📄 আর একটি বর্ণনা
গুফরার আযাদকৃত গোলাম উমর বলেছেন : এ কথার তাৎপর্য এই যে , নবী ইসমাঈল ( আ ) -এর মাতা হাজেরা মিসরীয় ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা:) একজন মিসরীয় দাসীকে নিজ দাসী হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন । ইব্ন লাহীআ বলেন : হযরত ইসমাঈলের মাতা হাজেরা ‘ উম্মুল আরব ' নামক জনপদের অধিবাসী ছিলেন , যা মিসরের ফারমা ' নামক শহরে নিকটবর্তী ছিল । আর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর দাসী ও ইবরাহীমের মাতা মারিয়াও মিসরের আনসিবা জেলার হাফন ' নামক স্থানের অধিবাসী ছিলেন । তাঁকে মিসরের শাসক মুকাওকিস উপহার স্বরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে দিয়েছিলেন ।
**টিকাঃ**
২. ফারমা মিসরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বিপ্লট বন্দর , বর্তমানে তিলুল ফারমা নামে পরিচিত ।
৩. আনসিবা মিসরের একটি জেলার নাম । কথিত আছে , এটি এক সময় জাদুকরদের শহর হিসাবে খ্যাত ছিল এবং লাবাখ নামক গাছের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে , সেই খ্যাতি এখনো বিদ্যমান ।
৪. হাফন মিসরের একটি গ্রামের নাম । হযরত মুয়াবিয়া ( রা ) হযরত ইমাম হাসান ইব্ন আলী ( রা ) -এর মাধ্যমে এই গ্রামের কর রহিত করেছিলেন । এর উদ্দেশ্য ছিল , রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর ওসীয়ত রক্ষা করা এবং তাঁর শ্বশুর বংশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ।
৫. মুকাওকিসের আসল নাম জুরায়জ ইবন মাইনা । তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর নিকট মারিয়া নাম্নী চ . দাসীকে উপঢৌকন হিসাবে পাঠান । তাঁর আগে রাসূলুল্লাহ (সা:) মুকাওকিসের নিকট হাতিব ইব্ন আবূ বালতাআ এবং আবূ রুহম গিফারীর আযাদকৃত দাস জিবব্লকে ইসলামী দাওয়াতের দূত হিসাবে প্রেরণ করেন । সেই সাথে তিনি তাঁর কাছে স্বীয় দুলদুল নামক খচ্চর এবং নিজের কাঠের নির্মিত একটি পানপাত্র উপহার হিসাবে পাঠান । যার ফলে , মুকাওকিস ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়েন । ( দেখুন রঙফুল উনুফ , প্রথম খণ্ড , পৃ . ১৭ ) ।
📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইরশাদ
ইবন ইসহাক বলেন : মুহাম্মদ ইব্ন মুসলিম ইব্ন উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন শিহাব যুহরী আমার কাছে আবদুর রহমান ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন কা'ব ইবন মালিক আনসারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে , রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন : “ তোমরা যখন মিসর জয় করবে , তখন তার অধিবাসীদের প্রতি সদাচরণ করবে । কারণ তারা মুসলিম রাষ্ট্রের বিজিত অমুসলিম নাগরিক হিসাবে যেমন আইনানুগ নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী , তেমনি আত্মীয়তার সূত্রেও ভালো ব্যবহার পাওয়ার যোগ্য । ” ইব্ন ইসহাক বলেন , আমি মুহাম্মদ ইবন মুসলিমকে জিজ্ঞেস করলাম যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) যে তাদের সংগে আত্মীয়তার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন ' সেটি কী ? তিনি বলেন , হযরত ইসমাঈলের মাতা হাজেরা মিসরীয় ছিলেন ।
📄 আরব জাতির উৎসমূল
ইবন হিশাম বলেন : বস্তুত সমগ্র আরব জাতিই ইসমাঈল ( আ ) ও কাহতানের বংশধর । কোন কোন ইয়ামানবাসী বলেন , কাহতান ইসমাঈল ( আ ) -এর সন্তান । তারা আরো বলেন , ইসমাঈল ( আ ) গোটা আরব জাতির পিতা । ইবন ইসহাক বলেন : আদ ইবন আওস ইন ইরাম ইন সাম ইবন নূহ । আর সামূদ এবং জুদায়স ইব্ন আবির ইবন ইরাম , ইব্ন সাম ই নূহ । আর তাসাম , ইম্লাক ও উমায়ম -এরা তিনজন হযরত নূহের পুত্র সামের সন্তান । এরা সবাই আরব ছিল । নাবিত ইব্ন ইসমাঈল ইয়াশজুব ইব্ন নারিত , ইয়াকুব ইবন ইয়াশজুব , তায়রাহ ইব্ন নাহুর , মুকাওয়াম ইব্ন নাহুর , উদাদ ইব্ন মুক্বাওয়াম , আদনান ইব্ন উদাদ ইবন হিশামের মতে , আদনানের পিতা উদাদ নন বরং উদ্ ।
📄 আদনানের বংশধর
ইবন ইসহাক বলেন : হযরত ইবরাহীম ( আ ) -এর পুত্র ইসমাঈল ( আ ) -এর বংশধরগণ আদনানের পর থেকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয় । আদনানের দুই পুত্র মুয়াদ ইবন আদনান এবং আক ইবন আদনান ।