📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 পরিশুদ্ধ হৃদয়ে আল্লাহর দর্শন

📄 পরিশুদ্ধ হৃদয়ে আল্লাহর দর্শন


আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,
إذا سكن الغدير على صفاء ** وجنب أن يحركه النسيم ** بدت فيه السماء بلا امتراء **كذاك الشمس تبدو والنجوم ** كذاك قلوب أرباب التجلي *يرى في صفوها الله العظيم
“পুকুর যখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় এবং এর এক প্রান্ত মৃদু বাতাসে আন্দোলিত হয়, পরিষ্কারভাবে তাতে আসমান দৃশ্যমান হয় । তেমনিভাবে সূর্য ও চন্দ্রও দেখা যায়। একইভাবে 'তাজাল্লীর অধিকারী জ্বলব সমূহের পরিচ্ছন্নতায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা দৃশ্যমান হন।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৬, পৃষ্ঠা-২৮]

📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 স্বপ্নে আল্লাহকে দর্শন

📄 স্বপ্নে আল্লাহকে দর্শন


আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَمَنْ رَأَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فِي الْمَنَامِ فَإِنَّهُ يَرَاهُ فِي صُورَةٍ مِنْ الصُّوَرِ بِحَسَبِ حَالِ الرَّائِي إِنْ كَانَ صَالِحًا رَآهُ فِي صُورَةٍ حَسَنَةٍ ؛ وَلِهَذَا رَآهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ
“যে ব্যক্তি স্বপ্নে আল্লাহকে দেখল, সে আল্লাহকে একটি নির্দিষ্ট আকৃতিতে দেখবে । এটি দর্শকের অবস্থার উপর নির্ভর করে । যদি সে নেককার হয়, তবে আল্লাহকে উত্তম আকৃতিতে দেখবে। এজন্য নবী কারীম (সঃ) আল্লাহকে সর্বোত্তম আকৃতিতে দেখেছেন”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৫, পৃষ্ঠা-২৫১]

📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 মোশাহাদা

📄 মোশাহাদা


وَ " الْمُشَاهَدَاتُ " الَّتِي قَدْ تَحْصُلُ لِبَعْضِ الْعَارِفِينَ فِي الْيَقَظَةِ كَقَوْلِ ابْنِ عُمَرَ لِابْنِ الزُّبَيْرِ لَمَّا خَطَبَ إِلَيْهِ ابْنَتَهُ فِي الطَّوَافِ : أَتُحَدِّثُنِي فِي النِّسَاءِ وَنَحْنُ نَتَرَاءَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فِي طَوَافِنَا وَأَمْثَالُ ذَلِكَ إِنَّمَا يَتَعَلَّقُ بِالْمِثَالِ الْعِلْمِيِّ الْمَشْهُودِ
“জাগ্রত অবস্থায় কোন কোন আরেফ মোশাহাদা লাভ করেন। যেমন, হযরত ইবনে উমর (রাঃ) কে তওয়াফ অবস্থায় হযরত ইবনে যুবাইর (রাঃ) নিজ কন্যার বিবাহের প্রস্তাব দিলে হযরত ইবনে উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, “তুমি আমার সাথে কাছে মহিলাদের আলোচনা করছ, অথচ আমি তওয়াফ অবস্থায় আল্লাহর দর্শন লাভ করছি”। এ জাতীয় আরও অনেক ঘটনা বর্ণিত আছে । এ সকল ঘটনা দ্বারা ইলমী মোশাহাদা উদ্দেশ্য।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৫, পৃষ্ঠা-২৫১]

📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 আউলিয়াদের কারামত

📄 আউলিয়াদের কারামত


وَمِنْ أُصُولِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ : التَّصْدِيقُ بِكَرَامَاتِ الْأَوْلِيَاءِ وَمَا يُجْرِي اللَّهُ عَلَى أَيْدِيهِمْ مِنْ خَوَارِقِ الْعَادَاتِ فِي أَنْوَاعِ الْعُلُومِ وَالْمُكَاشَفَاتِ وَأَنْوَاعِ الْقُدْرَةِ وَالتَّأْثِيرَاتِ كَالْمَأْثُورِ عَنْ سَالِفِ الْأُمَمِ فِي سُورَةِ الْكَهْفِ وَغَيْرِهَا وَعَنْ صَدْرِ هَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَسَائِرِ قُرُونِ الْأُمَّةِ وَهِيَ مَوْجُودَةٌ فِيهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
“আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বীদা হল, আউলিয়াদের কারামতের সত্যায়ন করা । এবং ইলম, কাশফ, বিভিন্ন প্রকার কুদরত ও তা'ছীরের ক্ষেত্রে তাদের থেকে যেসমস্ত অস্বাভাবিক বিষয় প্রকাশিত হয, তার সত্যায়ন করা। যেমন পূর্ববর্তী উম্মতের মাঝে আসহাবে কাহাফ ও অন্যান্যদের কারামত এবং এ উম্মতের মাঝে সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন ও কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক যুগে কারামত প্রকাশ পেতে থাকবে। সুতরাং এ উম্মতের কারামত কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৩, পৃষ্ঠা-১৫৬]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,
فَأَوْلِيَاءُ اللَّهِ الْمُتَّقُونَ هُمُ الْمُقْتَدُونَ بِمُحَمَّدِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَفْعَلُونَ مَا أَمَرَ بِهِ وَيَنْتَهُونَ عَمَّا عَنْهُ زَجَرَ ؛ وَيَقْتَدُونَ بِهِ فِيمَا بَيَّنَ لَهُمْ أَنْ يَتَّبِعُوهُ فِيهِ فَيُؤَيِّدُهُمْ بِمَلَائِكَتِهِ وَرُوحٍ مِنْهُ وَيَقْذِفُ اللَّهُ فِي قُلُوبِهِمْ مِنْ أَنْوَارِهِ وَلَهُمُ الْكَرَامَاتُ الَّتِي يُكْرِمُ اللهُ بِمَا أَوْلِيَاءَهُ الْمُتَّقِينَ . وَخِيَارُ أَوْلِيَاءِ اللَّهِ كَرَامَاتُهُمْ لِحُجَّةِ فِي الدِّينِ أَوْ لِحَاجَةِ بِالْمُسْلِمِينَ كَمَا كَانَتْ مُعْجِزَاتُ نَبِيِّهِمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَذَلِكَ كَرَامَاتُ أَوْلِيَاءِ اللَّهُ إِنَّمَا حَصَلَتْ بِبَرَكَةِ اتِّبَاعِ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
“মুত্তাকী ওয়ালী আল্লাহগণ যারা রাসূল (সঃ) এর একনিষ্ঠ অনুসারী, রাসূল (সঃ) যা আদেশ করেছেন, তা পালন করে এবং রাসূল (সঃ) যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকে, এবং তাদেরকে যে সমস্ত বিষয়ে আনুগত্যের আদেশ দিয়েছেন সেসমস্ত বিষয়ে আনুগত্য করে, ফলে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য করেন, এবং তাদের অন্তরে আল্লাহ তায়ালা নূর দান করেন। তাদের বিভিন্ন কারামত রয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর মুত্তাকী ওলীদেরকে সম্মানিত করেন। শ্রেষ্ঠ ওলী আল্লাহদের কারামত দ্বীনের জন্য হুজ্জত কিংবা মুসলমানদের প্রয়োজনে প্রকাশিত হয়, যেমন নবীদের মু'জিযা প্রকাশিত হয় । ওলী আল্লাহদের কারামত মূলতঃ নবী কারীম (সঃ) এর অনুসরণের বরকতে হাসিল হয়”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১১, পৃষ্ঠা-২৭৪]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00