📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) কর্তৃক সূফীদের প্রশংসা
فَأَمَّا الْمُسْتَقِيمُونَ مِنْ السَّالِكِينَ كَجُمْهُورِ مَشَايِخِ السَّلَفِ : مِثْلِ الْفُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ وَأَبِي سُلَيْمَانَ الداراني وَمَعْرُوفِ الْكَرْخِي السَّرِي السَّقَطِي وَالْجُنَيْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَغَيْرِهِمْ مِنْ الْمُتَقَدِّمِينَ ، وَمِثْلِ الشَّيْخِ عَبْدِ الْقَادِرِ وَالشَّيْخِ حَمَّادٍ وَالشَّيْخِ أَبِي الْبَيَانِ وَغَيْرِهِمْ مِنْ الْمُتَأَخِرِينَ . فَهُمْ لَا يُسَوِّغُونَ لِلسَّالِكِ وَلَوْ طَارَ فِي الْهَوَاءِ أَوْ مَشَى عَلَى الْمَاءِ أَنْ يَخْرُجَ عَنْ الْأَمْرِ وَالنَّهْيِ الشَّرْعِيَّيْنِ بَلْ عَلَيْهِ أَنْ يَفْعَلَ الْمَأْمُورَ وَيَدَعَ الْمَحْظُورَ إلَى أَنْ يَمُوتَ وَهَذَا هُوَ الْحَقُّ الَّذِي دَلَّ عَلَيْهِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَإِجْمَاعُ السَّلَفِ . وَهَذَا كَثِيرٌ فِي كَلَامِهِمْ
“সঠিক পথের অনুসারী সালেকগণ যেমন অধিকাংশ সালাফে সালেহীন মাশায়েখ উদাহরণস্বরূপ, ফুযায়েল ইবনে ইয়ায, ইব্রাহীম ইবনে আদহাম, আবু সুলাইমান দারানী, মা'রুফ কারখী, সারি সাকাতী, জুনাইদ ইবনে মুহাম্মাদ বাগদাদী যারা পূর্ববর্তী সূফীদের অন্তর্ভূক্ত এবং শায়েখ আব্দুল কাদের জিলানী, শায়েখ হাম্মাদ, শায়েখ আবুল বয়ানসহ অন্যান্য পরবর্তী সূফীগন, সালেক (আল্লাহর পথের পথিক) এর জন্য কখনও এ অনুমতি দেন না যে, তারা শরীয়তের আদেশ-নিষেধের গ-ির বাইরে যাবে, যদিও তারা বাতাসে ওড়ে কিংবা পানির উপর দিয়ে হেঁটে যায়। বরং তার উপর আবশ্যক হল, মৃত্যু পর্যন্ত শরীয়তের আদেশাবলী মান্য করবে এবং নিষিদ্ধ বিষয় সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে । আর এটি মূলতঃ সত্য, যার উপর কুরআন, সুন্নাহের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এ ব্যাপারে সালাফে সালেহীনের ইজমা সংগঠিত হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের অনেক বক্তব্য রয়েছে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১০, পৃষ্ঠা-৫১৬-৫১৭]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,
وَأَمَّا أَئِمَّةُ الصُّوفِيَّةِ وَالْمَشَايِخُ الْمَشْهُورُونَ مِنْ الْقُدَمَاءِ : مِثْلُ الْجُنَيْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَأَتْبَاعِهِ وَمِثْلُ الشَّيْخِ عَبْدِ الْقَادِرِ وَأَمْثَالِهِ فَهَؤُلَاءِ مِنْ أَعْظَمِ النَّاسِ لُزُومًا لِلْأَمْرِ وَالنَّهْيِ وَتَوْصِيَةً بِاتِّبَاعِ ذَلِكَ وَتَحْذِيرًا مِنْ الْمَشْيِ مَعَ الْقَدَرِ كَمَا مَشَى أَصْحَابُهُمْ أُولَئِكَ وَهَذَا هُوَ " الْفَرْقُ الثَّانِي " الَّذِي تَكَلَّمَ فِيهِ الْجُنَيْدِ مَعَ أَصْحَابِهِ . وَالشَّيْحُ عَبْدُ الْقَادِرِ كَلَامُهُ كُلُّهُ يَدُورُ عَلَى اتِّبَاعِ الْمَأْمُورِ ، وَتَرْكِ الْمَحْظُورِ وَالصَّبْرِ عَلَى الْمَقْدُورِ وَلَا يُثْبِتُ طَرِيقًا تُخَالِفُ ذَلِكَ أَصْلًا لَا هُوَ وَلَا عَامَّةُ الْمَشَايِخِ الْمَقْبُولِينَ عِنْدَ الْمُسْلِمِينَ وَيُحَذِّرُ عَنْ مُلَاحَظَةِ الْقَدَرِ الْمَحْضِ بِدُونِ اتَّبَاعِ الْأَمْرِ وَالنَّهْيِ كَمَا أَصَابَ أُولَئِكَ الصُّوفِيَّةَ الَّذِينَ شَهِدُوا الْقَدَرَ وَتَوْحِيدَ الرُّبُوبِيَّةِ وَغَابُوا عَنْ الْفَرْقِ الْإِلَمِيِّ الدِّينِيِّ الشَّرْعِيِّ الْمُحَمَّدِيِّ الَّذِي يُفَرِّقُ بَيْنَ مَحْبُوبِ الْحَقِّ وَمَكْرُوهِهِ
“সূফীদের ইমামগণ ও পূর্ববর্তী প্রসিদ্ধ মাশায়েখগণ যেমন জুনায়েদ ইবনে মুহাম্মাদ ও তাঁর অনুসারীগণ এবং শায়েখ আব্দুল কাদের ও অন্যান্য সূফীগণ শরীয়তের আদেশ নিষেধ অনুসরণের আবশ্যকতার ব্যাপারে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন এবং তা অনুসরণের ওসিয়ত করতেন এবং তাদেরকে শুধু তাকদীরের উপর নির্ভর করে চলতে নিষেধ করতেন যেমন পূর্বে উল্লেখিত (জাহমিয়া) শ্রেণী করেছে। অন্যান্য ভ্রান্ত দল ও সূফীদের মাঝে এটি হল দ্বিতীয় পার্থক্য । যা আলোচনা করেছেন, জুনায়েদ বাগদাদী এবং শায়েখ আব্দুল কাদের জিলানী। তাদের কথার মূলই হল, শরীয়তের আদেশাবলীর অনুসরণ, নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন এবং তাকদীরের উপর ধৈর্যধারণ । তারা এমন কোন তরীকা সাব্যস্ত করেননি যা এর ব্যতিক্রম ছিল । শুধু এরাই নয় বরং مسلمانوں নিকট গ্রহণযোগ্য কোন মাশায়েখ এমন কোন তরীকা তৈরি করেননি । বরং তারা কুরআন ও সুন্নাহ পরিত্যাগ করে শুধু তাকদীরের উপর ভরসা করে চলা থেকে মানুষকে সতর্ক করেছেন”
[মাজমূউল ফাতাওয়া, খ--৮, পৃষ্ঠা-৩৬৯]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَ " الشَّيْخُ عَبْدُ الْقَادِرِ " وَنَحْوُهُ مِنْ أَعْظَمِ مَشَايِخِ زَمَانِهِمْ أَمْرًا بِالْتِزَامِ الشَّرْعِ وَالْأَمْرِ وَالنَّهْيِ وَتَقْدِيمِهِ عَلَى الذَّوْقِ وَالْقَدَرِ ، وَمِنْ أَعْظَمِ الْمَشَايِخِ أَمْرًا بِتَرْكِ الْهَوَى وَالْإِرَادَةِ النَّفْسِيَّةِ
“শায়েখ আব্দুল কাদের ও অন্যান্য যুগশ্রেষ্ঠ মাশায়েখগন শরীয়তকে আঁকড়ে ধরা, শরীয়তের আদেশ-নিষেধকে মান্য করা এবং একে তাক্বদীর ও নিজেদের যাউকের (পছন্দ) এর উপর প্রাধান্য দেয়ার আদেশ করেছেন। তারা ছিলেন সে সমস্ত শ্রেষ্ঠ মাশায়েখ, যারা কুপ্রবৃত্তি ও মনের ইচ্ছাকে বর্জনের আদেশ দিতেন।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১০, পৃষ্ঠা-৮৮৪]
আল্লাহ তায়ালাকে কোন কাইফিয়াত ছাড়া দর্শণের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
والْجُنَيْد وَأَمْثَالُهُ أَئِمَّةُ هُدًى وَمَنْ خَالَفَهُ فِي ذَلِكَ فَهُوَ ضَالٌ . وَكَذَلِكَ غَيْرُ الْجُنَيْدِ مِنْ الشُّيُوخِ تَكَلَّمُوا فِيمَا يَعْرِضُ لِلسَّالِكِينَ وَفِيمَا يَرَوْنَهُ فِي قُلُوبِهِمْ مِنْ الْأَنْوَارِ وَغَيْرِ ذَلِكَ ؛ وَحَذَّرُوهُمْ أَنْ يَظُنُّوا أَنَّ ذَلِكَ هُوَ ذَاتُ اللَّهِ تَعَالَى
“জুনাইদ বাগদাদী এবং অন্যান্য সূফীগণ হলেন হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত ইমাম । সুতরাং এ ব্যাপারে যারা তাদের বিরোধীতা করবে তারা পথভ্রষ্ট । জুনাইদ (রহঃ) ছাড়াও অন্যান্য মাশায়েখ যারা সালেকের বিভিন্ন অবস্থা এবং তাদের অন্তরে যে আলোকমালা দেখতে পান সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন । তাদেরকে এ ধারণা থেকে সতর্ক করেছেন যে, এ নূরকে যেন আল্লাহর সত্ত্বা মনে না করে ।
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৫, পৃষ্ঠা-৩২১]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) তাঁর “আল-ফুরকান বাইনা আউলিয়াইর রহমান ও আউলিয়াইশ শাইতান” নামক কিতাবে লিখেছেন-
فَإِنَّ الْجُنَيْد - قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ - كَانَ مِنْ أَئِمَّةِ الْهُدَى
“নিশ্চয় জুনাইদ (রহঃ) হেদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন”
[আল-ফুরকান বাইনা আওলিয়ায়ির রহমান ও আউলিয়াইশ শাইতান” পৃষ্ঠা-৯৮]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,
فَمَنْ سَلَكَ مَسْلَكَ الْجُنَيْدِ مِنْ أَهْلِ التَّصَوُّفِ وَالْمَعْرِفَةِ كَانَ قَدْ اهْتَدَى وَنَحَا وَسَعِدَ
“[সূফীদের আক্বিদার ক্ষেত্রে] যে ব্যক্তি মা'রেফাফ ও তাছাউফের ক্ষেত্রে জুনায়েদ (রহঃ) এর পথ অনুসরণ করবে সে হেদায়াত প্রাপ্ত, নাজাতপ্রাপ্ত ও সফলকাম”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১৪, পৃষ্ঠা-৩৩৫]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
أَنَّهُمْ مَشَايِخُ الْإِسْلَامِ وَأَئِمَّةُ الْهُدَى الَّذِينَ جَعَلَ اللهُ تَعَالَى لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْأُمَّةِ مِثْلُ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَالْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ وَعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالْأَوْزَاعِي وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ وَسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالْفُضَيْل بْنِ عِيَاضٍ وَمَعْرُوفِ الْكَرْخِي وَالشَّافِعِيِّ وَأَبِي سُلَيْمَانَ وَأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ وَبِشْرِ الْحَافِي وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ وَشَقِيق البلخي وَمَنْ لَا يُحْصَى كَثْرَةٌ . إِلَى مِثْلِ الْمُتَأَخِرِينَ : مِثْلُ الْجُنَيْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ القواريري وَسَهْلِ بْنِ عَبْدِ الله التستري وَعُمَرَ بْنِ عُثْمَانَ الْمَكِّيِّ وَمَنْ بَعْدَهُمْ - إِلَى أَبِي طَالِبِ الْمَكِّيِّ إِلَى مِثْلِ الشَّيْخِ عَبْدِ الْقَادِرِ الكيلاني وَالشَّيْخِ عَدِي وَالشَّيْخِ أَبِي الْبَيَانِ وَالشَّيْخِ أَبِي مَدِينٍ وَالشَّيْخِ عَقِيلٍ وَالشَّيْخِ أَبِي الْوَفَاءِ وَالشَّيْخِ رَسْلَانَ وَالشَّيْخِ عَبْدِ الرَّحِيمِ وَالشَّيْخِ عَبْدِ اللهِ الْيُوْنِيْنِي وَالشَّيْخِ الْقُرَشِيِّ وَأَمْثَالِ هَؤُلَاءِ الْمَشَايِخِ الَّذِينَ كَانُوا بِالْحِجَازِ وَالشَّامِ وَالْعِرَاقِ وَمِصْرَ وَالْمَغْرِبِ وَخُرَاسَانَ مِنْ الْأَوَّلِينَ والآخرين
“এরা হলেন, ইসলামের মাশায়েখ, হেদায়াতপ্রাপ্ত ইমাম উম্মতের মাঝে যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা সত্যের ভাষা দান করেছেন, যেমন, সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, হাসান বসরী, উমর ইবনে আব্দুল আযীয, মালেক ইবনে আনাস, আওযায়ী, ইবরাহিম ইবনে আদহাম, সুফিয়ান সাউরী, ফুযায়েল ইবনে ইয়ায, মারুফ কারখী, শাফেয়ী, আবু সুলাইমান দারানী, আহমাদ ইবনে হাম্বল, বিশর আলহাফী, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক, শাক্কীক বলখী এবং এ জাতীয় অসংখ্য মাশায়েখগন এমনকি পরবর্তী মাশায়েখ যেমন, জুনাইদ ইবনে মুহাম্মাদ ক্বাওয়ারেরী, সাহাল ইবনে আব্দুল্লাহ তুসত্বারী, উমর ইবনে উসমান মক্কী এবং তাঁর পরবর্তীগণ, অতঃপর আবু তালেব মক্কী এবং শায়েখ আব্দুল কাদের কিলানী, শায়েখ আদী, শায়েখ আবুল বয়ান, শায়েখ আবু মাদইয়ান, শায়েখ আক্বীল, শায়েখ আবুল ওফা, শায়েখ রসলান, শায়েখ আব্দুর রহীম, শায়েখ আব্দুল্লাহ ইউনিনি, শায়েখ কুরাশী (রহিমাহুল্লাহু আজমাঈন) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য মাশায়েখ যারা হিযায, শাম, ইরাক, মিসর, মাগরিব, খুরাসানের অধিবাসী ছিলেন।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--২, পৃষ্ঠা-৪৫২]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) মাজমুউল ফাতাওয়া এর “কিতাবুস সুলুক” অধ্যায়ের “তাযকিয়াতুন নফস” পরিচ্ছেদে লিখেছেন-
وَكَانَ الْجُنَيْد - رَضِيَ اللهُ عَنْهُ - سَيِّدَ الطَّائِفَةِ وَمِنْ أَحْسَنِهِمْ تَعْلِيمًا وَتَأْدِيبًا وَتَقْوِيمًا
“জুনায়েদ (রহঃ) ছিলেন, ওলিকুল শিরোমণি। শিষ্টাচার, শিক্ষা ও পূর্ণতার দিক থেকে সূফীদের মাঝে সর্বোত্তম ছিলেন” [মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১০, পৃষ্ঠা-৬৮-৬]
فَأَمَّا الْمُسْتَقِيمُونَ مِنْ السَّالِكِينَ كَجُمْهُورِ مَشَايِخِ السَّلَفِ : مِثْلِ الْفُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ وَأَبِي سُلَيْمَانَ الداراني وَمَعْرُوفِ الْكَرْخِي السَّرِي السَّقَطِي وَالْجُنَيْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَغَيْرِهِمْ مِنْ الْمُتَقَدِّمِينَ ، وَمِثْلِ الشَّيْخِ عَبْدِ الْقَادِرِ وَالشَّيْخِ حَمَّادٍ وَالشَّيْخِ أَبِي الْبَيَانِ وَغَيْرِهِمْ مِنْ الْمُتَأَخِرِينَ . فَهُمْ لَا يُسَوِّغُونَ لِلسَّالِكِ وَلَوْ طَارَ فِي الْهَوَاءِ أَوْ مَشَى عَلَى الْمَاءِ أَنْ يَخْرُجَ عَنْ الْأَمْرِ وَالنَّهْيِ الشَّرْعِيَّيْنِ بَلْ عَلَيْهِ أَنْ يَفْعَلَ الْمَأْمُورَ وَيَدَعَ الْمَحْظُورَ إلَى أَنْ يَمُوتَ وَهَذَا هُوَ الْحَقُّ الَّذِي دَلَّ عَلَيْهِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَإِجْمَاعُ السَّلَفِ . وَهَذَا كَثِيرٌ فِي كَلَامِهِمْ
“সঠিক পথের অনুসারী সালেকগণ যেমন অধিকাংশ সালাফে সালেহীন মাশায়েখ উদাহরণস্বরূপ, ফুযায়েল ইবনে ইয়ায, ইব্রাহীম ইবনে আদহাম, আবু সুলাইমান দারানী, মা'রুফ কারখী, সারি সাকাতী, জুনাইদ ইবনে মুহাম্মাদ বাগদাদী যারা পূর্ববর্তী সূফীদের অন্তর্ভূক্ত এবং শায়েখ আব্দুল কাদের জিলানী, শায়েখ হাম্মাদ, শায়েখ আবুল বয়ানসহ অন্যান্য পরবর্তী সূফীগন, সালেক (আল্লাহর পথের পথিক) এর জন্য কখনও এ অনুমতি দেন না যে, তারা শরীয়তের আদেশ-নিষেধের গ-ির বাইরে যাবে, যদিও তারা বাতাসে ওড়ে কিংবা পানির উপর দিয়ে হেঁটে যায়। বরং তার উপর আবশ্যক হল, মৃত্যু পর্যন্ত শরীয়তের আদেশাবলী মান্য করবে এবং নিষিদ্ধ বিষয় সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে । আর এটি মূলতঃ সত্য, যার উপর কুরআন, সুন্নাহের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এ ব্যাপারে সালাফে সালেহীনের ইজমা সংগঠিত হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের অনেক বক্তব্য রয়েছে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১০, পৃষ্ঠা-৫১৬-৫১৭]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,
وَأَمَّا أَئِمَّةُ الصُّوفِيَّةِ وَالْمَشَايِخُ الْمَشْهُورُونَ مِنْ الْقُدَمَاءِ : مِثْلُ الْجُنَيْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَأَتْبَاعِهِ وَمِثْلُ الشَّيْخِ عَبْدِ الْقَادِرِ وَأَمْثَالِهِ فَهَؤُلَاءِ مِنْ أَعْظَمِ النَّاسِ لُزُومًا لِلْأَمْرِ وَالنَّهْيِ وَتَوْصِيَةً بِاتِّبَاعِ ذَلِكَ وَتَحْذِيرًا مِنْ الْمَشْيِ مَعَ الْقَدَرِ كَمَا مَشَى أَصْحَابُهُمْ أُولَئِكَ وَهَذَا هُوَ " الْفَرْقُ الثَّانِي " الَّذِي تَكَلَّمَ فِيهِ الْجُنَيْدِ مَعَ أَصْحَابِهِ . وَالشَّيْحُ عَبْدُ الْقَادِرِ كَلَامُهُ كُلُّهُ يَدُورُ عَلَى اتِّبَاعِ الْمَأْمُورِ ، وَتَرْكِ الْمَحْظُورِ وَالصَّبْرِ عَلَى الْمَقْدُورِ وَلَا يُثْبِتُ طَرِيقًا تُخَالِفُ ذَلِكَ أَصْلًا لَا هُوَ وَلَا عَامَّةُ الْمَشَايِخِ الْمَقْبُولِينَ عِنْدَ الْمُسْلِمِينَ وَيُحَذِّرُ عَنْ مُلَاحَظَةِ الْقَدَرِ الْمَحْضِ بِدُونِ اتَّبَاعِ الْأَمْرِ وَالنَّهْيِ كَمَا أَصَابَ أُولَئِكَ الصُّوفِيَّةَ الَّذِينَ شَهِدُوا الْقَدَرَ وَتَوْحِيدَ الرُّبُوبِيَّةِ وَغَابُوا عَنْ الْفَرْقِ الْإِلَمِيِّ الدِّينِيِّ الشَّرْعِيِّ الْمُحَمَّدِيِّ الَّذِي يُفَرِّقُ بَيْنَ مَحْبُوبِ الْحَقِّ وَمَكْرُوهِهِ
“সূফীদের ইমামগণ ও পূর্ববর্তী প্রসিদ্ধ মাশায়েখগণ যেমন জুনায়েদ ইবনে মুহাম্মাদ ও তাঁর অনুসারীগণ এবং শায়েখ আব্দুল কাদের ও অন্যান্য সূফীগণ শরীয়তের আদেশ নিষেধ অনুসরণের আবশ্যকতার ব্যাপারে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন এবং তা অনুসরণের ওসিয়ত করতেন এবং তাদেরকে শুধু তাকদীরের উপর নির্ভর করে চলতে নিষেধ করতেন যেমন পূর্বে উল্লেখিত (জাহমিয়া) শ্রেণী করেছে। অন্যান্য ভ্রান্ত দল ও সূফীদের মাঝে এটি হল দ্বিতীয় পার্থক্য । যা আলোচনা করেছেন, জুনায়েদ বাগদাদী এবং শায়েখ আব্দুল কাদের জিলানী। তাদের কথার মূলই হল, শরীয়তের আদেশাবলীর অনুসরণ, নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন এবং তাকদীরের উপর ধৈর্যধারণ । তারা এমন কোন তরীকা সাব্যস্ত করেননি যা এর ব্যতিক্রম ছিল । শুধু এরাই নয় বরং مسلمانوں নিকট গ্রহণযোগ্য কোন মাশায়েখ এমন কোন তরীকা তৈরি করেননি । বরং তারা কুরআন ও সুন্নাহ পরিত্যাগ করে শুধু তাকদীরের উপর ভরসা করে চলা থেকে মানুষকে সতর্ক করেছেন”
[মাজমূউল ফাতাওয়া, খ--৮, পৃষ্ঠা-৩৬৯]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَ " الشَّيْخُ عَبْدُ الْقَادِرِ " وَنَحْوُهُ مِنْ أَعْظَمِ مَشَايِخِ زَمَانِهِمْ أَمْرًا بِالْتِزَامِ الشَّرْعِ وَالْأَمْرِ وَالنَّهْيِ وَتَقْدِيمِهِ عَلَى الذَّوْقِ وَالْقَدَرِ ، وَمِنْ أَعْظَمِ الْمَشَايِخِ أَمْرًا بِتَرْكِ الْهَوَى وَالْإِرَادَةِ النَّفْسِيَّةِ
“শায়েখ আব্দুল কাদের ও অন্যান্য যুগশ্রেষ্ঠ মাশায়েখগন শরীয়তকে আঁকড়ে ধরা, শরীয়তের আদেশ-নিষেধকে মান্য করা এবং একে তাক্বদীর ও নিজেদের যাউকের (পছন্দ) এর উপর প্রাধান্য দেয়ার আদেশ করেছেন। তারা ছিলেন সে সমস্ত শ্রেষ্ঠ মাশায়েখ, যারা কুপ্রবৃত্তি ও মনের ইচ্ছাকে বর্জনের আদেশ দিতেন।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১০, পৃষ্ঠা-৮৮৪]
আল্লাহ তায়ালাকে কোন কাইফিয়াত ছাড়া দর্শণের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
والْجُنَيْد وَأَمْثَالُهُ أَئِمَّةُ هُدًى وَمَنْ خَالَفَهُ فِي ذَلِكَ فَهُوَ ضَالٌ . وَكَذَلِكَ غَيْرُ الْجُنَيْدِ مِنْ الشُّيُوخِ تَكَلَّمُوا فِيمَا يَعْرِضُ لِلسَّالِكِينَ وَفِيمَا يَرَوْنَهُ فِي قُلُوبِهِمْ مِنْ الْأَنْوَارِ وَغَيْرِ ذَلِكَ ؛ وَحَذَّرُوهُمْ أَنْ يَظُنُّوا أَنَّ ذَلِكَ هُوَ ذَاتُ اللَّهِ تَعَالَى
“জুনাইদ বাগদাদী এবং অন্যান্য সূফীগণ হলেন হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত ইমাম । সুতরাং এ ব্যাপারে যারা তাদের বিরোধীতা করবে তারা পথভ্রষ্ট । জুনাইদ (রহঃ) ছাড়াও অন্যান্য মাশায়েখ যারা সালেকের বিভিন্ন অবস্থা এবং তাদের অন্তরে যে আলোকমালা দেখতে পান সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন । তাদেরকে এ ধারণা থেকে সতর্ক করেছেন যে, এ নূরকে যেন আল্লাহর সত্ত্বা মনে না করে ।
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--৫, পৃষ্ঠা-৩২১]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) তাঁর “আল-ফুরকান বাইনা আউলিয়াইর রহমান ও আউলিয়াইশ শাইতান” নামক কিতাবে লিখেছেন-
فَإِنَّ الْجُنَيْد - قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ - كَانَ مِنْ أَئِمَّةِ الْهُدَى
“নিশ্চয় জুনাইদ (রহঃ) হেদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন”
[আল-ফুরকান বাইনা আওলিয়ায়ির রহমান ও আউলিয়াইশ শাইতান” পৃষ্ঠা-৯৮]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,
فَمَنْ سَلَكَ مَسْلَكَ الْجُنَيْدِ مِنْ أَهْلِ التَّصَوُّفِ وَالْمَعْرِفَةِ كَانَ قَدْ اهْتَدَى وَنَحَا وَسَعِدَ
“[সূফীদের আক্বিদার ক্ষেত্রে] যে ব্যক্তি মা'রেফাফ ও তাছাউফের ক্ষেত্রে জুনায়েদ (রহঃ) এর পথ অনুসরণ করবে সে হেদায়াত প্রাপ্ত, নাজাতপ্রাপ্ত ও সফলকাম”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১৪, পৃষ্ঠা-৩৩৫]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
أَنَّهُمْ مَشَايِخُ الْإِسْلَامِ وَأَئِمَّةُ الْهُدَى الَّذِينَ جَعَلَ اللهُ تَعَالَى لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْأُمَّةِ مِثْلُ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَالْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ وَعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالْأَوْزَاعِي وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ وَسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالْفُضَيْل بْنِ عِيَاضٍ وَمَعْرُوفِ الْكَرْخِي وَالشَّافِعِيِّ وَأَبِي سُلَيْمَانَ وَأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ وَبِشْرِ الْحَافِي وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ وَشَقِيق البلخي وَمَنْ لَا يُحْصَى كَثْرَةٌ . إِلَى مِثْلِ الْمُتَأَخِرِينَ : مِثْلُ الْجُنَيْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ القواريري وَسَهْلِ بْنِ عَبْدِ الله التستري وَعُمَرَ بْنِ عُثْمَانَ الْمَكِّيِّ وَمَنْ بَعْدَهُمْ - إِلَى أَبِي طَالِبِ الْمَكِّيِّ إِلَى مِثْلِ الشَّيْخِ عَبْدِ الْقَادِرِ الكيلاني وَالشَّيْخِ عَدِي وَالشَّيْخِ أَبِي الْبَيَانِ وَالشَّيْخِ أَبِي مَدِينٍ وَالشَّيْخِ عَقِيلٍ وَالشَّيْخِ أَبِي الْوَفَاءِ وَالشَّيْخِ رَسْلَانَ وَالشَّيْخِ عَبْدِ الرَّحِيمِ وَالشَّيْخِ عَبْدِ اللهِ الْيُوْنِيْنِي وَالشَّيْخِ الْقُرَشِيِّ وَأَمْثَالِ هَؤُلَاءِ الْمَشَايِخِ الَّذِينَ كَانُوا بِالْحِجَازِ وَالشَّامِ وَالْعِرَاقِ وَمِصْرَ وَالْمَغْرِبِ وَخُرَاسَانَ مِنْ الْأَوَّلِينَ والآخرين
“এরা হলেন, ইসলামের মাশায়েখ, হেদায়াতপ্রাপ্ত ইমাম উম্মতের মাঝে যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা সত্যের ভাষা দান করেছেন, যেমন, সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, হাসান বসরী, উমর ইবনে আব্দুল আযীয, মালেক ইবনে আনাস, আওযায়ী, ইবরাহিম ইবনে আদহাম, সুফিয়ান সাউরী, ফুযায়েল ইবনে ইয়ায, মারুফ কারখী, শাফেয়ী, আবু সুলাইমান দারানী, আহমাদ ইবনে হাম্বল, বিশর আলহাফী, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক, শাক্কীক বলখী এবং এ জাতীয় অসংখ্য মাশায়েখগন এমনকি পরবর্তী মাশায়েখ যেমন, জুনাইদ ইবনে মুহাম্মাদ ক্বাওয়ারেরী, সাহাল ইবনে আব্দুল্লাহ তুসত্বারী, উমর ইবনে উসমান মক্কী এবং তাঁর পরবর্তীগণ, অতঃপর আবু তালেব মক্কী এবং শায়েখ আব্দুল কাদের কিলানী, শায়েখ আদী, শায়েখ আবুল বয়ান, শায়েখ আবু মাদইয়ান, শায়েখ আক্বীল, শায়েখ আবুল ওফা, শায়েখ রসলান, শায়েখ আব্দুর রহীম, শায়েখ আব্দুল্লাহ ইউনিনি, শায়েখ কুরাশী (রহিমাহুল্লাহু আজমাঈন) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য মাশায়েখ যারা হিযায, শাম, ইরাক, মিসর, মাগরিব, খুরাসানের অধিবাসী ছিলেন।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--২, পৃষ্ঠা-৪৫২]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) মাজমুউল ফাতাওয়া এর “কিতাবুস সুলুক” অধ্যায়ের “তাযকিয়াতুন নফস” পরিচ্ছেদে লিখেছেন-
وَكَانَ الْجُنَيْد - رَضِيَ اللهُ عَنْهُ - سَيِّدَ الطَّائِفَةِ وَمِنْ أَحْسَنِهِمْ تَعْلِيمًا وَتَأْدِيبًا وَتَقْوِيمًا
“জুনায়েদ (রহঃ) ছিলেন, ওলিকুল শিরোমণি। শিষ্টাচার, শিক্ষা ও পূর্ণতার দিক থেকে সূফীদের মাঝে সর্বোত্তম ছিলেন” [মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১০, পৃষ্ঠা-৬৮-৬]
📄 সূফীদের বিভিন্ন সূক্ষ্ম ও ইঙ্গিতপূর্ণ কথা থাকে
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَاعْلَمْ أَنَّ لَفْظَ " الصُّوفِيَّةِ " وَعُلُومَهُمْ تَخْتَلِفُ فَيُطْلِقُونَ أَلْفَاظَهُمْ عَلَى مَوْضُوعَاتٍ لَهُمْ وَمَرْمُوزَاتٍ وَإِشَارَاتٍ تَحْرِي فِيمَا بَيْنَهُمْ فَمَنْ لَمْ يُدَاخِلْهُمْ عَلَى التَّحْقِيقِ وَنَازَلَ مَا هُمْ عَلَيْهِ رَجَعَ عَنْهُمْ وَهُوَ خَاسِيٌّ وَحَسِيرٌ
“জেনে রেখ, তাছাউফ এবং তার ইলম বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে । সূফীদের কথায় তাছাউফ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইঙ্গিত থাকে। কখনও কখনও তারা শব্দকে ব্যাপক রাখেন, তাদের পরিভাষার উপর বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেন, তারা বিভিন্ন সূক্ষ্ম বিষয়ের আলোচনা করে থাকেন, যার মর্ম কেবল তারাই অনুধাবন করেন । প্রকৃতপক্ষে যে তাদের সংস্পর্শে অবলম্বন না করে এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে ভালভাবে অবগত না হয়ে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করবে, তবে সে অপদস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ-৫, পৃষ্ঠা-৭৯]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَاعْلَمْ أَنَّ لَفْظَ " الصُّوفِيَّةِ " وَعُلُومَهُمْ تَخْتَلِفُ فَيُطْلِقُونَ أَلْفَاظَهُمْ عَلَى مَوْضُوعَاتٍ لَهُمْ وَمَرْمُوزَاتٍ وَإِشَارَاتٍ تَحْرِي فِيمَا بَيْنَهُمْ فَمَنْ لَمْ يُدَاخِلْهُمْ عَلَى التَّحْقِيقِ وَنَازَلَ مَا هُمْ عَلَيْهِ رَجَعَ عَنْهُمْ وَهُوَ خَاسِيٌّ وَحَسِيرٌ
“জেনে রেখ, তাছাউফ এবং তার ইলম বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে । সূফীদের কথায় তাছাউফ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইঙ্গিত থাকে। কখনও কখনও তারা শব্দকে ব্যাপক রাখেন, তাদের পরিভাষার উপর বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেন, তারা বিভিন্ন সূক্ষ্ম বিষয়ের আলোচনা করে থাকেন, যার মর্ম কেবল তারাই অনুধাবন করেন । প্রকৃতপক্ষে যে তাদের সংস্পর্শে অবলম্বন না করে এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে ভালভাবে অবগত না হয়ে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করবে, তবে সে অপদস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ-৫, পৃষ্ঠা-৭৯]
📄 ফানা, হালত ও মাকামের ব্যাখ্যা
الْفَنَاءَ ثَلَاثَةُ أَنْوَاعِ " : نَوْعٌ لِلْكَامِلِينَ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ وَالْأَوْلِيَاءِ ؛ وَنَوْعٌ لِلْقَاصِدِينَ مِنْ الْأَوْلِيَاءِ وَالصَّالِحِينَ ؛ وَنَوْعٌ لِلْمُنَافِقِينَ الْمُلْحِدِينَ الْمُشَبِّهِينَ . ( فَأَمَّا الْأَوَّلُ ) فَهُوَ " الْفَنَاءُ عَنْ إِرَادَةِ مَا سِوَى اللَّهِ " بِحَيْثُ لَا يُحِبُّ إِلَّا اللَّهَ . وَلَا يَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ وَلَا يَتَوَكَّلُ إِلَّا عَلَيْهِ وَلَا يَطْلُبُ غَيْرَهُ ؛ وَهُوَ الْمَعْنَى الَّذِي يَجِبُ أَنْ يُقْصَدَ بِقَوْلِ الشَّيْخِ أَبِي يَزِيدَ حَيْثُ قَالَ : أُرِيدُ أَنْ لَا أُرِيدَ إِلَّا مَا يُرِيدُ . أَيْ الْمُرَادُ الْمَحْبُوبُ الْمَرْضِيُّ ؛ وَهُوَ الْمُرَادُ بِالْإِرَادَةِ الدِّينِيَّةِ وَكَمَالُ الْعَبْدِ أَنْ لَا يُرِيدَ وَلَا يُحِبَّ وَلَا يَرْضَى إِلَّا مَا أَرَادَهُ اللَّهُ وَرَضِيَهُ وَأَحَبَّهُ وَهُوَ مَا أَمَرَ بِهِ أَمْرَ إِيجَابٍ أَوْ اسْتِحْبَابٍ ؛ وَلَا يُحِبُّ إِلَّا مَا يُحِبُّهُ اللهُ كَالْمَلَائِكَةِ وَالْأَنْبِيَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَهَذَا مَعْنَى قَوْلِهِمْ فِي قَوْلِهِ : { إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ } قَالُوا : هُوَ السَّلِيمُ مِمَّا سِوَى اللَّهِ أَوْ مِمَّا سِوَى عِبَادَةِ اللَّهِ . أَوْ مِمَّا سِوَى إِرَادَةِ اللَّهِ . أَوْ مِمَّا سِوَى مَحَبَّةِ اللَّهِ فَالْمَعْنَى وَاحِدٌ وَهَذَا الْمَعْنَى إِنْ سُمِّيَ فَنَاءً أَوْ لَمْ يُسَمَّ هُوَ أَوَّلُ الْإِسْلَامِ وَآخِرُهُ. وَبَاطِنُ الدِّينِ وَظَاهِرُهُ
“ফানা তিন প্রকার । প্রথম প্রকার নবী ও কামেল ওলীদের ফানা। দ্বিতীয় প্রকার হল, ক্বাসেদীন তথা আল্লাহর ওলী ও সৎকর্মশীলদের ফানা । তৃতীয় প্রকার ফানা হল, মুনাফেক ও ধর্মদ্রোহী সাদৃশ্যদানকারীদের ফানা ।
প্রথম প্রকারের ফানা হল, গাইরুল্লাহ তথা আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে নিজের ইচ্ছাকে মিটিয়ে দেয়া অর্থাৎ বান্দা একমাত্র আল্লাহকেই মহব্বত করবে এবং একমাত্র তারই ইবাদত করবে, তার উপরই তাওয়াক্কুল করবে এবং তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবে না। শায়েখ আবু ইয়াযীদ বুস্তামী (রহঃ) এর উক্তির উদ্দেশ্য এটিই। তিনি বলেন-“আমি কামনা করি যে, তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কোন কিছুর ইচ্ছা করব না” অর্থাৎ তাঁর প্রিয় ও সন্তুষ্টপূর্ণ ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা । আর দ্বীনি বিষয়ে যে কোন ইচ্ছার ক্ষেত্রে এটিই কাম্য। বান্দা তখনই কামেল হবে, যখন সে আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত কোন কিছুর ইচ্ছা করবে না, আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত কোন কিছুতে সন্তুষ্ট হবে না এবং আল্লাহর মহব্বত ব্যতীত কোন কিছুকে মহব্বত করবে না । আল্লাহ তায়ালা যা আদেশ করেছেন, তা হয়ত আবশ্যকীয় কিংবা মুস্তাহাব পর্যায়ের। আল্লাহ যাকে মহব্বত করেন তাকে ব্যতীত অন্য কাউকে মহব্বত করবে না, যেমন ফেরেশতা, নবীগন ও সৎকর্মশীলগণ । পবিত্র কুরআনের নিম্নের আয়াতের তাফসীরে তারা এটি উদ্দেশ্য নিয়েছেন । আল্লাহ তায়ালা বলেন-
إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ )সদিন কারও সম্পদ ও সন্তান কোন উপকারে আসবে না । তবে যে ব্যক্তি পরিচ্ছন্ন হৃদয়ে আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবে)
সূফীগণ বলেছেন- আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকল কিছু থেকে মুক্ত হৃদয় অথবা আল্লাহর ইবাদত ব্যতীত অন্য সকল কিছু থেকে মুক্ত, আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত সকল কিছু থেকে মুক্ত অথবা আল্লাহর মহব্বত ব্যতীত সকল কিছু থেকে মুক্ত হৃদয়ে যে উপস্থিত হবে । এ সকল অর্থের উদ্দেশ্য এক। আর একে ফানা বলা হয়। এখন কেউ একে ফানা বলুক চাই না বলুক, এটিই মূলতঃ ইসলামের শুরু, এটিই শেষ, এটি দ্বীনের বাহ্যিক (জাহের) এবং এটিই দ্বীনের বাতেন (অভ্যন্তর)।
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১০, পৃষ্ঠা-২১৯]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) “ফানার” দ্বিতীয় প্রকার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন-
وَأَمَّا النَّوْعُ الثَّانِي : فَهُوَ " الْفَنَاءُ عَنْ شُهُودِ السِّوَى " . وَهَذَا يَحْصُلُ لِكَثِيرِ مِنْ السَّالِكِينَ ، فَإِنَّهُمْ لِفَرْطِ الْحِذَابِ قُلُوبِهِمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَعِبَادَتِهِ وَمَحَبَّتِهِ وَضَعْفِ قُلُوبِهِمْ عَنْ أَنْ تَشْهَدَ غَيْرَ مَا تَعْبُدُ وَتَرَى غَيْرَ مَا تَقْصِدُ ؛ لَا يَخْطُرُ بِقُلُوبِهِمْ غَيْرُ اللَّهِ ؛ بَلْ وَلَا يَشْعُرُونَ ؛ كَمَا قِيلَ فِي قَوْلِهِ : { وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَى فَارِغًا إِنْ كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ لَوْلَا أَنْ رَبَطْنَا عَلَى قَلْبِهَا } قَالُوا : فَارِعًا مَنْ كُلِّ شَيْءٍ إِلَّا مِنْ ذِكْرِ مُوسَى . وَهَذَا كَثِيرٌ يَعْرِضُ لِمَنْ فَقَمَهُ أَمْرٌ مِنْ الْأُمُورِ إِمَّا حُبُّ وَإِمَّا خَوْفٌ . وَإِمَّا رَجَاءٌ يُبْقِي قَلْبَهُ مُنْصَرِفًا عَنْ كُلِّ شَيْءٍ إِلَّا عَمَّا قَدْ أَحَبَّهُ أَوْ خَافَهُ أَوْ طَلَبَهُ ؛ بِحَيْثُ يَكُونُ عِنْدَ اسْتِغْرَاقِهِ فِي ذَلِكَ لَا يَشْعُرُ بِغَيْرِهِ . فَإِذَا قَوِيَ عَلَى صَاحِبِ الْفَنَاءِ هَذَا فَإِنَّهُ يَغِيبُ بِمَوْجُودِهِ عَنْ وُجُودِهِ وَبِمَشْهُودِهِ عَنْ شُهُودِهِ وَبِمَذْكُورِهِ عَنْ ذِكْرِهِ وَبِمَعْرُوفِهِ عَنْ مَعْرِفَتِهِ حَتَّى يَفْنَى مَنْ لَمْ يَكُنْ وَهِيَ الْمَخْلُوقَاتُ الْمُعَبَّدَةُ مِمَّنْ سِوَاهُ وَيَبْقَى مَنْ لَمْ يَزُلْ وَهُوَ الرَّبُّ تَعَالَى وَالْمُرَادُ فَنَاؤُهَا فِي شُهُودِ الْعَبْدِ وَذِكْرِهِ وَفَنَاؤُهُ عَنْ أَنْ يُدْرِكَهَا أَوْ يَشْهَدَهَا . وَإِذَا قَوِيَ هَذَا ضَعُفَ الْمُحِبُّ حَتَّى اضْطَرَبَ فِي تَمْيِيزِهِ فَقَدْ يَظُنُّ أَنَّهُ هُوَ مَحْبُوبُهُ كَمَا يُذْكَرُ : أَنَّ رَجُلًا أَلْقَى نَفْسَهُ فِي الْيَمِّ فَأَلْقَى مُحِبُّهُ نَفْسَهُ خَلْفَهُ فَقَالَ : أَنَا وَقَعْتُ فَمَا أَوْقَعَكَ خَلْفِي قَالَ : غِبْتُ بِكَ عَنِّي فَظَنَنْتُ أَنَّكَ أَنِي
“দ্বিতীয় প্রকার হল, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর দর্শন ও চিন্তা থেকে ফানা হওয়া । এটি অনেক সালেকেরই অর্জিত হয়ে থাকে। কেননা তারা আল্লাহর যিকিরের প্রতি অধিক আসক্তি, অধিক ইবাদত ও মহব্বত এবং অন্তরের মুজাহাদার মাধ্যমে এমন স্তরে উন্নীত হন যে, তাদের অন্তর মা'বুদ ব্যতীত অন্য কিছুকে প্রত্যক্ষ করে না, মা'বুদ ব্যতীত অন্য কারও প্রতি তাদের ক্বলব ধাবিত হয় না । আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছু তাদের কল্পনায়ও আসে না বরং তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছু অনুভব করতে পারেন না। যেমন হযরত মুসা (আঃ) এর মা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,
“সকালে মূসা জননীর অন্তর অস্থির হয়ে পড়ল। যদি আমি তাঁর হৃদয়কে দৃঢ় করে না দিতাম, তবে তিনি মূসা জনিত অস্থিরতা প্রকাশ করেই দিতেন। [সূরা ক্বাসাস-১০]
সূফীগণ বলেছেন- তাঁর হৃদয় মুসা (আঃ) এর স্মরণ ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে মুক্ত হয়ে গেছে। এটি অনেক ক্ষেত্রে ঘটে থাকে । যেমন কেউ অধিক ভয়, মহব্বত কিংবা অধিক আশায় নিপতিত হলে তার অন্তর অন্য সব কিছু থেকে খালি হয়ে যায় এবং তার অন্তর ভয়, মহব্বত কিংবা আশা ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে মুক্ত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সে তার উদ্দিষ্ট বিষয়ে এতটা নিমগ্ন থাকে যে, অন্য কিছুর অস্তিত্বই অনুভব করতে পারে না। “ফানার” অধিকারীর উপর যখন এ অবস্থা প্রবল হয়, তখন সে তার অস্তিত্ব ভুলে যায়, নিজের ধ্যান থেকে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হয়, নিজের কথা ভুলে আল্লাহকে স্মরণ করে এমনকি অস্তিত্বহীন সকল কিছু তাঁর নিকট ফানা হয়ে যায়, অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছুর ইবাদত করা সব কিছু অস্তিত্বহীন মনে হয় এবং এককভাবে আল্লাহ তায়ালাই তাঁর অন্তরে বিদ্যমান থাকে। সুতরাং মূল উদ্দেশ্য হল, বান্দার ধ্যান থেকে এবং বান্দার স্মরণ থেকে মাখলুকাত ফানা হওয়া এবং বান্দা এ সমস্ত জিনিসের অস্তিত্ব অনুভব কিংবা ধ্যান থেকে ফানা হওয়া । এ অবস্থা যখন প্রবল হয়, তখন প্রেমিক দূর্বল হয়ে পড়ে এমনকি তাঁর বিশ্লেষণ ক্ষমতার মাঝে ত্রুটি দেখা যায়, তখন সে নিজেকেই তার প্রেমাস্পদ মনে করতে শুরু করে। যেমন, বলা হয়, এক ব্যক্তি নিজেকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলে তার প্রেমিকও তার পিছে পিছে ঝাঁপ দিয়েছে। তখন সে তার প্রেমিককে জিজ্ঞেস করল যে, আমি নিজে পড়েছি, তোমাকে কে নিক্ষেপ করল? সে বলল- তোমার ধ্যানে আমি আমার নিজের অস্তিত্ব ভুলে গেছি । আমি মনে করেছি তুমিই আমি ।”
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১০, পৃষ্ঠা-২১৯]
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَفِي هَذَا الْفَنَاءِ قَدْ يَقُولُ : أَنَا الْحَقُّ أَوْ سُبْحَانِي أَوْ مَا فِي الْحُبَّةِ إِلَّا اللَّهُ إِذَا فَنِيَ بِمَشْهُودِهِ عَنْ شُهُودِهِ وَبِمَوْجُودِهِ عَنْ وُجُودِهِ . وَبِمَذْكُورِهِ عَنْ ذِكْرِهِ وَبِمَعْرُوفِهِ عَنْ عِرْفَانِهِ . كَمَا يَحْكُونَ أَنَّ رَجُلًا كَانَ مُسْتَغْرِقًا فِي مَحَبَّةِ آخَرَ فَوَقَعَ الْمَحْبُوبُ فِي الْيَمِّ فَأَلْقَى الْآخَرُ نَفْسَهُ خَلْفَهُ فَقَالَ مَا الَّذِي أَوْقَعَكَ خَلْفِي ؟ فَقَالَ : غِبْت بِكَ عَنِّي فَظَنَنْت أَنَّكَ أَنِّي . وَفِي مِثْلِ هَذَا الْمَقَامِ يَقَعُ السُّكْرُ الَّذِي يُسْقِطُ التَّمْيِيزَ مَعَ وُجُودِ حَلَاوَةِ الْإِيمَانِ كَمَا يَحْصُلُ بِسُكْرِ الْخَمْرِ وَسُكْرِ عَشِيقِ الصُّوَرِ . وَكَذَلِكَ قَدْ يَحْصُلُ الْفَنَاءُ بِحَالِ خَوْفٍ أَوْ رَجَاءٍ كَمَا يَحْصُلُ بِحَالِ حُبِّ فَيَغِيبُ الْقَلْبُ عَنْ شُهُودِ بَعْضِ الْحَقَائِقِ وَيَصْدُرُ مِنْهُ قَوْلٌ أَوْ عَمَلٌ مِنْ جِنْسِ أُمُورِ السُّكَارَى وَهِيَ شَطَحَاتُ بَعْضِ الْمَشَايِخِ : كَقَوْلِ بَعْضِهِمْ : أَنْصِبُ خَيْمَتِي عَلَى جَهَنَّمَ وَنَحْوِ ذَلِكَ مِنْ الْأَقْوَالِ وَالْأَعْمَالِ الْمُخَالِفَةِ لِلشَّرْعِ ؛ وَقَدْ يَكُونُ صَاحِبُهَا غَيْرَ مَأْثُومٍ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَيُشْبِهُ هَذَا الْبَابُ أَمْرَ حُفَرَاءِ الْعَدُوِّ وَمَنْ يُعِينُ كَافِرًا أَوْ ظَالِمًا بِحَالِ وَيَزْعُمُ أَنَّهُ مَغْلُوبٌ عَلَيْهِ . وَيَحْكُمُ عَلَى هَؤُلَاءِ أَنَّ أَحَدَهُمْ إِذَا زَالَ عَقْلُهُ بِسَبَبٍ غَيْرِ مُحَرَّمٍ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمْ فِيمَا يَصْدُرُ عَنْهُمْ مِنْ الْأَقْوَالِ وَالْأَفْعَالِ الْمُحَرَّمَةِ بِخِلَافِ مَا إِذَا كَانَ سَبَبُ زَوَالِ الْعَقْلِ وَالْغَلَبَةِ أَمْرًا مُحَرَّمًا . وَهَذَا كَمَا قُلْنَا فِي عُقَلَاءِ الْمَجَانِينِ والمولهين الَّذِينَ صَارَ ذَلِكَ لَهُمْ مَقَامًا دَائِمًا كَمَا أَنَّهُ يَعْرِضُ هَؤُلَاءِ فِي بَعْضِ الْأَوْقَاتِ كَمَا قَالَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ ذَلِكَ فِي مَنْ زَالَ عَقْلُهُ حَتَّى تَرَكَ شَيْئًا مِنْ الْوَاجِبَاتِ . إِنْ كَانَ زَوَالُهُ بِسَبَبٍ غَيْرِ مُحَرَّمٍ مِثْلِ الْإِغْمَاءِ بِالْمَرَضِ أَوْ أُسْقِيَ مُكْرَهًا شَيْئًا يُزِيلُ عَقْلَهُ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَإِنْ زَالَ بِشُرْبِ الْخَمْرِ وَنَحْوِ ذَلِكَ مِنْ الْأَحْوَالِ الْمُحَرَّمَةِ أَثِمَ بِتَرْكِ الْوَاجِبِ وَكَذَلِكَ الْأَمْرُ فِي فِعْلِ الْمُحَرَّمِ وَكَمَا أَنَّهُ لَا جُنَاحَ عَلَيْهِمْ فَلَا يَجُوزُ الاقْتِدَاءُ بِهِمْ وَلَا حَمْلُ كَلَامِهِمْ وَفِعَالِهِمْ عَلَى الصِّحَّةِ بَلْ هُمْ فِي الْخَاصَّةِ مِثْلُ الْغَافِلِ وَالْمَجْنُونِ فِي التَّكَالِيفِ
“এ ফানার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সূফীগণ বলেছেন, আমি হক্ব (আল্লাহ), আমার সত্ত্বা সুমহান, অথবা আমার জামার নিচে আল্লাহ ব্যতীত আর কিছুই নয়। যখন তারা নিজের ধ্যান থেকে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হয়, নিজের অস্তিত্ব থেকে আল্লাহর অস্তিত্বে নিমজ্জিত হয়, নিজের স্মরণ থেকে আল্লাহর স্মরণে অবগাহন করে এবং নিজের মা'রেফাত থেকে আল্লাহর মা'রেফাতে ডুব দেয় তখন এ ধরণের পরিস্থিতির স্বীকার হয়। যেমন, ঘটনা বর্ণনা করা হয়ে থাকে যে, এক ব্যক্তি অন্য কারও মহব্বতে নিমজ্জিত ছিল । কোন একদিন প্রেমাস্পদ সাগরে পড়ে গেলে প্রেমিকও তার পিছে পিছে নিজেকে সাগরে নিক্ষেপ করল। প্রেমাস্পদ জিজ্ঞেস করল, তোমাকে কে ফেলল? তখন সে বলল, আমি তোমার মাঝে হারিয়ে গেছি, আমি মনে করেছি, তুমিই আমি। এ অবস্থায় মানুষের মাঝে মাতাল অবস্থার সৃষ্টি হয়, যা তার বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতা দূর করে দেয়, কিন্তু ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে থাকে, যেমন মদ্যপ ব্যক্তি মদের স্বাদ এবং গাইরুল্লাহর প্রেমিক তার প্রেমের স্বাদ আস্বাদন করে। কখনও ভয় ও আশার কারণে “ফানা” এর অবস্থা সৃষ্টি হয়, যেমন মহব্বতের কারণেও ফানার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় অন্তর কিছু কিছু হাকীকত বুঝতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং তার থেকে এমন কিছু কাজ বা কথা প্রকাশ পায়, যা মাতালদের থেকে পাওয়া যায়।
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
"قد يقع بعض من غلب عليه الحال في نوع من الحلول والاتحاد .. لماورد عليه ماغيب عقله أولإناه عما سوى محبوبه,ولم يكن ذلك بذنب منه كان معذورًا غير معاقب عليه مادام غير عاقل ... وهذا كما يحكى : أن رجلين كان أحدهما يحب الآخر فوقع المحبوب في اليم, فألقى الآخر نفسه خلفه فقال : أناوقعت فما الذي أوقعك ؟ فقال : غبت بك عني , فظننت أنك أني. فهذه الحال تعتري كثير من أهل المحبة والإرادة في جانب الحق, وفي غير جانبه ... فإنه يغيب بمحبوبه عن حبه وعن نفسه, وبمذكوره عن ذكره ... فلا يشعر حينئذ بالتميز ولا بوجوده, فقد يقول في هذه الحال : أنا الحق أوسبحاني أوما في الجبة إلا الله ونحوذلك...
“কিছু মাজযুবের উপর যখন তাদের হালত প্রবল হয়ে যায়, তাদের থেকে এমন কিছু কথা প্রকাশ পায় যা “হুলুল” (অনুপ্রবেশ) ও ইত্তেহাদ (সত্ত্বাগত একাত্মতা) এর অন্তর্ভূক্ত । তার উপর আরোপিত বিষয়ের কারণে তার আকুল চলে যায়, অথবা তাঁর মাহবুবের প্রতি প্রবল আসক্তির কারণে । এটি তার পক্ষ থেকে কোন গোনাহর কারণে নয়। এক্ষেত্রে তিনি মা'জুর এবং যতক্ষণ তিনি আক্বলহীন থাকবেন ততক্ষণ কোন শাস্তির যোগ্য হবেন না । তাদের অবস্থা ঐ ব্যক্তির ঘটনার মত যার সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, দু'ব্যক্তি একে অপরকে মহব্বত করত । প্রেমাস্পদ সাগরে পড়ে গেলে প্রেমিকও সাগরে পড়ে যায়। তখন প্রেমাস্পদ বলল, আমি পড়ে গেছি, তোমাকে কে ফেলল? প্রেমিক বলল- আমি তোমার মাঝে হারিয়ে গেছি, আমি ধারণা করেছি, আমি তুমিই ।
...এ সমস্ত অবস্থা মহব্বত ও ইরাদার অধিকারী অনেককে হকের পথে পরিচালিত করে, অনেককে তা অন্য দিকে পরিচালিত করে। কেননা সে তার প্রেমাস্পদের মাঝে হারিয়ে যায় এমনিক নিজের প্রেম ও অস্তিত্ত্ব সম্পর্কে ভুলে যায়, যিকিরের মাধ্যমে সে আল্লাহর ইশকের মাঝে হারিয়ে যায়, তখন তার কোন পার্থক্য জ্ঞান থাকে না এবং সে নিজের অস্তিত্ত্ব বুঝতে পারে না। এ অবস্থায় কখনও তারা বলে থাকে যে, আমি হক্ব, আমার সত্ত্বা মহান, অথবা আমার জামার নিচে আল্লাহ ব্যতীত আর কিছুই নয় ইত্যাদি।
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--২, পৃষ্ঠা-৩৯৬]
📄 সূফীদের হালত অবস্থায় তাদের থেকে শরীয়ত বিরোধী কথার হুকুম
এ সম্পর্কে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন-
وَيَحْكُمُ عَلَى هَؤُلَاءِ أَنَّ أَحَدَهُمْ إِذَا زَالَ عَقْلُهُ بِسَبَبٍ غَيْرِ مُحَرَّمٍ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمْ فِيمَا يَصْدُرُ عَنْهُمْ مِنْ الْأَقْوَالِ وَالْأَفْعَالِ الْمُحَرَّمَةِ بِخِلَافِ مَا إِذَا كَانَ سَبَبُ زَوَالِ الْعَقْلِ وَالْغَلَبَةِ أَمْرًا مُحَرَّمًا
“সূফীদের এধরণের বক্তব্যের হুকুম হল, তাদের আকুল যদি হারাম কোন কারণ ব্যতীত চলে যায়, তবে তাদের থেকে যে সমস্ত হারাম কথা ও কাজ প্রকাশ পায় তার জন্য তিনি গোনাহগার হবেন না। তবে যদি তার আকুল চলে যাওয়ার কারণ কোন হারাম বিষয় হয়, তবে তার হুকুম ভিন্ন। (অর্থাৎ সে গোনাহগার ও শাস্তিযোগ্য হবে)।
[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ--১০, পৃষ্ঠা-৩৪০]