📄 পরিশিষ্ট
পরিশেষে তাছাউফ বিদ্বেষীদেরকে বলব, আল্লাহর ওয়াস্তে নিজেদের ফয়সালার উপর একটু লজ্জিত হোন, আল্লাহকে ভয় করুন । কেননা, আল্লাহর ওলীদের সাথে শত্রুতার অর্থ হল, স্বয়ং আল্লাহর সাথে শত্রুতা।
ইমাম যাহাবী (রহঃ) “সিয়ারু আ'লামিন নুবালা”- এ লিখেছেন-
أَلْبَسَنِي خِرَقَ التَّصَوُّفِ شَيْخُنَا المِحَدِّثُ الزَّاهِدُ ضِيَاءُ الدِّيْنِ عِيسَى بْنُ يَحْيَى الْأَنْصَارِيُّ بِالقَاهِرَةِ، وَقَالَ: أَلْبَسَنِيهَا الشَّيْخُ شِهَابُ الدِّيْنِ السُّهْرَوَرْدِيُّ بِمَكَّةَ عَنْ عَمِّهِ أَبِي النَّجِيْبِ
“কায়রোতে আমাকে তাছাউফের খিরকা পরিধান করিয়েছেন আমাদের শায়েখ, মুহাদ্দিস ও যাহেদ যিয়াউদ্দীন ঈসা বিন ইহইয়া আনসারী (রহঃ), তিনি বলেন-আমাকে মক্কায় তাছাউফের খেরকা পরিধান করিয়েছেন প্রসিদ্ধ সূফী শায়েখ শিহাবুদ্দীন- সোহরাওয়ারদী (রহঃ), তিনি তাছাউফের খেরকা পরিধান করেছেন তার চাচা আবু নাজিব (রহঃ) থেকে”
[সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খ--২২, পৃষ্ঠা-৩৭৭]
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন তাঁর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ তারিখে ইবনে খালদুনে লিখেছেন-
الفصل الحادي عشر في علم التصوف هذا العلم من العلوم الشرعية الحادثة في الملة وأصله أن طريقة هؤلاء القوم لم تزل عند سلف الامة وكبارها من الصحابة والتابعين ومن بعدهم طريقة الحق والهداية وأصلها العكوف على العبادة والانقطاع إلى الله تعالى والاعراض عن زخرف الدنيا وزينتها والزهد فيما يقبل عليه الجمهور من لذة ومال وجاه والانفراد عن الخلق في الخلوة للعبادة وكان ذلك عاما في الصحابة والسلف فلما فشا الاقبال على الدنيا في القرن الثاني وما بعده وجنح الناس إلى مخالطة الدنيا اختص المقبلون على العبادة باسم الصوفية والمتصوفة
“একাদশতম পরিচ্ছেদ হল, ইলমে তাছাউফ সম্পর্কে। শরীয়তের এই ইলম উম্মাহের মাঝে নতুন আবিষ্কৃত কিন্তু এর মূল উৎস হল, এ সমস্ত লোকের এ তরীকা সালাফে-সালেহীন বিশেষভাবে বড় বড় সাহাবী, তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীনের মাঝে ছিল । এ তরীকা হল সত্য ও হিদায়াতের তরীকা । এ তরীকার মূল হল, ইবাদতের উপর অটল থাকা, এবং এককভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা এবং দুনিয়ার সৌন্দর্য ও চাকচিক্য থেকে বিমূখ হওয়া, অধিকাংশ মানুষ যেসমস্ত বিষয়ে অগ্রসর হয় যেমন, দুনিয়ার স্বাদ, সম্পদ, ও পদ থেকে সংযম অবলম্বন করা এবং ইবাদতের জন্য সৃষ্টি থেকে পৃথক হয়ে নির্জনতা অবলম্বন করা । আর এ বিষয়গুলো সাহাবা (রাঃ) ও সালাফে-সালিহীনের মাঝে ব্যাপক ও পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল। হিজরী দ্বিতীয় শতক ও তার পরবর্তী সময়ে মানুষ যখন দুনিয়ার দিকে ধাবিত হতে শুরু করল এবং দুনিয়ার সংস্পর্শে এসে দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ল, তখন যারা ইবাদতে নিমগ্ন ছিল তারা বিশেষভাবে সূফী নামে পরিচিত হল”
[তারিখে ইবনে খালদুন, খ--১, পৃষ্ঠা-৪৬৭ (শামেলা)]
وهذا ما أردت إيراده في هذه الرسالة بتوفيق الله جل و علي فله الحمد رب السوات و رب العرش العظيم و صلي الله تعالي علي خير خلقه و أصحابه و أهل بيته و أتباعه و أوليائه أجمعين إلى يوم الدين