📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর নিকট ইলমে বাতেন
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) লিখেছেন-
عِلْمَ الْباطِنِ الَّذِي هُوَ عِلْمُ إِيمَانِ الْقُلُوبِ وَمَعَارِفِهَا وَأَحْوَالِهَا هُوَ عِلْمٌ بِحَقَائِقِ الْإِيمَانِ الْبَاطِنَةِ وَهَذَا أَشْرَفُ مِنْ الْعِلْمِ بِمُجَرَّدِ أَعْمَالِ الْإِسْلَامِ الظَّاهِرَةِ
“ইলমে বাতেন হল, জ্বলবের ইমান, মা'রেফাত, ও হালতের ইলম । ইলমে বাতেন হল, অভ্যন্তরীণ ঈমানের হাকীকত। শুধু বাহ্যিক আমলের চেয়ে ইলমে বাতেনের এই ইলম অধিক মর্যাদাবান”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১১, পৃষ্ঠা-২২৫]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَفِيهِمْ مَنْ يُفَضّلُ عَلِيًّا فِي الْعِلْمِ الْبَاطِنِ كَطَرِيقَةِ الْحَرْبِي وَأَمْثَالِهِ وَيَدَّعُونَ أَنَّ عَلِيًّا كَانَ أَعْلَمَ بِالْبَاطِنِ وَأَنَّ هَذَا الْعِلْمَ أَفْضَلُ مِنْ جِهَتِهِ وَأَبُو بَكْرٍ كَانَ أَعْلَمَ بِالظَّاهِرِ . وَهَؤُلَاءِ عَكْسُ مُحَقِّقِي الصُّوفِيَّةِ وَأَئِمَّتِهِمْ فَإِنَّهُمْ مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ أَعْلَمَ الْخَلْقِ بِالْعِلْمِ الْبَاطِنِ هُوَ أَبُو بَكْرِ الصِّدِّيقُ . وَقَدْ اتَّفَقَ أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ عَلَى أَنَّ أَبَا بَكْرٍ أَعْلَمُ الْأُمَّةِ بِالْبَاطِنِ وَالظَّاهِرِ وَحَكَى الْإِجْمَاعَ عَلَى ذَلِكَ غَيْرُ وَاحِدٍ
"শিয়াদের কেউ কেউ যেমন হারবী তরীকার লোকেরা ইলমে বাতেনের ক্ষেত্রে হযরত আলী (রাঃ) কে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে এবং তারা দাবী করে যে, হযরত আলী (রাঃ) ইলমে বাতেনের ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত ছিলেন এবং এ ইলম তাদের নিকট যাহিরের চেয়ে উত্তম । আর হযরত আবু বকর (রাঃ) যাহিরি ইলমের অধিকারী ছিলেন। এরা তাছাউফের ইমাম ও গবেষক সূফীগণের বিপরীত মত পোষণ করে । কেননা তাছাউফের ইমামগণ এ বিষয়ে একমত যে, ইলমে বাতেনের ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত হলেন, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত এ ব্যাপারে একমত যে, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ইলমে যাহের ও বাতেনের ব্যাপারে সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন । এবং অনেকে এ ব্যাপারে ইজমার কথা বর্ণনা করেছেন।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১৩, পৃষ্ঠা-২৩৭]
📄 ইলমে বাতেনের হুকুম
وَأَمَّا إِذَا أُرِيدَ بِالْعِلْمِ الْبَاطِنِ الْعِلْمُ الَّذِي يَبْطُنُ عَنْ أَكْثَرِ النَّاسِ أَوْ عَنْ بَعْضِهِمْ فَهَذَا عَلَى نَوْعَيْنِ : " أَحَدُهُمَا " بَاطِنُ يُخَالِفُ الْعِلْمَ الظَّاهِرَ . و " الثَّانِي " لَا يُخَالِفُهُ فَأَمَّا الْأَوَّلُ فَبَاطِلٌ ؛ فَمَنْ ادَّعَى عِلْمًا بَاطِئًا أَوْ عِلْمًا بِبَاطِنِ وَذَلِكَ يُخَالِفُ الْعِلْمَ الظَّاهِرَ كَانَ مُخْطِئًا إِمَّا مُلْحِدًا زِنْدِيقًا وَإِمَّا جَاهِلًا ضَالَّا . وَأَمَّا الثَّانِي فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الْكَلَامِ فِي الْعِلْمِ الظَّاهِرِ قَدْ يَكُونُ حَقًّا وَقَدْ يَكُونُ بَاطِلًا فَإِنَّ الْبَاطِنَ إِذَا لَمْ يُخَالِفُ الظَّاهِرَ لَمْ يُعْلَمْ بُطْلَانُهُ مِنْ جِهَةِ مُخَالَفَتِهِ لِلظَّاهِرِ الْمَعْلُومِ فَإِنْ عُلِمَ أَنَّهُ حَقٌّ قُبِلَ وَإِنْ عُلِمَ أَنَّهُ بَاطِلٌ رُدَّ وَإِلَّا أُمْسِكَ عَنْهُ
“ইলমে বাতেন দ্বারা যদি এমন ইলম উদ্দেশ্য হয়, যা অধিকাংশ মানুষ কিংবা কিছু মানুষ থেকে গোপন থাকে, তবে এটি দু'প্রকার। প্রথম প্রকার, এমন ইলমে বাতেন যেটি ইলমে যাহেরের বিরোধী। দ্বিতীয় প্রকার, যেটি ইলমে যাহেরের বিরোধী নয়। প্রথম প্রকারের ইলমে বাতেন সম্পূর্ণ বাতেল, প্রত্যাখ্যাত। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন ইলমে বাতেনের দাবী করল, যা বাহ্যিক শরীয়তে ইলমের বিপরীত তবে সে ভুল, অথবা মুরতাদ-যিন্দিক, অথবা পথভ্রষ্ট-মূর্খ। আর যদি ইলমে বাতেন ইলমে যাহেরের বিরোধী না হয়, তবে এটি ইলমে কালামের মত, কখনও এটি সত্য হয়, আবার কখনও এটি ভুল হয়। কোন একটি বিষয় ইলমে যাহেরের বিরোধী হলেই বাতিল সাব্যস্ত । এখন যদি জানা যায়, এ ইলমে বাতেন হক্ব তাহলে তা গ্রহণ করা হবে । আর যদি জানা যায় যে, এটি বাতেল, তবে তা প্রত্যাখ্যাত, নুতবা এধরণের ইলম থেকে বিরত থাকতে হবে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১৩, পৃষ্ঠা-২৩৬]
📄 কাশফ ও ইলহাম
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
فَمَا كَانَ مِنْ الْخَوَارِقِ مِنْ " بَابِ الْعِلْمِ " فَتَارَةً بِأَنْ يُسْمِعَ الْعَبْدَ مَا لَا يَسْمَعُهُ غَيْرُهُ . وَتَارَةً بِأَنْ يَرَى مَا لَا يَرَاهُ غَيْرُهُ يَقَظَةً وَمَنَامًا . وَتَارَةً بِأَنْ يَعْلَمَ مَا لَا يَعْلَمُ غَيْرُهُ وَحْيًا وَإِنْهَامًا أَوْ إِنْزَالُ عِلْمٍ ضَرُورِي أَوْ فِرَاسَةٍ صَادِقَةٍ وَيُسَمَّى كَشْفًا وَمُشَاهَدَاتٍ وَمُكَاشَفَاتٍ وَمُخَاطَبَاتٍ : فَالسَّمَاعُ مُخَاطَبَاتٌ وَالرُّؤْيَةُ مُشَاهَدَاتٌ وَالْعِلْمُ مُكَاشَفَةٌ وَيُسَمَّى ذَلِكَ كُلُّهُ " كَشْفَا " وَ " مُكَاشَفَةً " أَيْ كَشَفَ لَهُ عَنْهُ
“ইলমের ক্ষেত্রে যে সমস্ত অস্বাভাবিক বিষয় প্রকাশিত হয় যেমন, কখনও কোন কোন বান্দা এমন কিছু শ্রবণ করে যা অন্যরা করে না, কিংবা কখনও স্বপ্নে বা জাগ্রত অবস্থায় এমন জিনিস দেখে, যা অন্যরা দেখে না, অথবা ওহী বা ইলহামের মাধ্যমে কখনও এমন জিনিস অবগত হয়, যা অন্যরা জানে না, অথবা তার উপর আবশকীয় ইলম অবতীর্ণ হয়, অথবা সত্য ফিরাসাত যাকে কাশফ ও মোশাহাদা বলা হয়, সমষ্টিগতভাবে এগুলোকে কাশফ ও মুকাশাফা বলে অর্থাৎ তার নিকট উন্মোচিত করা হয়েছে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১১, পৃষ্ঠা-৩১৩]
📄 পরিশুদ্ধ হৃদয়ে আল্লাহর দর্শন
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,
إذا سكن الغدير على صفاء ** وجنب أن يحركه النسيم ** بدت فيه السماء بلا امتراء **كذاك الشمس تبدو والنجوم ** كذاك قلوب أرباب التجلي *يرى في صفوها الله العظيم
“পুকুর যখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় এবং এর এক প্রান্ত মৃদু বাতাসে আন্দোলিত হয়, পরিষ্কারভাবে তাতে আসমান দৃশ্যমান হয় । তেমনিভাবে সূর্য ও চন্দ্রও দেখা যায়। একইভাবে 'তাজাল্লীর অধিকারী জ্বলব সমূহের পরিচ্ছন্নতায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা দৃশ্যমান হন।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৬, পৃষ্ঠা-২৮]