📄 নুমান ইবন মুনযিরের বংশ সম্পর্কে ভিন্ন মত
সে বলল : হ্যাঁ , যেদিন পৃথিবীর প্রথম ও শেষ মনুষ সকল একত্রিত হবে । যারা সৎকর্মশীল তারা সুখী হবে , আর যারা অসৎ কর্মশীল তারা দুঃখ ভোগ করবে ।
রাজা বললেন : তোমার ভবিষ্যদ্বাণী কি সত্য ?
সে বলল : হ্যাঁ , রাতের আঁধার , ঊষার আলো ও সুবিন্যস্ত প্রভাত সাক্ষী , আমি যা তোমাকে বলেছি তা সত্য ।
এরপর রাজার দরবারে এলো শিক । রাজা সাতীহকে যা যা বলেছিলেন , শিককেও তাই বললেন । কিন্তু সাতীহ্ রাজাকে যা যা বলেছিল , তা তিনি শিককে জানতে দিলেন না । কেননা তিনি দেখতে চাইছিলেন , তাদের উভয়ের বক্তব্য এক রকম হয় , না ভিন্ন ভিন্ন রকমের ।
শিক বলল : আপনি স্বপ্নে দেখেছেন , অন্ধকার থেকে একটি জ্বলন্ত অংগার বেরিয়ে এসে একটি পর্বত ও একটি বাগানের মাঝখানে পড়ল । এরপর তা সেখানকার সকল প্রাণীকে গ্রাস করল ।
যখন শিক এরূপ বলল , তখন রাজা বুঝতে পারলেন যে , উভয়ে স্বপ্নের একই রকমের বিবরণ দিয়েছে । পার্থক্য কেবল এই যে , সাতীহ বলেছিল : জ্বলন্ত অংগারটি নিম্নভূমিতে পড়ল । আর শিক বলেছে : একটি পর্বত ও একটি বাগানের মাঝখানে পড়ল । তারপর তিনি শিককে বললেন : তুমি ঠিকই বলেছ । এখন বল , এ স্বপ্নের তাৎপর্য কি ?
সে বলল : দুই পর্বতময় দেশের সমস্ত মানুষের শপথ করে বলছি , আপনার দেশে সুদানীরা আক্রমণ চালাবে । সকল দুর্বল লোক তাদের অংগুলি হেলনে চলতে বাধ্য হবে এবং আবয়ান থেকে নাজরান পর্যন্ত সমগ্র এলাকা তাদের দখলে চলে যাবে ।
তখন রাজা তাকে বললেন : ওহে শিক ! তোমার পিতার শপথ ! এটাই তো খুবই মর্মন্তুদ ও ক্রোধোদ্দীপক ব্যাপার । এ ঘটনা কবে ঘটবে ? আমরা জীবদ্দশাতেই , না আরো পরে ? সে বলল : আপনার বেশ কিছুকাল পরে । এরপর একজন পরাক্রমশালী ব্যক্তি আপনাদের লোকদের হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত করবে এবং তাদের ভীষণভাবে পর্যুদস্ত ও লাঞ্ছিত করবে ।
রাজা বললেন : এই পরাক্রমশালী ব্যক্তিটি কে ?
সে বলল : একজন তরুণ , যিনি নগণ্য ও দুর্বলচিত্ত নন । যী ইয়াযানের বংশ থেকে তার আবির্ভাব ঘটবে । তিনি হানাদারদের একজনকেও ইয়ামানে টিকতে দেবেন না ।
রাজা বললেন : এই ব্যক্তির আধিপত্য কি চিরস্থায়ী হবে , না ক্ষণস্থায়ী ?
শিক বলল : একজন প্রেরিত রাসূলের আগমনে তার শাসনের অবসান ঘটবে । সেই রাসূল সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন । ধার্মিক ও সৎ লোকদের সাথে আনবেন । তাঁর জাতির আধিপত্য কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে ।
রাজা বললেন : কিয়ামত কি ?
সে বলল : সেদিন শাসকদের বিচার হবে , আকাশ থেকে এমন আহবান আসবে যা জীবিত ও মৃত সকলেই শুনতে পাবে । আর নির্দিষ্ট সময়ে সকল মানুষকে সমবেত করা হবে । সেদিন সংযত লোকদের জন্য হবে সাফল্য ও কল্যাণ । .
রাজা বললেন : তুমি যা বলছ , তা কি সত্য ?
সে বলল : হ্যাঁ , আকাশ ও পৃথিবী এবং তার মধ্যকার সকল সমতল ও অসমতল স্থানের শপথ , আমি আপনার কাছে যা কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করলাম , তা সম্পূর্ণ সত্য ।
রবীআ এই দুই ভবিষ্যদ্বক্তার কথা বিশ্বাস করে নিলেন এবং স্বীয় পরিবার - পরিজনকে প্রয়োজনীয় পাথেয় দিয়ে ইরাক পাঠিয়ে দিলেন । তারপর পারস্যের তৎকালীন সম্রাট শাপুর ইব্ন খুররাযাদকে চিঠি লিখে পাঠালেন । শাপুর তাদেরকে হিরাতে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দিলেন ।
নুমান ইবন মুনযিরের বংশ সম্পর্কে ভিন্ন মত
রবীআ ইব্ন নাসরের বংশধরেরই সর্বশেষ ব্যক্তি হচ্ছেন নুমান ইব্ন মুনযির । ইয়ামানবাসীর মতে তাঁর বংশ পরিচিতি হচ্ছে : নুমান ইব্ন মুনযির ইবন আমর ইব্ন আদী ইব্ন রবীআ , ইব্ন নাসর - ইয়ামানের তৎকালীন রাজা ।
ইবন হিশাম বলেন : খালাফ আহমার আমাকে জানিয়েছেন , নুমানের পিতা . মুনযির তদীয় পিতা মুনযির ।
ইবন হিশাম বলেন : অনেকে নুমান ইবন মুনযির সম্পর্কে অন্যভাবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন, তিনি ছিলেন আলকামার সন্তান, আর আলকামা ছিলেন হাম্মাম ইবন মুররার পুত্র।