📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 নাস্তিকতা একটি বোকামিপূর্ণ দর্শন

📄 নাস্তিকতা একটি বোকামিপূর্ণ দর্শন


মানবজাতির নিকট সবচেয়ে প্রিয় হলো তার প্রাণ। আমার খুবই আশ্চর্য বোধ হয় তাদের ব্যাপারে, যারা তাদের এই প্রিয় প্রাণ কত সহজেই ক্ষতির মধ্যে ফেলে দেয়। কত সহজেই না তাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। আর এগুলোর প্রধান কারণ হলো- জ্ঞানের স্বল্পতা এবং ভুল দৃষ্টিভঙ্গী।
যেমন, আমরা দুনিয়ার সাধারণ জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও দেখি, কেউ কেউ নিজেকে বহু ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি নিয়ে যায়- যাতে সে মানুষের প্রশংসা কুড়াতে পারে। মানুষ যাতে তাকে সাহসী বলে। কেউ হয়তো হিংস্র প্রাণী শিকারে বের হয়ে পড়ে। কেউ যায় কিসসার সেই সুবিশাল সুউচ্চ দুর্গ প্রাসাদে আরোহণের জন্য। কেউ দৌড় প্রতিযোগিতা করে ৩০ ফারসাখ (৬০ মাইল)। এগুলো করতে গিয়ে কেউ যদি মৃত্যুবরণ করে, তবে তার জীবনে আর কী থাকল? কোনো প্রশংসা বা বাহবাই তো সে আর শুনতে পাবে না! কিংবা যে জীবনের জন্য সে সম্পদ অর্জন করতে চেয়েছিল- সেটাই তো তার নিঃশেষ হয়ে গেল।
আবারও বলি, নিজের প্রাণই মানুষের নিকট সবচেয়ে প্রিয়। তবুও আমি আশ্চর্য হই- যখন দেখি কোনো মানুষ নিজের অজান্তেই তাকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দেয়। যেমন, কেউ হয়তো রাগান্বিত হয়ে কাউকে হত্যা করল, তাহলে তো তার এই রাগ প্রশমিত হবে জাহান্নামের আগুনে গিয়ে।
মুশরিকরা ছাড়াও- ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের বিষয়টিও অতি আশ্চর্যজনক। তাদের কেউ যখন প্রাবশ্যক হয়, তখন তার ওপর কর্তব্য ছিল, আল্লাহ্‌ তা’আলার শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া। দলিল-প্রমাণগুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং অন্য নবীদের সাথে তাঁকেও নবী হিসেবে স্বীকার করা। কিন্তু সে যদি তা স্বীকার না করে, তবে তো সে নিজেকে চিরদিনের জন্য জাহান্নামের সীমাহীন কষ্টের মধ্যে আপতিত করে ফেলল।
আমি একবার তাদের একজনকে বললাম, আচ্ছা বলো তো, কেন তুমি তোমার নিজেকে অনর্থক চিরকালীন শান্তির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছ? আমরা তো তোমাদের নবীর প্রতি বিশ্বাস রাখি। এমনকি এটাও বলে থাকি, কোনো মুসলমান যদি আমাদের নবীর প্রতি বিশ্বাস রাখে, কিন্তু তোমাদের নবীকে কিংবা তোমাদের কিতাবকে মিথ্যা মনে করে, সে আর মুসলিম থাকে না- সে কাফের হিসেবে চিরদিন জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। তাহলে তোমাদের মাঝে আর আমাদের মাঝে পার্থক্যটা থাকল কোথায়? কারণ, আমরাও তো তাকে সত্য নবী হিসেবে বিশ্বাস করি, তার কিতাবকে বিশ্বাস করি। এমনকি আমরা যদি তাকে কখনো পেতাম, আমাদের কষ্টে জর্জরিত করে ফেললেও তাকে কখনো আমরা অপমান করতাম না। অস্বীকার করতাম না। তাহলে আর পার্থক্য কোথায়?
ইহুদি লোকটি বলল, তোমরা কি শনিবার পালন করো?
আমি বললাম, এটা পালন করা আবশ্যক কি না- সেই বিতর্কের কথা বাদ দিলেও এটি একটি শাখাগত বিষয়। আর ধর্মের কোনো শাখাগত বিষয় বর্জনের কারণে কারও ওপর তো চিরকালীন শাস্তি আসে না।
এবার তাদের প্রধান নেতা ঔদ্ধত্যের সাথে বলে উঠল, আমরা তোমাদের থেকে শনিবার পালনের কামনাও করি না। কারণ, শনিবারের বিষয়টি শুধু বনি ইসরাইলদের জন্যই বিশিষ্ট। অন্য কেউ এটা করলেও হবে না।
আমি বললাম, আমি তোমাদের এই মতকে মেনে নিলাম। তোমরা ধ্বংসশীল। কারণ, তোমরা জেনেবুঝে সম্মিলিতভাবে নিজেদের আত্মাকে চিরকালীন শাস্তির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছ।
আশ্চর্য লাগে তাদের নিয়েও- যারা এমন একটি বিষয়ে নিজের দৃষ্টি প্রদানের ক্ষেত্রে অবহেলা করে, যেখানে অবহেলা করার কারণে চিরকালীন শাস্তি আবশ্যক হয়ে পড়ে। স্রষ্টাকে অস্বীকারকারী নাস্তিকের ব্যাপারেও আশ্চর্য লাগে- সে এমনই এক বোকা ও নির্বোধ, স্রষ্টার এতকিছু দেখে, পরিধান করে এবং উপভোগ করেও বলে বসে- স্রষ্টা নেই।
এসব চিন্তা ও কার্যাবলির মূল হলো, জ্ঞানের স্বল্পতা, ইন্দ্রিয়কামনার অনুসরণ এবং বিশ্বব্যাপী সকল দলিল-প্রমাণের দিকে নিজের দৃষ্টিকে না ফেরানো। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 মর্যাদাপ্রার্থীদেরকে নিমগ্ন হতে হয়

📄 মর্যাদাপ্রার্থীদেরকে নিমগ্ন হতে হয়


ইলম ও জ্ঞানের সর্বোচ্চ চূড়ায় সেই শুধু পৌঁছাতে পারে- যে হবে ইলমের আশেক। আর জানা কথা- আশেক ব্যক্তিকে অনেক রকম কষ্ট ও মুসিবতের ওপর ধৈর্যধারণ করতে হয়।
প্রথমত যে ব্যক্তি ইলম নিয়ে ব্যস্ত হবে, তাকে সকল রকম উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে। এরপর ইলমের প্রত্যাশী হওয়ার পর থেকেই সকল ধনী ও পরিচিত ব্যক্তিদের থেকে বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করতে হবে। আর ঠিক এই দুই কারণে আবশ্যকভাবে তাকে দারিদ্র্য পেয়ে বসবে। কিন্তু সে নিজের চর্চায় অটল থাকবে। কষ্ট স্বীকার করবে-ইলম ও শ্রেষ্ঠত্ব যদি সে চায়। কারণ, শ্রেষ্ঠত্ব তাকে বারবার ডেকে বলছে-
( هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا )
এই সময়েই মুমিনদের ভীষণ কষ্টে ফেলা হয়েছিল এবং তাদেরকে ভীষণভাবে প্রকম্পিত করা হয়েছিল। [সুরা আহযাব: ১১]
আর যখনই কেউ এই কষ্টের কথায় ভয় পেয়ে যায়, তখন সেখানে শ্রেষ্ঠত্ব এসে বলে,
لا تحسب المجد تمراً أنت أكله ... لن تبلغ المجد حتى تلعق الصبرا.
শ্রেষ্ঠত্ব কোনো সুস্বাদু খেজুর নয়, তুমি তা আরামে খেয়ে নেবে।
শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন হবে না, যতক্ষণ না ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. যখন ইলম অর্জনকেই প্রাধান্য দিলেন, তখন তিনি দরিদ্র ছিলেন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর্যন্ত ইলম নিয়ে এমনভাবে মশগুল ছিলেন যে বিয়ের জন্য অবসর পাননি। বিয়ে করেছেন ৪০ এর পর। এ কারণে কোনো দরিদ্র ব্যক্তি যদি ইলম নিয়ে চর্চা করতে চায়, তবে তাকে ইবনে হাম্বলের মতোই নিজের দারিদ্র্যের ওপর ধৈর্যধারণ করতে হবে। একনিষ্ঠ সাধনা করতে হবে। তবে কথা হলো, তিনি যা করে দেখিয়েছেন, সেই সক্ষমতা এখন কি কারও আছে! সেই কঠিন দরিদ্র অবস্থাতেও তিনি সরকারি কিছু গ্রহণ করেননি। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ৫০ হাজার দিনার ফিরিয়ে দিয়েছেন। অথচ এদিকে তিনি সামান্য চাটনি ও লবণ দিয়েই খাদ্য- রুটি আহার করেছেন।
সারা বিশ্বে আজ তার কত সুনাম ও সুখ্যাতি! তার কবরের নিকট যেতে গেলেও অন্তরের মধ্যে এক অন্য রকম শিহরণ অনুভব হয়। এটা তো শুধু দুনিয়ার খ্যাতি ও মর্যাদা। আখেরাতে কেমন সম্মান আশা করা যায়, তার বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। এবার এমন আলেমের কথা চিন্তা করো- যাদের কবরের কথা কেউ জানেও না। জিয়ারত করতেও যায় না। তারা দুনিয়ায় থাকতে বিভিন্ন সহজতা গ্রহণ করেছিল, ব্যাখ্যা করে নিয়েছিল এবং সুলতানদের সান্নিধ্যে এসে দুনিয়া অর্জন করেছিল। এ কারণে তাদের ইলমের বরকত নষ্ট হয়ে গেছে। মর্যাদা ধুয়ে মুছে গেছে। আর মৃত্যুর সময় আকাশ পরিমাণ আফসোস নিয়ে ইন্তেকাল করেছে।
এগুলো এমন আফসোস—যা কখনো শেষ হওয়ার নয়। এমন ক্ষতি- যার কোনো প্রতিষেধক নেই। দুনিয়ার সুখ ও আস্বাদন চোখের পলকেই নিঃশেষ হয়ে যায়, এরপর যা চিরদিন বাকি থাকে—তার নাম আফসোস ও অনুশোচনা।
সুতরাং হে শ্রেষ্ঠত্বের প্রত্যাশী, ধৈর্য ধরো। সবর করো। প্রবৃত্তি ও ভ্রান্তির অনুসরণে সাময়িক স্ফূর্তি অচিরেই নিঃশেষ হয়ে যায়। এরপর আফসোস করতে করতে সময় যায়।
হজরত শাফেয়ি রহ. বলেন,
يا نفس ما هو إلا صبر أيام ... كأن مدتها أضغاث أحلام
يا نفس جوزي عن الدنيا مبادرة ... وخل عنها فإن العيش قدامي হে আমার নফস, জেনে রেখো, ধৈর্যের দিনগুলো যেন কিছু এলোমেলো স্বপ্নের দিন।
সুতরাং হে আমার নফস, দ্রুত যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে নাও, দুনিয়ার পাঠ চুকিয়ে নাও, আরামের দিন তো সামনে।
হে দরিদ্র আলেম, তোমাকে এবার বলি,
সম্রাটদের রাজত্ব থেকে তোমার রাজত্ব অনেক সমৃদ্ধ। তুমি যে ইলম অর্জন করেছ, তাদের কি তা অর্জন হয়েছে? তাহলে আর তাদের কিসের সুখ! প্রকৃত সচেতন সকল দূরদর্শী ব্যক্তি এটাকেই প্রাধান্য দেবে। তাছাড়া যখন তোমার মনের মধ্যে কোনো সুন্দর বোধ জাগ্রত হয় এবং কোনো আশ্চর্য অর্থের আবিষ্কার ঘটে- তখন তুমি যেই স্বর্গীয় আত্মিক আনন্দে উদ্ভাসিত হও, এই আনন্দ কোনো ইন্দ্রিয়-সুখ প্রেয়সী পেতে সক্ষম নয়। এছাড়া তোমাকে শাহওয়াত বা যৌনসুখের অনুভব ও শক্তি প্রদান করা হয়েছে, অন্য অনেকেই এটা থেকে বঞ্চিত। এভাবে তুমি স্বাভাবিকভাবেই তাদের সকল জীবনযাপন ও আনন্দের সাথে অংশীদার হয়ে চলেছ, তুমি তো জীবনের অনিবার্য কোনো কিছু থেকেই বঞ্চিত নও। এভাবেই সকলের দুনিয়ার জীবন নিঃশেষ হয়ে যাবে- তোমারও এবং তাদেরও।
এরপর ভাবো আখেরাতের কথা, আখেরাতে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারই অধিক সম্ভাবনা। আর তোমার সেখানে নিরাপদ থাকারই অধিক সম্ভাবনা। তাহলে এবার শেষ পরিণামের কথা ভেবে দেখো। তুমিই তো জিতে আছ।
অলসতাকে বর্জন করো- যা কখনো কাউকে মর্যাদাবান হতে দেয় না। এই অলসতার কারণেই অনেক আলেম মৃত্যুর সময় রাশি রাশি আফসোস নিয়ে ইন্তেকাল করেছে। কিন্তু তখন তো আর কিছুই করার থাকে না।
একবার একলোক স্বপ্নের মধ্যে আমাদের শাইখ ইবনুয যাগওয়ানিকে দেখতে পায়। শাইখ তাকে বলেন, أكثر ما عندكم الغفلة و أكثر ما عندنا الندامة. তোমরা দুনিয়াতে যা বেশি বেশি করো, তা হলো 'উদাসীনতা' আর আমরা এখানে যা বেশি বেশি করি, তা হলো সময় অপচয়ের 'অনুশোচনা'।
সুতরাং এখনই সচেতন হও- জীবনের সময় নিঃশেষ হওয়ার আগেই। এবং বড় প্রতারণা থেকে বেঁচে থাকতে হলে এখনই প্রবৃত্তির শিকল গলা থেকে খুলে ফেলো। শ্রেষ্ঠত্ব কখনো আরাম-আয়েশের মাধ্যমে অর্জিত হয় না। হতে পারে না। সুন্দর মুখে সামান্য আঁচড়ও বড় দৃষ্টিকটু লাগে। সৌন্দর্যের কাতার থেকে অল্পতেই সে ছিটকে পড়ে।
সুতরাং হে বন্ধু, দ্রুত করো- খুবই দ্রুত। নফসের প্রতিটি শ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে। মৃত্যুর ফেরেশতাও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওত পেতে বসে আছে। দৃঢ় প্রত্যয়ের শক্তি নিয়ে সটান সজাগ হও- স্বপ্ন তোমার সাধন করতেই হবে। প্রত্যয়ের হিসাব কষে জনৈক কবি বলেন,
إذا هم ألقى بين عيينة عزمه . ونكب عن ذكر العواقب جانبا وإذا يستشر في أمره غير نفسه ولم يرض إلا قائم السيف صاحبا
যখন সে প্রত্যয়ে দৃঢ় হয়, তখন তার চোখের দু-তারায় প্রত্যয়ের আগুন জ্বলজ্বল করে। প্রতিবন্ধকতার সকল কথা ছুঁড়ে ফেলে একপাশে।
কেউ যদি ভিন্ন কথায় টলাতে চায় তাকে, নিজেকে সে পাল্টে নেয় এবং তখন শুধু সে নিজের জন্য সবল বন্ধুকেই বেছে নেয়।
আর এই প্রত্যয়গুলোর মধ্যে দুনিয়া এবং তার প্রতি লালায়িত ব্যক্তিদের থেকে বিরত থাকার প্রত্যয়ও নাও। (আল্লাহ দুনিয়াদারদের তাদের দুনিয়ার বিষয়ে বরকত দান করুন।) কিন্তু কথা হলো, আমরাই ধনী আর তারাই হলো আসল গরিব। যেমন, ইবরাহিম ইবনে আদহাম রহ. বলেন,
ولو علم الملوك وأبناء الملوك ما نحن فيه الجالدونا عليه بالسيوف.
যদি রাজা-বাদশাহ এবং রাজকুমাররা জানত- আমরা কী সুখের মধ্যে আছি, তাহলে তারা এটা অর্জনের জন্য তরবারি নিয়ে আমাদের ওপর লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত।
দুনিয়াদার যা কিছু ভক্ষণ করে, তা হয়তো হারাম কিংবা সন্দেহপূর্ণ। যদি এমন হয়, সে নিজে এর মধ্যে জড়িত নয়; কিন্তু তার প্রতিনিধি এগুলো করে। যদি টাকা-সম্পদ অর্জন করে- এমন অনেক পথ থেকে অর্জন করে, যার প্রতিটি মাধ্যম হালাল নয়। এছাড়া তারা তাদের এসব সম্পদের কারণে বিভিন্ন ধরনের ভয়ে ভীত হয়ে থাকে- হত্যার ভয়, এগুলো নিঃশেষ হওয়ার ভয়, লোকসানের ভয়, বিনষ্টের ভয়, ব্যবস্থাপনার বিশৃঙ্খলার ভয়।
আর এদিকে আমরা যা খাই, হালাল ও বৈধ জিনিস খাই। আমাদের শত্রুর কোনো ভয় নেই। আমাদের কর্তৃত্বেরও নিঃশেষ হওয়ার কোনো ভয় নেই।
মানুষেরা আমাদের নিকটই ভালো মন নিয়ে আগমন করে। মুসাফাহা করে। সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখে।
এছাড়াও আশা করা যায়, আল্লাহ যদি দয়া করেন, আখেরাতে আমাদের এবং তাদের মাঝে তারতম্য হবে। দুনিয়াদাররা যদি আমাদের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে পেত, তাহলে তারা আমাদের মর্যাদার বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হতো। আর এই পার্থিব জীবনে সম্পদওয়ালারা যদি আমাদের ওপর কিছু না দেয়,তাহলেই তো বরং আমাদের অন্যের সম্পদ থেকে বেঁচে থাকার মর্যাদা পূর্ণতা পায়। কারণ, অনুগ্রহের মধ্যে এমন এক হীনতা রয়েছে যা কিছুতেই দূর হতে চায় না। অনুগ্রহের এই খাবার যেন খাবার নয়। অনুগ্রহের পোশাকও যেন পোশাক নয়। অনুগ্রহ গ্রহণের দিনগুলো বড় কষ্টের দিন।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যক্তি সে, যে নিজেকে ইলমের জন্য উৎসর্গ করে দিলো। কারণ, একটি সুন্দর সম্ভ্রান্ত অভিজাত মন ছাড়া কেউ নিজেকে ইলমের জন্য উৎসর্গ করে না। অন্যদিকে যে ব্যক্তির সম্মানের একমাত্র মাধ্যম হলো টাকা-পয়সা, তার চেয়ে অপদস্থ সত্তা আর কেউ হতে পারে না। তার গর্বের একমাত্র মাধ্যম হয়তো তার বিশাল বাড়ি, অনেক সম্পদ। এতে তার নিজের মর্যাদা কোথায়? নিজের সত্তার উৎকর্ষ ও সমৃদ্ধি কোথায়?
আবু ইয়ালা আল আলাওয়ি আমাকে একটি কবিতা শুনিয়েছেন। কবিতাটি এমন-
رب قوم في خلائهم ... عرر قد صيروا غررا ستر المال القبيح لهم سترى إن زال ما سترا
কিছু মানুষের চরিত্রের মধ্যে ঢুকে আছে খোস-পাঁচড়া-কিন্তু সেগুলো দেখায় চমৎকার স্বাস্থ্যের মতো। সম্পদ তাদের কদর্যতাগুলো ঢেকে রাখে। কিন্তু যখন এই ঢাকনা ছুটে যাবে, দেখবে আসলে কী ছিল তাতে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের অলসতা ও উদাসীনতার ঘুম থেকে জাগ্রত করুন এবং আমাদের জাগ্রতদের চিন্তা ও কর্ম-চাঞ্চল্যতা দান করুন। ইলম ও আকল অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। নিশ্চয় তিনি অতি নিকটে এবং তিনি প্রার্থনায় সাড়াদানকারী।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 পরিণতির দিকে লক্ষ রাখা

📄 পরিণতির দিকে লক্ষ রাখা


মানুষের একটি বড় ভুল হলো, বঞ্চিত ব্যক্তির প্রতি কষ্টদায়ক কোনো কথা বলা এবং তাকে হেয়জ্ঞান করা। এটি উচিত নয়। পরিণাম হিসেবেও ভালো নয়। কারণ, হেয়জ্ঞানকারী লোকটিরও একদিন এই অবস্থা হতে পারে- তখন তার থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
মোটকথা- মৌলিকভাবে কারও সাথেই কখনো শত্রুতা প্রকাশ করা উচিত নয়। কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা উচিত নয়। কখনো কখনো এই তাচ্ছিল্যকৃত ব্যক্তিও অনেক ওপর উঠে যেতে পারে। যাকে হয়তো গণনার মধ্যেই আনা হয় না- তার দ্বারাও সম্পাদিত হতে পারে অনেক অসম্ভব জিনিস। এ কারণে শত্রুদের সাথে কথা বলার সময়ও অন্তরের আগুন গোপন রেখে কথা বলা উচিত। আর যদি তার থেকে কোনো প্রতিশোধ নিতেই চাও তাহলে তাকে ক্ষমা করে দাও। এর চেয়ে বড় প্রতিশোধ আর হয় না। এটা তাকে নত ও অবনত করে তুলবে।
মোটকথা, সকল মানুষের সাথেই ভালো আচরণ করা উচিত। বিশেষ করে যাদের কখনো কর্তৃত্বের অধিকারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঞ্চিত বরখাস্ত কিংবা অপসারিত ব্যক্তিদের সাথেও ভালো ব্যবহার করা উচিত। হয়তো সে আবার তার পদ ফিরে পেতে পারে। তখন তার কর্তৃত্বে উপকার লাভ করা সহজ হবে।
আমরা একটি ঘটনার কথা জানি। ঘটনাটি এমন—
একবার একলোক বিখ্যাত বিচারক ইবনে আবি দাউদের নিকট প্রবেশের অনুমতি চেয়ে দারোয়ানদের কাছে এসে বলল, ‘তোমরা ভেতরে গিয়ে বলো, দরজায় আবু জাফর অনুমতির আশায় দাঁড়িয়ে আছে।’
দারোয়ানরা ভেতরে গিয়ে সংবাদ প্রদান করতেই বিচারক সাহেব আনন্দিত হয়ে উঠলেন। দারোয়ানদের বললেন, ‘তোমরা দ্রুত তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো।’
এরপর লোকটি ভেতরে এলো। বিচারক সাহেব দাঁড়িয়ে এগিয়ে এসে তাকে অভ্যর্থনা জানালেন। এরপর কাছে নিয়ে বসালেন। খুবই সম্মান প্রদর্শন করলেন। বিভিন্ন কথাবার্তা বললেন। শেষে ওঠার মুহূর্তে লোকটির হাতে পাঁচ হাজার দিনার তুলে দিলেন এবং বাইরে পর্যন্ত এগিয়ে এসে তাকে বিদায় জানালেন।
আশপাশের লোকজন তো অবাক! এ কেমন বিষয়! অবশেষে কৌতূহল দমন করতে না পেরে তারা বিচারক সাহেবকে জিজ্ঞেস করল, একজন অবিখ্যাত অতি সাধারণ ব্যক্তির সাথে আপনি এমন আচরণ করলেন! কারণ কিছুই বুঝলাম না!
বিচারক ইবনে আবি দাউদ বললেন, এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য রকম এক ঘটনা। এক সময় আমি খুবই দরিদ্র ছিলাম। আর এই লোকটি ছিল আমার বন্ধু। একদিন আমি তার বাড়িতে গিয়ে বললাম, আমি খুবই ক্ষুধার্ত। কিছু খাওয়াও।
বন্ধুটি আমাকে বলল, 'একটু বসো। আমি এখনই বাইরে থেকে আসছি।' সে আমাকে বসিয়ে রেখে বাইরে বেরিয়ে গেল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে কাবাব, হালুয়া এবং রুটি নিয়ে উপস্থিত হলো। সেগুলো আমার সামনে রেখে বলল, খাও।
আমি বললাম, তুমিও আমার সাথে খাও।
সে বলল, না, তুমিই খাও।
আমি বললাম, আল্লাহর কসম, তুমি যদি আমার সাথে না খাও, আমি খাব না।
আমার এ কথায় সে বাধ্য হয়ে আমার সাথে খেতে বসল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখি তার মুখ দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত পড়ছে...। আমি বিচলিত হয়ে বললাম, এটা কী হলো তোমার?
সে বলল, তেমন কিছু না। এমনি একটু অসুস্থতা।
আমি বুঝতে পারছিলাম সে আমার থেকে কিছু লুকাতে চাচ্ছে। আমি তাকে বললাম, আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তুমি আমাকে আসল কথা বলো— কী হয়েছে। এভাবে রক্ত পড়ছে কেন?
এভাবে অনেক সাধাসাধির পর সে আমাকে যা বলল, তা শোনার জন্য আমি কিছুতেই প্রস্তুত ছিলাম না। আমার অন্তর যেন উড়ে গেল। সে আমাকে বলল, 'তুমি যখন আমার নিকট এসে তোমার ক্ষুধার কথা জানালে, তখন আমার নিকট খাদ্য কেনার মতো কিছুই ছিল না। তবে আমার দাঁত ছিল ভঙ্গুর। সেটা স্বর্ণের তার দিয়ে বাঁধাই করে নিয়েছিলাম। আমি তখন বাইরে গিয়ে সেই তার খুলে বিক্রয় করে এই খাবারগুলো কিনে এনেছি। ভাঙা দাঁত থেকে এখন তাই রক্ত বেরোচ্ছে।'
কথা শেষ করে বিচারক সাহেব বললেন, এবার তোমরাই বলো এর কি কোনো প্রতিদান হয়! কোনো সম্মান ও সম্পদ এর সমকক্ষ হতে পারে কি! পারে না। কিছুতেই পারে না।
ঠিক এর উল্টোটাও অনেক সময় হয়। হয়তো কেউ কাউকে এক সময় কষ্ট দিয়েছে। জুলুম করেছে। হয়তো একদিন সেই ব্যক্তিই কর্তৃত্ব পেয়ে আগের ব্যক্তির উপর প্রতিশোধ নিয়েছে। যেমন ইবনে যিয়াদকে কষ্ট পেতে হয়েছে মুতাওয়াক্কিল থেকে। ইবনুল জাঝারির ওপর প্রতিশোধ নিয়েছে মুসতারশিদ।
একারণে বুদ্ধিমান ব্যক্তি সব সময় পরিণামের কথা চিন্তা করে এবং সেটাকে ধর্তব্যের মধ্যে রাখে। ভবিষ্যতে কী কী হতে পারে, তার একটি চিত্র সে মনের মধ্যে এঁকে নেয় এবং সতর্কতার সাথে কাজ করে।
এব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভেবে রাখার বিষয় হলো, হঠাৎ মৃত্যুর কথা। কোনো রোগ-বালাই ছাড়াই হঠাৎ আকস্মিকভাবেও মৃত্যু এসে যেতে পারে। সুতরাং সচেতন ব্যক্তি সেই- যে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং এমন কাজ করে- মৃত্যু এসে গেলে যেন আফসোস করতে না হয়। তাই সে গোনাহের কাজ থেকে সতর্ক থাকে। কারণ, এটি একটি ওত পেতে থাকা নির্মম শত্রুর মতো। তার ক্ষেত্রে বেখেয়াল হলেই সর্বনাশ। সে ব্যক্তি নিজের জন্য ভালো আমল সঞ্চয় করতে থাকে। কারণ, এটিই একমাত্র বন্ধু, যে বিপদের সময় উপকার করে।
এছাড়াও একজন মুমিন ব্যক্তির এটাও খেয়াল রাখা দরকার, তার আমল যত বেশি হবে, জান্নাতে তার মর্যাদাও তত উচ্চ হবে। আর যদি আমল কম হয়, মর্যাদাও কম হবে। তখন সে বেশি আমলকারী ব্যক্তির তুলনায় কম মর্যাদা নিয়ে জান্নাতে বসবাস করবে। তবে এটা ঠিক সে তার নিজের পুরস্কার নিয়েও সন্তুষ্ট থাকবে—তার এই কমতির কথা সে কখনো বুঝতে পারবে না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের কাজের পরিণামের প্রতি লক্ষ রেখে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 দুনিয়ার টুকরো প্রতারণা

📄 দুনিয়ার টুকরো প্রতারণা


আমার একটি কিতাবের নাম 'المنتظم'। এটি লিখিত হয়েছে বিভিন্ন খলিফা, সুলতান, সম্রাট ও জাতির ইতিহাস নিয়ে। আমি যখন এটি সংকলন করতে থাকি, তখন অনেক কিছুই জানতে পারি—বহু খলিফা সম্রাট রাজা-বাদশাহ, উজির-মন্ত্রী, লেখক-সাহিত্যিক, ফকিহ, মুহাদ্দিস, জাহেদ এবং আরও অনেকের জীবনী সম্পর্কে জানতে সক্ষম হই।
সবার অবস্থা জানতে গিয়ে যেটা আমার মনে হলো, তা হলো, দুনিয়া অনেক মানুষকে নিয়ে এমন প্রতারণার খেলা খেলেছে যে, তাদের দ্বীন-ধর্ম নষ্ট করে ছেড়েছে। বিভিন্ন অপরাধ ও অবাধ্যতায় জড়িয়েছে। এমনকি অনেককে তাদের আখেরাতের বিষয়ে অবিশ্বাসী করে তুলেছে।
অনেক শাসকই অন্যায়ভাবে মানুষদের হত্যা করেছে, সম্পদ কেড়ে নিয়েছে, আহত করেছে, বন্দি করেছে—অনেক রকম অত্যাচার করেছে। এছাড়াও ব্যক্তিগত বিভিন্ন অবাধ্যতা ও গোনাহের মধ্যে লিপ্ত হয়েছে। যেন এগুলো সম্পর্কে তাদের কিছু ভাবার নেই। যেন তারা পরকালের পাকড়াও থেকে নিজেদের নিরাপদ মনে করছে। কিংবা কখনো কখনো তারা ভেবে বসেছে— প্রজাদের এই দেখাশোনা ও পরিচালনা তাকে শাস্তি থেতে বিরত রাখবে। কিন্তু তারা কি ভুলে যায় যে, খোদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পর্যন্ত বলা হয়েছে—
قُلْ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ)
হে নবী, আপনি বলুন, আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তবে আমি মহা দিবসের শাস্তির ভয় করি। [সুরা যুমার: ১৩]
অথচ যারা নিজেদের আলেম হিসেবে গণ্য করে, সেই তাদের অনেকেই দুনিয়ার নগদ কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে আল্লাহর অবাধ্যতার মধ্যে প্রবেশ করেছে। ইলম তাদের কোনো উপকারই করেনি। এটা কেমন ইলম! এভাবে অনেক জাহেদও নিজেদের দুনিয়াবি কামনা চরিতার্থ করার জন্য পথবিচ্যুত হয়েছে। তাদের এগুলো করার কারণ—দুনিয়া হলো একটি ফাঁদের মতো। আর মানুষরা পাখির মতো। পাখি তার খাদ্য খেতে এখানে-সেখানে উড়ে যায়। বেড়ায়-কিন্তু ফাঁদের কথা ভুলে থাকে। তাই তারা ফাঁদে আটকা পড়ে। ধরা খেয়ে যায়।
এভাবে অধিকাংশ মানুষ তাদের তাৎক্ষণিক বাসনা ও কামনার মাঝে কঠিন শাস্তির কথা ভুলে থাকছে। তারা রাতভর বিভিন্ন অনর্থক আলাপ-আলোচনায় মত্ত থাকে। কিন্তু আকল বা বিবেকের পরামর্শের দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করে না। সামান্য তুচ্ছ সুখের বিনিময়ে তারা সমূহ কল্যাণ বিক্রয় করে দিচ্ছে। সাময়িক উত্তেজনা চরিতার্থ করার মাধ্যমে কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হয়ে পড়ছে।
এভাবে চলতে চলতে তাদের কারও নিকট যখন মৃত্যু এসে পড়ছে, তখন সে আফসোস করে বলছে, হায়, আমার যদি সৃষ্টি না হতো! হায়, আমি যদি মাটি হতাম! এভাবে সে নিজের সত্য অনুধাবনের কথা ব্যক্ত করে। কিন্তু তখন তাকে বলা হবে-؟ ألاّن - অবশেষে এখন? এতদিনে কী করেছ!
এখন শুধু আফসোফ আর আফসোস! হারিয়ে যাওয়া এমন জিনিসের জন্য-যাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। আপতিত এমন অপদস্থতার জন্য- যার থেকে আর মুক্তি নেই। এখন শুধু অন্তহীন অনুশোচনা। আল্লাহর প্রতি ঈমান রেখেও শাস্তির জন্য আফসোস! কারণ, বিবেকের দারস্থ না হলে সে তো কোনো উপকার করতে পারে না। অবৈধ আকর্ষিত জিনিস থেকে বিরত থাকার দুর্দম ইচ্ছাশক্তি ছাড়া বিবেকের পরামর্শ কেউ তো শুনতে সক্ষম হয় না!
খলিফাদের মধ্যে তুমি উমর ইবনে খাত্তাব রা. এবং উমর ইবনে আবদুল আজিযের কথা চিন্তা কর। আর আলেমদের মধ্যে ভেবে দেখ আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. এর কথা। দৃষ্টি প্রদান কর জাহেদদের মধ্যে ওয়ায়িস করনি রহ. এর কথা। তারা যথেষ্টভাবে চেষ্টা-মুজাহাদা করেছিলেন। এবং নিজেদের অস্তিত্বের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তারা প্রবৃত্তির কাছে নতি স্বীকার করেননি।
ধ্বংসশীলদের ধ্বংস হওয়ার প্রধানতম কারণ হলো অবৈধ আকর্ষিত জিনিসের ক্ষেত্রে ধৈর্যের স্বল্পতা। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। কত মানুষ তো পরকাল এবং তার শাস্তির প্রতি ঈমান রাখে না-এটা কোনো আশ্চর্য বিষয় নয়। বরং আশ্চর্যের বিষয় হলো, একজন মুমিন 'ঈমান ও ইয়াকিন' রাখে, কিন্তু তার এই ঈমান ও ইয়াকিন তাকে কোনো উপকার করছে না! আল্লাহর শাস্তিকে সে বোঝে ও মান্য করে-কিন্তু তার এই বুঝ তাকে কোনো উপকার করছে না! একজন মুমিনের জন্য এ বড় ভয়াবহ ব্যাপার!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00