📄 রবীআ ইব্ নাসর ও তার স্বপ্নের কাহিনী
রবী'আ ইবন নাসর ইয়ামানের শাসক
রবী'আ ইবন নাসর ও তার স্বপ্নের কাহিনী
ইবন ইসহাক বলেন : ( রোম সম্রাটের ) অধীনতা স্বীকারকারী রাজাদের মধ্যে ইয়ামানের রাজা রবী'আ ইবন নাসর ছিলেন একজন দুর্বল রাজা । তিনি একটা ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখে ভীত ও চিন্তিত হয়ে পড়লেন । দেশের সকল জ্যোতিষী , জাদুকর প্রভৃতিকে ডেকে বললেন : আমি একটা ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখে ভীত হয়ে পড়েছি । আমি কি দেখেছি এবং তার তাৎপর্য কি , তা তোমরা বলো । তারা তাকে বললো : আপনি স্বপ্নটা আমাদের বলুন । আমরা তার ব্যাখ্যা বলবো । রাজা বললেন : আমি যদি স্বপ্নের বৃত্তান্ত বলে দেই , তা হলে তোমাদের ব্যাখ্যায় আমি সন্তুষ্ট হতে পারবো না । কেননা এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে পারবে শুধু সেই ব্যক্তি , যে আমার বলার আগেই আমার স্বপ্নটাও জেনে নিতে পারবে । তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললো : জাহাঁপনা যদি এটাই চান , তাহলে সাতীহ ' ও শিক ' - কে ডাকুন । কেননা স্বপ্নের ব্যাপারে তাদের চেয়ে অভিজ্ঞ আর কেউ নেই । তারাই আপনার প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে ।
📄 সাতীহের বংশ পরিচয়
সাতীহের বংশ পরিচয়
সাতীহ ইবন রাবী ' ইবন রবীআ ইবন মাসউদ ইব্ন মাযিন ইব্ন যিব ইবন আদী ইবন মাধিন গাসান ।
**টিকাঃ**
১. সাতীহ নামক এই লোকটির শুধু ধড় ছিল । অংগ - প্রত্যংগ ছিল না । সে বসতেও পারত না । তবে রাগ হলে শরীরটা ফুলে উঠত । তখন বসতে পারত । কথিত আছে যে , তার মুখ ছিল বুকে , তার কোন মাথা ও ঘাড় ছিল না । ওহাব ইব্ন মুনাব্বিহ্ বলেন , সাতীহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল , তুমি কোথা থেকে এ জ্ঞান , লাভ করেছ ? সে বলত , আমার এক জিন বন্ধু আছে । যখন আল্লাহ্ তূর পাহাড়ে মূসার সংগে কথা বলেছিলেন , তখন সে সেই কথোপকথন শুনেছিল এবং যা কিছু জানতে পেরেছিল , তাই আমাকে জানিয়েছে ।
📄 শিকের বংশ পরিচয়
শিক ইব্ন সাব ইব্ন ইয়াশকার ইব্ন রুহম ইব্ন আফ্রাক ইব্ন কাসর ইন ‘ আকার- ইন আনমার ই নিযার । আর আনমার হচ্ছে বাজীলা ও খাসআমের পিতা ।
**টিকাঃ**
২. শিক অর্থ অংশ । এরূপ নামকরণের কারণ এই যে , সে আসলে আধা মানব ছিল । তার হাত একখানা , পা একখানা ও চোখ একটি ছিল । আমর ইবন আমিরের স্ত্রী হিময়ারী বংশোদ্ভূত খ্যাতনামী জ্যোতিষী তারীফা বিনতে খায়ের যেদিন মারা যায় , শিখ ও সাতীহ সেই দিন জন্মগ্রহণ করে । তারীফা শিক্ ও সাতীহকে তার মৃত্যুর পূর্বে তার কাছে উপস্থিত করার নির্দেশ দেয় । তাদের উপস্থিত করার পর সে তাদের উভয়েরর মুখে থু - থু দিয়ে বলে , এরা দু'জন আমার জ্যোতির্বিদ্যার উত্তরাধিকারী হবে ।
📄 রাজীলার বংশ পরিচয়
ইবন হিশাম বলেন : ইয়ামানবাসীর জনশ্রুতি অনুসারে বাজীলা হচ্ছে আনমারের বংশধর । আনমার ইন ইরাশ ইন লিহয়ান ইব্ন আমর ইবন গাওস ইব্ন নাবৃত ইব্ন মালিক ইব্ন যায়দ ইব্ন কাহলান ইব্ন সাবা । মতান্তরে : ইরাশ ইব্ন আমর ইব্ন লিহইয়ান ইব্ন গাওস । বাজীলা ও খাসআমের বাসস্থান হচ্ছে ইয়ামানীয়া ।
ইবন ইসহাক বলেন : তারপর রাজা সাতীহ ও শিককে ডেকে পাঠালেন । শিকের আগে সাতীহ উপস্থিত হলো । তখন রাজা তাকে বলল , ওহে সাতীহ ! আমি একটা ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেছি । কি দেখেছি বল তো ? তুমি যদি স্বপ্নটা বলতে পার , তা হলে তার সঠিক ব্যাখ্যাও দিতে পারবে । সাতীহ বলল : ঠিক আছে । বলছি শুনুন : আপনি স্বপ্নে দেখেছেন : অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা জ্বলন্ত অংগার বেরিয়ে এসে নিম্নভূমিতে নামল এবং সেখানে যত প্রাণী ছিল , সবাইকে গ্রাস করল । ' রাজা বললেন : “ বাহ্ ! হে সাতীহ ! স্বপ্নটা তো তুমি সঠিকভাবেই বলে দিয়েছ । এখন বলতো এর ব্যাখ্যা কি ? ”
সে বলল : দুই প্রস্তরময় দেশে যত সাপ আছে , তার শপথ ! আবিসিনিয়াবাসী আপনার ভূ - খণ্ডে ঢুকে পড়বে এবং আবয়ান থেকে জুরাশ পর্যন্ত সমগ্র ভূখণ্ড দখল করে নেবে।`
রাজা বললেন : হে সাতীহ ! তোমার পিতার শপথ ! এটা তো খুবই বেদনাদায়ক ও ক্রোধোদ্দীপক ব্যাপার । এটা কবে ঘটবে ? আমার আমলেই , না আমার পরে ? সে বলল : আপনার আমলের কিছু পরে । ষাট বা সত্তর বছর পর । রাজা জিজ্ঞেস করলেন : এই ভূখণ্ড কি চিরকালই তাদের অধিকারে থাকবে , না তাদের জবর - দখলের অবসান ঘটবে ? সে বলল : সত্তর বছরের কিছু বৈশিকাল উত্তীর্ণ হবার পর তাদের দখলের অবসান ঘটবে । তারপর তারা হয় নিহত হবে , নয়তো পালিয়ে যাবে । রাজা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন : কে তাদেরকে হত্যা ও বহিষ্কার করবে ? সাতীহ বলল তারা নিহত ও বহিষ্কৃত হবে ইরাম ' ইবন ধী ইয়াযানের হাতে । তিনি এডেন থেকে আবির্ভূত হবেন এবং ইয়ামানে তাদের একজনকেও অবশিষ্ট রাখবেন না । রাজা বলল : ইরামের আধিপত্য কি চিরস্থায়ী হবে , না ক্ষণস্থায়ী ?
সাতীহ বলল : তার আধিপত্য অস্থায়ী হবে ।
রাজা বললেন : কার হাতে ক্ষমতার অবসান ঘটবে ?
- সাতীহ বলল : এক পূত - পবিত্র নবীর হাতে । তিনি ঊর্ধ্ব জগত থেকে ওহী লাভ করবেন । রাজা বললেন : এ নবী কোন্ বংশোদ্ভূত ?
সাতীহ বলল গালিব ইবন ফিহর ইবন মালিক ইবন নঘর -এর বংশধর হবেন । তাঁর জাতির হাতে ক্ষমতা থাকবে সৃষ্টিজগত ধ্বংস হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত
রাজা বললেন : সৃষ্টিজগতের আবার শেষ আছে নাকি ?
**টিকাঃ**
১. এ দ্বারা সুদান থেকে হারশী সেনাবাহিনীর আগমনকে বুঝানো হয়েছে ।
২. আবয়ান ও জুরাশ ইয়ামানের দুটো শহরের নাম । অর্থাৎ সমগ্র ইয়ামান ।
কথিত আছে , এই ব্যক্তি সায়ফ নামে খ্যাত । তবে ইরাম শব্দটি দ্বারা তার জ্ঞানের প্রশংসা অথবা বিশালকায় দেহাকৃতির প্রতি ইংগিত করা হয়েছে ।