📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 পুনর্জীবনের প্রমাণ

📄 পুনর্জীবনের প্রমাণ


আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষজাতির বিভিন্ন অবস্থা নিয়ে এমন কিছু দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে মানুষের উপদেশ গ্রহণ করা সহজ হয়ে গেছে। যেমন, চাঁদের বিভিন্ন অবস্থার উদাহরণ। এটি খুবই সূক্ষ্ম ও চিকন হয়ে শুরু হয়। ধীরে ধীরে পূর্ণতা লাভ করে। চৌদ্দ তারিখে এসে একেবারে সম্পূর্ণতা অর্জন করে। এরপর আবার ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে এবং এক সময় আরও সূক্ষ্ম ও চিকন হয়ে সম্পূর্ণভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। কিংবা কখনো হঠাৎই তার ওপর ধ্বংসশীলতা এসে পড়ে। যেমন, চন্দ্রগ্রহণের সময়।
মানুষের অবস্থাও ঠিক এমন। তার সূচনা হলো সামান্য এক ফোঁটা বীর্য দিয়ে। এরপর ধীরে ধীরে বড় ও উন্নত হতে থাকে। শক্তি ও সামর্থ্য বাড়তে থাকে। এরপর যখন একসময় পূর্ণিমার চাঁদের মতো তারও সম্পূর্ণতা এসে যায়, তখন তারও ক্ষয় শুরু হতে থাকে। ধীরে ধীরে দুর্বলতা এসে গ্রাস করে। একসময় পুরোটাই ক্ষয়ে যায়। কিংবা কখনো চন্দ্রগ্রহণের মতো কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনায় হঠাৎ করেই জীবন প্রদীপ নিভে যায়।
জনৈক কবি বলেন,
والمرء مثل هلال عند طلعته ... يبدو ضئيلاً لطيفاً ثم يتسق يزداد حتى إذا ما تم أعقبه ... كر الجديدين نقصاً ثم ينمحق
মানুষ হলো চাঁদের মতো। সূচনাতে খুবই সূক্ষ্ম ও চিকন হয়ে বেড়ে ওঠে। এরপর হয় বড় ও পরিব্যাপ্ত।
ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার পরিধি। এরপর অনিবার্য পুনরাবৃত্তিতে আবার হয়ে আসে ক্ষীণ ও ক্ষয়প্রাপ্ত।
মানুষের অবস্থার আরেকটি দৃষ্টান্ত হলো রেশম পোকা। পোকাটি দীর্ঘদিন স্বাভাবিকভাবে জীবন ধারণ করে বেঁচে থাকে। এরপর যখন তার খাদ্যের লতা-গুল্ফ অর্থাৎ তুঁত গাছের পাতা ধরে। পাতা যখন নাদুসনুদুস সবুজ হয়ে ওঠে, এর মাঝে তার নতুন জীবন শুরু করে। শিশুর মতো সেখানে সে একটি অবস্থা থেকে আরেকটি অবস্থায় রূপান্তরিত হতে থাকে। কিন্তু পরিণামের কথা চিন্তা না করে অলস শুয়ে থাকে। এরপর যখন জাগ্রত হয়, সবুজ পাতার লোভে সেখানেই বসে খেতে থাকে। যেমন কোনো লোভী মানুষ দুনিয়া অর্জনের চিন্তায় নিমগ্ন থাকে। এরপর সে নিজেকে সেই আবদ্ধ পঙ্কিলতার মধ্যে আবদ্ধ করে নেয়, যেমন মানুষ তার দ্বীনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের চারপাশ পঙ্কিলতায় ভরিয়ে তোলে। এরপর সেই পোকা নিজের ছোট কুঠুরির মধ্যে ধীরে ধীরে নিঃশেষ হতে থাকে, যেমন মানুষ তার কবরের মধ্যে। এরপর কোনো রেশম আহরণকারী হয়তো এই মৃত কুঠুরি থেকে এক নতুন সৃষ্টির আবির্ভাব ঘটায়—যেমন কবর থেকে মানুষের পুনরুত্থান ও নতুন জীবনের উদ্ভব ঘটে।
এরপর আরেকটি প্রমাণ এভাবে হয় যে, বীর্য থাকে একটি মৃত জিনিসের মতো। এরপর তা থেকে একটি পূর্ণ সম্পূর্ণ মানুষের উদ্ভব ঘটে। তেমনি এক বীজদানা বহুদিন মাটির অন্ধকারে মৃতের মতো পড়ে থাকে। নিজের অস্তিত্ব পচে গলে বিনষ্ট হয়ে পড়ে। এরপর এখান থেকেই অঙ্কুরিত হয় নরম সবুজ ছোট পাতা, যা পরবর্তীতে হয়ে ওঠে আরও সবুজ আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক—কখনো মহীরূহ।
মানুষের দুনিয়া ও পরকালের জীবনের উদাহরণও এমনই!
আহা, এমন কত উদাহরণই তো আমাদের চারপাশে বিদ্যমান। দরকার শুধু একটি শিক্ষা নেওয়ার। যেমন বলা হয়—
إذا المرء كانت له فكرة ... ففي كل شيء له عبرة
যে মানুষের বোধ ও চিন্তা আছে, সব বিষয়েই তার শিক্ষা নেবার উপকরণ আছে।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 সাময়িক সুখের পথে

📄 সাময়িক সুখের পথে


আকল বা বুদ্ধির শ্রেষ্ঠত্বই হলো পরিণামের প্রতি চিন্তা করতে পারা। কিন্তু যার আকল বা বুদ্ধি কম, সে তো সাময়িক ও তাৎক্ষণিক সুখ ও আনন্দ নিয়েই মেতে থাকে। স্থায়ী পরিণামের দিকে লক্ষ করে না। এ কারণে একজন চোর শুধু সম্পদের দিকে তার নজর রাখে; কিন্তু এর পরিণাম অসম্মান ও হাত কাটার দিকে তার নজর থাকে না। একজন অলস অকর্মণ্য ব্যক্তি তার উপস্থিত বিলাস ও বিশ্রামের মধ্যেই মজে থাকে; কিন্তু এর পরিণামে যে সে ইলম ও সম্পদ অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়—সে দিকে লক্ষ করে না।
এ কারণে যখন তার বয়স বেড়ে যায়, কোনো ইলম ও জ্ঞানের কথা জিজ্ঞাসা করলে সে বলতে পারে না। নিজের যখন কোনো টাকা-সম্পদের দরকার হয়, অন্যের নিকট চাইতে হয় এবং নিজেকে অপমানিত করতে হয়।
জীবনের একটি সময়ে যতটুকু সে বিশ্রাম আরাম ও আয়েশে কাটিয়েছে, পরিশেষে তাকে তার চেয়ে বহুগুণ আফসোস, অপমান ও লাঞ্ছনার মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাতে হয়।
তাছাড়া দুনিয়াতে আমল না করার কারণে আখেরাতের পুরস্কার প্রতিদান থেকেও তাকে বঞ্চিত হতে হবে।
মদ পানকারীর অবস্থাও তা-ই; তার যেন কোনো দূরদর্শিতা নেই। সাময়িক আনন্দ ও স্ফূর্তি সে অর্জন করে, উপভোগ করে। কিন্তু পরিণামে দুনিয়া ও আখেরাতের যেই ভয়াবহ ক্ষতি ও শাস্তি তার ওপর নেমে আসে, তার কথা যেন সে ভুলেই যায়।
জিনা-ব্যভিচারের বিষয়টাও এমন। ব্যক্তি তাৎক্ষণিক উত্তেজনা ও কামনা চরিতার্থ করে। কিন্তু পরিণামে যেই লাঞ্ছনা ও শাস্তি রয়েছে তার কথা স্মরণ করে না। আর যদি নারীটির স্বামী থাকে আর জিনার কারণে গর্ভধারণ হয়, তবে তো এই জিনার ফসল অব্যাহত চলতেই থাকবে।
উল্লিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে অন্য বিষয়গুলোও বুঝে নাও। পরিণাম সম্পর্কে সচেতন হও। এমন তাৎক্ষণিক কোনো আনন্দ-স্ফূর্তিকে প্রাধান্য দিয়ো না, যার কারণে অনেক কল্যাণ ও ভালোত্ব হাতছাড়া হয়ে যায়। কষ্টের ওপর ধৈর্যধারণ করো—নিশ্চয় পরিণামে প্রভূত কল্যাণ ও সফলতা লাভ করতে সক্ষম হবে।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 আত্মার সুখ

📄 আত্মার সুখ


দুনিয়াতে আলেম ও জাহেদ ছাড়া মনের প্রকৃত সুখ কেউ উপভোগ করতে পারে না। হ্যাঁ, কখনো কখনো তাদের পূতপবিত্র স্বচ্ছ অবস্থাও মধ্যে পঙ্কিলতা এসে ভর করতে চায়।
কারণ হলো, আলেম তার ইলম অর্জন করা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। উপার্জনের তেমন একটা সময় সুযোগ পায় না। এ অবস্থায় তার যদি পরিবার-পরিজন থাকে, তবে তো তার সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তাকে বাধ্য হয়েই শাসক বা সুলতানের দরবারে ধরনা দিতে হয়। এতে করেই তার অবস্থা ও অবস্থানের ভীষণ ক্ষতি হয়।
জাহেদ ব্যক্তির অবস্থাও ঠিক এমনই।
এ কারণে আলেম এবং আবেদ ব্যক্তিদেরও জীবিকা অর্জনের জন্য কিছু কিছু কাজে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। যেমন, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোনো অনুলিপি তৈরি করা, লেখালেখি করা কিংবা পাটি বানানো। ১০৪ তার যদি এতে সামান্য উপার্জনও হয়, তবে সে এটার ওপর সন্তুষ্ট থাকবে। এভাবে যদি সে চলতে পারে, তাহলে আর কোনো মানুষ তাকে ‘গোলাম’ বানিয়ে রাখতে সক্ষম হবে না।
যেমন, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. খুবই সামান্য উপার্জনের ওপর জীবন অতিবাহিত করতেন। কখনো মাত্র একটি দিনারে তার মাস চলে যেত।
কিন্তু কোনো আলেম যদি এমন অল্পেতুষ্টি অর্জন না করে, তবে শাসকবর্গ ও সাধারণ ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা তার দ্বীন-ধর্মকে বিনষ্ট করে দেবে।
স্বভাবগতভাবেই কিছু মানুষ একটু আরাম-আয়েশে থাকতে ভালোবাসে। ভালো থাকা, ভালো খাওয়া। কঠিন ও কঠোর জীবনযাপনে তারা অভ্যস্ত নয়। এগুলো তাদের শরীর সইতে পারে না। এমতাবস্থায় তাদের আগে থেকেই যদি আর্থিক সংগতি না থাকে, তবে তো তাদের জন্য দ্বীন-ধর্ম রক্ষা করা খুবই মুশকিল। স্বল্প উপার্জনে দুনিয়ার আস্বাদনের সাথে সাথে কীভাবে সে তার দ্বীনকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে?
কিন্তু কোনো আলেম বা জাহেদ যদি অল্পেতুষ্ট হয়, তবে তারা কিছুতেই নিজেদেরকে শাসকবর্গের জন্য বিলিয়ে দেবে না। তারাও তাদেরকে যখন-তখন নিজেদের দরবারে ডেকে নিতে পারবে না। এবং জাহেদকেও তখন আর লৌকিকতার আশ্রয় নিতে হবে না।
সুখের জীবন তো সেই স্বাধীন ব্যক্তির, যার মাথা নত হয় না কোনো মানুষের কাছে এবং তার কাছেও নত হয় না কোনো মাথা। এটাই হলো একজন আদর্শ মুসলিমের দৃষ্টান্ত।

টিকাঃ
১০৪ এখানে লেখক সে যুগের অবস্থা নিয়ে বলেছেন। আল্লাহর শোকর, আমাদের এযুগে কর্মের পরিধি আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত হয়েছে। আলেমগণ যদি পরিশ্রমের মানসিকতা নিয়ে এগুলোর সাথে যুক্ত হন, তাহলে তাদের নিজের, দ্বীনের এবং দেশ ও মানুষের অনেক উপকার হয়। হ্যাঁ, তবে নিজের অবস্থা ও অবস্থানের সাথে মানানসই কোনো কর্মের সাথে যুক্ত হওয়াটাই অধিকতর কল্যাণকর- অনুবাদক।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 দুনিয়ার অধিকাংশ ক্ষতিই ধূর্ততা দ্বারা মণ্ডিত

📄 দুনিয়ার অধিকাংশ ক্ষতিই ধূর্ততা দ্বারা মণ্ডিত


যে ব্যক্তি দুনিয়ার বিষয়ে চিন্তা করে, সে জানে—দুনিয়াতে প্রকৃত সুখ ও আস্বাদন অর্জন করা সম্ভব নয়। আর যদি কোথাও কোনো কিছুতে আস্বাদন অর্জিত হয়, তবে তার পেছনে এত বেশি কদর্যতা নিহিত থাকে যে—পরিণামে আস্বাদনের চেয়ে বহুগুণ কষ্ট ও বেদনাই তাকে পেতে হয়।
যেমন, কেউ যদি দুনিয়ার আস্বাদন কোনো সুন্দরী নারীর মাধ্যমে পেতে চায়, সেখানেও অনেক সমস্যা। অনেক সময় সুন্দরী নারীগণ কঠোর ও অহংকারী স্বভাবের হয়। তাদের সাথে জীবন ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে। হয়তো স্বামীকে ভালোবাসে না। আর এই ব্যাপারটি যখন স্বামী বুঝবে, তখন তার জীবন বিস্বাদ হয়ে উঠবেই।
নারী কখনো প্রতারণা ও খেয়ানতও করে। তখন তো জীবনই ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হবে। আর যদি সকল উদ্দেশ্য ও আকাঙ্ক্ষার সমাপ্তি ঘটে, তখন তো হারানো বিষয়ের স্মরণ কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
কখনো পুত্র-কন্যার মাধ্যমেও মানুষ সুখ খুঁজতে চায়। এখানেও বিভিন্ন সমস্যা। সন্তান যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, জান-প্রাণ উড়ে যেতে চায়। অস্থির হয়ে ওঠে মন। আর যদি সেটা দুরারোগ্য ধরনের কোনো ব্যাধি হয় কিংবা আর না-ই সারে, তখন তো শোক, আফসোস ও অনুতাপে জীবন আনন্দহীন হয়ে ওঠে। আর যদি অবাধ্য অনাচারী হয়, তখন আরেক বিপদ। এছাড়াও বিয়ের পর কী হয়—সেটা আরেক চিন্তা। কন্যার স্বামী যদি তাকে কষ্ট দেয়—জীবন আবার কষ্টকর হয়ে ওঠে। কিংবা সন্তান যদি বিবাহের পর বেয়াড়া হয়ে পড়ে, তখনও চিন্তার বিষয়। কন্যার দূরে চলে যাওয়া, পুত্রের দূরে সরে পড়া—সবই কষ্টকর। আর যদি কোনো উদ্দেশ্যই পূরণ না হয়—তখন তো বাকি জীবনটাই আফসোসের মধ্যে কাটাতে হয়।
আর কোনো পাপাচারী ব্যক্তি যদি শ্মশ্রুহীন কোনো বালকের প্রতি আসক্ত হয়ে যায়, তবে তো দুনিয়ায় তার মান-সম্মান নষ্ট হয়ে যায় আর দ্বীনদারি তো পুরোটাই ক্ষুণ্ণ হয়ে পড়ে।
কত মানুষ সামান্য সময়ের উত্তেজনা ও কামনার বশে এমন কর্ম করে বসে, পরিণামে জীবনভর সেই কলঙ্ক ও ক্ষতি বয়ে বেড়াতে হয়। কখনো-বা কারও ওপর উত্তেজনা প্রবল হওয়ার কারণে কৃষ্ণাঙ্গ দাসীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে বসে, ফলে তার গর্ভ থেকে কৃষ্ণ বর্ণের সন্তান জন্মগ্রহণ করে। পরিণামে এটা তার জন্য আজীবনের লজ্জার কারণ হয়ে থাকে।
এছাড়াও কেউ যদি সম্পদের মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করতে চায়, তখন দেখা যায়, তার এই অর্জনের মধ্যে গোনাহের মিশ্রণ এসে গেছে। আবার সম্পদ যদি বিনষ্ট হয়ে পড়ে, তখনও আফসোস ও কষ্টের সীমা থাকে না। এভাবে জীবনটাই অতিবাহিত হয়ে যায় একটি প্রতারণা এবং সুখে থাকার অলীক কল্পনার মধ্যে।
মানুষের জীবনে আরও ভয়াবহ যত ক্ষতি ঘটে, আমি এখানে তার অল্পকিছু নমুনা উপস্থাপন করলাম। নতুবা পাপমিশ্রিত দুনিয়ার জীবনে বাস্তব ভয়াবহতা আরও অনেক করুণ ও অসংখ্য।
সুতরাং আল্লাহ তাআলা যাকে সক্ষমতা দিয়েছেন, সে যেন নিজের জীবনের আবশ্যক বিষয়াবলির ওপরই সন্তুষ্ট থাকে। এতে করে সে তার নিজের শরীর সম্মান ও দ্বীন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে। ভালো ও সুন্দর থাকবে। আর সেই প্রবৃত্তি ও কামনাগুলো বর্জন করবে, যেগুলোতে লিপ্ত হওয়ার পরিণামে আরও বহুগুণ কষ্ট ও শান্তি আবশ্যক হয়ে পড়ে।
বরং যে ব্যক্তি পরিণামের কথা ভেবে সাময়িক কষ্টের ওপর ধৈর্যধারণ করে এবং তাৎক্ষণিক স্ফূর্তি থেকে বিরত থাকে, প্রতিফলে সে ব্যক্তি আরও বহুগুণ বেশি এবং স্থায়ী আনন্দ অর্জন করতে সক্ষম হয়। যেমন ছাত্রদের কথা—তারা যদি অল্প কিছুদিনের জন্য জান-প্রাণ পরিশ্রম করে, তবে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে পারে। উভয় জগতেই সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। আর এই অল্প সময়গুলো যদি অবহেলা ও অলসতায় কাটিয়ে দেয়, তবে ইলম ও আমলহীন হয়ে পড়ে। বাকি জীবনে আফসোস অনুশোচনা ও লাঞ্ছনা তাদের নিত্য সঙ্গী হয়। ছাত্রজীবনের সেই স্বল্প বিলাসের বহুগুণ বেশি কষ্ট ও বেদনার মধ্যে তাকে আপতিত হতে হয়।
আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, তাৎক্ষণিক কামনা উত্তেজনা যেন তোমার উপর বিজয়ী হতে না পারে। আর প্রবৃত্তি যদি বলে, ঠিক আছে এখন করো, পরে তাওবা করে নিলেই হবে, তবে খুব জোরের সাথে তুমি তাকে প্রতিরোধ করে দাঁড়াও। তাকে অতি আসন্ন শাস্তি ও পরিণামের ভয় দেখিয়ে এই সাময়িক আস্বাদন থেকে বিরত রাখো।
বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে। অন্যরা হেলায়-খেলায় হারিয়ে ফেলে। এর পরিণাম হয় অতি ভয়াবহ!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00