📄 প্রত্যেক নবীর দীনই ছিলো ইসলাম
যেহেতু অহংকার ও শিরক একই অর্থ বহনকারী এবং শিরক ইসলামের বিপরীত ও বড় গুনাহের কাজ এবং এ গুনাহ আল্লাহর কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী তাঁর দরবারে ক্ষমার অযোগ্য, তাই সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যত নবী দুনিয়ায় এসেছেন প্রত্যেকেই এ দীন 'ইসলাম' নিয়েই এসেছেন। তাই একমাত্র এ দীনই আল্লাহর নিকট গ্রহণীয়।
হযরত নূহ আলাইহিস সালাম নিজের জাতিকে উদ্দেশ করে বলেছেন:
فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَمَا سَأَلْتُكُمْ مِنْ أَجْرٍ ، إِنْ أَجْرِي إِلَّا عَلَى اللَّهِ ، وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يونس : ۷۲
"তোমরা যদি আমার কথা না শোনো (তো আমার কি ক্ষতি করলে?) আমি তোমাদের নিকট হতে কোনোই প্রতিদান চাইনি। আমার প্রতিদান তো আল্লাহর নিকট রয়েছে। আর আমাকে আদেশ করা হয়েছে (কেউ মেনে নিক আর না নিক) আমি নিজে যেনো মুসলিম হয়ে থাকি।"-সূরা ইউনুস: ৭২
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দাওয়াত ও এরশাদ এবং তাঁর কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে:
إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ ، قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ، وَوَصَّى بِهَا إِبْرَهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ ، يُبَنِيَّ إِنَّ اللهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ ﴿ البقرة : ۱۳۱-۱۳۳
"তাঁর অবস্থা এই ছিলো যে, তাঁর রব যখন তাকে বললেন, 'মুসলিম' (অনুগত) হও। তখনি সে বললো, আমি বিশ্বপ্রতিপালকের অনুগত হলাম। এ পন্থায় চলার জন্য সে তার সন্তানদেরও হুকুম দিয়েছিলো। ইয়াকুবও তাঁর সন্তানদের এই উপদেশই দিয়েছিলো। সে বলেছিলোঃ হে আমার সন্তানরা! আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দীন-ই মনোনীত করেছেন। কাজেই মৃত্যু পর্যন্ত তোমরা 'মুসলিম' হয়েই থাকবে।" -সূরা আল বাকারা: ১৩১-১৩২
হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম বলেছেন:
تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَالْحِقْنِي بِالصَّلِحِينَ - يوسف : ١٠١
“(হে আমার রব!) ইসলামের আদর্শের উপরই তুমি আমাকে মৃত্যু দিও। আর সালেহীন ও সৎকর্মশীলদের সাথে তুমি আমার মিলন ঘটাও।"-সূরা ইউসুফ: ১০১
হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর জাতিকে বললেন:
يقَوْمِ إِنْ كُنْتُمْ أَمَنْتُمْ بِاللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُسْلِمِينَ - يونس : ٨٤
"হে আমার জাতি! যদি তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনে থাকো, তাহলে তাঁর উপরেই ভরসা করো। যদি তোমরা প্রকৃতই মুসলিম হও।"-সূরা ইউনুস: ৮৪
তাওরাত প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলছেন- বনী ইসরাঈলের সকল নবী যারা তাওরাতের শরীআতের প্রচারক ও অনুশীলনকারী ছিলেন, তাদের দীন এ ইসলামই ছিলো।
إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ ، يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا - المائدة : ٤٤
"আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি। তাতে হিদায়াত ও নূর ছিলো। সকল নবী যারা ছিলো মুসলিম, এরি ভিত্তিতে ইহুদীদের ব্যাপারে বিচার ফায়সালা করতো।"-সূরা আল মায়েদা : ৪৪
সাবার রাণীর সামনে যখন সত্যের আলো জ্বলে উঠলো সাথে সাথেই তিনি বলে উঠলেন:
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَنَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ النمل : ٤٤
“হে আমার মালিক! এতদিন পর্যন্ত আমি আমার নিজের উপর যুলুম করেছি। এখন আমি সুলাইমানের সাথে সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহর কাছে (মুসলিম হলাম) আত্মসমর্পণ করলাম।" -সূরা আন নামল: ৪৪
ঈসা আলাইহিস সালামের সাথীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলছেন:
وَإِذَا أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِينَ أَنْ آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي ، قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ - المائدة : ١١١
"এবং স্মরণ করো আমি যখন হাওয়ারীদের ইশারা করে বললাম, আমার ও আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনো। তখন তারা বললো, আমরা ঈমান আনলাম আর সাক্ষী থেকো আমরা মুসলিম।" -সূরা আল মায়েদা : ১১১
কুরআনে হাকীমের এসব ব্যাখ্যা হতে এ সত্য একেবারেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, প্রত্যেক নবী-রাসূলের দীন ছিলো ইসলাম। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা এ ঘোষণা দিয়েছেন, ইসলামের রাজপথই একমাত্র রাজপথ যা আমার দরবারে গ্রহণীয়।'
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ - ال عمران : ۱۹
"নিশ্চয়ই ইসলাম আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণীয় দীন।" -সূরা আলে ইমরান: ১৯
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ : - ال عمران : ٨٥
"যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন অবলম্বন করে তার সে দীন কিছুতেই গ্রহণ করা হবে না।"-সূরা আলে ইমরান : ৮৫
📄 ইসলাম প্রকৃতির ধর্ম
প্রত্যেক নবীই যে, ইসলাম নিয়ে এসেছেন শুধু তা-ই নয়, বরং ইসলামই আদম সন্তানের একমাত্র দীন। ইসলাম গোটা পৃথিবীর দীন। কুরআন বলছেঃ
أَفَغَيْرَ دِيْنِ اللهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا
"এসব লোকেরা কি আল্লাহর দীন ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চায়? অথচ আসমান যমীনের সবকিছুই ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে।"-সূরা আলে ইমরান: ৮৩
كَرْهًا و طَوْعًا শব্দ দুটি সবকিছুকেই 'ইসলাম' এর সাথে সম্পর্কযুক্ত করেছে। কারণ আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টি পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর অনুগত্য করছে এবং তাঁর ফরমান মেনে চলছে। সকল সৃষ্টি আল্লাহর নিকট বড় অসহায়। তাঁরই মুষ্টিবদ্ধ সমগ্র বিশ্ব। তাঁর ইচ্ছা ও হুকুমের বাইরে চলা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য ইচ্ছায় হোক কি অনিচ্ছায় সকলেই তাঁর প্রতি অনুগত হয়ে চলছে। তিনিই সকল শক্তির উৎস। চাঁদ-সুরুজ থেকে শুরু করে ছোট বড় সকল জিনিসের তিনিই প্রভূ-প্রতিপালক। কোনো বাধা বিপত্তি ছাড়াই তিনি যেভাবে চান সবকিছু পরিচালনা করেন। সকলের সৃষ্টিকর্তা তিনি। সকলকে তিনি অস্তিত্ব দান করেছেন। সকলকে দিয়েছেন আকার আকৃতি। এ জগতে তিনি ছাড়া আর যা আছে সবই তাঁর সৃষ্টি, তাঁর দাস, তাঁর মুখাপেক্ষী এবং তাঁর নিকট সহায় সম্বলহীন। সকল ক্ষেত্রেই তারা তাঁর অধীন। তিনি এককভাবে প্রত্যেকটি জিনিসের সৃষ্টিকর্তা ও রূপকার। যদিও তিনি যা সৃষ্টি করেছেন উপায় উপকরণের মাধ্যমেই করেছেন। এসব উপায় উপকরণও কিন্তু তাঁরই সৃষ্টি এবং তাঁর দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
এ কারণে এসব উপায়-উপকরণও কাজ করার ব্যাপারে একেবারেই স্বাধীন নয়। বরং এরা সর্বক্ষণ আল্লাহর হুকুমের দিকে তাকিয়ে আছে। কোনো উপকরণ উপাদানই তার ক্রিয়াকর্মে স্বনির্ভর নয়। বরং প্রতিটি উপকরণই আর একটি উপকরণের মুখাপেক্ষী। যার সাহায্য ছাড়া সে নিজের কাজ ও কাজের ফল প্রকাশ করতে পারে না। এ সহযোগিতা এবং উপায় অর্থাৎ কারণসমূহের কারণই হলো আল্লাহ তা'আলা। যিনি সকল উপায় উপকরণ ও কার্যকারণের স্রষ্টা, মুখাপেক্ষীহীন। সাহায্য করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো শরীক নেই। আর তাঁর সামনে দাঁড়াবার মতো তাঁর কোনো প্রতিপক্ষও নেই।