ন সুরায়হ্ ইব্ন তাওসান ইব্ন সাবত ইবন ইয়াসা ইব্ন সাদ ইব্ন লাভী ইব্ন খায়র ইব্ন নাজ্জাম , ইব্ন তানহুম ইব্ন আযির ইবন ইযারা ইবন হারুন ইবন ইমরান ইব্ন ইয়াসহার ইবন কাহিস ইবন লাভী ইবন ইয়াকূব -- অপর নাম ইসরাঈল ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম আলায়হিস্ সালাম ।
মদীনার এই দুই পণ্ডিত ছিলেন আল্লাহ্র কিতাবে বিশেষ পারদর্শী । তুব্বান মদীনা ও তার অধিবাসীদেরকে ধ্বংস করতে চান , এ কথা শুনে তারা তার সাথে দেখা করে । তখন তারা তাকে বলে : হে রাজা ! আপনার ইচ্ছা পরিত্যাগ করুন । যদি যিদ ধরেন , তা হলেও আপনার সামনে বাধা আসবে । ফলে আপনি যা চান তা করতে পারবেন না । অথচ অচিরেই আপনার ওপর যে শাস্তি নেমে আসবে তা ঠেকানোর কোন উপায় আপনার থাকবে না । তুব্বান বললেন : কি কারণে আমার ওপর শাস্তি নেমে আসবে ? তারা বলল : মদীনা শেষ যামানার নবীর হিজরতস্থল । কুরায়শদের দ্বারা তিনি পবিত্র স্থান থেকে বহিষ্কৃত হবেন এবং এখানে এসে বসবাস করবেন ।
এ কথা শুনে রাজা থামলেন । তাঁর মনে হল , লোক দুটো সত্যিই বিজ্ঞ । তাঁদের কথায় রাজা মুগ্ধ হলেন । তিনি মদীনা ত্যাগ করলেন এবং ঐ পণ্ডিতদ্বয়ের ধর্ম গ্রহণ করলেন । এ খবর " পেয়ে কবি খালিদ ইব্ন আবদুল উযয্যা ইব্ন গাযীয়্যা ইব্ন আমর ( ই আবদ ) ইবন আউফ ইব্ন গন্ম ইব্ন নাজ্জার আমর ইবন তাল্লার প্রশংসা করে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন কবিতাটির কয়েকটি লাইনের বাংলা অনুবাদ নিম্নরূপ :
**টিকাঃ**
১. ইবন হিশাম এ লাইনটি স্বীকার না করলেও তাঁর কিতাবুত্ - তীজানে এক সুদীর্ঘ কবিতায় এটি উল্লেখ করেছেন । তার প্রথম লাইনটি হলো : “ তোমার চোখে ঘুম নেই কেন ? মনে হয় যেন বিষাক্ত কাল কেউটে সাপের বিষ দিয়ে ঐ চোখে সুরমা লাগিয়েছ । ”