📄 ইবাদাতের অর্থ
“ইবাদাত” একটি ব্যাপক অর্থবহ শব্দ। এর মধ্যে আল্লাহর পসন্দনীয় ও তাঁর সন্তুষ্টি হাসিলের সব যাহেরী ও বাতেনী কথা এবং কাজ অন্তর্ভুক্ত। সালাত, যাকাত, সাওম, হজ্জ, সত্যকথা, আমানতদারী, প্রতিবেশীর হক আদায়, মাতাপিতার সাথে ভালো ব্যবহার, ওয়াদা পালন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা প্রদান, জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ, পাড়া প্রতিবেশী এবং ইয়াতীম মিসকীনের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন, অধীনদের সাথে ভালো আচরণ, আল্লাহর যিকির, তিলাওয়াতে কুরআন সহ সকল আমলে সালেহ ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত।
এভাবে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসা, আল্লাহর রহমতের আশা, শাস্তির ভয়, আল্লাহর প্রতি একমুখী ও বিনয়ী হওয়া, এখলাস, সবর, শোকর, তাওয়াক্কুল ইত্যাদি সকল ভালো কাজই ইবাদাতের মধ্যে শামিল।
📄 মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
শুধু ইবাদাত করার উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তাআলা এ বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন। যেমন কুরআন বলছেঃ
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ - الذريات : ٥٦
“আমি জ্বিন এবং মানুষকে একমাত্র আমার ইবাদাতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।”-সূরা আয যারিয়াত : ৫৬
যত রাসূল দুনিয়ায় আগমন করেছেন এ উদ্দেশ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যই আগমন করেছেন। নূহ আলাইহিস সালাম নিজ জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন:
يقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِّنْ إِلَهِ غَيْرُهُ : - الاعراف : ٥٩
“হে আমার জাতি। আল্লাহর বন্দেগী করো; তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো ইলাহ নেই।”-সূরা আল আরাফ: ৫৯
হুদ আলাইহিস সালাম, সালেহ আলাইহিস সালাম, শোয়ায়েব আলাইহিস সালাম-মোটকথা সকল নবী আলাইহিমুস সালাম তাঁদের নিজ নিজ জাতিকে এ আহবানই জানিয়েছিলেন।
কুরআন অকাট্যভাবে ঘোষণা করছে :
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ...
"আমি প্রত্যেক জাতির নিকট একজন পয়গাম্বর পাঠিয়েছি। তাঁরা মানুষের নিকট এ পয়গাম পৌঁছিয়েছে : হে মানুষেরা! তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাগুতকে পরিহার করো।" -সূরা আন নাহল : ৩৬
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ
"হে নবী! তোমার আগে আমি যেসব নবী দুনিয়ায় পাঠিয়েছি তাদের প্রতি আমি এ ওহীই নাযিল করেছিলাম। "আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত করো।" -সূরা আল আম্বিয়া : ২৫
إِنَّ هَذِهِ أُمْتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً ، وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ الانبياء : ٩٢
"নিসন্দেহে তোমাদের এই উম্মাহ একই উম্মাহ, আর আমিই তোমাদের সকলের 'রব'। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত করো।" -সূরা আল আম্বিয়া : ৯২
একথা সুস্পষ্ট হওয়া দরকার যে, এ আয়াতে "ইবাদাত করো” শুধু সাধারণ মানুষ অর্থাৎ উম্মতকে উদ্দেশ করেই বলা হয়নি। বরং এ দাওয়াতের দা'য়ী এবং পয়গামের মুবাল্লিগ আম্বিয়ায়ে কিরামও এর মধ্যে শামিল। অন্য জায়গায়ও এ সম্বন্ধে বলা হয়েছে :
يأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ
"হে রাসূলগণ! পাক পবিত্র জিনিস খাও এবং নেক আমল করো, নিসন্দেহে আমি তোমাদের আমল সম্পর্কে অবহিত।" -সূরা মু'মিনূন : ৫১
আর এক আয়াতে এ ব্যাপারটিকে আরো স্পষ্ট করে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। নবী করীম (সা)-কে উদ্দেশ করে এরশাদ হয়েছে :
وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينَ الحجر : ٩٩
"(হে মুহাম্মাদ!) আপনার রবের ইবাদাত করতে থাকুন। যতক্ষণ না নিশ্চিত ব্যাপারটির (মৃত্যু) সময় এসে যাবে।” -সূরা আল হিজর: ৯৯
📄 আল্লাহর দাসত্বই মানুষের শ্রেষ্ঠতম মর্যাদা
এ ইবাদাতকে আম্বিয়া ও মালায়িকার পরম গুণাগুণ হিসেবে আল্লাহ তা'আলা প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন:
وَلَهُ مَنْ فِي السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ ، وَمَنْ عِنْدَهُ لَايَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ يُسَبِّحُونَ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ ( الانبياء : ١٩
"আসমান ও যমীনে যা যা আছে সবই তাঁর। যেসব (ফেরেশতা) তাঁর দরবারে আছে তারা কখনো ইবাদাত থেকে মুখ ফিরায় না। না তারা ক্লান্ত হয়। রাতদিন অনবরত তার পবিত্রতা বর্ণনা করে। এতে একটু অবহেলা প্রদর্শন করে না।"-সূরা আল আম্বিয়া: ১৯-২০
إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ وَلَهُ يَسْجُدُونَ
"যারা (ফেরেশতা) তোমার রবের নিকট আছে তারা কখনো তাঁর নাফরমানী করে না। তারা তাঁর গুণগান করতে থাকে, তাঁর দরবারে সেজদায় রত থাকে।" -সূরা আল আ'রাফ: ২০৬
এর বিপরীত রয়েছে ওইসব লোক, যারা নিজেদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য পূরণ করে না এবং আল্লাহর সামনে মাথা নত করার পরিবর্তে অহমিকায় নিমজ্জিত হয়। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
"যারা আমার দাসত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং হঠকারিতায় নিমজ্জিত হয়, তারা অবশ্যই বড় লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।"-সূরা আল মু'মিন: ৬০
যেহেতু আল্লাহর দাসত্ব করাই মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য, তাই এ উদ্দেশ্য পূরণ করাই আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করার উপায়। একজন মানুষের মর্যাদার উচ্চ শিখরে পৌঁছার অর্থই হলো, তিনি তার কাজকর্ম দ্বারা ইবাদাতের উচ্চস্তরে পৌঁছেছেন। তাই কুরআন পাকে দেখতে পাই, আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা যখন তাঁর প্রিয় বান্দাদের বিশেষ স্নেহ-মমতা ও মান মর্যাদার সাথে স্মরণ করতে চান, তখন তিনি এ স্মরণের সময় 'আবদুন' শব্দের বিশেষণ দ্বারা তাদের স্মরণ করে থাকেন:
عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًا الدهر : ٦
"এটা একটি প্রবাহমান ঝর্ণা হবে। তা থেকে আল্লাহর গোলামরা তৃষ্ণা নিবারণ করবে। যেখানে ইচ্ছে তারা তার শাখা-প্রশাখা বের করে নিতে পারে।"-সূরা আদ দাহর: ৬
عِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا - الفرقان : ٦٣
"রহমানের দাস হলো তারা, যারা যমিনের উপর বিনয়ের সাথে চলে।” -সূরা আল ফুরকান: ৬৩
শয়তান নিজে অভিশপ্ত হবার কথা শুনার পর আল্লাহর নিকট আরজ করেছিলো: আমি এর বদলা স্বরূপ তোমার বান্দাদেরকে মনোহারী লোভ দেখিয়ে দেখিয়ে বিভ্রান্ত করবো। তখন আল্লাহর তরফ থেকে ইরশাদ হলো:
إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سَلْطَنَ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغُويْنَ الحجر : ٤٢
"আমার প্রকৃত বান্দাদের উপর তোর কোনো কর্তৃত্ব নেই। তবে যারা তোর কথা শুনবে তারা গুমরাহ হয়ে যাবে।"-সূরা আল হিজর: ৪২
ফেরেশতাদের সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে:
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا سُبْحْنَهُ ، بَلْ عِبَادُ مُكْرَمُوْنَ ...... وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ الانبياء : ٢٦ ، ٢٨
"আর এ কাফিররা বলছে, রহমানের সন্তান আছে। আল্লাহ এসব ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। তারা (তো ফেরেশতারা) আল্লাহর সম্মানিত বান্দা। ..........তারা আল্লাহর ভয়ে সদাসর্বদা কম্পিত থাকে।" -সূরা আল আম্বিয়া: ২৬, ২৮
হযরত ঈসা মসীহ আলাইহিস সালামের ব্যাপারে নবুয়াত এবং খোদায়ীত্ব দুটোই দাবী করা হয়েছিলো। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ
إِنْ هُوَ إِلَّا عَبْدٌ أَنْعَمْنَا عَلَيْهِ - الزخرف : ٥٩
"সে তো একজন দাস ছাড়া আর কিছু ছিলো না। আমি তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করেছি।"-সূরা আয যুখরুফ: ৫৯
বস্তুত, মুসলমানরাও শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর 'আল্লাহর বান্দাহ' হবার অবস্থান থেকে সরিয়ে দেয় কিনা সে জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন:
لا تَطْرِنِي كَمَا أَطْرَتَ النَّصَارَى عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ إِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ فَقُولُوا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ - الحديث
"আমার প্রসংশায় বেশী বাড়াবাড়ি করো না, যেমন নাসারা জাতি ঈসা ইবনে মারইয়ামের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে সীমা অতিক্রম করে ফেলেছিলো। আমি তো কেবল আল্লাহর একজন দাস। অতএব আমাকে তোমরা আল্লাহর বান্দা ও রাসূলই বলো।"-আল হাদীস
কুরআন মাজীদে আল্লাহর খাস বান্দাহ ফেরেশতা ও অন্যান্য নবী আলাইহিস সালামের মতো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও 'বান্দাহ' হিসেবেই সম্বোধন করা হয়েছে। মে'রাজের মতো আল্লাহর কুদরতের এত বড় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে:
سُبْحَنَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً .......... الخ - بنى اسرائيل : ١
"অতি পূত-পবিত্র সেই সত্তা যিনি রাতের বেলায় তাঁর প্রিয় বান্দাকে নিয়ে ভ্রমণ করিয়েছেন.......।"-সূরা বনী ইসরাঈল: ১
فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى - النجم : ١٠
"অতপর তাঁর বান্দার নিকট যা ওহী করার ছিলো তা করেছেন।" -সূরা আন নাজম: ১০
রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাতের দাওয়াত ও তাবলীগের উল্লেখ করে এরশাদ করা হয়েছে:
وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا الجن : ١٩
"আর এই যে আল্লাহর বান্দাহ যখন তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়ালো (নামাযে) তখন লোকেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুত হলো।"-সূরা জ্বিন: ১৯
📄 দীন এবং ইবাদাতের স্বাভাবিক সম্পর্ক
কুরআন ও হাদীস থেকে একথা স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, গোলামী ও বন্দেগী আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মর্যাদা এবং তাঁর সৌভাগ্যের শ্রেষ্ঠ সোপান। এখানে একথাও প্রকাশ হয়ে পড়ে যে, সকল শাখা প্রশাখাসহ গোটা দীনই “ইবাদাতের” মধ্যে গণ্য। সকল নবী আল্লাহর দীন শিখাবার জন্য এসেছেন। কুরআনের বেশ কয়েকটি জায়গায়ই একথার উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর নবীগণ যাদের নিকটই দীনের দাওয়াত দিয়েছেন তাদেরকে فَاعْبُدُوهُ “তাঁর ইবাদাত করো” বলে সম্বোধন করেছেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, “দীন” আর “ইবাদাত” শব্দ দুটো একই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের দুটি পৃথক দিক। হাদীসে জিবরীলের দীর্ঘ হাদীসটি এ কথারই প্রমাণ।
হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম একজন বেদুইনের বেশে রাসূলের নিকট এসে সাহাবায়ে কেরামের সামনেই তাঁকে কতিপয় প্রশ্ন করলেন। প্রশ্ন করলেন ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইসলাম কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বললেন : আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমযান মাসের রোযা রাখা এবং সামর্থ থাকলে হজ্জ করার নামই হলো ইসলাম।
এরপর আগন্তুক জিজ্ঞেস করলেন, ঈমান কাকে বলে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন : আল্লাহর একত্ব, তাঁর ফেরেশতা, অবতীর্ণ করা কিতাব, তাঁর প্রেরিত রাসূল, মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বারের জীবন, তাকদীরের ভালো ও খারাপ দিকের উপর মন থেকে বিশ্বাস স্থাপন করার নামই “ঈমান”।
এরপর আগন্তুক প্রশ্ন করলেন: “ইহসান কাকে বলে?”
উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : “আল্লাহর ইবাদাত এমনভাবে করো যেনো তুমি তাঁকে দেখছো। আর তুমি তাঁকে না দেখলেও তিনি তো তোমাকে দেখছেন।
এসব প্রশ্ন ও উত্তরের পর হযরত জিবরাঈল আমীন আলাইহিস সালাম চলে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে বললেন : فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمَكُمْ دِينَكُمْ
আগন্তুক ছিলেন জিবরীল আমীন। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দীন শিখাতে এসেছিলেন।
লক্ষ্য করুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজগুলোকে দীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মূলত এ কাজগুলোর সমষ্টির নামই “ইবাদাত”।