📘 ইবাদাতের মর্মকথা > 📄 দ্বীনের সঠিক পথ

📄 দ্বীনের সঠিক পথ


আমি উপরে বর্ণনা করে এসেছি যে, দীনের বুনিয়াদ দুটি জিনিসের উপর নির্ভর করে, একটি হলো : আল্লাহরই বন্দেগী করতে হবে। দ্বিতীয় হলো : আল্লাহর বন্দেগী এমন পদ্ধতিতে করতে হবে, যা শরীআতসম্মত। নিজের মনগড়া ও বেদআতী পদ্ধতিতে নয়।
নীচের আয়াতটিতে এ সত্যই স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে :
فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا
"অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত লাভের আশা পোষণ করবে, সে যেন আমলে সালেহ করে আর নিজের রবের বন্দেগীতে কাউকে শরীক না বানায়।"-সূরা আল কাহাফ: ১১০
শাহাদাতের উভয় কালেমাতেই 'জাহের' ও 'বাতেন' উভয় দিক এ অর্থই পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে কালেমায়ে তাইয়্যেবা, প্রথম কালেমায় لا اله الا ।। বাক্যে একথার স্বীকৃতি আছে যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদাত করি না।
আর কালেমায় শাহাদাত অর্থাৎ দ্বিতীয় কালেমাতেও আমরা একথার সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই ওই নবী— যিনি মাবুদে বরহকের আহকাম আমাদের কাছে পৌঁছিয়েছেন। এ কারণে তাঁর এরশাদের সত্যতা আর তাঁর আহকামের অনুসরণ করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।
আল্লাহর নবী তাঁর নিজের দায়িত্ব কর্তব্য পালন করতে গিয়ে এসব কথা ও পদ্ধতিকে দিবালোকের মত স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এরই আলোকে একজন বান্দাকে তার নিজের মাবুদের ইবাদাত করা দরকার। আর ইবাদাতের মনগড়া নিয়ম-পদ্ধতি নির্মূল করে দেয়া দরকার। যেসবের কোনো ভিত্তি কুরআন-হাদীসে পাওয়া যায় না। যেমন এসব সঠিক বিধান আমরা পালনে বাধ্য যে, শুধু আল্লাহকেই ভয় করতে হবে। সব ব্যাপারে তার উপরই ভরসা করতে হবে। সাহায্য চাইতে হবে তাঁর কাছেই। ডাকতেও হবে তাঁকে। তাঁকেই বানাতে হবে সমস্ত উৎসাহ উদ্দীপনার মূল কেন্দ্র। বন্দেগী করতে হবে শুধু তাঁরই। ঠিক একইভাবে আমাদেরকে এ হুকুমও দেয়া হয়েছে যে, রাসূলের অনুসরণ করতে হবে বিনা বাক্যে। তাঁর আহকামের পাবন্দী করতে হবে। তাঁর নকশে কদমকে পথ প্রদর্শনকারী হিসেবে গণ্য করতে হবে। যা তিনি হালাল করেছেন তাকেই হালাল জানতে হবে। আর ওইসব জিনিসকেই হারাম জানতে হবে যা তিনি হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। দীন হিসেবে শুধু ওইসব জিনিসকে মানতে হবে। তাঁর কথা ও কাজ দ্বারা যেসব জিনিসের প্রমাণ পাওয়া যায়।
গোটা কুরআন এসব হাকীকত এবং দীনের ভিত্তির বিশ্লেষণ দ্বারা পরিপূর্ণ। কুরআনের যে পাতাই উল্টান না কেনো ইবাদাত-বন্দেগীর এ অর্থই সুস্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসবে।
"ইবাদাত' 'ইনাবাত' (আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া) 'খাশিয়াত' (ভয়ভীতি) 'ইস্তেয়ানাত' (সাহায্য চাওয়া) 'তাওয়াক্কুল' 'খাওফ' ও তাকওয়ার যেখানেই উল্লেখ আছে, প্রত্যেকটির সম্পর্ক হবে আল্লাহ জাল্লাশানুহুর দিকে। শুধু দুটো জিনিস এমন আছে যার মধ্যে আল্লাহর সাথে তাঁর রাসূলও শরীক আছেন। এর একটি হলো আনুগত্য আর অপরটি হলো মহব্বত। অর্থাৎ এতায়াত ও মহব্বত যেভাবে আল্লাহকে করতে হবে ঠিক সেভাবে রাসূলেরও করতে হবে। বাকী সব জিনিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো অর্থেই আল্লাহর শরীক নয়। বরং সাধারণ মানুষের মতো তিনিও এ কাজে আদিষ্ট যে, আল্লাহরই ইবাদাত করতে হবে। তাঁর উপরই ভরসা করতে হবে। সাহায্য তাঁর কাছেই চাইতে হবে। তার নিকটই সকল নিবেদন পেশ করতে হবে।
খৃস্টান প্রভৃতি জাতিকে শয়তান বিভ্রান্ত করে দিয়েছিলো যার ফলে তারা তাদের আম্বিয়া আওলিয়াকে তাদের সঠিক স্থানে রাখতে পারেনি। আল্লাহ ওয়াহদাহু লা-শারীক এর বিশেষ সিফাতে তারা তাদেরকেও শরীক করে দিয়েছে। তারা তাদের থেকে দোয়া চাওয়া এবং তাদের উপর তাওয়াক্কুল করতে শুরু করে। কিন্তু নিষ্ঠাবান মু'মিনদেরকে আল্লাহ তা'আলা হিদায়াত দান করেছেন। তারা সিরাতুল মুসতাকীমের উপর চলে অভিশপ্ত ও গুমরাহদের মধ্যে গণ্য হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তারা দীনকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করে নিয়েছেন। নিজের মাথাকে তাঁরই দরবারে ঝুঁকিয়েছেন। বিপদে তাঁকেই ডেকেছেন। তার নিকটই নিজের আশা আকাঙ্ক্ষার ফরিয়াদ করেছেন। তাঁর দরবারেই অসহায়ের মতো মাথা অবনত করেছেন। নিজের সব ব্যাপারকে তারই সাথে সম্পর্কিত করেছেন। প্রতি কদমে তাঁর উপরই পূর্ণ ভরসা করেছেন। আবার তাঁর রাসূলের আনুগত্য করেছেন। তাকে অন্তর দিয়ে ভালোবেসেছেন। তাঁকে তাযীম ও তাকরীম করেছেন। তার সাথে বন্ধুত্ব ভালোবাসার সম্পর্ক গভীর করেছেন। ঘোর বিপদে তাঁর জন্য জীবন বাজী রেখেছেন। নিজের আমলী জিন্দিগীতে তাঁর হিদায়াতের উপরই কাজ করেছেন। তার জ্বালানো মশাল হাতে করেই জীবনের সকল মঞ্জিল অতিক্রম করেছেন।
এ হলো সে 'দীন ইসলাম' যার তাবলীগ ও প্রচারের জন্য সকল আম্বিয়ায়ে কেরাম প্রেরিত হয়েছিলেন। যে দীন ছাড়া আল্লাহর দরবারে আর কোনো দীন গ্রহণীয় নয়। আর এটাই হলো ইবাদাতের মূল কথা। আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত প্রত্যেক মু'মিনকে এ সত্য অনুধাবনের শক্তি দান করুন। এ অনুযায়ী নিজ নিজ জীবন গড়ে তোলার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও দৃঢ় কদম দান করুন। আমীন! ছুম্মা আমীন!!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00