📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়ামান ত্যাগের কারণ

📄 ইয়ামান ত্যাগের কারণ


আমর ইব্‌ন আমিরের ইয়ামান ত্যাগ এবং মারিব বাঁধের কাহিনী
ইয়ামান ত্যাগের কারণ
আবূ যায়দ আনসারীর বর্ণনা মুতাবিক আমর ইব্‌ন আমিরের ইয়ামান ত্যাগের কারণ এই ছিল যে , মারিবের যে বাঁধটি ইয়ামানবাসীর জন্য পানি সংরক্ষণ করত এবং তারা ইচ্ছামত সেই পানি দিয়ে সেচ দিত , একদিন তিনি দেখলেন সেই বাঁধে একটি বন্য ইঁদুর গর্ত খুঁড়ছে । এতে তিনি বুঝলেন যে , এই বাঁধ বেশি দিন টিকবে না । তাই তিনি ইয়ামান থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন । তাঁর বংশধর এ ব্যাপারে তার সাথে বিরোধ লিপ্ত হয় । এক পর্যায়ে তিনি তার ছোট ছেলেকে বললেন : আমি যখন তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে তোমাকে চড় দেব , তখন তুমিও আমার উপর আক্রমণ করবে এবং আমাকে পাল্টা চড় দেবে । তখন ছেলে তাঁর নির্দেশ মত কাজ করল । তখন আমর বললেন : আমি এমন দেশে আর থাকব না , যেখানে আমার ছোট ছেলে আমাকে থাপ্পড় দেয় । তারপর তিনি নিজের সমস্ত সম্পদ বিক্রি করার জন্য বাজারে নিয়ে গেলেন । এ সময় ইয়ামানের কিছু গণমান্য ব্যক্তি দেশবাসীকে বলল , তোমরা আমরের রাগকে স্বাগত জানাও । তারপর তারা তার সম্পত্তি কিনে নিল । আমর তার নিজের কিছু সন্তান ও পৌত্রদের সাথে নিয়ে দেশ ত্যাগ করলেন । এ সময় বনূ আযদ বললো , আমরাও আমর ইব্‌ন আমিরের সাথে চলে যার — এখানে থাকব না । তারপর তারাও তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে তাঁর সংগে চলে গেল । বহু এলাকা পেরিয়ে তারা ' আকের এলাকায় গিয়ে বসতি স্থাপন করলো । ‘ আকের বংশধর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলো । যুদ্ধে কখনো তারা জিততো এবং কখনো তারা হারতো । এই বিষয়টি নিয়েই আব্বাস ইবন মিরদাসের আবৃত্তি করা কবিতাংশ আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি । ১ তারপর তারা সেখান থেকেও বের হলো এবং তারা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লো , হাফনা ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আমিরের বংশধর সিরিয়ায় , আওস ও খাযরাজ ইয়াসরিবে , খুযাআ বংশধর মাররায় এবং আদের বংশধর সারাতে ও আম্মানে বসতি স্থাপন করলো । এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বন্যা দিয়ে মারিবের বাঁধ ধ্বংস করে দিলেন । এ সম্পর্কেই আল্লাহ্ তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা:) -এর উপর কুরআনের সূরা সাবার নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেন :
لَقَدْ كَانَ لِسَاء فِي مَسْكَنِهِمْ سَيْلَ العَرمِ
আবূ উবায়দার বর্ণনা অনুসারে এ আয়াতে বর্ণিত আরিম শব্দের অর্থ বাঁধ । আয়াতের অর্থ : “ সা‘বা জাতির আবাসভূমিতে তাদের জন্য একটি নিদর্শন ছিল । তাদের ডানে ও বামে দুটো বাগান ছিল । তোমরা তোমাদের রবের দেয়া জীবিকা থেকে খাও , এবং তাঁর শোকর আদায় কর । বড়ই পবিত্র নগরী এবং অত্যন্ত ক্ষমাশীল রব । কিন্তু তারাতা মানল না । ফলে আমি তাদের ওপর বাঁধভাংগা বন্যা পাঠালাম । ” কবি আশা বলেন : “ ইংগিত উপলব্ধিকারীর জন্য এতে যথেষ্ট শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে এবং বন্যা মারিব বাঁধটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয় । হিময়ার সেটি পাথর দিয়ে নির্মাণ করেছিল , বন্যায় কখনো তার কোন ক্ষতি করতে পারেনি । সেই বাঁধ তাদের ফসল ও আংগুরকে পানি দিয়েছে অকৃপণভাবে । যখন তা বণ্টিত হত , তখন তা সবার জন্য পর্যাপ্ত হত । এরপর তারা এমন অভাবগ্রস্ত হয় যে , তারা দুধ ছাড়ানো বাচ্চাকে এক চুমুক পানিও দিতে পারত না । ” এ সব কবিতা আশার কবিতার অংশবিশেষ উমাইয়া ইবন আবী সালত সাকাফী বলেছেন : “ মারিবের নিকটে উপস্থিত সাবা জাতি যখন বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাঁধ তৈরি করেছিল । ” এটি একটি দীর্ঘ কাসীদার অংশ । এ এক দীর্ঘ কাহিনী । সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া থেকে বিরত থাকছি ।

**টিকাঃ**
১. অর্থাৎ আদনানের পুত্র ' আকের বংশধর গাসসান নামে নিজেদের নামকরণ করল এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00