📄 আল্লামা ইবনু আদিল হাদী কর্তৃক আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর প্রশংসা
আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল হাদী আল-মুকাদ্দেসী আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর জীবনী লিখেছেন। আল্লামা ইবনে আব্দুল হাদী আল-মুকাদ্দেসী (রহঃ) “আল-উকুদুদ দুররিয়া ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়া” নামক কিতাবে ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর প্রশংসায় অনেক ক্বাসিদা উল্লেখ করেছেন।
আল্লামা ইবনে আব্দুল হাদী (রহঃ) লিখেছেন-
يا غنية المبتغين الرشدمانحهم * * فتوح غيب أتى من عند باريه
“হে অনুসন্ধানীদের অভিষ্ট লক্ষ্যস্থল, হে হেদায়াতের আলোক বর্তিকা! প্রভূর নিকট থেকে আগত হে গায়েব উন্মোচন কারী!”
[আল-উকুদুদ দুররিয়া মিন মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, খ--১, পৃষ্ঠা-৪৫৯]
...
ولما تبدى نور نعشك لامعا ... تمنت بنات النعش أن تتحطما
وودت بأن تدنو الثريا إلى الثرى ... نثارا عليه رفعة وتعظما
نزلت على أهل المقابر رحمة ... وأنقذتهم من ظلمة الظلم والظما
...
“যখন তার খাটিয়ার নূর উদ্ভাসিত হল, দিগন্তের তারকা-রাজি ভেঙ্গে পড়ার আকাংখ্যা করল । তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও সম্মানে আকাশের তারকারাজি জমিনের সাথে মিশে যেতে চাইল । কবর বাসীর উপর রহমত বর্ষিত হল, এবং তাদের পিপাসা নিবারণ করল এবং তাদেরকে যুলুমের অন্ধকার থেকে মুক্ত করল ।”
[আল-উকুদুদ দুররিয়া মিন মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, খ--১, পৃষ্ঠা-৪৭৭]
أنت روح الوجود في عصرك الآ * * ن وقلب الورى وعين الزمان
“তুমি বর্তমান সময়ের অস্তিত্বের রুহ, জগতের প্রাণ, যামানার চক্ষু”
[আল-উকুদুদ দুররিয়া মিন মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, খ--১, পৃষ্ঠা-৪৫৬]
وله مقام في الوصول لربه ... ومقامه نطقت بها الأقتام ...
وتصوف وتقشف وتعفف ... وقراءة وعبادة وصيام ...
وعناية وحماية ووقاية ... وصيانة وأمانة ومقام ...
وله كرامات سمت وتعددت ... ولها على مر الدهور دوام ...
“আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে তার বিশেষ মাকام রয়েছে। তার এ মাকাম সম্পর্কে মনীষীদের স্বীকারোক্তি রয়েছে।... তিনি “তাছাউফ” অর্জন করেছেন, দুনিয়া বিরাগী হয়েছেন, চরিত্রকে করেছেন নির্মল। “কুরআন তেলাওয়াত, ইবাদত ও সিয়াম সাধনা করেছেন। সচেতনতা, সংরক্ষণশীলতা, পরহেযগারীতা, ও আমানতদারীতায় তার ছিল বিশেষ মাকাম । “তাঁর অনেক বড় বড় কারামত রয়েছে । যুগের বিবর্তনে যা অবিনশ্বর।”
[আল-উকুদুদ দুররিয়া মিন মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, খ--১, পৃষ্ঠা-৫০০]
قطب الزمان وتاج الناس كلهم و ... روح المعاني حوى كل العبادات ...
حبر الوجود فريد في معارفه ... أفنى بسيف الهدى أهل الضلالات
“তিনি ছিলেন যামানার কুতুব, সকলের মাথার মুকুট ও মর্মের কেন্দ্রবিন্দু । প্রত্যেক ইবাদতে ছিলেন সিদ্ধহস্ত। যামানার মহাজ্ঞানী, মা'রেফাতে একক ব্যক্তিত্ত্ব। তিনি হেদায়াতের তলোয়ার দিয়ে ভ্রষ্টতাকে নিঃশেষ করেছেন”
আল্লামা ইবনু আব্দুল হাদী (রহঃ) লিখেছেন-
وليس يقع من مثله أمر ينقم منه عليه إلا أنه يكون أمرا قد لبس عليه ونسب إلى ما لا ينسب مثله إليه والتطويل على الحضرة العالية لا يليق إن يكن في الدنيا قطب فهو القطب على التحقيق
“তাঁর থেকে এমন কোন বিষয় প্রকাশিত হয়নি, যার কারণে তিনি সমালোচনার যোগ্য হবেন। তবে কিছু বিষয় এমন রয়েছে যা তাঁর উপর আরোপ করা হয়েছে এবং তাঁর দিকে এমন কিছু বিষয় সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যা সমীচীন নয় । হযরতে আলিয়ার ব্যাপারে অনৈতিক উক্তি করা উচিৎ নয় । দুনিয়াতে যদি প্রকৃত কোন কুতুব থাকে, তবে প্রকৃতপক্ষে তিনিই হলেন কুতুব।”
[আল-উকুদুদ দুররিয়া মিন মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, খ--১, পৃষ্ঠা-৩৭৩]
ড. সাইয়্যেদ সবীহ আল্লামা ইবনে আব্দুল হাদী (রহঃ) এর উক্তি উল্লেখ করে বলেছেন- ওহাবীরা কুতুব, আব্দাল এগুলো অস্বীকার করে এবং তাছাউফকে কুফুর, শিরক ইত্যাদি আখ্যায়িত করে । অথচ তাদের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সেগুলো তারা জানে না ।
[আখতাউ ইবনে তাইমিয়া ফি হক্কি রাসূলিল্লাহি (সঃ) ও আহলি বাইতিহি, এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা-৯]
আল্লামা ইবনু আব্দিল হাদী (রহঃ) লিখেছেন-
كان تاج العارفين لوقتنا
“তিনি ছিলেন আমাদের সময়ের তাজুল আরেফীন (আরেফীনদের মাথার মুকুট)
[আল-উকুদুদ দুররিয়া মিন মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, খ--১, পৃষ্ঠা-৪৮৬]
📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর কারামত
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) “মাদারিজুস সালিকিন শরহু মানাযিলিস সাঈরিন” নামক কিতাবে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর কারামতের কথা উল্লেখ করেছেন । আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) লিখেছেন-
أخبر الناس والأمراء سنة اثنتين وسبعمائة لما تحرك التتار وقصدوا الشام : أن الدائرة والهزيمة عليهم وأن الظفر والنصر للمسلمين وأقسم على ذلك أكثر من سبعين يمينا فيقال له : قل إن شاء الله فيقول : إن شاء الله تحقيقا لا تعليقا وسمعته يقول ذلك قال : فلما أكثروا على قلت : لا تكثروا كتب الله تعالى في اللوح المحفوظ : أنهم مهزومون في هذه الكرة وأن النصر لجيوش الإسلام
“তাতারীরা যখন মুসলিম উম্মাহের বিভিন্ন অঞ্চলে সেনা অভিযান পরিচালনা করে এবং শামে আক্রমণের উদ্যোগ গ্রহণ করে তখন ৭০২ হিঃ সনে শায়েখ (রহঃ) সাধারণ মানুষ এবং আমীর-উমারাদেরকে সংবাদ দিলেন যে, “তাতারীরা পরাজিত হবে এবং মুসলমানরা বিজয় ও সাহায্য লাভ করবে।”। তিনি তাঁর কথার উপর সত্তরটিরও বেশি কসম খেয়েছেন। তাঁকে বলা হল, আপনি ইনশাআল্লাহ বলুন! অতঃপর তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবে ইনশাআল্লাহ বলছি, সম্ভাবনা হিসেবে নয়। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যখন তারা আমার উপর পীড়াপীড়ি করল, আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা পীড়াপীড়ি কর না, আল্লাহ তায়ালা লউহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন যে, তারা পরাজিত হবে এবং মুসলমানরা বিজয়ী হবে।
[মাদারিজুস সালিকিন, খ--২, পৃষ্ঠা-৪৮৯]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) আরও অনেক কারামতের কথা উল্লেখ করেছেন, ইবনে আব্দুল হাদী মুকাদ্দেসী (রহঃ) এবং আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ)। বিস্তারিত জানার জন্য আগ্রহী পাঠক, মাদারিজুস সালিকীন ও আ'লামুল আলিয়্যা গ্রন্থদ্বয় দেখতে পারেন।
📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর ভবিষ্যৎ বাণী
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর বিশেষ ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) লিখেছেন-
وأخبرني غير مرة بأمور باطنة تختص بي مما عزمت عليه ولم ينطق به لساني وأخبرني ببعض حوادث كبار تجري في المستقبل ولم يعين أوقاتها وقد رأيت بعضها وأنا أنتظر بقيتها وما شاهده كبار أصحابه من ذلك أضعاف أضعاف ما شاهدته والله أعلم
“তিনি আমাকে অনেকবার অনেক বাতেনি বিষয়ের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি শুধু আমাকে এগুলো বলেছেন এবং এ বিষয় সম্পর্কে আমি কাউকে কিছু বলি নি। তিনি আমাকে ভবিষ্যতের অনেক ঘটনার সংবাদ দিয়েছেন কিন্তু তিনি সময় নির্দিষ্ট করে দেননি । তাঁর ভবিষ্যৎ বাণীর কিছু কিছু আমি ঘটতে দেখেছি এবং অবশিষ্টগুলো সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষায় আছি । তাঁর বড় বড় সাগরেদগণ আমি যা দেখেছি, তার চেয়ে বহু বহু গুণ বেশি দেখেছেন”
[মাদারিজুস সালিকিন, খ--২, পৃষ্ঠা-৪৯০]
📄 পরিশিষ্ট
পরিশেষে তাছাউফ বিদ্বেষীদেরকে বলব, আল্লাহর ওয়াস্তে নিজেদের ফয়সালার উপর একটু লজ্জিত হোন, আল্লাহকে ভয় করুন । কেননা, আল্লাহর ওলীদের সাথে শত্রুতার অর্থ হল, স্বয়ং আল্লাহর সাথে শত্রুতা।
ইমাম যাহাবী (রহঃ) “সিয়ারু আ'লামিন নুবালা”- এ লিখেছেন-
أَلْبَسَنِي خِرَقَ التَّصَوُّفِ شَيْخُنَا المِحَدِّثُ الزَّاهِدُ ضِيَاءُ الدِّيْنِ عِيسَى بْنُ يَحْيَى الْأَنْصَارِيُّ بِالقَاهِرَةِ، وَقَالَ: أَلْبَسَنِيهَا الشَّيْخُ شِهَابُ الدِّيْنِ السُّهْرَوَرْدِيُّ بِمَكَّةَ عَنْ عَمِّهِ أَبِي النَّجِيْبِ
“কায়রোতে আমাকে তাছাউফের খিরকা পরিধান করিয়েছেন আমাদের শায়েখ, মুহাদ্দিস ও যাহেদ যিয়াউদ্দীন ঈসা বিন ইহইয়া আনসারী (রহঃ), তিনি বলেন-আমাকে মক্কায় তাছাউফের খেরকা পরিধান করিয়েছেন প্রসিদ্ধ সূফী শায়েখ শিহাবুদ্দীন- সোহরাওয়ারদী (রহঃ), তিনি তাছাউফের খেরকা পরিধান করেছেন তার চাচা আবু নাজিব (রহঃ) থেকে”
[সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খ--২২, পৃষ্ঠা-৩৭৭]
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন তাঁর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ তারিখে ইবনে খালদুনে লিখেছেন-
الفصل الحادي عشر في علم التصوف هذا العلم من العلوم الشرعية الحادثة في الملة وأصله أن طريقة هؤلاء القوم لم تزل عند سلف الامة وكبارها من الصحابة والتابعين ومن بعدهم طريقة الحق والهداية وأصلها العكوف على العبادة والانقطاع إلى الله تعالى والاعراض عن زخرف الدنيا وزينتها والزهد فيما يقبل عليه الجمهور من لذة ومال وجاه والانفراد عن الخلق في الخلوة للعبادة وكان ذلك عاما في الصحابة والسلف فلما فشا الاقبال على الدنيا في القرن الثاني وما بعده وجنح الناس إلى مخالطة الدنيا اختص المقبلون على العبادة باسم الصوفية والمتصوفة
“একাদশতম পরিচ্ছেদ হল, ইলমে তাছাউফ সম্পর্কে। শরীয়তের এই ইলম উম্মাহের মাঝে নতুন আবিষ্কৃত কিন্তু এর মূল উৎস হল, এ সমস্ত লোকের এ তরীকা সালাফে-সালেহীন বিশেষভাবে বড় বড় সাহাবী, তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীনের মাঝে ছিল । এ তরীকা হল সত্য ও হিদায়াতের তরীকা । এ তরীকার মূল হল, ইবাদতের উপর অটল থাকা, এবং এককভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা এবং দুনিয়ার সৌন্দর্য ও চাকচিক্য থেকে বিমূখ হওয়া, অধিকাংশ মানুষ যেসমস্ত বিষয়ে অগ্রসর হয় যেমন, দুনিয়ার স্বাদ, সম্পদ, ও পদ থেকে সংযম অবলম্বন করা এবং ইবাদতের জন্য সৃষ্টি থেকে পৃথক হয়ে নির্জনতা অবলম্বন করা । আর এ বিষয়গুলো সাহাবা (রাঃ) ও সালাফে-সালিহীনের মাঝে ব্যাপক ও পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল। হিজরী দ্বিতীয় শতক ও তার পরবর্তী সময়ে মানুষ যখন দুনিয়ার দিকে ধাবিত হতে শুরু করল এবং দুনিয়ার সংস্পর্শে এসে দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ল, তখন যারা ইবাদতে নিমগ্ন ছিল তারা বিশেষভাবে সূফী নামে পরিচিত হল”
[তারিখে ইবনে খালদুন, খ--১, পৃষ্ঠা-৪৬৭ (শামেলা)]
وهذا ما أردت إيراده في هذه الرسالة بتوفيق الله جل و علي فله الحمد رب السوات و رب العرش العظيم و صلي الله تعالي علي خير خلقه و أصحابه و أهل بيته و أتباعه و أوليائه أجمعين إلى يوم الدين