📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর মাধ্যমে বরকত লাভ

📄 ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর মাধ্যমে বরকত লাভ


আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর ছাত্র হাফেয উমর ইবনে আলী আল-বাজ্জার (রহঃ) ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর জীবনীর উপর লিখিত “আল-আ'লামুল আলিয়্যা ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়া” নামক কিতাবে লিখেছেন-
فقل ان يراه احد ممن له بصيرة الا وانكب على يديه يقبلهما حتى انه كان اذا راه ارباب المعايش يتخطون من حوانيتهم للسلام عليه والتبرك به
“যখনই জ্ঞানী কেউ তাকে দেখত, তার হস্ত চুম্বনে অগ্রসর হত । এমনকি জীবিকা নির্বাহী ব্যবসায়ীরা যখন তাঁকে দেখত, তাকে সালাম দেযা ও তার নিকট থেকে বরকত লাভের জন্য তাদের দোকান থেকে বেরিয়ে আসত।”
[“আল-আ'লামুল আলিয়্যা ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়া” খ--১, পৃষ্ঠা-৩৯]
হাফেয বাজ্জার (রহঃ) বলেন-
"وكان رضي الله عنه كثيرا ما يرفع طرفه إلى السماء لا يكاد يفتر من ذلك كأنه يرى شيئا يثبته بنظره فكان هذا دابة مدة إقامتي بحضرته. فسبحان الله ما اقصر ما كانت يا ليتها كانت طالت ولا والله ما مر على عمري إلى ألان زمان كان احب إلى من ذلك الحين ولا رأيتني في وقت احسن حالا مني حينئذ وما كان إلا ببركة الشيخ رضي الله عنه
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) অনেক সময় আসমানের দিকে দৃষ্টি দিতেন এবং দৃষ্টি ফেরাতেন না, যেন তিনি কোন জিনিস তার দৃষ্টি দিয়ে দেখছেন। এটি ছিল হযরতের দরবারে আমার অবস্থানের সময় । সুবহানাল্লাহ! আমার অবস্থান ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত, হায় যদি তা দীর্ঘ হত! আল্লাহর শপথ! এখনও পর্যন্ত আমার জীবনে ঐ সময়ের চেয়ে প্রিয় কোন সময় অতিবাহিত হয় নি। সে সময়ে আমি সর্বোত্তম অবস্থায় ছিলাম । আর এ সব কিছু ছিল শায়েখ (রহঃ) এর বরকত”
[“আল-আ'লামুল আলিয়্যা ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়া” খ--১, পৃষ্ঠা-৪১]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর মৃত্যু পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লামা হাফেয বাজ্জার (রহঃ) লিখেছেন-
وازدحم من حضر غسله من الخاصة والعامة على الماء المنفصل عن غسله حتى حصل لكل واحد منهم شيء قليل, ثم أخرجت جنازته فما هو إلا ان رآها الناس فأكبوا عليها من كل جانب كلا منهم يقصد التبرك بها حتى خشي على النعش ان يحطم قبل وصوله إلى القبر
“তাঁর গোসল দানে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে সাধারণ ও বিশেষ ব্যক্তি সকলেই গোসলের অতিরিক্ত পানি নেয়ার জন্য ভিড় করল । ফলে তাদের প্রত্যেকেই অল্প অল্প করে তা নিল । অতঃপর তাঁর জানাযা বের করা হল। মানুষ যখন তার জানাযা দেখল, চতুর্দিক থেকে হুমড়ি খেয়ে পড়ল, প্রত্যেকেই তার মাধ্যমে বরকত লাভের উদ্দেশ্য এসেছেন, এমনকি কবরে পৌঁছার পূর্বে খাটিয়া ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা হল”
[“আল-আ'লামুল আলিয়্যা ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়া” খ--১, পৃষ্ঠা-৮৩]

📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর নিকট বরকত লাভ বৈধ

📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর নিকট বরকত লাভ বৈধ


আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) তাঁর “ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকিম” নামক কিতাবে লিখেছেন-
"فقد رخص أحمد وغيره في التمسح بالمنبر والرمانة التي هي موضع مقعد النبي صلى الله عليه وسلم ويده
“ইমাম আহমাদসহ অন্যান্যরা রাসূল (সঃ) এর মেম্বার ও রমানা যার উপর রাসূল (সঃ) হাত ও পা রাখতেন তা স্পর্শ করা জায়েয মনে করেছেন”
[“ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকিম”, খ--১, পৃষ্ঠা-৩৬৭]

📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর যিকির

📄 ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর যিকির


আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর ছাত্র হাফেয বাজ্জার (রহঃ) বলেন,
"وكان قد عرفت عادته؛ لا يكلمه أحد بغير ضرورة بعد صلاة الفجر فلا يزال في الذكر يسمع نفسه وربما يسمع ذكره من إلى جانبه، مع كونه في خلال ذلك يكثر في تقليب بصره نحو السماء . هكذا دأبه حتى ترتفع الشمس ويزول وقت النهي عن الصلاة.
وكنت مدة إقامتي بدمشق ملازمه جل النهار وكثيراً من الليل. وكان يدنيني منه حتى يجلسني إلى جانبه، وكنت أسمع ما يتلو وما يذكر حينئذ، فرأيته يقرأ الفاتحة ويكررها ويقطع ذلك الوقت كله ـ أعني من الفجر إلى ارتفاع الشمس ـ في تكرير تلاوتها
“শায়েখ (রহঃ) এর অভ্যাস ছিল যে, তার সাথে ফজরের পরে প্রয়োজন ব্যতীত কেউ কথা বলত না। ফজরের পরে তিনি এমনভাবে যিকির করতেন যে, তিনি শ্রবণ করতেন কখনও তার পাশের ব্যক্তিও শুনতে পেত। যিকিরের মাঝে মাঝে তিনি আসমানের দিকে তার দৃষ্টি ঘুরাতেন। সূর্যোদয় এবং নামায আদায়ের নিষিদ্ধ সময় অতিবাহিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি তাঁর আমল ছিল । আমি যখন দামেশকে অবস্থান করছিলাম, সারাদীন এবং রাতের অধিকাংশ তার সাথে অতিবাহিত করতাম । তিনি আমাকে তার নৈকট্য দানে ধন্য করেন, এমনকি তিনি আমাকে পাশে বসাতেন। তিনি কী পড়তেন এবং কী কী যিকির করতেন তা আমি শুনতে পেতাম । আমি দেখলাম যে, তিনি বার বার সূরা ফাতেহা পড়েন এবং এর মাঝেই সমস্ত সময় অতিবাহিত করেন অর্থাৎ ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।”
[আল-আ'লামুল আলিয়া ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়া, আল্লামা বাজ্জার (রহঃ), খ--১, পৃষ্ঠা-৩৮]
কখনও কখনও যিকির করতে করতে সকালের একটা অংশ কেটে যেত । আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বর্ণনা করেভেন-
أنه جاء إليه وقد ارتفع النهار فاستغرب جلوسه فقال له : ( هذه غدوتي لو لم أتغدها سقطت قواي )
“একদা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) তাঁর নিকট আগমন করেন, তখন সূর্য অনেক উপরে উঠে যাওয়া সত্ত্বেও আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) তাঁর যিকিরের হালতে রয়েছেন । আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) এতে আশ্চর্যন্বিত হলেন। আল্লামা ইবনে তাইমিযা (রহঃ) বললেন, “যিকির হল আমার সকলের নাস্তা, যদি আমি এটি আহার না করি আমার শক্তি চলে যাবে”
[আল-ওয়াবিলুস সাইয়্যিব, পৃষ্ঠা-৫৩, আর-রদ্দুল ওয়াফির, পৃষ্ঠা-৬৯]
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) এর আমলও এটি ছিল । তিনিও দীর্ঘ সময় যিকির করতেন, এমনকি দীনের অনেক অংশ অতিবাহিত হয়ে যেত ।
[ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়া হায়াতুহু ও আছারুহু, পৃষ্ঠা-৪৬, আদ-দুরারুল কামিনা, আল্লামা ইবনে হাযার আসকালানী (রহঃ), খ--৪, পৃষ্ঠা-২১]
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর চেয়েও বেশি যিকির-আযকার করতেন। তিনি বলেছেন-
أن في الذكر أكثر من مائة فائدة
“যিকিরের মাঝে একশটিরও বেশি উপকারিতা রয়েছে”
[আল-ওয়াবিলুস সাইয়্যিব, পৃষ্ঠা-৫২]
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) তাঁর কিতাবে যিকেরর প্রায় ৯০ টি ফায়দা লিখেছেন।
[আল-ওয়াবিলুস সাইয়্যিব, পৃষ্ঠা-৫২-১২০]
তাছাউফ বিদ্বেষী যে সমস্ত আহলে হাদীস বা সালাফী পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামের যিকির বা আমলকে বিদআত আখ্যা দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে থাকে, তাদের কাছে নিবেদন হল, আপনারা আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর উপর বিদআতী হওয়ার ফয়সালা দিন! তিনি একটি নির্দিষ্ট সূরাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমল হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এটি ওযিফা হিসেবে প্রতিদিন পাঠ করতেন । শরীয়তে এর কোন দলিল নেই। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এটি আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর নিজস্ব একটি আমল । যদি যিকির ও ওযিফা পালন বিদআত হয়, তাহলে আপনাদের ফতওয়া অনুযাযী আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বিদআতে লিপ্ত ছিলেন!
ইমাম যাহাবী (রহঃ) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন-
لم أر مثله في ابتهاله واستغاثته وكثرة توجهه
“আল্লাহর নিকট দু'য়া, ক্রন্দন, সাহায্য প্রার্থনা ও অধিক তাওয়াজ্জুহের অধিকারী তার মত আর কাউকে আমি দেখিনি”
[ওকাফাতুন বাহিয়্যা মিন হায়াতি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, আবু ইয়াঝিন হামযা বিন ফা'য়ে আল ফাতহী, পৃষ্ঠা-৪ (শামেলা)]

📘 ইবন তাইমিয়ার দৃষ্টিতে তাসাউফ > 📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর দৃষ্টিতে বিদআত

📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর দৃষ্টিতে বিদআত


আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) তাঁর কিতাব “ক্বাইদাতুন জালিলা ফিত তাউস্সুলি ওয়াল ওসিলা” তে লিখেছেন-
وكل بدعة ليست واجبة ولا مستحبة فهي بدعة سيئة وهي ضلالة باتفاق المسلمين ومن قال في بعض البدع إنها بدعة حسنة فإنما ذلك إذا قام دليل شرعي أنها مستحبة فأما ماليس بمستحب ولا واجب فلا يقول أحد من المسلمين إنها من الحسنات التي يتقرب بها إلى الله
“প্রত্যেক বিদআত যা মুস্তাহাব কিংবা ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত নয়, তা বিদআতে সাইয়্যা (নিন্দনীয় বিদআত) । আর এটি উলামায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে ভ্রষ্টতা । কোন কোন বিদআতের ক্ষেত্রে যারা বলেন যে, এটি বিদআতে হাসানা, এটি তখনই প্রযোজ্য হবে যখন প্রমাণিত হবে যে, তা মুস্তাহাব। আর যখন কোন বিদআত এমন হবে যে, তা মুসতাহাব বা ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত নয়, সেটিকে কোন মুসলমান বিদআতে হাসানার অন্তর্ভূক্ত করে না, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়”
[ক্বাইদাতুন জালিলা ফিত তাউস্সুলি ওয়াল ওসিলাচ, পৃষ্ঠা-৪৬ (মাকতাবায়ে শামেলা)]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) সুস্পষ্টভাব বিদআতকে হাসানা ও সাইয়্যা হিসেবে ভাগ করেছেন। এবং বিদআতে হাসানা হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে শর্ত দিয়েছেন, অন্যান্য উলামায়ে কেরামও একই শর্ত দিয়ে থাকেন।
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) মাজমুউল ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেছেন-
إِذَا الْبِدْعَةُ الْحَسَنَةُ - عِنْدَ مَنْ يُقَسِمُ الْبِدَعَ إِلَى حَسَنَةٍ وَسَيِّئَةٍ - لَا بُدَّ أَنْ يَسْتَحِبَّهَا أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ الَّذِينَ يُقْتَدَى بِهِمْ وَيَقُومُ دَلِيلٌ شَرْعِيٌّ عَلَى اسْتِحْبَابِهَا وَكَذَلِكَ مَنْ يَقُولُ : الْبِدْعَةُ الشَّرْعِيَّةُ كُلُّهَا مَذْمُومَةٌ لِقَوْلِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ : { كُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ } وَيَقُولُ قَوْلُ عُمَرَ فِي التَّرَاوِيحِ : " نِعْمَتْ الْبِدْعَةُ هَذِهِ " إِنَّمَا أَسْمَاهَا بِدْعَةً : بِاعْتِبَارِ وَضْعِ اللُّغَةِ . فَالْبِدْعَةُ فِي الشَّرْعِ عِنْدَ هَؤُلَاءِ مَا لَمْ يَقُمْ دليلٌ شَرْعِيٌّ عَلَى اسْتِحْبَابِهِ
“যারা বিদআতকে হাসানা ও সাইয়্যা হিসেবে ভাগ করেছেন, তাদের নিকট বিদআতে হাসান হওয়ার জন্য আবশ্যক হল, অনুসরণীয় কোন আলেম একে মুস্তাহাব মনে করেন, এবং এটি মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে শরীযতের দলিল পাওযা যায় । আর যারা বলে যে, শরীয়তে সকল বিদআতই নিন্দনীয়; কেননা রাসূল (সঃ) সহীহ হাদীসে বলেছেন, “প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা”, আর তারাবীহের ক্ষেত্রে হযরত উমর (রাঃ) যে বলেছেন, “এটি উত্তম একটি বিদআত” তিনি শাব্দিক অর্থে বিদআত বলেছেন, এদের নিকটও বিদআত হল, এমন আমল যার মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তের কোন দলিল নেই”
[মাজমুউল ফাতাওয়া,খ--২৭, পৃষ্ঠা-১৫২]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00