📘 হুদাল্লিল মুত্তাকিন > 📄 কুরআন সংকলন

📄 কুরআন সংকলন


খলিফাতুল মুসলিমিন সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দিক রাজিআল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে এক যুদ্ধে অনেক হাফিজ সাহাবি শাহাদতবরণ করেন। ফলে এভাবে হাফিজ সাহাবিদের শাহাদত কুরআন সংরক্ষণের ব্যাপারে সাহাবিদের ভাবিয়ে তুলে। কেননা, তখন পর্যন্ত কুরআন কোনো সুবিন্যস্ত আকারে লিপিবদ্ধ ছিল না। হাফিজ সাহাবিদের শহিদ হওয়ার ঘটনায় হজরত উমর অত্যন্ত চিন্তিত হন—এভাবে যদি হাফিজ সাহাবিগণ শহিদ হতে থাকেন, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত পরবর্তী উম্মতের কাছে এই কুরআন কীভাবে পৌঁছবে? তাই তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি সুবিন্যস্ত আকারে কুরআন সংরক্ষণের ব্যাপারে প্রস্তাব করেন। তিনি খলিফাতুল মুসলিমিন হজরত আবু বকর সিদ্দিকের কাছে কুরআন সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে আবেদন জানান। কিন্তু আবু বকর সিদ্দিক উমরের প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হচ্ছিলেন না। তার কথা ছিল, 'যে কাজ স্বয়ং রাসুল করে যাননি, সেই কাজ আমি কীভাবে করি?' তাই তিনি উমরের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে দেন।

মানাকিবে উমর

এ পর্যায়ে হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাজিআল্লাহু আনহু সম্পর্কে আপনাদের একটা ধারণা থাকা দরকার যে, কে এই উমর? সহিহ বুখারি শরিফে হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত; রাসুল বলেন,

لَقَدْ كَانَ فِيمَا قَبْلَكُمْ مِنَ الأُمَمِ نَاسٌ مُحَدَّثُوْنَ، فَإِنْ يَكُ فِي أُمَّتِي أَحَدٌ فَإِنَّهُ عُمَرُ
তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির মধ্যে অনেক 'মুহাদ্দাস' লোক ছিলেন। যদি আমার উম্মতের মধ্যে কেউ 'মুহাদ্দাস' থাকে, তাহলে সে হলো উমর।

হাদিসটি ইমাম মুসলিম রাহ.-ও আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন। উভয় গ্রন্থের বর্ণনায় আছে, ইবনু ওহাব বলেন, 'মুহাদ্দাস' হলেন তাঁরা, যাঁদের মনে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) ইলহাম (ভালো-মন্দের জ্ঞান প্রক্ষেপ) করা হয়। উমর হলেন মুহাদ্দাস। মুহাদ্দাস আরবি শব্দ। এর অর্থ মুলহাম। মুলহাম হলেন আল্লাহ তাআলার নির্বাচিত কিছু বান্দা, যাঁদের অন্তরে সবসময় সত্য কথাটি পরিস্ফুটিত করে দেন।

মোটকথা, উমরের অন্তরে যে এই ভাবনা উদয় হলো, এটা স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়েছিল। এ ছাড়া উমরের ব্যাপারে এমন অনেক বিষয় আছে, তিনি প্রস্তাব করেছেন; তাঁর প্রস্তাবের স্বপক্ষে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর সম্পর্কে রাসুল বলেছেন, 'আমার পরে কেউ যদি নবি হতো, তাহলে উমরকে আল্লাহ সে সম্মান দিতেন।'

অন্য হাদিসে রাসুল বলেছেন, 'কিয়ামতের দিন প্রথম যে বান্দার হিসাব তার ডান হাতে দেওয়া হবে সে হচ্ছে উমর।' এ কথা শুনে সাহাবিরা বললেন, 'হে আল্লাহর নবি! আবু বকর সম্পর্কে তো কিছু বললেন না।' তখন রাসুল বলেন, 'ততক্ষণে আবু বকর জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়তে থাকবে।'

হজরত উমর রাজিআল্লাহু আনহুর প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা এত বেশি ছিল যে, কখনো কখনো উমরের একক সিদ্ধান্তের আলোকে আল্লাহ তাআলা কুরআনের আয়াত নাজিল করে দিয়েছেন। হাফিজ জালালুদ্দিন সুয়ুতি রাহ. বলেন, কুরআনের অন্তত ২১টি আয়াত আল্লাহ তাআলা উমরের সিদ্ধান্তের অনুকূলে নাজিল করেছেন।

শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবি রাহ. বলেছেন, স্বয়ং নবিজি এক মত দিয়েছেন আর উমর দিয়েছেন ভিন্নমত, এমতাবস্থায় আল্লাহ উমরের মতের পক্ষে কুরআনে আয়াত নাজিল করেছেন। কুরআনের এমন আয়াতের সংখ্যা ১১টিরও বেশি। এমন পাঁচটি আয়াত সম্পর্কে জেনে নিই:

বদরের যুদ্ধবন্দী সম্পর্কে

বদরযুদ্ধে কাফের বন্দীদের ব্যাপারে রাসুল তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত দুই সাথী আবু বকর এবং উমরের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। উমর বললেন, তাদের হত্যা করে ফেলা হোক। আবু বকর বললেন, এ মুহূর্তে আমাদের অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের থেকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেওয়া ভালো। রাসুল বলেন, আমিও তা-ই মনে করি।

রাসুল তখন আবু বকরের পরামর্শমতো অর্থের বিনিময়ে কাফিরদের মুক্ত করে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা কুরআনের আয়াত নাজিল করে উমরের পরামর্শকে যৌক্তিক সাব্যস্ত করে ইরশাদ ফরমান,

تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا * وَاللهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ لَوْلَا كِتُبٌ مِّنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴾
তোমরা চাও পার্থিব সম্পত্তি আর আল্লাহ চান পরকালীন কল্যাণ। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহর পূর্ববিধান থাকলে তোমরা যে মুক্তিপণ গ্রহণ করেছে, সে জন্য বড় আজাব এসে পৌঁছাত। [সুরা আনফাল : ৬৭-৬৮]

মুনাফিক সরদারের জানাজা প্রসঙ্গে

মুনাফিক সরদার আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেলে রাসুল তার জানাজা পড়ার জন্য দাঁড়ালেন। উমর বললেন, 'হে নবি! আপনি মুনাফিকদের জানাজা পড়াবেন এটা আমার কাছে ভালো লাগছে না।' রাসুল বললেন, 'আল্লাহ তো আমাকে মুনাফিকের জানাজা পড়াতে নিষেধ করেননি।' রহমতের নবি মুনাফিক সরদারের জানাজা পড়ানো শেষ করেছেন, আল্লাহপাক সাথে সাথেই আয়াত নাজিল করে বললেন,

وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِّنْهُمْ مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَ رَسُوْلِهِ وَمَا تُوْا وَهُمْ فَسِقُوْنَ﴾
আর তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার জানাজার নামাজ পড়বেন না এবং তার কবরের পাশেও দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করেছিল এবং ফাসিক অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। [সুরা তাওবা: ৮৪]

আয়েশার বিরুদ্ধে অপবাদ

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে যখন একদল মুনাফিক জিনার অপবাদ আরোপ করল, তখন রাসুল মানসিকভাবে একটু ভেঙে পড়লেন। তিনি এ বিষয়ে সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। এ ব্যাপারে তাদের মতামত চাইলেন। তখন অনেকেই বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার জন্য স্ত্রীর কি অভাব আছে? আপনি চাইলে কোন মুসলমান তার কন্যাকে আপনার সাথে বিয়ে দিয়ে নিজেকে ধন্য করতে চাইবে না? তাহলে চারিত্রিক দিক দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ একজন নারীকে নিয়ে আপনার সংসার করার দরকার কী? তা ছাড়া প্রচারিত সংবাদটির সত্যতাও তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বিশ্বনবি তখন তাকালেন উমরের দিকে। 'উমর! তুমি কী বলো? এব্যাপারে তোমার মতামত কী?' উমর বললেন...। উমরের কথাগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরি :

-উমর বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আয়েশার সাথে আপনার বিয়ের কথাবার্তা কোথায় ফাইনাল হয়েছিল?
-নবিজি বললেন, আসমানে।
-কে ফাইনাল করেছিলেন?
-আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা।
-তাহলে ব্যাপারটি নিয়ে আমরা খামাখা টেনশন করছি কেন? পুরো ব্যাপারটি কেন আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিচ্ছি না? আমরা কেন আল্লাহর ফায়সালার জন্য অপেক্ষা করছি না। আর আমাকে যদি আমার নিজস্ব অনুভূতি প্রকাশ করার হুকুম করেন, তাহলে আমার কথা খুবই পরিষ্কার, আল্লাহপাক তার নবির জন্য প্রশ্নবিদ্ধ চরিত্রের কোনো নারীকে স্ত্রী হিশেবে মনোনীত করবেন, এ কথা আমি উমর বিশ্বাস করি না।

নবিজি বিব্রত। এ বিষয়ে সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু আবু বকর সিদ্দিকের পরামর্শ পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে আবু বকরের সাথে পরামর্শও করতে পারছেন না। তিনি আয়েশার বাবা। বাবার সাথে মেয়ের নামে ছড়ানো বদনাম নিয়ে কীভাবে কথা বলা যায়! নবিজি বিব্রত। কী করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না।

সায়্যিদুনা ফারুকে আজমের অনুভূতির জয় হলো। আল্লাহপাক আয়াত নাজিল করে জানিয়ে দিলেন সিদ্দিকায়ে কায়েনাত সিদ্দিকা বিনতে সিদ্দিক আম্মাজান আয়েশার বিরুদ্ধে রটানো অপবাদের কোনো ভিত্তি নেই। আয়েশার নামে ছড়ানো বদনাম সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর কোনো সত্যতা নেই। ইরশাদ হলো,

لَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنْتُ بِأَنْفُسِهِمْ خَيْرًا وَ قَالُوا هَذَا انك مُّبِينٌ
এ অপবাদ শোনার পর বিশ্বাসী নরনারীরা কেন নিজেদের ব্যাপারে ভালো ধারণা পোষণ করেনি? কেন তারা বলতে পারল না যে, 'এ তো নিছক মিথ্যা।' [সুরা নূর: ১২]

আম্মা আয়েশার চারিত্রিক সচ্ছতার সার্টিফিকেট প্রদান করে নাজিলকৃত আয়াতসমূহের শেষ দিকে গিয়ে আল্লাহ বলেন, এটি শুধু একটি বদনামই নয়, জঘন্য একটি অপবাদও- বুহতানুন আজিম। আল্লাহ বলেন,

وَلَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُمْ مَّا يَكُونُ لَنَا أَنْ تَتَكَلَّمَ بِهَذَا * سُبْحْنَكَ هَذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ
তোমরা যখন এই কথাগুলো শুনলে, তখন কেন বললে না যে, এ বিষয়ে কথা বলা আমাদের উচিত নয়, আল্লাহ মহান ও পবিত্র, এটা তো মহাগুরুতর অপবাদ। [সুরা নূর: ১৬]

রাসুল-এর স্ত্রীদের প্রসঙ্গে

একবার প্রসঙ্গক্রমে হজরত উমর রাসুল-এর স্ত্রীদের বললেন, আপনারা যদি রাসুলকে কষ্ট দেন, তাহলে রাসুল আপনাদের সবাইকে তালাক দিয়ে দেবেন। এটা ছিল রাসুলের প্রতি উমরের ভালোবাসার নিদর্শন। নবিজি ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে বাইরে অনেক কষ্ট করে ঘরে ফিরেন। তখন স্ত্রীগণ যদি নবির সাথে এমন কোনো আচরণ করেন, যাতে নবির কষ্ট হয়, তাহলে সেটা মোটেও ভালো হবে না। উমরের এই কথাটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এতই পছন্দ হলো যে, আল্লাহপাক আয়াত নাজিল করে জানালেন, আমার উমর যা বলেছে, তা-ই ঠিক। নবির স্ত্রীগণকে সতর্ক করে দিয়ে আল্লাহ বললেন, খবরদার! আমার নবির মনে কষ্ট লাগে, এমন কোনো কাজ তোমরা করো না। তাহলে তোমাদের কপালেই খারাবি আসবে। আমার নবি তোমাদের তালাক দিয়ে বিদায় করে দিলে আমি তার জন্য তোমাদের চেয়ে আরও ভালো স্ত্রীর ব্যবস্থা করে দিতে পারব। কুরআনের ভাষায়,

عَسَى رَبُّةً إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَةٌ أَزْوَاجًا خَيْرًا
নবি যদি তোমাদের সকলকে তালাক দেন, তবে তার রব সম্ভবত তোমাদের স্থলে তাকে দেবেন তোমাদের চেয়ে উৎকৃষ্টতর স্ত্রী। [সুরা তাহরিম : ৫]

মাকামে ইবরাহিম

উমরের ইচ্ছা ছিল মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান হিশেবে নির্দিষ্ট করা হোক। নবিজির সাথে বাইতুল্লাহ ঘুরছিলেন উমর। নবিজি তাকে মাকামে ইবরাহিম দেখালেন। এটা সেই জায়গা, যেখানে দাঁড়িয়ে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম নিজ সন্তান ইসমাইলকে নিয়ে বাইতুল্লাহ মেরামত করেছিলেন। স্থানটির উমরকে আপ্লুত করে ফেলল। তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি এখানে দুই রাকাত নামাজ পড়ে ফেলতে পারি না?

নবিজি বললেন, দেখো উমর, আমি শরিয়ত বানাই না, প্রচার করি। শরিয়ত আসে আল্লাহর কাছ থেকে। আমি আল্লাহর দেওয়া বিধিবিধানগুলোই তোমাদের মধ্যে প্রচার করি। আল্লাহপাক আমাকে এখানে অর্থাৎ, মাকামে ইবরাহিমে নামাজ পড়ার কোনো নির্দেশ দেননি। তাহলে আমি তোমাকে কেমন করে এই অনুমতি দিতে পারি?

নবিজির জবাব শুনে উমরের মন একটু খারাপ হলেও আর কিছু বললেন না। নবির কথার পরে আর কোনো কথা চলে না। আল্লাহ তাআলা তখন আয়াত নাজিল করলেন। উমরের ইচ্ছাকে আল্লাহ কুরআনের আয়াত বানিয়ে নবিজির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। ইরশাদ হলো,

وَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى আর তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান হিশেবে গ্রহণ করো। [সুরা বাকারা: ১২৫]

আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে 'মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবি'র দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সাহাবায়ে কেরাম আলাইহিম রিজওয়ানের নকশে কদমে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।

📘 হুদাল্লিল মুত্তাকিন > 📄 কুরআন সংরক্ষণ

📄 কুরআন সংরক্ষণ


মুহতারাম হাজিরিন।

আশা করি মূল আলোচনা আপনাদের মনে আছে। হজরত উমর খলিফাতুল মুসলিমিন আবু বকর সিদ্দিককে কুরআন সংরক্ষণের প্রস্তাব করছিলেন এবং আবু বকর সেই প্রস্তাব এই বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যে, যে কাজ নবি করে যাননি, সেই কাজ করা আবু বকরের পক্ষে সম্ভব না।

উপরে বর্ণিত হজরত উমরের এসব গুণ আবু বকরের অজানা ছিল না। সেই সাথে উমরের ব্যাপারে যে নবিজি বলেছিলেন, ইন্নাল্লাহা জাআলাল হাক্কা আলা লিসানে উমরা ওয়া কালবিহ-অর্থাৎ আমার উমর যা বলে সেটাও হক, যা ভাবে সেটাও হক-আবু বকর এই হাদিসটিও জানতেন। তাই উমরের প্রস্তাবে প্রথমে তিনি না করে দিলেও একপর্যায়ে তাঁর অন্তরে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে আসে। আবু বকর তখন নিজেই বলেন, 'উমরের প্রস্তাবের পর আল্লাহ তাআলা আমার অন্তর খুলে দিলেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে আমিও ভাবতে থাকি।' এ ঘটনার বর্ণনা সম্পর্কে সহিহ বুখারি শরিফে হজরত জায়েদ রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে。

হজরত জায়েদ ইবনু সাবিত রা. বলেন,

ইয়ামামার যুদ্ধের পরপরই হজরত আবু বকর রা. আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি সেখানে গিয়ে দেখি উমরও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। আবু বকর রা. আমাকে বললেন, উমর এসে আমাকে বলেছেন, 'ইমামার যুদ্ধে কুরআনে হাফিজদের একটি বড় অংশ শহিদ হয়ে গেছেন। এভাবে যদি বিভিন্ন স্থানে কুরআনের হাফিজরা শহিদ হতে থাকেন, তাহলে আমার আশঙ্কা হয়, কুরআনের একটি বড় অংশ হারিয়ে যাবে। তাই আমার অভিমত হলো, আপনি কুরআন সংকলনের ব্যবস্থা করুন।' আমি তখন তাঁকে বললাম, 'যে কাজ রাসুল করেননি, সেই কাজ আমি কীভাবে করব?' জবাবে উমর বললেন, 'আল্লাহর কসম, এ কাজ উত্তম।' এরপর উমর বারবার আমাকে একই কথা বলতে লাগলেন। একপর্যায়ে এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা আমার অন্তর খুলে দিলেন। এখন উমরের অভিমত যা, আমার অভিমতও তা।'

(হজরত জায়েদ ইবনু সাবিত বলেন) এরপর হজরত আবু বকর আমাকে বললেন, 'তুমি বিচক্ষণ যুবক, তোমার ব্যাপারে আমাদের কোনো খারাপ ধারণা নেই। রাসুল -এর জীবদ্দশায় তুমি ওহি লেখার কাজ করতে। তাই তুমিই কুরআনের আয়াতগুলো অনুসন্ধান করে সেগুলো একত্র করো।' হজরত জায়েদ ইবনু সাবিত বলেন, 'আল্লাহর কসম, তাঁরা যদি আমাকে কোনো পাহাড় আপন স্থান থেকে সরানোর আদেশ দিতেন, তাহলেও আমার কাছে এত কঠিন মনে হতো না, যতটা কঠিন মনে হয়েছে কুরআন সংকলনের দায়িত্ব পালনের নির্দেশটি।' আমি বললাম, 'আপনারা এমন কাজ কীভাবে করবেন, যা রাসুল করেননি?' আবু বকর বলেন, 'আল্লাহর কসম, এ কাজে মঙ্গল রয়েছে।' এরপর আবু বকর আমাকে বারবার তা বলতে লাগলেন। একপর্যায়ে এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা আমার বক্ষ উন্মুক্ত করে দিলেন, যে বিষয়ে বক্ষ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন আবু বকর ও উমর রাজিআল্লাহু আনহুমার।

অতঃপর আমি কুরআনের আয়াত অনুসন্ধান করতে লাগলাম। কুরআনের আয়াতগুলো খেজুরের ডাল, পাথরের তখতি এবং মানুষের হৃদয় থেকে খুঁজে খুঁজে আমি একত্র করলাম। সুরা তাওবার শেষ আয়াত আবু খুজাইমা আনসারি রা.-এর কাছে পেলাম, অন্যদের কাছে (লিখিতভাবে) তা আমি পাইনি।' তবে নিঃসন্দেহে সে আয়াতটি হাফিজ সাহাবিদের মুখস্থ ছিল এবং সেটি 'মুতাওয়াতির' বর্ণনা দ্বারাও কুরআনের আয়াত হওয়া প্রমাণিত।

এভাবে হজরত উমরের প্রস্তাবে ও আবু বকর রা.-এর মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কুরআন সংরক্ষণ করা হয় এবং আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে।

📘 হুদাল্লিল মুত্তাকিন > 📄 কুরআন সংকলন-পদ্ধতি

📄 কুরআন সংকলন-পদ্ধতি


হজরত জায়েদ ইবনু সাবিত রা. নিজে কুরআনের হাফিজ হওয়া সত্ত্বেও এককভাবে কুরআন সংকলনের গুরুদায়িত্বটি আঞ্জাম দেননি; বরং তিনি চারটি পদ্ধতিতে কুরআন সংকলন করার কাজ শুরু করলেন :

১. কোনো আয়াত পাওয়া গেলে প্রথমে তা নিজের হিফজ ও মুখস্থের সঙ্গে মিলিয়ে নিতেন।

২. হজরত উমরও হাফিজ ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনিও আবু বকর রা.-এর নির্দেশে হজরত জায়েদকে সহযোগিতা করতেন।

৩. কোনো আয়াত ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করা হতো না, যতক্ষণ-না দুজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দিতেন যে, এ আয়াত রাসুল -এর সামনে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে অথবা সেগুলো রাসুল -এর মৃত্যুর আগে তাঁর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। সুরা তাওবার শেষ আয়াতটি যখন কেবল হজরত খুজাইমা রা.-এর কাছে পাওয়া গেল, তখন এ সূত্রে সেটিকে গ্রহণ করা হয় যে, জীবদ্দশায় রাসুল হজরত খুজাইমার একার সাক্ষ্যকে দুজনের সাক্ষ্যের সমতুল্য ঘোষণা করে গেছেন।

ঘটনাটি ছিল এমন, একবার নবিজি এক ইহুদির কাছ থেকে কিছু টাকা হাওলাত নিয়েছিলেন। টাকাগুলো যথাসময়ে ফেরতও দিয়েছিলেন। তারপর সেই ইহুদি আবার এসে টাকা চাইল। সে বলল, আপনি যে আমার টাকা ফেরত দিয়েছেন, প্রমাণ কী? সাক্ষী কই? ইহুদি নবির উপর ঈমান না আনলেও, কালিমা না পড়লেও সে জানত নবি মিথ্যা সাক্ষী দাঁড় করাবেন না। এখন নবিজির কাছে তো সাক্ষী নেই।

কথা চলছে; ঠিক সেই মুহূর্তে হজরত খুজাইমা রাজিআল্লাহু আনহু সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। নবিজিকে জিজ্ঞেস করলেন ঘটনা কী? নবিজি বললেন, আমি তার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার এনেছিলাম। তার টাকা আমি ফেরতও দিয়ে দিয়েছি। এখন সে বলছে, আমি যে তার টাকা ফেরত দিয়েছি, সেটার সাক্ষী উপস্থাপন করতে, অথবা আবারও টাকা দিতে। হজরত খুজাইমা ইহুদিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমি সাক্ষী দিচ্ছি নবিজি তোর টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছেন। এখন যা, ভাগ।

খুজাইমা সাক্ষী দেওয়ার পর ইহুদি সেখান থেকে পালালো। সে চলে যাওয়ার পর নবিজি বললেন, খুজাইমা! এটা তুমি কী করলে? তুমি কীভাবে সাক্ষী দিলে? আমি টাকা ফেরত দেওয়ার সময় তুমি তো উপস্থিত ছিলে না। তাহলে কেমন করে সাক্ষী দিলে?

হজরত খুজাইমা বললেন, ওগো আল্লাহর নবি! আল্লাহকে দেখি নাই। আপনি বলেছেন আল্লাহ আছেন, বিশ্বাস করেছি। কবর-হাশর-পুলসিরাত দেখি নাই। আপনি বলেছেন আছে, বিশ্বাস করেছি। জান্নাত-জাহান্নাম দেখি নাই। আপনি বলেছেন আছে, বিশ্বাস করেছি। আর সামান্য কয়েকটা টাকা, আপনি বলছেন দিয়ে দিয়েছেন, এ কথা বিশ্বাস করার জন্য আমাকে উপস্থিত থাকতে হবে কেন? আপনি বলেছেন, এটাই আমার সাক্ষী দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

নবিজি খুশি হলেন। খুশি হয়ে ঘোষণা করলেন, ইসলামে দুজন সাক্ষী লাগে, তবে আজ আমি ঘোষণা করছি, বাকি সবার বেলায় দুইজন হলে দুই সাক্ষী, আর আমার খুজাইমা একাই দুই সাক্ষীর সমান হবে। কোনো ব্যাপারে অন্য কেউ সাক্ষী দিলে দুইজন মিলে দিতে হবে; কিন্তু খুজাইমা সাক্ষী দিলে খুজাইমার একার সাক্ষীই যথেষ্ট হবে।

৪. অবশেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে আয়াতগুলোর সমষ্টিকে বিভিন্ন সাহাবির ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত কুরআনের পান্ডুলিপির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হতো। এভাবে কঠিন এই শর্তগুলো মেনে কুরআন সংরক্ষণের কাজ আঞ্জাম দেওয়া হয়।

📘 হুদাল্লিল মুত্তাকিন > 📄 আবু বকর সংকলিত কুরআনের বৈশিষ্ট্য

📄 আবু বকর সংকলিত কুরআনের বৈশিষ্ট্য


আবু বকর সিদ্দিক রাজিআল্লাহু আনহু সংকলিত কুরআনকে পরিভাষায় 'উম্ম' বা আদি কুরআন বলা হয়। কেননা এটিই প্রথম লিখিত সুবিন্যস্ত কুরআন। এর বৈশিষ্ট্য ছিল, কপিটি রাসুল কর্তৃক বর্ণিত ধারাক্রম অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছিল। সুরা গুলো আলাদা করা ছিল, তবে সুরার ক্রমধারা নির্ধারণ করা ছিল না। কপিটি সাত হরফ বা সাত কেরাতে লেখা হয়েছিল। কুরআনের এ কপিটি হিরার হস্তাক্ষরে লেখা হয়। তাতে কেবল সেসব আয়াতই লেখা হয়েছিল, যেগুলোর তিলাওয়াত রহিত হয়নি। এই সংকলনের উদ্দেশ্য ছিল একটি সুবিন্যস্ত ও গ্রন্থিত কুরআনের কপি তৈরি করা, যাতে প্রয়োজনের সময় এর দ্বারস্থ হওয়া যায়। এটি ১৩ হিজরিতে শুরু হয়ে পূর্ণ এক বছর, মতান্তরে দুই বছরে সমাপ্ত হয়। মোটকথা, কুরআন সংরক্ষণের এই কাজে মূলত ৪ জনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁরা হলেন আবু বকর, উমর, উসমান ও জায়েদ রাজিআল্লাহু আনহুম আজমাইন。

হজরত আবু বকরের সংকলিত কুরআনটি তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর কাছেই ছিল। এরপর সেটি আসে হজরত উমরের কাছে। উমরের শাহাদাতের পর তাঁর অসিয়ত মোতাবিক কুরআনের এই কপিটি রাসুল -এর স্ত্রী, উমর-কন্যা হাফসা রা.-এর কাছে চলে যায়। মারওয়ান ইবনুল হাকাম তাঁর রাজত্বকালে কুরআনের এই কপিটি চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। হাফসা রা.-এর ইনতিকালের পর মারওয়ান কপিটি হজরত ইবনু উমর রা.-এর কাছ থেকে নিয়ে যান। অতঃপর তিনি এ চিন্তা করে সেটি জ্বালিয়ে দেন যে, উসমান রা.-এর খিলাফতকালে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তুতকৃত কপির সঙ্গে এর কেরাতের পার্থক্যের কারণে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। কেননা, উসমান রা. সাত কেরাতের পরিবর্তে এক কেরাত, আঞ্চলিক একাধিক ভাষার পরিবর্তে প্রমিত এক ভাষায় সে কুরআনটি সংকলন করেছেন।

ভাষার ভিন্নতা একটা বড় ব্যাপার। যেভাবে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের ভাষা এবং সিলেটের ভাষা শুদ্ধ বাংলার সঙ্গে মিল নেই, তেমনি আরবি ভাষায় অঞ্চলভেদে ভাষার উচ্চারণ ও লিখিত রূপে তারতম্য রয়েছে। এ চিন্তা থেকেই উম্মাহকে কুরআনের উচ্চারণ এক কেরাতে নিয়ে আসতে উসমান রা. প্রজ্ঞার সঙ্গে কাজটি আঞ্জাম দেন। এর মাধ্যমে তিনি উম্মাহকে বড় এক ফিতনা থেকে রক্ষা করেছেন। যদি তখনকার সব মাসহাফ বা পান্ডুলিপি তিনি রেখে দিতেন, তাহলে একেকজন একেক কেরাতে তিলাওয়াত করত এবং একজন অন্যজনকে ভুল আখ্যা দিত। যেহেতু সব মানুষের মেধা ও জ্ঞান সমান নয়, তাই এটা নিয়ে অনেক ঝামেলা হতো। ফলে মাত্র একটি পান্ডুলিপি রেখে বাকিগুলো তিনি জ্বালিয়ে দেন এবং ঘোষণা দেন যে, যদি কারও কাছে সেসব পাণ্ডুলিপির কোনোটি সংরক্ষণে থাকে, তাহলে সেটা জমা দিতে হবে অথবা জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দিতে হবে। নাহয় তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।

তাঁর এমন ঘোষণার ফলে অন্যান্য মাসহাফ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তখন থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের কাছে যে মাসহাফ রয়েছে, সেটা উসমান রা.-এর সেই মাসহাফ। এটাকে 'মাসহাফে উসমানি' এ জন্য বলা হয় যে, আমাদের কাছে কুরআনের বর্তমান যে পান্ডুলিপি রয়েছে, সেটা উসমান রা. লিপিবদ্ধ করেছেন। যদিও সব কেরাতই শুদ্ধ এবং সঠিক ছিল। তবে এর মধ্যে কেরাতে সাবআ বা সাত কেরাতই অধিক প্রসিদ্ধ। এ প্রঙ্গে অন্য একদিন আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

হজরত উসমান রা.-কে যদিও জামিউল কুরআন বা কুরআন সংরক্ষণকারী বলা হয়, তবে এই সংরক্ষণকাজে হজরত আবু বকর, উমর ও জায়েদ রা.-এর অবদান কম নয়। এ জন্য প্রশ্ন জাগতে পারে, উমরের প্রস্তাবে আবু বকরের নির্দেশে আর জায়েদের কাজের মাধ্যমে এই কুরআন সংরক্ষণ হলো, তাহলে শুধু উসমান রা. কীভাবে জামিউল কুরআন হলেন? এ প্রশ্নের উত্তর হলো, আমরা সকলেই জানি, কাবাঘর নির্মাণ করেছেন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। কিন্তু ইবরাহিম আলাইহিস সালামই কি শুধু কাবাঘর নির্মাণ করেছেন?

না, এ কাজে আরও অনেকে জড়িত ছিলেন। তবে দুনিয়াবাসী ইবরাহিম-এর কথাই জানে। অথচ সর্বপ্রথম এর নির্মাণ করেছেন ফেরেশতাগণ। এটা মূলত নিয়তেরই ফল। এ জন্য আল্লাহ পাকের খাস দয়া পাবার জন্য সব কাজে প্রথমে আমাদের নিয়ত পরিশুদ্ধ করতে হবে।

নবিজি বলেন,
إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ নিয়তের উপর সব কাজ নির্ভরশীল।

রাসুল আরও বলেন,
لَيْسَ الصِّيَامُ مِنَ الأَكْلِ وَالشُّرْبِ শুধু খাবার খাওয়া ও পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম সিয়াম নয়।

অন্য বর্ণনায় রাসুল সা. ইরশাদ করেন, রোজা ঢাল স্বরূপ, তোমাদের কেউ রোজা রাখলে সে যেন অশ্লীল কাজ না করে, হইচই না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সঙ্গে কেউ যদি ঝগড়া করতে আসে, তাহলে সে যেন বলে, 'ইন্নি সাইম' বা 'আমি তো রোজাদার'।

হজরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসুল বলেন, রোজা রেখে গালাগাল করো না, কেউ যদি তোমাকে গালি দেয়, তাহলে তুমি বলো, আমি রোজাদার, আমি রোজাদার।

আরেক বর্ণনায় রাসুল সা. ইরশাদ করেন, অনেক রোজাদার এমন আছে, যার রোজা থেকে ক্ষুধা ও পিপাসা ছাড়া কোনো ফায়দা হয় না।

এ জন্য আমাদেরকে সঠিক সহিহ নিয়ত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় রোজা রাখতে হবে।

এতক্ষণের আলোচনার মাধ্যমে আমরা কুরআন সংরক্ষণ ও সংকলন সম্পর্কে জানতে পারলাম। এ ছাড়া এই কুরআন কীভাবে বিশুদ্ধ সূত্রে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে, সেটাও জানতে পারলাম। আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে হজরত জিবরিল আ., হজরত জিবরিল আ. থেকে রাসুল , আর রাসুল থেকে এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হজরাত সাহাবায়ে কেরাম রা. লাভ করেছেন। আর সাহাবিগণ হলেন কুরআনের মাধ্যমে প্রকৃত হিদায়ত লাভকারী। তাঁরা হলেন সত্যের মাপকাঠি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00