📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর দৃষ্টিতে বিদআত

📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর দৃষ্টিতে বিদআত


আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) তাঁর কিতাব “ক্বাইদাতুন জালিলা ফিত তাউস্সুলি ওয়াল ওসিলা” তে লিখেছেন-
وكل بدعة ليست واجبة ولا مستحبة فهي بدعة سيئة وهي ضلالة باتفاق المسلمين ومن قال في بعض البدع إنها بدعة حسنة فإنما ذلك إذا قام دليل شرعي أنها مستحبة فأما ماليس بمستحب ولا واجب فلا يقول أحد من المسلمين إنها من الحسنات التي يتقرب بها إلى الله
“প্রত্যেক বিদআত যা মুস্তাহাব কিংবা ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত নয়, তা বিদআতে সাইয়্যা (নিন্দনীয় বিদআত) । আর এটি উলামায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে ভ্রষ্টতা । কোন কোন বিদআতের ক্ষেত্রে যারা বলেন যে, এটি বিদআতে হাসানা, এটি তখনই প্রযোজ্য হবে যখন প্রমাণিত হবে যে, তা মুস্তাহাব। আর যখন কোন বিদআত এমন হবে যে, তা মুসতাহাব বা ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত নয়, সেটিকে কোন মুসলমান বিদআতে হাসানার অন্তর্ভূক্ত করে না, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়”
[ক্বাইদাতুন জালিলা ফিত তাউস্সুলি ওয়াল ওসিলাচ, পৃষ্ঠা-৪৬ (মাকতাবায়ে শামেলা)]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) সুস্পষ্টভাব বিদআতকে হাসানা ও সাইয়্যা হিসেবে ভাগ করেছেন। এবং বিদআতে হাসানা হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে শর্ত দিয়েছেন, অন্যান্য উলামায়ে কেরামও একই শর্ত দিয়ে থাকেন।
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) মাজমুউল ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেছেন-
إِذَا الْبِدْعَةُ الْحَسَنَةُ - عِنْدَ مَنْ يُقَسِمُ الْبِدَعَ إِلَى حَسَنَةٍ وَسَيِّئَةٍ - لَا بُدَّ أَنْ يَسْتَحِبَّهَا أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ الَّذِينَ يُقْتَدَى بِهِمْ وَيَقُومُ دَلِيلٌ شَرْعِيٌّ عَلَى اسْتِحْبَابِهَا وَكَذَلِكَ مَنْ يَقُولُ : الْبِدْعَةُ الشَّرْعِيَّةُ كُلُّهَا مَذْمُومَةٌ لِقَوْلِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ : { كُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ } وَيَقُولُ قَوْلُ عُمَرَ فِي التَّرَاوِيحِ : " نِعْمَتْ الْبِدْعَةُ هَذِهِ " إِنَّمَا أَسْمَاهَا بِدْعَةً : بِاعْتِبَارِ وَضْعِ اللُّغَةِ . فَالْبِدْعَةُ فِي الشَّرْعِ عِنْدَ هَؤُلَاءِ مَا لَمْ يَقُمْ دليلٌ شَرْعِيٌّ عَلَى اسْتِحْبَابِهِ
“যারা বিদআতকে হাসানা ও সাইয়্যা হিসেবে ভাগ করেছেন, তাদের নিকট বিদআতে হাসান হওয়ার জন্য আবশ্যক হল, অনুসরণীয় কোন আলেম একে মুস্তাহাব মনে করেন, এবং এটি মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে শরীযতের দলিল পাওযা যায় । আর যারা বলে যে, শরীয়তে সকল বিদআতই নিন্দনীয়; কেননা রাসূল (সঃ) সহীহ হাদীসে বলেছেন, “প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা”, আর তারাবীহের ক্ষেত্রে হযরত উমর (রাঃ) যে বলেছেন, “এটি উত্তম একটি বিদআত” তিনি শাব্দিক অর্থে বিদআত বলেছেন, এদের নিকটও বিদআত হল, এমন আমল যার মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তের কোন দলিল নেই”
[মাজমুউল ফাতাওয়া,খ--২৭, পৃষ্ঠা-১৫২]

📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর নিকট ইলমে বাতেন

📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর নিকট ইলমে বাতেন


আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) লিখেছেন-
عِلْمَ الْباطِنِ الَّذِي هُوَ عِلْمُ إِيمَانِ الْقُلُوبِ وَمَعَارِفِهَا وَأَحْوَالِهَا هُوَ عِلْمٌ بِحَقَائِقِ الْإِيمَانِ الْبَاطِنَةِ وَهَذَا أَشْرَفُ مِنْ الْعِلْمِ بِمُجَرَّدِ أَعْمَالِ الْإِسْلَامِ الظَّاهِرَةِ
“ইলমে বাতেন হল, জ্বলবের ইমান, মা'রেফাত, ও হালতের ইলম । ইলমে বাতেন হল, অভ্যন্তরীণ ঈমানের হাকীকত। শুধু বাহ্যিক আমলের চেয়ে ইলমে বাতেনের এই ইলম অধিক মর্যাদাবান”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১১, পৃষ্ঠা-২২৫]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَفِيهِمْ مَنْ يُفَضّلُ عَلِيًّا فِي الْعِلْمِ الْبَاطِنِ كَطَرِيقَةِ الْحَرْبِي وَأَمْثَالِهِ وَيَدَّعُونَ أَنَّ عَلِيًّا كَانَ أَعْلَمَ بِالْبَاطِنِ وَأَنَّ هَذَا الْعِلْمَ أَفْضَلُ مِنْ جِهَتِهِ وَأَبُو بَكْرٍ كَانَ أَعْلَمَ بِالظَّاهِرِ . وَهَؤُلَاءِ عَكْسُ مُحَقِّقِي الصُّوفِيَّةِ وَأَئِمَّتِهِمْ فَإِنَّهُمْ مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ أَعْلَمَ الْخَلْقِ بِالْعِلْمِ الْبَاطِنِ هُوَ أَبُو بَكْرِ الصِّدِّيقُ . وَقَدْ اتَّفَقَ أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ عَلَى أَنَّ أَبَا بَكْرٍ أَعْلَمُ الْأُمَّةِ بِالْبَاطِنِ وَالظَّاهِرِ وَحَكَى الْإِجْمَاعَ عَلَى ذَلِكَ غَيْرُ وَاحِدٍ
"শিয়াদের কেউ কেউ যেমন হারবী তরীকার লোকেরা ইলমে বাতেনের ক্ষেত্রে হযরত আলী (রাঃ) কে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে এবং তারা দাবী করে যে, হযরত আলী (রাঃ) ইলমে বাতেনের ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত ছিলেন এবং এ ইলম তাদের নিকট যাহিরের চেয়ে উত্তম । আর হযরত আবু বকর (রাঃ) যাহিরি ইলমের অধিকারী ছিলেন। এরা তাছাউফের ইমাম ও গবেষক সূফীগণের বিপরীত মত পোষণ করে । কেননা তাছাউফের ইমামগণ এ বিষয়ে একমত যে, ইলমে বাতেনের ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত হলেন, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত এ ব্যাপারে একমত যে, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ইলমে যাহের ও বাতেনের ব্যাপারে সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন । এবং অনেকে এ ব্যাপারে ইজমার কথা বর্ণনা করেছেন।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১৩, পৃষ্ঠা-২৩৭]

📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 ইলমে বাতেনের হুকুম

📄 ইলমে বাতেনের হুকুম


وَأَمَّا إِذَا أُرِيدَ بِالْعِلْمِ الْبَاطِنِ الْعِلْمُ الَّذِي يَبْطُنُ عَنْ أَكْثَرِ النَّاسِ أَوْ عَنْ بَعْضِهِمْ فَهَذَا عَلَى نَوْعَيْنِ : " أَحَدُهُمَا " بَاطِنُ يُخَالِفُ الْعِلْمَ الظَّاهِرَ . و " الثَّانِي " لَا يُخَالِفُهُ فَأَمَّا الْأَوَّلُ فَبَاطِلٌ ؛ فَمَنْ ادَّعَى عِلْمًا بَاطِئًا أَوْ عِلْمًا بِبَاطِنِ وَذَلِكَ يُخَالِفُ الْعِلْمَ الظَّاهِرَ كَانَ مُخْطِئًا إِمَّا مُلْحِدًا زِنْدِيقًا وَإِمَّا جَاهِلًا ضَالَّا . وَأَمَّا الثَّانِي فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الْكَلَامِ فِي الْعِلْمِ الظَّاهِرِ قَدْ يَكُونُ حَقًّا وَقَدْ يَكُونُ بَاطِلًا فَإِنَّ الْبَاطِنَ إِذَا لَمْ يُخَالِفُ الظَّاهِرَ لَمْ يُعْلَمْ بُطْلَانُهُ مِنْ جِهَةِ مُخَالَفَتِهِ لِلظَّاهِرِ الْمَعْلُومِ فَإِنْ عُلِمَ أَنَّهُ حَقٌّ قُبِلَ وَإِنْ عُلِمَ أَنَّهُ بَاطِلٌ رُدَّ وَإِلَّا أُمْسِكَ عَنْهُ
“ইলমে বাতেন দ্বারা যদি এমন ইলম উদ্দেশ্য হয়, যা অধিকাংশ মানুষ কিংবা কিছু মানুষ থেকে গোপন থাকে, তবে এটি দু'প্রকার। প্রথম প্রকার, এমন ইলমে বাতেন যেটি ইলমে যাহেরের বিরোধী। দ্বিতীয় প্রকার, যেটি ইলমে যাহেরের বিরোধী নয়। প্রথম প্রকারের ইলমে বাতেন সম্পূর্ণ বাতেল, প্রত্যাখ্যাত। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন ইলমে বাতেনের দাবী করল, যা বাহ্যিক শরীয়তে ইলমের বিপরীত তবে সে ভুল, অথবা মুরতাদ-যিন্দিক, অথবা পথভ্রষ্ট-মূর্খ। আর যদি ইলমে বাতেন ইলমে যাহেরের বিরোধী না হয়, তবে এটি ইলমে কালামের মত, কখনও এটি সত্য হয়, আবার কখনও এটি ভুল হয়। কোন একটি বিষয় ইলমে যাহেরের বিরোধী হলেই বাতিল সাব্যস্ত । এখন যদি জানা যায়, এ ইলমে বাতেন হক্ব তাহলে তা গ্রহণ করা হবে । আর যদি জানা যায় যে, এটি বাতেল, তবে তা প্রত্যাখ্যাত, নুতবা এধরণের ইলম থেকে বিরত থাকতে হবে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১৩, পৃষ্ঠা-২৩৬]

📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 কাশফ ও ইলহাম

📄 কাশফ ও ইলহাম


আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
فَمَا كَانَ مِنْ الْخَوَارِقِ مِنْ " بَابِ الْعِلْمِ " فَتَارَةً بِأَنْ يُسْمِعَ الْعَبْدَ مَا لَا يَسْمَعُهُ غَيْرُهُ . وَتَارَةً بِأَنْ يَرَى مَا لَا يَرَاهُ غَيْرُهُ يَقَظَةً وَمَنَامًا . وَتَارَةً بِأَنْ يَعْلَمَ مَا لَا يَعْلَمُ غَيْرُهُ وَحْيًا وَإِنْهَامًا أَوْ إِنْزَالُ عِلْمٍ ضَرُورِي أَوْ فِرَاسَةٍ صَادِقَةٍ وَيُسَمَّى كَشْفًا وَمُشَاهَدَاتٍ وَمُكَاشَفَاتٍ وَمُخَاطَبَاتٍ : فَالسَّمَاعُ مُخَاطَبَاتٌ وَالرُّؤْيَةُ مُشَاهَدَاتٌ وَالْعِلْمُ مُكَاشَفَةٌ وَيُسَمَّى ذَلِكَ كُلُّهُ " كَشْفَا " وَ " مُكَاشَفَةً " أَيْ كَشَفَ لَهُ عَنْهُ
“ইলমের ক্ষেত্রে যে সমস্ত অস্বাভাবিক বিষয় প্রকাশিত হয় যেমন, কখনও কোন কোন বান্দা এমন কিছু শ্রবণ করে যা অন্যরা করে না, কিংবা কখনও স্বপ্নে বা জাগ্রত অবস্থায় এমন জিনিস দেখে, যা অন্যরা দেখে না, অথবা ওহী বা ইলহামের মাধ্যমে কখনও এমন জিনিস অবগত হয়, যা অন্যরা জানে না, অথবা তার উপর আবশকীয় ইলম অবতীর্ণ হয়, অথবা সত্য ফিরাসাত যাকে কাশফ ও মোশাহাদা বলা হয়, সমষ্টিগতভাবে এগুলোকে কাশফ ও মুকাশাফা বলে অর্থাৎ তার নিকট উন্মোচিত করা হয়েছে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১১, পৃষ্ঠা-৩১৩]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00