📄 আনসারদের বংশ পরিচয়
আউস ও খাযরাজ নামক দুই ভ্রাতার বংশধরকে আনসার বলা হয় । এরা দু'জন হলো হারিসা ইব্ন সা'লাবা ইবন আমর ইবন আমির ইবন হারিসা ইবন ইমরুল কায়স ইব্ন সা'লাবা ইব্ন মাযিন ইব্ন আসাদ ইব্ন গাওস - এর দুই পুত্র । আনসারী কবি হাস্সান ইব্ন সাবিত বলেন : “ যদি জানতে চাও , তা হলে শোনো , আমরা এক সম্ভ্রান্ত গোষ্ঠী , আসাদ আমাদের পূর্বপুরুষ এবং গাসসান আমাদের জলাশয় । ” এ লাইনটি তার বহু সংখ্যক কবিতার অন্যতম । ইয়ামানবাসী এবং ‘ আকের বংশধরদের যে অংশ খুরাসানে বসতি স্থাপন করেছিলেন , তারা তাদের বংশ পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন , ' আক ইব্ন আদনান ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আসাদ ইব্ন গাওস ' । মতান্তরে উদসাম ইন দিস ইবন আবদুল্লাহ ইব্ন আসাদ ইব্ন গাওস ।
📄 কুনুস ইব্ন মা'আদ এবং নুমান ইব্ন মুনযিরের বংশ পরিচয়
ইবন ইসহাক বলেন : মা আদ ইব্ন আদনানের চার পুত্র : নিযার ইব্ন মা'আদ , কুযাআ ইন মা'আদ , কুনুস ইব্ন মা'আদ ও ইয়াদ ইব্ন মা'আদ ।
কুযাআর গোত্রটি হিময়ার ইন সাবা ইব্ন ইয়াশজুব ইবন ইয়ারুব ইবন কাহতানের বংশধর বলে দাবি করে থাকে । সাবার আসল নাম আবদুশ্ শামস । সাধা নামকরণের কারণ এই যে , তিনিই প্রথম আরব যিনি যুদ্ধবন্দী হন ।
ইবন হিশাম বলেন : ইয়ামানবাসী ও কুযাআ গোত্রের দাবি অনুসারে কুযাত্ম হচ্ছে মালিক ইবন হিময়ারের পুত্র । বিশিষ্ট সাহাবী আমর ইব্ন মুররা জুহানী ১ একটি কবিতায় বলেন : “ আমরা খ্যাতনামা প্রবীণ ব্যক্তিত্ব কুযাআ ইব্ন মালিক ইব্ন হিময়ারের বংশধর । এ বংশধারা অত্যন্ত পরিচিত । মোটেই অপরিচিত নয় । বরঞ্চ তা মিম্বরের নীচে পাথরে খোদিত । ” জুহানী বংশটির উৎপত্তি জুহায়না থেকে । তিনি হলেন : যায়দ ইব্ন লায়স ইব্ন সাওদ ইব্ন আসলাম ইব্ন ইলহাফ ইব্ন কুযাআ ।
কুনুস ইব্ন মা'আদ এবং নুমান ইব্ন মুনযিরের বংশ পরিচয়
ইবন ইসহাক বলেন : কুনুস ইব্ন মা'আদের বংশে হীরার বাদশাহ নুমান ইব্ন মুনযির এবং তার গোত্র ছাড়া আর কোন শাখা বেঁচে নেই বলে আরব বংশবিদদের ধারণা ।
ইবন ইসহাক বলেন : মুহাম্মদ ইব্ন মুসলিম ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন শিহাব যুহরী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে , নুমান ইবন মুনযির কুনুস ইবন মা'আদের বংশধর । ইবন হিশাম বলেন : কুনুসকে কানাসও বলা হয় ।
ইবন ইসহাক বলেন : ইয়াকূব ইবন উতবা ইবন মুগীরা ইব্ন আখনাস যুরায়ক বংশোদ্ভূত জনৈক প্রবীণ আনসারীর কাছ থেকে জেনে আমাকে বলেছেন যে , যখন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব ( রা ) -এর নিকট নুমান ইবন মুনযিরের তরবারি ৩ আনা হয় , তখন তিনি জুবায়র ইব্ন মুইমকে ডাকেন । জুবায়r ইবন মুতইমের বংশ পরিচয় হলো : জুবায়র ইব্ন মুতইম ইন ' আদী ইবন নওফাল ইব্ন আবদে মানাফ ইবন কুসাই । জুবায়র কুরায়েশ বংশের এমন এক ব্যক্তি , যিনি শুধু কুরায়শের নয় , বরং সমগ্র আরব জাতির বংশ পরিচয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ । জুবায়র বলতেন যে , আমি আবূ বকর সিদ্দীক ( রা ) -এর নিকট থেকে বংশধারা সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করেছি । বস্তুত হযরত আবূ বকর ( রা ) -ই ছিলেন আরব জাতির ভেতরে বংশধারা সবচেয়ে বেশি পারদর্শী । তিনিই জুবায়রকে এ ব্যাপারে শিক্ষা দেন । হযরত উমর জিজ্ঞেস করলেন : হে জুবায়র ! নুমান ইবন মুনযির কার বংশধর ছিলেন ? জুবায়র বললো : তিনি কুর ইব্ন মা'আদের বংশধর ছিলেন ।
**টিকাঃ**
১. এই সাহাৰী দু'টি হাদীস বর্ণনা করেছেন । একটি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর নবৃওয়াতের আলামত সংক্রান্ত , অপরটি হলো : যে ব্যক্তি শাসক হয়ে অভাবী মানুষের ফরিয়াদ শুনবে না , কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ ও তার ফরিয়াদ শুনবেন না । ( আর - রওযুল উনুফ , ১ ম খণ্ড , পৃ . ২৩ দ্রষ্টব্য )
২. কথিত আছে : এটি একটি রণোদ্দীপক কবিতার অংশ । এর পূর্ববর্তী অংশ হলো : “ হে আহবায়ক ! আমাদেরকে ডাকো এবং সুসংবাদ নাও । কাযাআর লোক হও , নিযারের লোক হয়ো না ।
৩. যখন মাদায়েন বিজিত হয় , তখন এই তরবারি আনা হয় । বিজিত মাদায়েনে পারস্য সম্রাটের বহু নিদর্শন বিধ্বস্ত হয় এবং বহু মূল্যবান সম্পদ উদ্ধার করা হয় । তন্মধ্যে অত্যন্ত চমকপ্রদ জিনিসগুলো গ্রহণ করা হয় । পাঁচটি তরবারি তন্মধ্যে অন্যতম । একটি সম্রট পারভেজের , একটি সম্রাট নওশেরওয়ার , একটি দুমান ইব্ন মুনযিরের , সম্রাট নওশেরওয়া তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে হত্যা করার সময় এটি ছিনিয়ে নেন । চতুর্থটি তুরস্কের সম্রাট থাকানের এবং পঞ্চমটি রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের । পারস্য সম্রাট রোম সম্রাটকে যখন পরাভূত করেন , তখন এটি তাঁর হস্তগত হয় ।
📄 লাখাম ইব্ন আদীর বংশ পরিচয়
ইবন ইসহাক বলেন : জনশ্রুতি এই যে , গোটা আরব জাতি রবীয়া ' ইব্ন নাं রের সন্তান - লুখামের বংশধর । তবে প্রকৃত ব্যাপার আল্লাহ্ই ভালো জানেন ।
লাখাম ইব্ন আদীর বংশ পরিচয়
ইবন হিশামের মতে লাখায়ের বংশ পরিচয় এরূপ : ইব্ন আদী , ইব্ন হারিস ইব্ন মুররা ইব্ন উদাদ ইব্ন যায়দ ইব্ন হামায়সা ইব্ন আমর ইব্ন আরীব ইব্ন ইয়াশজুব ইব্ন যায়দ ইব্ন কাহলান ইব্ন সাবা । মতান্তরে : লাখাম ইব্ন আদী ইব্ন আমর ইব্ন সাবা ।
রবীআ ইব্ন নাস্ ১ -এর বংশ পরিচয় নিম্নরূপ বর্ণনা করা হয়ে থাকে :
- রবীআ ইন নাসর ইবন আবূ হারিসা ইব্ন আমর ইব্ন আমির । আমর ইব্ন আমিরের ইয়ামান থেকে চলে যাওয়ার পর আবূ হারিসা সেখানেই থেকে যান ।
**টিকাঃ**
১. বিশেষজ্ঞদের মতে রবীআর বংশধারা হলো : রবীআ ইব্ন নাসর , ইবন হারিসা ইব্ন নামারা ইব্ন লাখাম । জুবায়রের মতে : রবীআ ইব্ন নাসর ইবন মালিক ইবন শাওয়ায ইবন মালিক । ইবন উজাম ইবন ' আমর ইব্ন নামারা ইব্ন লাখাম ।