📄 কাশফ ও ইলহাম
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
فَمَا كَانَ مِنْ الْخَوَارِقِ مِنْ " بَابِ الْعِلْمِ " فَتَارَةً بِأَنْ يُسْمِعَ الْعَبْدَ مَا لَا يَسْمَعُهُ غَيْرُهُ . وَتَارَةً بِأَنْ يَرَى مَا لَا يَرَاهُ غَيْرُهُ يَقَظَةً وَمَنَامًا . وَتَارَةً بِأَنْ يَعْلَمَ مَا لَا يَعْلَمُ غَيْرُهُ وَحْيًا وَإِنْهَامًا أَوْ إِنْزَالُ عِلْمٍ ضَرُورِي أَوْ فِرَاسَةٍ صَادِقَةٍ وَيُسَمَّى كَشْفًا وَمُشَاهَدَاتٍ وَمُكَاشَفَاتٍ وَمُخَاطَبَاتٍ : فَالسَّمَاعُ مُخَاطَبَاتٌ وَالرُّؤْيَةُ مُشَاهَدَاتٌ وَالْعِلْمُ مُكَاشَفَةٌ وَيُسَمَّى ذَلِكَ كُلُّهُ " كَشْفَا " وَ " مُكَاشَفَةً " أَيْ كَشَفَ لَهُ عَنْهُ
“ইলমের ক্ষেত্রে যে সমস্ত অস্বাভাবিক বিষয় প্রকাশিত হয় যেমন, কখনও কোন কোন বান্দা এমন কিছু শ্রবণ করে যা অন্যরা করে না, কিংবা কখনও স্বপ্নে বা জাগ্রত অবস্থায় এমন জিনিস দেখে, যা অন্যরা দেখে না, অথবা ওহী বা ইলহামের মাধ্যমে কখনও এমন জিনিস অবগত হয়, যা অন্যরা জানে না, অথবা তার উপর আবশকীয় ইলম অবতীর্ণ হয়, অথবা সত্য ফিরাসাত যাকে কাশফ ও মোশাহাদা বলা হয়, সমষ্টিগতভাবে এগুলোকে কাশফ ও মুকাশাফা বলে অর্থাৎ তার নিকট উন্মোচিত করা হয়েছে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১১, পৃষ্ঠা-৩১৩]
📄 পরিশুদ্ধ হৃদয়ে আল্লাহর দর্শন
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,
إذا سكن الغدير على صفاء ** وجنب أن يحركه النسيم ** بدت فيه السماء بلا امتراء **كذاك الشمس تبدو والنجوم ** كذاك قلوب أرباب التجلي *يرى في صفوها الله العظيم
“পুকুর যখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় এবং এর এক প্রান্ত মৃদু বাতাসে আন্দোলিত হয়, পরিষ্কারভাবে তাতে আসমান দৃশ্যমান হয় । তেমনিভাবে সূর্য ও চন্দ্রও দেখা যায়। একইভাবে 'তাজাল্লীর অধিকারী জ্বলব সমূহের পরিচ্ছন্নতায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা দৃশ্যমান হন।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৬, পৃষ্ঠা-২৮]
📄 স্বপ্নে আল্লাহকে দর্শন
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَمَنْ رَأَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فِي الْمَنَامِ فَإِنَّهُ يَرَاهُ فِي صُورَةٍ مِنْ الصُّوَرِ بِحَسَبِ حَالِ الرَّائِي إِنْ كَانَ صَالِحًا رَآهُ فِي صُورَةٍ حَسَنَةٍ ؛ وَلِهَذَا رَآهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ
“যে ব্যক্তি স্বপ্নে আল্লাহকে দেখল, সে আল্লাহকে একটি নির্দিষ্ট আকৃতিতে দেখবে । এটি দর্শকের অবস্থার উপর নির্ভর করে । যদি সে নেককার হয়, তবে আল্লাহকে উত্তম আকৃতিতে দেখবে। এজন্য নবী কারীম (সঃ) আল্লাহকে সর্বোত্তম আকৃতিতে দেখেছেন”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৫, পৃষ্ঠা-২৫১]
📄 মোশাহাদা
وَ " الْمُشَاهَدَاتُ " الَّتِي قَدْ تَحْصُلُ لِبَعْضِ الْعَارِفِينَ فِي الْيَقَظَةِ كَقَوْلِ ابْنِ عُمَرَ لِابْنِ الزُّبَيْرِ لَمَّا خَطَبَ إِلَيْهِ ابْنَتَهُ فِي الطَّوَافِ : أَتُحَدِّثُنِي فِي النِّسَاءِ وَنَحْنُ نَتَرَاءَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فِي طَوَافِنَا وَأَمْثَالُ ذَلِكَ إِنَّمَا يَتَعَلَّقُ بِالْمِثَالِ الْعِلْمِيِّ الْمَشْهُودِ
“জাগ্রত অবস্থায় কোন কোন আরেফ মোশাহাদা লাভ করেন। যেমন, হযরত ইবনে উমর (রাঃ) কে তওয়াফ অবস্থায় হযরত ইবনে যুবাইর (রাঃ) নিজ কন্যার বিবাহের প্রস্তাব দিলে হযরত ইবনে উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, “তুমি আমার সাথে কাছে মহিলাদের আলোচনা করছ, অথচ আমি তওয়াফ অবস্থায় আল্লাহর দর্শন লাভ করছি”। এ জাতীয় আরও অনেক ঘটনা বর্ণিত আছে । এ সকল ঘটনা দ্বারা ইলমী মোশাহাদা উদ্দেশ্য।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৫, পৃষ্ঠা-২৫১]