📄 সাতীহের বংশ পরিচয়
সাতীহের বংশ পরিচয়
সাতীহ ইবন রাবী ' ইবন রবীআ ইবন মাসউদ ইব্ন মাযিন ইব্ন যিব ইবন আদী ইবন মাধিন গাসান ।
**টিকাঃ**
১. সাতীহ নামক এই লোকটির শুধু ধড় ছিল । অংগ - প্রত্যংগ ছিল না । সে বসতেও পারত না । তবে রাগ হলে শরীরটা ফুলে উঠত । তখন বসতে পারত । কথিত আছে যে , তার মুখ ছিল বুকে , তার কোন মাথা ও ঘাড় ছিল না । ওহাব ইব্ন মুনাব্বিহ্ বলেন , সাতীহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল , তুমি কোথা থেকে এ জ্ঞান , লাভ করেছ ? সে বলত , আমার এক জিন বন্ধু আছে । যখন আল্লাহ্ তূর পাহাড়ে মূসার সংগে কথা বলেছিলেন , তখন সে সেই কথোপকথন শুনেছিল এবং যা কিছু জানতে পেরেছিল , তাই আমাকে জানিয়েছে ।
📄 শিকের বংশ পরিচয়
শিক ইব্ন সাব ইব্ন ইয়াশকার ইব্ন রুহম ইব্ন আফ্রাক ইব্ন কাসর ইন ‘ আকার- ইন আনমার ই নিযার । আর আনমার হচ্ছে বাজীলা ও খাসআমের পিতা ।
**টিকাঃ**
২. শিক অর্থ অংশ । এরূপ নামকরণের কারণ এই যে , সে আসলে আধা মানব ছিল । তার হাত একখানা , পা একখানা ও চোখ একটি ছিল । আমর ইবন আমিরের স্ত্রী হিময়ারী বংশোদ্ভূত খ্যাতনামী জ্যোতিষী তারীফা বিনতে খায়ের যেদিন মারা যায় , শিখ ও সাতীহ সেই দিন জন্মগ্রহণ করে । তারীফা শিক্ ও সাতীহকে তার মৃত্যুর পূর্বে তার কাছে উপস্থিত করার নির্দেশ দেয় । তাদের উপস্থিত করার পর সে তাদের উভয়েরর মুখে থু - থু দিয়ে বলে , এরা দু'জন আমার জ্যোতির্বিদ্যার উত্তরাধিকারী হবে ।
📄 রাজীলার বংশ পরিচয়
ইবন হিশাম বলেন : ইয়ামানবাসীর জনশ্রুতি অনুসারে বাজীলা হচ্ছে আনমারের বংশধর । আনমার ইন ইরাশ ইন লিহয়ান ইব্ন আমর ইবন গাওস ইব্ন নাবৃত ইব্ন মালিক ইব্ন যায়দ ইব্ন কাহলান ইব্ন সাবা । মতান্তরে : ইরাশ ইব্ন আমর ইব্ন লিহইয়ান ইব্ন গাওস । বাজীলা ও খাসআমের বাসস্থান হচ্ছে ইয়ামানীয়া ।
ইবন ইসহাক বলেন : তারপর রাজা সাতীহ ও শিককে ডেকে পাঠালেন । শিকের আগে সাতীহ উপস্থিত হলো । তখন রাজা তাকে বলল , ওহে সাতীহ ! আমি একটা ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেছি । কি দেখেছি বল তো ? তুমি যদি স্বপ্নটা বলতে পার , তা হলে তার সঠিক ব্যাখ্যাও দিতে পারবে । সাতীহ বলল : ঠিক আছে । বলছি শুনুন : আপনি স্বপ্নে দেখেছেন : অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা জ্বলন্ত অংগার বেরিয়ে এসে নিম্নভূমিতে নামল এবং সেখানে যত প্রাণী ছিল , সবাইকে গ্রাস করল । ' রাজা বললেন : “ বাহ্ ! হে সাতীহ ! স্বপ্নটা তো তুমি সঠিকভাবেই বলে দিয়েছ । এখন বলতো এর ব্যাখ্যা কি ? ”
সে বলল : দুই প্রস্তরময় দেশে যত সাপ আছে , তার শপথ ! আবিসিনিয়াবাসী আপনার ভূ - খণ্ডে ঢুকে পড়বে এবং আবয়ান থেকে জুরাশ পর্যন্ত সমগ্র ভূখণ্ড দখল করে নেবে।`
রাজা বললেন : হে সাতীহ ! তোমার পিতার শপথ ! এটা তো খুবই বেদনাদায়ক ও ক্রোধোদ্দীপক ব্যাপার । এটা কবে ঘটবে ? আমার আমলেই , না আমার পরে ? সে বলল : আপনার আমলের কিছু পরে । ষাট বা সত্তর বছর পর । রাজা জিজ্ঞেস করলেন : এই ভূখণ্ড কি চিরকালই তাদের অধিকারে থাকবে , না তাদের জবর - দখলের অবসান ঘটবে ? সে বলল : সত্তর বছরের কিছু বৈশিকাল উত্তীর্ণ হবার পর তাদের দখলের অবসান ঘটবে । তারপর তারা হয় নিহত হবে , নয়তো পালিয়ে যাবে । রাজা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন : কে তাদেরকে হত্যা ও বহিষ্কার করবে ? সাতীহ বলল তারা নিহত ও বহিষ্কৃত হবে ইরাম ' ইবন ধী ইয়াযানের হাতে । তিনি এডেন থেকে আবির্ভূত হবেন এবং ইয়ামানে তাদের একজনকেও অবশিষ্ট রাখবেন না । রাজা বলল : ইরামের আধিপত্য কি চিরস্থায়ী হবে , না ক্ষণস্থায়ী ?
সাতীহ বলল : তার আধিপত্য অস্থায়ী হবে ।
রাজা বললেন : কার হাতে ক্ষমতার অবসান ঘটবে ?
- সাতীহ বলল : এক পূত - পবিত্র নবীর হাতে । তিনি ঊর্ধ্ব জগত থেকে ওহী লাভ করবেন । রাজা বললেন : এ নবী কোন্ বংশোদ্ভূত ?
সাতীহ বলল গালিব ইবন ফিহর ইবন মালিক ইবন নঘর -এর বংশধর হবেন । তাঁর জাতির হাতে ক্ষমতা থাকবে সৃষ্টিজগত ধ্বংস হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত
রাজা বললেন : সৃষ্টিজগতের আবার শেষ আছে নাকি ?
**টিকাঃ**
১. এ দ্বারা সুদান থেকে হারশী সেনাবাহিনীর আগমনকে বুঝানো হয়েছে ।
২. আবয়ান ও জুরাশ ইয়ামানের দুটো শহরের নাম । অর্থাৎ সমগ্র ইয়ামান ।
কথিত আছে , এই ব্যক্তি সায়ফ নামে খ্যাত । তবে ইরাম শব্দটি দ্বারা তার জ্ঞানের প্রশংসা অথবা বিশালকায় দেহাকৃতির প্রতি ইংগিত করা হয়েছে ।
📄 নুমান ইবন মুনযিরের বংশ সম্পর্কে ভিন্ন মত
সে বলল : হ্যাঁ , যেদিন পৃথিবীর প্রথম ও শেষ মনুষ সকল একত্রিত হবে । যারা সৎকর্মশীল তারা সুখী হবে , আর যারা অসৎ কর্মশীল তারা দুঃখ ভোগ করবে ।
রাজা বললেন : তোমার ভবিষ্যদ্বাণী কি সত্য ?
সে বলল : হ্যাঁ , রাতের আঁধার , ঊষার আলো ও সুবিন্যস্ত প্রভাত সাক্ষী , আমি যা তোমাকে বলেছি তা সত্য ।
এরপর রাজার দরবারে এলো শিক । রাজা সাতীহকে যা যা বলেছিলেন , শিককেও তাই বললেন । কিন্তু সাতীহ্ রাজাকে যা যা বলেছিল , তা তিনি শিককে জানতে দিলেন না । কেননা তিনি দেখতে চাইছিলেন , তাদের উভয়ের বক্তব্য এক রকম হয় , না ভিন্ন ভিন্ন রকমের ।
শিক বলল : আপনি স্বপ্নে দেখেছেন , অন্ধকার থেকে একটি জ্বলন্ত অংগার বেরিয়ে এসে একটি পর্বত ও একটি বাগানের মাঝখানে পড়ল । এরপর তা সেখানকার সকল প্রাণীকে গ্রাস করল ।
যখন শিক এরূপ বলল , তখন রাজা বুঝতে পারলেন যে , উভয়ে স্বপ্নের একই রকমের বিবরণ দিয়েছে । পার্থক্য কেবল এই যে , সাতীহ বলেছিল : জ্বলন্ত অংগারটি নিম্নভূমিতে পড়ল । আর শিক বলেছে : একটি পর্বত ও একটি বাগানের মাঝখানে পড়ল । তারপর তিনি শিককে বললেন : তুমি ঠিকই বলেছ । এখন বল , এ স্বপ্নের তাৎপর্য কি ?
সে বলল : দুই পর্বতময় দেশের সমস্ত মানুষের শপথ করে বলছি , আপনার দেশে সুদানীরা আক্রমণ চালাবে । সকল দুর্বল লোক তাদের অংগুলি হেলনে চলতে বাধ্য হবে এবং আবয়ান থেকে নাজরান পর্যন্ত সমগ্র এলাকা তাদের দখলে চলে যাবে ।
তখন রাজা তাকে বললেন : ওহে শিক ! তোমার পিতার শপথ ! এটাই তো খুবই মর্মন্তুদ ও ক্রোধোদ্দীপক ব্যাপার । এ ঘটনা কবে ঘটবে ? আমরা জীবদ্দশাতেই , না আরো পরে ? সে বলল : আপনার বেশ কিছুকাল পরে । এরপর একজন পরাক্রমশালী ব্যক্তি আপনাদের লোকদের হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত করবে এবং তাদের ভীষণভাবে পর্যুদস্ত ও লাঞ্ছিত করবে ।
রাজা বললেন : এই পরাক্রমশালী ব্যক্তিটি কে ?
সে বলল : একজন তরুণ , যিনি নগণ্য ও দুর্বলচিত্ত নন । যী ইয়াযানের বংশ থেকে তার আবির্ভাব ঘটবে । তিনি হানাদারদের একজনকেও ইয়ামানে টিকতে দেবেন না ।
রাজা বললেন : এই ব্যক্তির আধিপত্য কি চিরস্থায়ী হবে , না ক্ষণস্থায়ী ?
শিক বলল : একজন প্রেরিত রাসূলের আগমনে তার শাসনের অবসান ঘটবে । সেই রাসূল সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন । ধার্মিক ও সৎ লোকদের সাথে আনবেন । তাঁর জাতির আধিপত্য কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে ।
রাজা বললেন : কিয়ামত কি ?
সে বলল : সেদিন শাসকদের বিচার হবে , আকাশ থেকে এমন আহবান আসবে যা জীবিত ও মৃত সকলেই শুনতে পাবে । আর নির্দিষ্ট সময়ে সকল মানুষকে সমবেত করা হবে । সেদিন সংযত লোকদের জন্য হবে সাফল্য ও কল্যাণ । .
রাজা বললেন : তুমি যা বলছ , তা কি সত্য ?
সে বলল : হ্যাঁ , আকাশ ও পৃথিবী এবং তার মধ্যকার সকল সমতল ও অসমতল স্থানের শপথ , আমি আপনার কাছে যা কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করলাম , তা সম্পূর্ণ সত্য ।
রবীআ এই দুই ভবিষ্যদ্বক্তার কথা বিশ্বাস করে নিলেন এবং স্বীয় পরিবার - পরিজনকে প্রয়োজনীয় পাথেয় দিয়ে ইরাক পাঠিয়ে দিলেন । তারপর পারস্যের তৎকালীন সম্রাট শাপুর ইব্ন খুররাযাদকে চিঠি লিখে পাঠালেন । শাপুর তাদেরকে হিরাতে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দিলেন ।
নুমান ইবন মুনযিরের বংশ সম্পর্কে ভিন্ন মত
রবীআ ইব্ন নাসরের বংশধরেরই সর্বশেষ ব্যক্তি হচ্ছেন নুমান ইব্ন মুনযির । ইয়ামানবাসীর মতে তাঁর বংশ পরিচিতি হচ্ছে : নুমান ইব্ন মুনযির ইবন আমর ইব্ন আদী ইব্ন রবীআ , ইব্ন নাসর - ইয়ামানের তৎকালীন রাজা ।
ইবন হিশাম বলেন : খালাফ আহমার আমাকে জানিয়েছেন , নুমানের পিতা . মুনযির তদীয় পিতা মুনযির ।
ইবন হিশাম বলেন : অনেকে নুমান ইবন মুনযির সম্পর্কে অন্যভাবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন, তিনি ছিলেন আলকামার সন্তান, আর আলকামা ছিলেন হাম্মাম ইবন মুররার পুত্র।