📄 মোশাহাদা
وَ " الْمُشَاهَدَاتُ " الَّتِي قَدْ تَحْصُلُ لِبَعْضِ الْعَارِفِينَ فِي الْيَقَظَةِ كَقَوْلِ ابْنِ عُمَرَ لِابْنِ الزُّبَيْرِ لَمَّا خَطَبَ إِلَيْهِ ابْنَتَهُ فِي الطَّوَافِ : أَتُحَدِّثُنِي فِي النِّسَاءِ وَنَحْنُ نَتَرَاءَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فِي طَوَافِنَا وَأَمْثَالُ ذَلِكَ إِنَّمَا يَتَعَلَّقُ بِالْمِثَالِ الْعِلْمِيِّ الْمَشْهُودِ
“জাগ্রত অবস্থায় কোন কোন আরেফ মোশাহাদা লাভ করেন। যেমন, হযরত ইবনে উমর (রাঃ) কে তওয়াফ অবস্থায় হযরত ইবনে যুবাইর (রাঃ) নিজ কন্যার বিবাহের প্রস্তাব দিলে হযরত ইবনে উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, “তুমি আমার সাথে কাছে মহিলাদের আলোচনা করছ, অথচ আমি তওয়াফ অবস্থায় আল্লাহর দর্শন লাভ করছি”। এ জাতীয় আরও অনেক ঘটনা বর্ণিত আছে । এ সকল ঘটনা দ্বারা ইলমী মোশাহাদা উদ্দেশ্য।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৫, পৃষ্ঠা-২৫১]
📄 আউলিয়াদের কারামত
وَمِنْ أُصُولِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ : التَّصْدِيقُ بِكَرَامَاتِ الْأَوْلِيَاءِ وَمَا يُجْرِي اللَّهُ عَلَى أَيْدِيهِمْ مِنْ خَوَارِقِ الْعَادَاتِ فِي أَنْوَاعِ الْعُلُومِ وَالْمُكَاشَفَاتِ وَأَنْوَاعِ الْقُدْرَةِ وَالتَّأْثِيرَاتِ كَالْمَأْثُورِ عَنْ سَالِفِ الْأُمَمِ فِي سُورَةِ الْكَهْفِ وَغَيْرِهَا وَعَنْ صَدْرِ هَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَسَائِرِ قُرُونِ الْأُمَّةِ وَهِيَ مَوْجُودَةٌ فِيهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
“আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বীদা হল, আউলিয়াদের কারামতের সত্যায়ন করা । এবং ইলম, কাশফ, বিভিন্ন প্রকার কুদরত ও তা'ছীরের ক্ষেত্রে তাদের থেকে যেসমস্ত অস্বাভাবিক বিষয় প্রকাশিত হয, তার সত্যায়ন করা। যেমন পূর্ববর্তী উম্মতের মাঝে আসহাবে কাহাফ ও অন্যান্যদের কারামত এবং এ উম্মতের মাঝে সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন ও কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক যুগে কারামত প্রকাশ পেতে থাকবে। সুতরাং এ উম্মতের কারামত কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৩, পৃষ্ঠা-১৫৬]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,
فَأَوْلِيَاءُ اللَّهِ الْمُتَّقُونَ هُمُ الْمُقْتَدُونَ بِمُحَمَّدِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَفْعَلُونَ مَا أَمَرَ بِهِ وَيَنْتَهُونَ عَمَّا عَنْهُ زَجَرَ ؛ وَيَقْتَدُونَ بِهِ فِيمَا بَيَّنَ لَهُمْ أَنْ يَتَّبِعُوهُ فِيهِ فَيُؤَيِّدُهُمْ بِمَلَائِكَتِهِ وَرُوحٍ مِنْهُ وَيَقْذِفُ اللَّهُ فِي قُلُوبِهِمْ مِنْ أَنْوَارِهِ وَلَهُمُ الْكَرَامَاتُ الَّتِي يُكْرِمُ اللهُ بِمَا أَوْلِيَاءَهُ الْمُتَّقِينَ . وَخِيَارُ أَوْلِيَاءِ اللَّهِ كَرَامَاتُهُمْ لِحُجَّةِ فِي الدِّينِ أَوْ لِحَاجَةِ بِالْمُسْلِمِينَ كَمَا كَانَتْ مُعْجِزَاتُ نَبِيِّهِمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَذَلِكَ كَرَامَاتُ أَوْلِيَاءِ اللَّهُ إِنَّمَا حَصَلَتْ بِبَرَكَةِ اتِّبَاعِ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
“মুত্তাকী ওয়ালী আল্লাহগণ যারা রাসূল (সঃ) এর একনিষ্ঠ অনুসারী, রাসূল (সঃ) যা আদেশ করেছেন, তা পালন করে এবং রাসূল (সঃ) যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকে, এবং তাদেরকে যে সমস্ত বিষয়ে আনুগত্যের আদেশ দিয়েছেন সেসমস্ত বিষয়ে আনুগত্য করে, ফলে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য করেন, এবং তাদের অন্তরে আল্লাহ তায়ালা নূর দান করেন। তাদের বিভিন্ন কারামত রয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর মুত্তাকী ওলীদেরকে সম্মানিত করেন। শ্রেষ্ঠ ওলী আল্লাহদের কারামত দ্বীনের জন্য হুজ্জত কিংবা মুসলমানদের প্রয়োজনে প্রকাশিত হয়, যেমন নবীদের মু'জিযা প্রকাশিত হয় । ওলী আল্লাহদের কারামত মূলতঃ নবী কারীম (সঃ) এর অনুসরণের বরকতে হাসিল হয়”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১১, পৃষ্ঠা-২৭৪]
📄 মৃতকে জীবিত করণ
“আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) “আন-নুবুওয়াত” নামক কিতাবে লিখেছেন-
وقد يكون إحياء الموتى على يد أتباع الأنبياء كما وقع لطائفة من هذه الأمة"
“কখনও কখনও আল্লাহ তায়ালা নবীদের অনুসারীদেরকে মৃতকে জীবিত করার ক্ষমতা দান করেন। যেমন এ উম্মতের অনেকের ক্ষেত্রে এরকম হয়েছে”
[আন-নুবুওয়াত, পৃষ্ঠা-২৯৮]
মৃতকে জীবিত করার ব্যাপারে ওলী-আউলিয়াদের থেকে অসংখ্য ঘটনা বর্ণিত আছে। আল্লামা ইবনে কাসীর (রহঃ) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া এর মাঝে অনেক ঘটনা বর্ণনা করেছেন । আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) মাজমুউল ফাতাওয়ায় এ সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনা উল্লেক করেছেন। আমরা এখানে সংক্ষিপ্ত একটি ঘটনা উল্লেখ করছি।
আল্লামা ইবনে তাইমা (রহঃ) লিখেছেন-
ورجل من النخع كان له حمار فمات في الطريق فقال له أصحابه: هلم نتوزع متاعك على رحالنا ، فقال لهم : أمهلوني هنيئة ، ثم توضأ فأحسن الوضوء وصلى ركعتين ودعا الله تعالى فأحيا حماره فحمل عليه متاعه
“নাখ এর অধিবাসী এক ব্যক্তির একটি গাধা ছিল। পথিমধ্যে সেটি মৃত্যুবরণ করল। তার সাথীরা তাকে বলল, এসো তোমার জিনিসপত্র আমাদের বাহনে বন্টন করে নেই । সে তাদেরকে বলল, আমাকে কিছুক্ষণ সুযোগ দাও! অতঃপর সে উত্তমরূপে ওযু করে দু'রাকাত নামায আদায় করল এবং আল্লাহর নিকট দু'য়া করল । অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাঁরর গাধাকে জীবিত করে দিলেন । অতঃপর সে তার জিনিসগুলো বাহনের উপর উঠাল”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১১, পৃষ্ঠা-২৮১]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) তাঁর “মাজুমউল ফাতাওয়ায়" كرمات حصلت للصحابة والتابعين و الصالحين )সাহাবী, তাবেয়ী ও সালেহীনদের কারামত( শিরোনামের অধীনে ওলী আল্লাহদের অনেক কারামত উল্লেখ করেছেন।
আমরা এখানে সংক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি উল্লেখ করছি-
وَ " حبيب بْنُ عَدِيّ " كَانَ أَسِيرًا عِنْدَ الْمُشْرِكِينَ بِمَكَّةَ شَرَّفَهَا اللهُ تَعَالَى وَكَانَ يُؤْتَى بِعِنَبِ يَأْكُلُهُ وَلَيْسَ بِمَكَّةَ عِنَبَةٌ
“হযরত খুবাইব বিন আদী (রাঃ) মক্কার মুশরিকদের নিকট বন্দী ছিলেন । তাঁর নিকট আঙ্গুর ফল থাকত, যা তিনি আহার করতেন অথচ মক্কায় তখন আঙ্গুর ফল ছিল না”
[মাজমুউল ফাতাওয়া,খ--১১, পৃষ্ঠা-২৭৬]
📄 হায়াতুন নবী (সঃ) এর আক্বীদা
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বীদা হল, নবী কারীম (সঃ) তাঁর কবর মোবারকে সম্পূর্ণ জীবিত অবস্থায় রয়েছেন, যেমন শহীদগণ তাদের কবরে জীবিত থাকেন। নব্য সালাফিয়্যাতের দাবীদার ওহাবীরা এটাকে অস্বীকার করলেও তাদের ইমাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) নবী কারীম (সঃ) এর কবর কিংবা অন্য কারও কবরের নিকট দু'য়া-মুনাজাত ইত্যাদির কঠোর বিরোধী ছিলেন। কিন্তু তিনি নবী কারীম (সঃ) সহ অন্যান্য ওলী-আল্লাহদের কবর থেকে যে বিভিন্ন আওয়াজ শ্রবণের কথা বর্ণিত আছে, সেটা স্বীকার করে লিখেছেন-
ولا يدخل في هذا الباب، ما يروى من أن قوما سمعوا رد السلام من قبر النبي صلى الله عليه وسلم، أو قبور غيره من الصالحين. وأن سعيد بن المسيب كان يسمع الأذان من القبر ليالي الحرة. ونحو ذلك. فهذا كله حق ليس مما نحن فيه، والأمر أجل من ذلك وأعظم
“[কবরের নিকট মুনাজাত ইত্যাদির নিষেধাজ্ঞার মাঝে] ঐ সমস্ত বিষয় অন্তর্ভূক্ত হবে না, যেগুলো বিভিন্ন আউলিয়াদের থেকে বর্ণিত আছে যেমন, কেউ কেউ নবী কারীম (সঃ) এবং অন্যান্য আউলিয়াদের কবর থেকে সালামের উত্তর শুনেছেন । হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহঃ) গ্রীষ্মের রাতে নবী কারীম (সঃ) এর করব থেকে আজানের ধ্বনি শ্রবণ করতেন। এ সমস্ত বিষয় সবই সত্য । আমাদের আলোচ্য বিষয় এগুলো নয়।”
[ইকতেযাউস সিরাতিল মুস্তাকিম, পৃষ্ঠা-২৫৪, (শামেলা)]