📄 জীবনযাপনের সঠিক পদ্ধতি
একবার একলোক আমার নিকট তার কিছু সমস্যার কথা বলল। সে বলল, আমি আমার স্ত্রীকে খুবই অপছন্দ করি। তবে কয়েকটি কারণে তার থেকে আলাদাও হয়ে যেতে পারছি না। কারণ, আমার ওপর তার অনেক অনুগ্রহ রয়েছে। অনেক কল্যাণ সে আমার করে। কিন্তু আমার ধৈর্য খুবই কম। বিভিন্ন কষ্টদায়ক অনুচিত কথা আমার মুখ থেকে বের হয়ে যায়। এসব কথা দ্বারা তার প্রতি আমার অপছন্দের কথাও সে বুঝতে পারে। কিন্তু আমি কী করব? আমি যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না! তাকে তো সহ্যই করতে পারি না!
আমি তাকে বললাম, এমন করে তো কোনো লাভ হবে না। আসল কাজ করতে হবে। সেটা হলো, তুমি একান্তে বসে নিজে নিজে চিন্তা করে দেখো- তাহলে বুঝবে, তাকে হয়তো তোমার কোনো গোনাহের কারণে তোমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তুমি বেশি বেশি আল্লাহর নিকট আকুতি-মিনতি করো এবং তাওবা করো। স্ত্রীর প্রতি অনীহা, ক্রোধ দেখানো কিংবা তাকে কষ্ট প্রদানের মধ্যে কোনো কল্যাণ হবে না। আগে নিজের গোনাহের কথা ভাবো।
যেমন হজরত হাসান ইবনে হাজ্জাজ রহ. বলেন,
عقوبة من الله لكم فلا تقابلوا عقوبته بالسيف وقابلوها بالاستغفار.
এটা হলো তোমাদের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে শাস্তি। তাই আল্লাহর শাস্তিকে তরবারি দিয়ে প্রতিহত করতে যেয়ো না। তাকে বরং তাওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে দূর করো।
জেনে রেখো, তুমি একটি পরীক্ষার মধ্যে আছ। এখানে যদি তুমি ধৈর্যধারণ করো, তাহলে এর সওয়াব তুমি নিশ্চয়ই পাবে। এর মধ্যেই তোমার কল্যাণ। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেন-
(وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ)
আর এটাও সম্ভব যে, তোমরা একটা জিনিসকে অপছন্দ করো, অথচ তোমাদের পক্ষে তা মঙ্গলজনক। [সুরা বাকারা: ২১৬]
তাই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যা সংঘটিত হয়েছে, তুমি তার ওপর ধৈর্যধারণ করো এবং মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তার নিকট দুআ করতে থাকো।
এভাবে তুমি যদি আল্লাহর নিকট নিজের গোনাহের জন্য তাওবা করো, আপতিত বিষয়ের ওপর ধৈর্যধারণ করো এবং তা থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করো- তাহলে তোমার এতে তিন প্রকারের ইবাদত সম্পন্ন হবে। এবং এর প্রতিটির জন্য তোমাকে প্রতিদান দেওয়া হবে। সুতরাং তুমি অযথা এমন বিষয়ে কালক্ষেপণ করো না- যা তোমার কোনো উপকার করবে না। তাছাড়া তিনি তোমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তুমি তা নিজে প্রতিহত করতে পারবে- এমনটি ধারণা করাও জায়েয নয়।
এক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা নিজে ইরশাদ করছেন-
وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ
আল্লাহ যদি তোমাকে কষ্ট দান করেন, তবে স্বয়ং তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই। [সুরা আনআম: ১৭]
একবার এক সৈনিক আবু ইয়াজিদ রহ.-এর বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। সৈনিকটির হাবভাব ভালো নয়। আবু ইয়াজিদ রহ. ঘর থেকে বের হয়ে এটা দেখলেন। তিনি দ্রুত একলোককে ডেকে বললেন, তুমি দ্রুত অমুক স্থানে যাও এবং সেখানকার মাটি লেপে মুছে দাও। এই মাটির ক্ষেত্রে আমার কিছুটা সন্দেহ আছে।
আমি এবার লোকটিকে বললাম, সুতরাং তোমার ক্ষেত্রেও তা-ই। মেয়েটির তো কোনো দোষ নেই। তাকে কষ্ট দিয়েও কোনো লাভ নেই। তাকে বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার কর্মের কারণে তোমার ওপর আপতিত করা হয়েছে। সুতরাং সমস্যা যেখানে- সমাধান করতে হবে সেখানে।
আমাদের পূর্বসূরিদের একব্যক্তি থেকে বর্ণনা রয়েছে। একবার একলোক তাকে গালি দিলো। তিনি ঘরে এসে নিজের গাল মাটির ওপর রেখে কেঁদে কেঁদে আল্লাহ তাআলার নিকট বলতে লাগলেন-
اللهم اغفر لي الذنب الذي سلطت هذا به علي.
-হে আল্লাহ, তুমি আমার যে গোনাহের কারণে এ লোককে আমার ওপর চাপিয়ে দিয়েছ, তুমি আমার সে গোনাহ মাফ করে দাও।
লোকটি আমাকে আরও বলল, আমার এই স্ত্রী আমাকে সীমাহীন ভালোবাসে। আমার অনেক খেদমত করে। আমার প্রতি প্রচুর যত্ন নেয়। কিন্তু তার প্রতি আমার অপছন্দনীয়তা যেন আমার স্বভাবের মধ্যে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। কিছুতেই আমি তাকে ভালোবেসে উঠতে পারি না।'
আমি তাকে বললাম, এখানে হয়তো আল্লাহর ইচ্ছা হলো, তার ক্ষেত্রে তুমি ধৈর্যধারণ করো। নিশ্চয়ই তোমাকে এর জন্য সওয়াব দেওয়া হবে। একটি ঘটনা বলি শোনো- একবার আবু উসমান নিশাপুরী রহ.-কে বলা হলো, আপনি যে এত আমল করেন, আপনার নিকট সবচেয়ে আশাপ্রদ আমল কোনটি মনে হয়?
আবু উসমান নিশাপুরী রহ. বললেন, আমার একটি আমলের উত্তম পুরস্কারের আশা আমি করি। সেটা হলো, আমার তখন অল্প বয়স। তারুণ্য জেগে উঠছে মাত্র। পরিবার থেকে প্রায় তাগাদা আসছে, আমি যেন বিয়ে করি। কিন্তু আমি তাতে রাজি হই না। আমার ইচ্ছা দেখেশুনে একটি সুন্দর মেয়েকে বিয়ে করব।
এরমধ্যে একদিন একটি পর্দাবৃতা মেয়ে আমার নিকট এসে বলল, 'হে আবু উসমান, আমি নিজেকে আপনার জন্য উৎসর্গ করছি। আমার প্রার্থনা- আল্লাহর দিকে চেয়ে আপনি আমাকে বিয়ে করে নেবেন।'
আমি মেয়েটির কথায় রাজি হয়ে গেলাম। তার বাবাকে উপস্থিত করলাম। তিনি ছিলেন খুবই দরিদ্র একজন ব্যক্তি। তিনি তার মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দিলেন। আমার বিয়ে করাতে তিনি খুব আশ্চর্য হলেন এবং খুব খুশিও হলেন।
বিয়ের পর মেয়েটি যখন পর্দা ছাড়া আমার ঘরে এলো, আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম তার একটি চোখ অন্ধ, একটি পা খোঁড়া এবং দেখতে মোটেও সুন্দর নয়। আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। মনে হলো, আমি তখনই সেখান থেকে বের হয়ে আসি। কিন্তু মেয়েটির প্রচণ্ড ভালোবাসার কথা স্মরণ করে আমি তা করলাম না। আমি তার অন্তরকে ভেঙে না পড়ার জন্যে বসেই থাকলাম। কোনোভাবেই তার নিকট আমি আমার অপছন্দের কথা প্রকাশ করলাম না। অথচ ভেতরে ভেতরে আমি রাগে ক্ষোভে অপছন্দে একটি শক্ত পাথরের মতো হয়ে ছিলাম।
জীবন চলতে থাকল। আমি আমার থেকে যথাসাধ্য তাকে খুশি রাখার চেষ্টা করে গেছি। এভাবেই দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। এরপর একদিন মেয়েটি মারা গেল। আমি আমার জীবনের তেমন কোনো আমলের কথা না বললেও আমি মেয়েটির অন্তরকে তুষ্ট রাখার জন্য যেভাবে চেষ্টা করে গেছি, ধৈর্যধারণ করেছি- এটাই আমি আমার নাজাতের জন্য সবচেয়ে আশাপূর্ণ আমল হিসেবে মনে করি।'
আমি ঘটনাটি উল্লেখ করে লোকটিকে বললাম, এই হলো প্রকৃত পুরুষদের কাজ। সুদৃঢ় চরিত্রের মহান নিদর্শন। আর তাছাড়া সমস্যাকবলিত ব্যক্তির অযথা ক্রোধ ও অপছন্দনীয়তা প্রকাশ করেই বা কী লাভ! তাতে কোনো কল্যাণ নেই। কল্যাণ তাতেই, যা আমি উল্লেখ করলাম- নিজের গোনাহের জন্য তাওবা করতে হবে, উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং এর থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করতে হবে। এরপর যদি অবস্থা স্বাভাবিক হয় তাহলে তো হলোই- নতুবা তোমার এই ধৈর্যধারণ এবং প্রতিপালকের সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকাও ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।
আর তোমার কর্তব্য হবে, অন্তরে তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে যেমন অবস্থাই হোক, প্রকাশ্যে তার জন্য ভালোবাসা দেখিয়ে চলা। কারণ, সে তো তোমার গোনাহের কারণে তোমার ওপর অবতারিত। সুতরাং তাকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। বরং ঠিক যে কারণে এটা হয়েছে, সেই অবস্থা সংশোধনের জন্য প্রচেষ্টা করো। এটাই শেষকথা। আল্লাহ তোমাকে ভালো রাখুন।
📄 সময়কে গালি দেওয়া
আমার চোখ মানুষের ওপর যতগুলো মসিবত আপতিত হতে দেখেছে, তার মধ্যে প্রধানতম মসিবত হলো, মানুষের সময়কে গালি দেওয়া, সময়ের ওপর দোষ চাপানো।
জাহেলি যুগে মানুষ এগুলো করত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা করতে নিষেধ করে বলেন,
لا تسبوا الدهر، فإن الله هو الدهر.
তোমরা সময়কে গালি দিয়ো না। কারণ, সময় তো আল্লাহরই সৃষ্টি। ১০২
অর্থাৎ তোমরা হয়তো তাকে গালি দাও এই ভেবে যে, সময় তোমাদের ঐক্যকে বিনষ্ট করেছে। তোমাদের আত্মীয়-পরিজনের প্রাণ সংহার করেছে। আর এটাকে তোমরা সময়ের দিকে সম্বন্ধ করে থাকো। অথচ আল্লাহ তাআলাই এটা করে থাকেন। এখন সময়কে গালি দেওয়ার অর্থ আল্লাহ তাআলাকেই গালি দেওয়া!
কিন্তু আজকের অনেক ধর্মহীন ব্যক্তিও জাহেলি যুগের মানুষদের মতো এই কথাটি ব্যবহার করে। এমনকি- অনেক অভিজাত শিক্ষিত সাহিত্যিক ও মেধাবীরাও এটা করে থাকে। তাদের অবস্থা দেখে মনে হয়—যুগ বা সময়কে গালি দেওয়া ছাড়া তাদের কোনো ভালো অভিব্যক্তিই নেই। কিছু বলার নেই। আবার কখনো কখনো তারা আল্লাহকেই দুনিয়া [প্রকৃতি] বানিয়ে নেয়। তখন তারা এভাবে বলে যে, প্রকৃতি এটি করেছে- প্রকৃতি এটি সৃষ্টি করেছে। প্রকৃতি এটি পছন্দ করে না। প্রকৃতির নিয়মই এমন... ইত্যাদি।
এমনকি যারা দাবি করে, তারা আলেম, প্রাজ্ঞ ফকিহ ও বুদ্ধিজীবী- তারাও দেখি এটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হয় না!
এখন কথা হলো- 'সময়' বলে তাদের উদ্দেশ্য কী?
তারা যদি সময় বলতে 'সময়ের অতিক্রম বা কালের অতিবাহন' বোঝায়, তাহলে তো সময়কে দোষারোপ করে কিছু বলা সঠিক হয় না। কারণ, সময়ের নিজের তো কিছু করার নেই। কিছু করার ক্ষমতাও তার নেই। সে নিজে নিজে কিছুই করতে পারে না- তাকে বরং একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তাহলে কি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি সময়ের দিকে কিছু আরোপ করতে পারে? পারে না।
তাহলে মানুষ তো এভাবে যুগের ওপর দোষারোপের মাধ্যমে ইসলাম থেকেই বের হয়ে যায়। কারণ, এই দোষারোপ সে প্রকৃত অর্থে এর স্রষ্টার ওপর করছে। এর মাধ্যমে সে কি আল্লাহর হিকমত-প্রজ্ঞার অসম্পূর্ণতা বোঝাতে চায়? যেমন ইবলিস তার ওপর হজরত আদম আলাইহিস সালামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানকে অযৌক্তিক ভেবেছিল।
আজকের দিনেও এমন অনেকেই করে থাকে। কিন্তু অন্তরের এই বক্রতার সাথে তাদের ইসলাম তাদের কোনো উপকার করতে সক্ষম হবে না। কোনো নামাজ-রোজাও কাজে আসবে না। আগে নিজের আকিদা বা বিশ্বাস বিশুদ্ধ করে নিতে হবে। এরা তো বরং কাফিরদের চাইতেও অধম ও নিকৃষ্ট।
টিকাঃ
১০২. সহিহ মুসলিম: ১১/৪১৬৯, পৃষ্ঠা: ৩১৩ এবং মুসনাদে আহমদ: ১৮/৮৭৭৪, পৃষ্ঠা: ৩১৬- মা. শামেলা।
📄 এই অতি সংক্ষিপ্ত জীবন
আমি আমার নিজের ক্ষেত্রে এবং বহু মানুষের ক্ষেত্রে একটি বিষয় লক্ষ করে ভীষণ আশ্চর্য বোধ করি। বিষয়টা হলো, আমরা আমাদের জীবনের বর্তমান সময় নিয়ে কতটা অবহেলা ও উদাসীনতার মধ্যে থাকি- অথচ আমরা জানি, আমাদের জীবন কত সংক্ষিপ্ত... কত সংক্ষিপ্ত... কত সংক্ষিপ্ত।
আমরা সময় নষ্ট করি- যদিও আমরা জানি, ঠিক এখানে যে পরিমাণ আমল করা হবে, পরকালে সে পরিমাণই প্রতিদান দেওয়া হবে। তারপরও আমরা সময় নষ্ট করি।
বিষয়টা নিয়ে আমি খুবই আশ্চার্যান্বিত হই। আমাদের কাজ আমাদের জানার মতো নয়। আমাদের আমল আমাদের বিশ্বাসের অনুযায়ী নয়।
হে সংক্ষিপ্ততম জীবনের অধিকারী, তুমি তোমার আজকের দিনগুলোকেই কাজে লাগাও। যাত্রার প্রস্তুতি নাও। আর তোমার অন্তরকে এমন জিনিসের সাথে লাগিয়ে রেখো না- যাতে কোনো কল্যাণ নেই। তোমাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি- তুমি নিজেকে সেই কাজে নিমগ্ন রেখো না।
📄 আল্লাহর জিকির
আমি একবার মানুষের ইবাদত নিয়ে চিন্তা করলাম। দেখলাম- তাদের অধিকাংশের ইবাদত আসলে আদত বা অভ্যাস। অর্থাৎ অভ্যাসের বশে শুধু করে যাওয়া।
হ্যাঁ, যারা সচেতন এবং সজাগ, তাদের অভ্যাসগুলোও অবশ্য প্রকৃত ইবাদত। কারণ, ইবাদতকে তারা অভ্যাস বানিয়ে নিয়েছেন।
কিন্তু যারা উদাসীন- তারা হয়তো অভ্যাসের বশে মুখে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে। কিন্তু তাতে তার কোনো প্রভাব ও চিন্তা থাকে না। নিছক শুধু উচ্চারণ।
কিন্তু যিনি সচেতন, জগতের এই বিস্ময়কর যত সৃষ্টি, স্রষ্টার মহত্ব- এই সব চিন্তা ও ভাবনা তার মাথার মধ্যে থাকে আর এটিই তাকে আন্দোলিত করে তোলে এবং তার মুখ থেকে বের হয়- সুবহানাল্লাহ!
এভাবে একজন মানুষ যদি একটি আনার বা ডালিম নিয়ে চিন্তা করে, তার থরে থরে সাজানো দানাগুলো নিয়ে চিন্তা করে- কী চমৎকারভাবেই না তাকে তার খোসা দিয়ে আচ্ছাদন করে নিরাপদ রাখা হয়েছে, যাতে বিনষ্ট না হয়। দানার মধ্যে কেমন রস দিয়ে দিয়েছেন এবং সেখানে দিয়ে দিয়েছেন পাতলা আবরণ!
কীভাবে ডিমের উদরে পাখির কত বিচিত্র রঙ ও আকার-আকৃতি তৈরি করেন তিনি। মায়ের উদরে কী বিস্ময়করভাবেই না মানবশিশু একে একে বেড়ে ওঠে। এমন আরও কত কী! বিশ্বজুড়ে কত সৃষ্টির কত বাহার!
এসকল চিন্তা-ভাবনা তার অন্তরের মধ্যে স্রষ্টার মহত্ব ও বড়ত্ব তুলে ধরে আর সে বলে ওঠে- সুবহানাল্লাহ... আল্লাহু আকবার! এই জিকিরটাই হলো চিন্তা দ্বারা উৎসারিত জিকির। এটাই হলো সচেতন মানুষের প্রকৃত জিকির ও ইবাদত।
এভাবে তারা গোনাহের ভয়াবহতা ও তার পরিণাম সম্পর্কেও চিন্তা করে এবং চিন্তিত হয়। এদিকে আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও পরাক্রমশীলতাও তাদের চিন্তায় রয়েছে। এ কারণে তারা তাদের গোনাহের ব্যাপারে বিচলিত বোধ করে। নিজের নফসকে অবনমিত করে এবং মুখে উচ্চারণ করে- আসতাগফিরুল্লাহ... আতুবু ইলাইহি... আসতাগফিরুল্লাহ...।
এটাই হলো প্রকৃত জিকির ও ইস্তিগফার। নতুবা উদাসীন ব্যক্তিরা শুধু অভ্যাসের বশে মুখে যা কিছু উচ্চারণ করে, এটা জিকিরও নয়, ইস্তিগফারও নয়- ইবাদত তো নয়-ই। এটা নিতান্তই একটি অভ্যাস।
আদত ও ইবাদতের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য বিদ্যমান।