📄 হুলুলের আকীদা থেকে সূফীগণ মুক্ত
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْمَعْرِفَةِ بِاللَّهِ يَعْتَقِدُ حُلُولَ الرَّبِّ تَعَالَى بِهِ ، أَوْ بِغَيْرِهِ مِنْ الْمَخْلُوقَاتِ وَلَا اتِّحَادَهُ بِهِ وَإِنَّ سَمْعَ شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ مَنْقُولُ عَنْ بَعْضٍ أَكَابِرِ الشُّيُوخِ . فَكَثِيرٌ مِنْهُ مَكْذُوبٌ اخْتَلَقَهُ الْأَفَّاكُونَ مِنْ الاتحادية المباحية ؛ الَّذِينَ أَضَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ وَأَلْحَقَهُمْ بِالطَّائِفَةِ النَّصْرَانِيَّةِ
“আল্লাহর মা'রেফাত লাভে ধন্য কেউ আল্লাহর ব্যাপারে এ আক্বীদা পোষণ করেন না যে, আল্লাহ তার মাঝে কিংবা অন্য কোন মাখলুকের মাঝে প্রবেশ করেছে (হুলুলের আক্বীদা) এবং তারা আল্লাহর সত্ত্বার সাথে একীভূত (ইত্তেহাদ) হওয়ার আক্বীদাও পোষণ করেন না। কোন কোন শায়েখ থেকে এজাতীয় যে সমস্ত বক্তব্য বর্ণিত আছে, এর অধিকাংশ মিথ্যা, যা সৃষ্টি করেছে ইত্তেহাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী এক শ্রেণীর বিভ্রান্ত লোক. যাদেরকে শয়তান বিভ্রান্ত করেছে এবং তাদেরকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত করেছে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১১, পৃষ্ঠা-৭৪-৭৫]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,
ثُمَّ الصُّوفِيَّةُ الْمَشْهُورُونَ عِنْدَ الْأُمَّةِ - الَّذِينَ لَهُمْ لِسَانُ صِدْقٍ فِي الْأُمَّةِ - لَمْ يَكُونُوا يَسْتَحْسِنُونَ مِثْلَ هَذَا ؛ بَلْ يَنْهَوْنَ عَنْهُ وَلَهُمْ فِي الْكَلَامِ فِي ذَمّ صُحْبَةِ الْأَحْدَاثِ وَفِي الرَّدِّ عَلَى أَهْلِ الْخُلُولِ وَبَيَانِ مُبَايَنَةِ الْخَالِقِ : مَا لَا يَتَّسِعُ هَذَا الْمَوْضِعُ لِذِكْرِهِ
“উম্মতের মাঝে প্রসিদ্ধ সূফীগণ, উম্মতের মাঝে যারা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত, তাদের কেউ এ ধরণের আক্বীদা পছন্দ করতেন না। বরং তারা এ থেকে নিষেধ করতেন । আল্লাহর যাতের সাথে নশ্বর (হাদেস) কোন বিষয় সম্পৃক্ত কারীদের তারা নিন্দা করেছেন। হুলুলের আক্বীদা পোষকারীদের মত খ-ন করেছেন এবং খালেক ও মাখলুক ভিন্ন হওয়ার আক্বীদা পোষণ করেছেন। এখানে বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ নেই।
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১৫, পৃষ্ঠা-৪২৭]
এজন্য আল্লামা শা'রাণী (রহঃ) বলেন-
ولعمري إذا كان عُبَّاد الأوثان لم يتجرؤوا على أن يجعلوا آلهتهم عين الله ؛ بل قالوا: ما نعبدهم إلا ليقربونا إلى الله زلفى، فكيف يُظن بأولياء الله تعالى أنهم يدعون الاتحاد بالحق على حد ما تتعقله العقول الضعيفة ؟! هذا كالمحال في حقهم رضي الله تعالى عنهم، إذ ما من ولي إلا وهو يعلم أن حقيقته تعالى مخالفة لسائر الحقائق، وأنها خارجة عن جميع معلومات الخلائق، لأن الله بكل شيء محيط
“আমার জীবনের শপথ! যখন মূর্তিপূজকেরা একথা বলার দুঃসাহস দেখায় না যে, তারা যার পূজা করছে, সেটিই আল্লাহ, বরং তারা বলে, আমরা তাদের ইবাদত করি যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করিয়ে দেয়, সুতরাং কিভাবে ওলীআল্লাহদের সম্পর্কে একথা বলা হবে যে, তারা কোনভাবে আল্লাহ তায়ালার সাথে একীভূত (ইত্তেহাদ) হওয়ার দাবী করেছেন! কারও ন্যূনতম আকুল থাকলে সে এধরণের কথা বলবে না। তাদের সম্পর্কে এধরণের কথা বলা অসম্ভব । কেননা প্রত্যেক ওলীই জানেন যে, আল্লাহর যাতের হাকীকত সস্ত মাখলুকের হাকীকত থেকে ভিন্ন এবং আল্লাহর হাকীকত সমস্ত মাখলুকাতের ইলমের সীমার বাইরে । কেননা আল্লাহ তায়ালা সমস্ত কিছু বেষ্টন করে আছেন।”
[আল-ইয়াক্বিত ওয়াল জাওয়াহির, খ--১, পৃষ্ঠা-৮৩]
📄 সূফীগণ তাকদীর থেকে মুক্ত
নবীদের নিষ্পাপ হওয়ার আক্বীদা অস্বীরকারী কাফের হবে না। এ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَلَوْ كَفَرَ هَؤُلَاءِ لَزِمَ تَكْفِيرُ كَثِيرٍ مِنْ الشَّافِعِيَّةِ ، وَالْمَالِكِيَّةِ ، وَالْحَنَفِيَّةِ ، وَالْحَنْبَلِيَّةِ ، وَالْأَشْعَرِيَّةِ ، وَأَهْلِ الْحَدِيثِ ، وَالتَّفْسِيرِ ، وَالصُّوفِيَّةِ : الَّذِينَ لَيْسُوا كُفَّارًا بِاتِّفَاقِ الْمُسْلِمِينَ
“যদি এদেরকে কাফের বলা হয়, তবে শাফেয়ী, মালেকী, হানাফী, হাম্বলী, আশআরী, মুহাদ্দিস, মুফাসসির এবং সূফীদের অনেককে কাফের বলা আবশ্যক হয়ে পড়ে । “মসুলমানদের সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকৃত বিষয় হল, পূর্বোক্ত কেউ কাফের নয়”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৩৫, পৃষ্ঠা-১০১]
📄 যিকিরের মজলিশ ও উচ্চস্বরে যিকির
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) কে যিকিরের মজলিশ ও উচ্চস্বরে যিকির সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় । এবং এ সমস্ত মজলিশে মানুষের যে বিভিন্ন হালত হয়, যেমন-ক্রন্দন, শরীরে কম্পন, চিৎকার কিংবা মৃত্যু এগুলো বৈধ না কি বিদআত?
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আমরা সম্পূর্ণ ফতোয়াটি আরবীতে টিকায় উল্লেখ করেছি। এখানে ফতোয়ার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অংশ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল-
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
الاجْتِمَاعُ لِذِكْرِ اللَّهِ وَاسْتِمَاعِ كِتَابِهِ وَالدُّعَاءِ عَمَلٌ صَالِحٌ وَهُوَ مِنْ أَفْضَلِ الْقُرُبَاتِ وَالْعِبَادَاتِ فِي الْأَوْقَاتِ : لَكِنْ يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ هَذَا أَحْيَانًا فِي بَعْضِ الْأَوْقَاتِ وَالْأَمْكِنَةِ فَلَا يُجْعَلُ سُنَّةً رَاتِبَةً يُحَافَظُ عَلَيْهَا <
“আল্লাহর যিকির, কুরআন তেলাওয়াত শ্রবণ, দু'আ ইত্যাদি করার জন্য জন সমাবেশ করা একটি নেক আমল । এটি বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও উত্তম ইবাদতের অন্তর্ভূক্ত । তবে উচিৎ হল, এটি মাঝে মাঝে কিছু কিছু জায়গায় করা উচিৎ। এটিকে ধরাবাঁধা আবশ্যকীয় কোন নিয়ম বানান উচিৎ নয়”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--২২, পৃষ্ঠা-৫২০]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَمَا يَحْصُلُ عِنْدَ السَّمَاعِ وَالذِّكْرِ الْمَشْرُوعِ مِنْ وَجَلِ الْقَلْبِ وَدَمْعِ الْعَيْنِ وَاقْشِعْرَارِ الْجُسُومِ فَهَذَا أَفْضَلُ الْأَحْوَالِ الَّتِي نَطَقَ بِمَا الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ . وَأَمَّا الاضْطِرَابُ الشَّدِيدُ وَالْغَشْيُ وَالْمَوْتُ وَالصَّيْحَاتُ فَهَذَا إِنْ كَانَ صَاحِبُهُ مَغْلُوبًا عَلَيْهِ لَمْ يُلَمْ عَلَيْهِ كَمَا قَدْ كَانَ يَكُونُ فِي التَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ
“যিকির ও আলোচনার সময় যে অন্তরে ভয়, চোখে অশ্রু, শরীরে কম্পন ইত্যাদি অর্জিত হয়, এটি মূলতঃ কুরআন ও সুন্নাহে বর্ণিত সর্বোত্তম হালত । তবে কারও থেকে যদি অনিচ্ছায় অস্বাভাবিক অস্থিরতা, অচেতনতা, মৃত্যু এবং চিৎকার ইত্যাদি প্রকাশ পায়, তবে সে এর জন্য নিন্দিত হবে না। যেমন তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীনদের এমনটি হত।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--২২, পৃষ্ঠা-৫২২]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
الاجْتِمَاعُ عَلَى الْقِرَاءَةِ وَالذِّكْرِ وَالدُّعَاءِ حَسَنٌ مُسْتَحَبُّ إِذَا لَمْ يُتَّخَذْ ذَلِكَ عَادَةً رَاتِبَةً - كَالِاجْتِمَاعَاتِ الْمَشْرُوعَةِ - وَلَا اقْتَرَنَ بِهِ بِدْعَةٌ مُنْكَرَةٌ
“কুরআন তেলাওয়াত, যিকির, দু’য়া ইত্যাদির জন্য সমবেত হওয়া উত্তম ও মুস্তাহাব, যদি এটাকে ধরাবাঁধা নিয়ম হিসেবে গ্রহণ না করে, যেমন শরীয়তের বিভিন্ন আমলের জন্য নিয়মিত সমবেত হতে হয় (যেমন-নামায) এবং এ সমাবেশের সাথে কোন বিদআত আমল সংশ্লিষ্ট না থাক”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--২২, পৃষ্ঠা-৫২৩]
টিকাঃ
3 وَسُئِلَ : عَنْ رَجُلٍ يُنْكِرُ عَلَى أَهْلِ الذِّكْرِ يَقُولُ لَهُمْ : هَذَا الذِّكْرُ بِدْعَةٌ وَجَهْرُكُمْ فِي الذِّكْرِ بِدْعَةٌ وَهُمْ يَفْتَتِحُونَ بِالْقُرْآنِ وَيَخْتَتِمُونَ ثُمَّ يَدْعُونَ لِلْمُسْلِمِينَ الْأَحْيَاءِ وَالْأَمْوَاتِ وَيَجْمَعُونَ التَّسْبِيحَ وَالتَّحْمِيدَ وَالتَّهْلِيلَ وَالتَّكْبِيرَ وَالْحَوْقَلَةَ وَيُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمُنْكِرُ يُعْمِلُ السَّمَاعَ مَرَّاتٍ بِالتَّصْفِيقِ وَيُبْطِلُ الذِّكْرَ فِي وَقْتِ عَمَلِ السَّمَاعِ . فَأَجَابَ : الاجْتِمَاعُ لِذِكْرِ اللَّهِ وَاسْتِمَاعِ كِتَابِهِ وَالدُّعَاءِ عَمَلٌ صَالِحٌ وَهُوَ مِنْ أَفْضَلِ الْقُرْبَاتِ وَالْعِبَادَاتِ فِي الْأَوْقَاتِ فَفِي الصَّحِيحِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : { إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةَ سَيَّاحِينَ فِي الْأَرْضِ فَإِذَا مَرُّوا بِقَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللَّهَ تَنَادَوْا هَلُمُوا إِلَى حَاجَتِكُمْ } وَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَفِيهِ { وَجَدْنَاهُمْ يُسَبِّحُونَكَ وَيَحْمَدُونَك } لَكِنْ يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ هَذَا أَحْيَانًا فِي بَعْضِ الْأَوْقَاتِ وَالْأَمْكِنَةِ فَلَا يُجْعَلُ سُنَّةً رَاتِبَةً يُحَافَظُ عَلَيْهَا إِلَّا مَا سَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُدَاوَمَةَ عَلَيْهِ فِي الْجَمَاعَاتِ ؟ مِنْ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ فِي الْجَمَاعَاتِ وَمِنْ الْجُمُعَاتِ وَالْأَعْيَادِ وَنَحْو ذَلِكَ . وَأَمَّا مُحَافَظَةُ الْإِنْسَانِ عَلَى أَوْرَادٍ لَهُ مِنْ الصَّلَاةِ أَوْ الْقِرَاءَةِ أَوْ الذِّكْرِ أَوْ الدُّعَاءِ طَرَقَ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ وَغَيْرُ ذَلِكَ : فَهَذَا سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ قَدِيمًا وَحَدِيثًا فَمَا سُنَّ عَمَلُهُ عَلَى وَجْهِ الاجْتِمَاعِ كَالْمَكْتُوبَاتِ : فُعِلَ كَذَلِكَ وَمَا سُنَّ الْمُدَاوَمَةُ عَلَيْهِ عَلَى وَجْهِ الانْفِرَادِ مِنْ الْأَوْرَادِ عُمِلَ كَذَلِكَ كَمَا كَانَ الصَّحَابَةُ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ - يَجْتَمِعُونَ أَحْيَانًا : يَأْمُرُونَ أَحَدَهُمْ يَقْرَأُ وَالْبَاقُونَ يَسْتَمِعُونَ . وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَقُولُ : يَا أَبَا مُوسَى ذَكِّرْنَا رَبَّنَا فَيَقْرَأُ وَهُمْ يَسْتَمِعُونَ وَكَانَ مِنْ الصَّحَابَةِ مَنْ يَقُولُ : اجْلِسُوا بِنَا نُؤْمِنُ سَاعَةً . وَصَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَصْحَابِهِ التَّطَوُّعَ فِي جَمَاعَةٍ مَرَّاتٍ وَخَرَجَ عَلَى الصَّحَابَةِ مِنْ أَهْلِ الصُّفَةِ وَفِيهِمْ قَارِيٌّ يَقْرَأُ فَجَلَسَ مَعَهُمْ يَسْتَمِعُ وَمَا يَحْصُلُ عِنْدَ السَّمَاعِ وَالذِّكْرِ الْمَشْرُوعِ مِنْ وَجَلِ الْقَلْبِ وَدَمْعِ الْعَيْنِ وَاقْشِعْرَارِ الْجُسُومِ فَهَذَا أَفْضَلُ الْأَحْوَالِ الَّتِي نَطَقَ بِمَا الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ ، وَأَمَّا الاضْطِرَابُ الشَّدِيدُ وَالْغَشْيُ وَالْمَوْتُ وَالصَّيْحَاتُ فَهَذَا إِنْ كَانَ صَاحِبُهُ مَغْلُوبًا عَلَيْهِ لَمْ يُلَمْ عَلَيْهِ كَمَا قَدْ كَانَ يَكُونُ فِي التَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ فَإِنَّ مَنْشَأَهُ قُوَّةُ الْوَارِدِ عَلَى الْقَلْبِ مَعَ ضَعْفِ الْقَلْبِ وَالْقُوَّةُ وَالتَّمَكُنُ أَفْضَلُ كَمَا هُوَ حَالُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالصَّحَابَةِ وَأَمَّا السُّكُونُ قَسْوَةً وَجَفَاءً فَهَذَا مَذْمُومٌ لَا خَيْرَ فِيهِ . وَأَمَّا مَا ذُكِرَ مِنْ السَّمَاعِ : فَالْمَشْرُوعُ الَّذِي تَصْلُحُ بِهِ الْقُلُوبُ وَيَكُونُ وَسِيلَتَهَا إِلَى رَبِّهَا بِصِلَةِ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا : هُوَ سَمَاعُ كِتَابِ اللَّهِ الَّذِي هُوَ سَمَاعُ خِيَارِ هَذِهِ الْأُمَّةِ لَا سِيَّمَا وَقَدْ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ { لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ } وَقَالَ : { زَيَّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ } وَهُوَ السَّمَاعُ الْمَمْدُوحُ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ . لَكِنْ لَمَّا نَسِيَ بَعْضُ الْأُمَّةِ حَظًّا مِنْ هَذَا السَّمَاعِ الَّذِي ذُكِّرُوا بِهِ أَلْقَى بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فَأَحْدَثَ قَوْمٌ سَمَاعَ الْقَصَائِدِ وَالتَّصْفِيقَ وَالْغِنَاءَ مُضَاهَاةً لِمَا ذَمَّهُ اللهُ مِنْ الْمُكَاءِ وَالتَّصْدِيَةِ وَالْمُشَابَهَةِ لِمَا ابْتَدَعَهُ النَّصَارَى وَقَابَلَهُمْ قَوْمٌ قَسَتْ قُلُوبُهُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنْ الْحَقِّ وَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً : مُضَاهَاةً لِمَا عَابَهُ اللهُ عَلَى الْيَهُودِ . وَالدِّينُ الْوَسَطُ هُوَ مَا عَلَيْهِ خِيَارُ هَذِهِ الْأُمَّةِ قَدِيمًا وَحَدِيثًا وَاللَّهُ أَعْلَمُ
4 وَسُئِلَ - رَحِمَهُ اللهُ . : عَنْ عَوَامَ فُقَرَاءَ يَجْتَمِعُونَ فِي مَسْجِدٍ يَذْكُرُونَ وَيَقْرَءُونَ شَيْئًا مِنْ الْقُرْآنِ ثُمَّ يَدْعُونَ وَيَكْشِفُونَ رُءُوسَهُمْ وَيَبْكُونَ وَيَتَضَرَّعُونَ وَلَيْسَ قَصْدُهُمْ مِنْ ذَلِكَ رِيَاءً وَلَا سُمْعَةً بَلْ يَفْعَلُونَهُ عَلَى وَجْهِ التَّقَرُّبِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى فَهَلْ يَجُوزُ ذَلِكَ أَمْ لَا ؟ فَأَجَابَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ ، الاجْتِمَاعُ عَلَى الْقِرَاءَةِ وَالذِّكْرِ وَالدُّعَاءِ حَسَنٌ مُسْتَحَبُّ إِذَا لَمْ يُتَّخَذْ ذَلِكَ عَادَةً رَائِبَةً - كَالِاجْتِمَاعَاتِ الْمَشْرُوعَةِ - وَلَا اقْتَرَنَ بِهِ بِدْعَةٌ مُنْكَرَةٌ وَأَمَّا كَشْفُ الرَّأْسِ مَعَ ذَلِكَ فَمَكْرُوهُ لَا سِيَّمَا إِذَا اتَّخِذَ عَلَى أَنَّهُ عِبَادَةٌ فَإِنَّهُ حِينَئِذٍ يَكُونُ مُنْكَرًا وَلَا يَجُوزُ التَّعَبُدُ بِذَلِكَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ
📄 ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর মাধ্যমে বরকত লাভ
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর ছাত্র হাফেয উমর ইবনে আলী আল-বাজ্জার (রহঃ) ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর জীবনীর উপর লিখিত “আল-আ'লামুল আলিয়্যা ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়া” নামক কিতাবে লিখেছেন-
فقل ان يراه احد ممن له بصيرة الا وانكب على يديه يقبلهما حتى انه كان اذا راه ارباب المعايش يتخطون من حوانيتهم للسلام عليه والتبرك به
“যখনই জ্ঞানী কেউ তাকে দেখত, তার হস্ত চুম্বনে অগ্রসর হত । এমনকি জীবিকা নির্বাহী ব্যবসায়ীরা যখন তাঁকে দেখত, তাকে সালাম দেযা ও তার নিকট থেকে বরকত লাভের জন্য তাদের দোকান থেকে বেরিয়ে আসত।”
[“আল-আ'লামুল আলিয়্যা ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়া” খ--১, পৃষ্ঠা-৩৯]
হাফেয বাজ্জার (রহঃ) বলেন-
"وكان رضي الله عنه كثيرا ما يرفع طرفه إلى السماء لا يكاد يفتر من ذلك كأنه يرى شيئا يثبته بنظره فكان هذا دابة مدة إقامتي بحضرته. فسبحان الله ما اقصر ما كانت يا ليتها كانت طالت ولا والله ما مر على عمري إلى ألان زمان كان احب إلى من ذلك الحين ولا رأيتني في وقت احسن حالا مني حينئذ وما كان إلا ببركة الشيخ رضي الله عنه
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) অনেক সময় আসমানের দিকে দৃষ্টি দিতেন এবং দৃষ্টি ফেরাতেন না, যেন তিনি কোন জিনিস তার দৃষ্টি দিয়ে দেখছেন। এটি ছিল হযরতের দরবারে আমার অবস্থানের সময় । সুবহানাল্লাহ! আমার অবস্থান ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত, হায় যদি তা দীর্ঘ হত! আল্লাহর শপথ! এখনও পর্যন্ত আমার জীবনে ঐ সময়ের চেয়ে প্রিয় কোন সময় অতিবাহিত হয় নি। সে সময়ে আমি সর্বোত্তম অবস্থায় ছিলাম । আর এ সব কিছু ছিল শায়েখ (রহঃ) এর বরকত”
[“আল-আ'লামুল আলিয়্যা ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়া” খ--১, পৃষ্ঠা-৪১]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর মৃত্যু পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লামা হাফেয বাজ্জার (রহঃ) লিখেছেন-
وازدحم من حضر غسله من الخاصة والعامة على الماء المنفصل عن غسله حتى حصل لكل واحد منهم شيء قليل, ثم أخرجت جنازته فما هو إلا ان رآها الناس فأكبوا عليها من كل جانب كلا منهم يقصد التبرك بها حتى خشي على النعش ان يحطم قبل وصوله إلى القبر
“তাঁর গোসল দানে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে সাধারণ ও বিশেষ ব্যক্তি সকলেই গোসলের অতিরিক্ত পানি নেয়ার জন্য ভিড় করল । ফলে তাদের প্রত্যেকেই অল্প অল্প করে তা নিল । অতঃপর তাঁর জানাযা বের করা হল। মানুষ যখন তার জানাযা দেখল, চতুর্দিক থেকে হুমড়ি খেয়ে পড়ল, প্রত্যেকেই তার মাধ্যমে বরকত লাভের উদ্দেশ্য এসেছেন, এমনকি কবরে পৌঁছার পূর্বে খাটিয়া ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা হল”
[“আল-আ'লামুল আলিয়্যা ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়া” খ--১, পৃষ্ঠা-৮৩]