📄 হারানো ভ্রান্ত ও বন্ধুত্ব
এক সময় কিছু ব্যক্তিকে আমি আমার বন্ধু ও সঙ্গী ধারণা করতাম। কিন্তু পরবর্তীতে দেখলাম তাদের কেউ কেউ রূঢ় ব্যবহার করে, হৃদ্যতা ও বন্ধুত্বের শর্তের সাথে যা সমঞ্জস নয়। তাদেরকে তখন তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করতে শুরু করলাম। কিছুদিন পর হঠাৎ আমার নিজে নিজেই বোধোদয় হলো- এটা তো ঠিক হচ্ছে না। মনে মনে বললাম, এর মাধ্যমে উপকারটা কী? তারা যদি বন্ধু ও সঙ্গীর উপযুক্ত হয়েই থাকে, তবে তো তাদের তিরস্কার বা ভর্ৎসনা করা চলে না। আর যদি উপযুক্ত না হয়, তবে একেবারে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেওয়াই উত্তম।
এর কিছুদিন পর দুনিয়ার জীবনযাপন বিষয়ে একটি আশ্চর্য চিন্তা আমার মাথায় এলো। আমি ভেবে দেখলাম- যাদের সাথে আমার চলাচল তাদের সাথে আমার সম্পর্ক তিন ধরনের:
১. নিছক পরিচিত মুখ- দেখা হলে সালাম বিনিময়। এর পাশাপাশি অল্পস্বল্প দু-একটা কথাবার্তা কখনো হয়- কখনো হয় না।
২. বাহ্যিকভাবে বন্ধু- প্রকাশ্যভাবে যাদের সাথে হৃদ্যতাপূর্ণ কথা ও আচরণ চলে।
৩. আন্তরিক একনিষ্ঠ সঙ্গী- যাদের সাথে কোনো ধরনের কৃত্রিমতা ছাড়াই আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে।
এবার আমি চিন্তা করলাম, মানুষের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে লাভ কী- তারচেয়ে বরং যাদেরকে আন্তরিক মনে হবে না, তাদেরকে মনে মনে 'আন্তরিক সঙ্গী'-এর তালিকা থেকে বের করে 'বাহ্য বন্ধু'র তালিকায় এনে রাখলেই হয়। আর যদি এটারও যোগ্য তারা না হয়, তবে তাদেরকে নিছক 'পরিচিত' ব্যক্তির কাতারে রেখে দিতে হবে। তাদের সাথে আচরণ হবে নিছক একজন পরিচিত ব্যক্তির মতোই- কোনো মাখামাখি নয় আবার বিরোধিতাও নয়।
অর্থাৎ সম্পর্ক ছিন্ন না করে যার যার অবস্থান মতো তাকে সেখানে রেখে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর অযথা তিরস্কার করে বা অভিযোগ তুলে বন্ধুত্ব ঝালাই করতে চাওয়াটা হবে নিতান্তই বোকামি।
হজরত ইয়াহইয়া ইবনে মুয়ায রহ. বলেন, সেই ভাই বা সঙ্গীর চেয়ে খারাপ ভাই বা সঙ্গী আর কে আছে, যাকে তোমার বলতে হবে, 'তোমার দুআর মধ্যে আমাকে স্মরণ রেখো।'
আজকের দিনে অধিকাংশ মানুষই একে অপরের পরিচিত। এদের মধ্যে বাহ্যিক বন্ধুর সংখ্যাও অনেক কম। আর আন্তরিক বন্ধু বা সঙ্গীর বিষয়টা এখন এতটাই দুর্লভ যে, তার আশা না করাই ভালো। হ্যাঁ, আত্মীয়তার মাধ্যমে কিছু সম্পর্ক—যেমন পিতা-মাতা, ভাই-বোন, সন্তান, স্ত্রীর সঙ্গে থাকা সম্পর্ক—এগুলোর কথা ভিন্ন। অবশ্য এখানেও আন্তরিকতা থাকতে পারে, না-ও পারে। অতএব সবার থেকেই নিজেকে একটু আলাদা স্থানে রেখে সবার সাথেই নিতান্ত অপরিচিত ব্যক্তিদের মতো ইনসাফপূর্ণ আচরণ করে চলা উচিত। আর যে ব্যক্তি তোমার প্রতি আজ হৃদ্যতা বা সম্প্রীতি প্রকাশ করছে, তুমি তাতে ধোঁকায় পতিত হয়ো না। সময় যেতে দাও। সময় ও পরিস্থিতিই একদিন বলে দেবে—তার এই হৃদ্যতা আন্তরিক নাকি ভান। কারণ, অনেক সময়ই সুবিধাবাদী মানুষ অকারণে হৃদ্যতা প্রকাশ করে—যাতে তোমার মন গলিয়ে তোমার থেকে তার স্বার্থ হাসিল করতে পারে।
হজরত ফুজাইল ইবনে ইয়াজ রহ. বলেন, 'তুমি যখন কাউকে বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করতে চাও, তখন তুমি তাকে কোনো বিষয়ে হঠাৎ রাগিয়ে দাও। সে যদি তার এই রাগান্বিত অবস্থায়ও তোমার প্রতি 'ইনসাফ' বা ভালো ব্যবহার বজায় রাখে, তাহলে তুমি তাকে নিশ্চিন্তে একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে পারো।'
অবশ্য আজকের দিনে এই পরীক্ষা করাটাও আশঙ্কাজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এখন মানুষের আচরণ এতটাই তীব্র ও তপ্ত যে, তুমি যদি কাউকে রাগিয়ে দাও, সে হয়তো তাৎক্ষণিক তোমার শত্রুতে পরিণত হয়ে তোমার ক্ষতি করে বসবে!
মানুষের আচরণের এই অধঃপতনের কারণ হলো, আজ আমাদের মধ্য থেকে আন্তরিকতা দূর হয়ে যাচ্ছে। আমরা দিন দিন খুবই স্বার্থবাদী হয়ে পড়ছি। অথচ আমাদের 'সালাফে সালেহিন'-এর মূল লক্ষ্যই ছিল আখেরাত। একারণে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের মধ্যে তাদের নিয়ত ছিল বিশুদ্ধ, ভোরের বাতাসের মতো নির্মল। তাদের লক্ষ্য ছিল দ্বীন ও আখেরাত; দুনিয়া নয়। আর আজ আমাদের সকলের অন্তরের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছে দুনিয়ার ভালোবাসা এবং দুনিয়া প্রাপ্তির লালসা। তাই আমাদের আচরণে এত কৃত্রিমতা।
তবুও বলি, শুধু দ্বীনের জন্য বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা রাখে—এমন কাউকে যদি পাও, তবে তাকে সাদরে গ্রহণ করে নাও। আজকের যুগে এ বড় দুর্লভ বিষয়।
📄 বান্দাদের মধ্যে একমাত্র জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে
মানুষের যখন ইলমে পূর্ণতা আসে, তখন সে বুঝতে পারে, বস্তুত তার আমল কোনো মূল্যই রাখে না। এটাকে বড় করে দেখার কিছু নেই। কারণ, মহান দয়াশীল প্রভুর তাওফিক প্রদানের কারণেই এই আমলগুলো সে করতে সক্ষম হয়েছে; নতুবা তার দ্বারা কখনো এটা সম্ভব হতো না। একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন এই চিন্তা করে তখন আর সে নিজের কোনো আমল নিয়ে বড়াই করে না, অহংকার করার দুঃসাহস দেখায় না।
আমল নিয়ে বড়াই বা অহংকার না করার কয়েকটি কারণ রয়েছে—
১. যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজেই ইরশাদ করেছেন,
﴿وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الْإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُولَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ . فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَنِعْمَةً وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمُ﴾
কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ঈমানের ভালোবাসা সঞ্চার করেছেন এবং তাকে তোমাদের অন্তরে করে দিয়েছেন আকর্ষণীয়। আর তোমাদের কাছে কুফর, গোনাহ ও অবাধ্যতাকে ঘৃণ্য বানিয়ে দিয়েছেন। এরূপ লোকেরাই সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়েছে—আল্লাহর পক্ষ থেকে দান ও অনুগ্রহস্বরূপ। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। [সুরা হুজুরাত: ৭-৮]
২. ব্যক্তি যখন রবের সীমাহীন নিয়ামতের মাঝে নিজের এই এতটুকু ইবাদত ও আনুগত্যকে তুলনা করে দেখে, তখন সে নিজেই বুঝতে পারে— এগুলো তেমন কিছুই নয়। কোটি ভাগের এক ভাগও নয়। অহংকার করা তো দূরের কথা; এ তো উল্লেখ করার মতোও না।
৩. দয়াময় মহান প্রভুর বড়ত্ব ও মহত্বের বিষয় সম্পর্কে যখন চিন্তা করা হয়, তখন জীবনের সকল জ্ঞান ও ইবাদতই অতি ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ মনে হয়। কত সামান্য আমাদের নিবেদন!
তবুও তো ধরা হচ্ছে এটা সেই ইবাদত- যার মধ্যে কোনো প্রকার ত্রুটি ও কদর্যতা নেই। শিরকের মিশ্রণ নেই। যা অন্য সকল কিছুর কামনা থেকে একেবারেই শুধু তার জন্যই নিবেদিত। আর যখন ইবাদতগুলোর মধ্যে বিভিন্ন অবহেলা, কৃত্রিমতা, লৌকিকতা ও অজ্ঞতা ভর করে সে ক্ষেত্রে সেই ইবাদত নিয়ে তাঁর সামনে কোন মুখে দাঁড়ানো সম্ভব!
এ কারণে সব সময় নিজের আমলের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, সেটা প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। ত্রুটি ও বিচ্যুতির কারণে শাস্তিও আপতিত হতে পারে।
এভাবে যদি ভাবা যায়, তখন আর নিজের চোখ আমলের দিকে থাকবে না। সেটা নিয়ে অহংকার ও বড়াই করার মতো বড় ও বিশাল মনে হবে না।
আমলের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমানদের অবস্থাগুলো একটু চিন্তা করে দেখো- ফেরেশতাগণ দিনরাত আল্লাহর তাসবিহ পড়ে। এ ক্ষেত্রে তারা সামান্য সময়ের জন্যও অলসতা বা কমতি করে না। তারপরও তারা বলেন, হে আমাদের প্রভু, আমরা আপনার যথার্থভাবে ইবাদত করতে পারিনি।
হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কথা চিন্তা করে দেখো- আগুনে নিক্ষেপের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির ওপর তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন, নিজের স্ত্রী-পুত্রকে নির্জন নিঃসহায় জায়গায় রেখে এসেছেন এবং প্রিয় পুত্রটিকে আবার প্রভুর নির্দেশে জবাই করতে গিয়েছেন... আরও কত পরীক্ষা। সকল পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। এরপরও তিনি বলছেন,
﴿وَالَّذِي أَطْمَعُ أَنْ يَغْفِرَ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ)
দয়াময় প্রভু সেই সত্তা, যার নিকট আশা করি কিয়ামতের দিন তিনি আমার ত্রুটি ক্ষমা করে দিবেন। [সুরা শুয়ারা: ৮২]
আর আমাদের নবী- সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী! তাঁর কষ্ট ও ইবাদতের কথা বলে কি শেষ করা যাবে! সেই নবীই একদিন সাহাবিদের বললেন,
ما منكم من ينجيه عمله قالوا ولا أنت قال: ولا أنا إلا أن يتغمدني الله برحمته.
তোমাদের মধ্যে কাউকে তার আমল মুক্তি দিতে পারবে না। সাহাবিগণ আকুল বিস্ময়ে জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর নবী, আপনাকেও না! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, এমনকি আমাকেও না- তবে আল্লাহ তাআলা আমাকে তার রহমত দিয়ে বেষ্টন করে রাখবেন। ১০১
আর হজরত আবু বকর রা. বলতেন,
وهل أنا ومالي إلا لك يا رسول الله
হে আল্লাহর রাসুল, আমি এবং আমার যাবতীয় সম্পদ- সবই তো আপনার জন্য উৎসর্গিত। আমার বলতে আর কীই-বা আছে!
হজরত উমর রা. বলতেন,
لو أن لي طلاع الأرض لافتديت بها من هول ما أمامي قبل أن أعلم ما الخبر.
আমার যদি অনেকগুলো উঁচু ও দামি জমি থাকত, আর সর্বশেষ আমার ভাগ্যে কী কল্যাণ রয়েছে তা জানার আগে আমার সামনে যে ভয়াবহতা রয়েছে, তার বিনিময়ে আমি আমার সেই জমিগুলো বিনিময় করে নিতাম।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলতেন,
ليتني إذا مت لا أبعث.
হায়, আমি মারা যাবার পর আমাকে যদি আর পুনর্জীবিত না করা হতো!
হজরত আয়েশা রা. বলতেন,
ليتني كنت نسياً منسياً.
হায়, আমি যদি মৃত্যুর পর একেবারে বিস্মৃত অবলুপ্ত হয়ে যেতে পারতাম!
আমি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি, এ বিষয়ে বনি ইসরাইলদের মধ্যে এমন কিছু সৎ ব্যক্তির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যা দ্বারা তাদের বুঝ ও বুদ্ধিমত্তার স্বল্পতাই প্রকাশ পেয়েছে। কারণ, তারা তাদের আমলের ওপর নির্ভর করেছিল। এ কারণে তারা তাদের আমলের দিকে ইঙ্গিত করেছে। তাদের মধ্যে একজন হলো সেই ব্যক্তি, যে একটি নির্জন দ্বীপে ৫০০ বছর ধরে ইবাদত করেছে। তাকে প্রতিদিন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আনার প্রদান করা হতো। এবং সে আল্লাহর তাআলার নিকট প্রার্থনা করেছিল- নামাজের সেজদার মধ্যে যেন তার মৃত্যু হয়।
তার প্রার্থনা কবুল করা হয়েছিল। তার মৃত্যু হয়েছিল নামাজে সেজদারত অবস্থায়।
এরপর হাশরের দিন যখন তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হবে, তুমি আমার রহমত-অনুগ্রহের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করো।
তখন সে বলবে, আমি বরং আমার আমলের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করছি।
এ সময় তার সারাজীবনের সকল আমল আল্লাহ তাআলার মাত্র একটি নিয়ামতের সাথে পরিমাণ করা হবে, তখন তার এই সকল আমলও সেই একটি নিয়ামতের সমতুল্য হবে না।
এবার সেই লোকটি আকুল পেরেশানির সাথে বলে উঠবে, হে আমার প্রভু, হ্যাঁ, তোমার রহমত ও অনুগ্রহেই শুধু জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি; আমার কোনো আমলের কারণে নয়।
এভাবে সেই গুহাবাসীদের অবস্থাও তা-ই, যাদের গুহার দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে তো একজন তার এমন আমলের কথাও উল্লেখ করেছিল, যার কথা উল্লেখ করাও ছিল লজ্জাজনক। অর্থাৎ সে একবার এক নারীর সাথে জিনার ইচ্ছা করেছিল। অনেক দূর অগ্রসরও হয়েছিল। কিন্তু এরপর আল্লাহ তাআলার শাস্তির ভয়ে তা থেকে ফিরে এসেছিল।
এর দ্বারা আমি তো এটাই বুঝি, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে শাস্তির ভয়ে তা থেকে ফিরে এসেছে, এটার উল্লেখ তো শাস্তিরই আশঙ্কা সৃষ্টি করে। যদি এমন হতো যে, সে কোনো বৈধ কাজ করতে গিয়ে ফিরে এসেছে, তাহলেও না একটি কথা ছিল। কিন্তু এখানে সে কী করতে গিয়েছিল? গোনাহের কাজ।
যা করতে তাকে তো নিষেধই করা হয়েছে। যা থেকে তার ফিরে থাকাই তো উচিত? সেটা করতে অগ্রসর হওয়াই তো বরং একটি অপরাধ। সে যদি বিষয়টা বুঝত, তাহলে আল্লাহর সহানুভূতি পাওয়ার ক্ষেত্রে এটা উল্লেখ করতে সে লজ্জাবোধ করত।
হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম যেমন বলেছেন, (وَمَا أُبَرِىءُ نَفْسِي)
আমি আমার নফসকে নির্দোষ বলছি না। [সুরা ইউসুফ: ৫৩]
আর অন্যদের অবস্থা এমন যে, বাচ্চাদের ফজরের নামাজে দ্রুত ওঠার প্রতিযোগিতায় লাগিয়ে দেওয়া হলো। আর বলা হলো, যারা যারা দ্রুত উঠে ফজরের নামাজ আদায় করবে, পিতা-মাতা তাদের দুধ পান করাবেন। এখানে যেমন বাচ্চাদের কিছুটা কষ্ট করতে হয়, কিন্তু এর মাঝে প্রতিদানের আশা লুকিয়ে আছে।
একই রকম মানুষদের অবস্থা। তাদের ধারণায় তারা যখন ভালো কাজ করে, অবস্থাই বলে দেয়, তারা যা চায়, তা তাদেরকে প্রদান করা হবে। কারণ, তারা যা করেছে, এখন তারা তার প্রতিদান চায়। প্রাপ্যটা যেন তারা নিজের শক্তিতে অধিকার করে নিয়েছে।
আমলের মধ্যে এই কৃতিত্বের ধারণা থাকার কারণে একজন আমলকারী অন্যদের ওপর অহংকার প্রকাশ করে। নতুবা প্রতিটি সক্ষম আমলকারী ব্যক্তি তার আমলের তুচ্ছতা নিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকত। কারণ, তার ওপর প্রভুর পক্ষ থেকে যে অঢেল নিয়ামত প্রদান করা হয়েছে, সেই তুলনায় এই আমল ও শুকরিয়া তো বিশাল ময়দানের মধ্যে সামান্য শস্যদানাতুল্যও নয়। এ যে খুবই অল্প। খুবই সামান্য। আরও বড় বিষয় হলো, এই আমলের সক্ষমতাটুকুও তো প্রভুর পক্ষ থেকেই প্রদত্ত!
এই বিষয়টির বুঝ আমল নিয়ে অহংকারকারী যেকোনো ব্যক্তির মাথাকে নুইয়ে দেবে। তার তুচ্ছতা ও ক্ষুদ্রতাকে তুলে ধরবে। প্রতিটি মানুষের জন্য এই বোধ ও বুঝটি খুবই জরুরি।
টিকাঃ
১০১. মুসনাদে আহমদ: ১৯/৯৪৫৫, পৃষ্ঠা: ৪৯৮- মা. শামেলা।
📄 তোমার কথাই এখানে সব নয়
আল্লাহর পক্ষ থেকে যে হুকুম ও বিধান এসেছে- মানুষ তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ থেকেছে। মানুষের কর্তব্য কী? এটার উত্তর লুকিয়ে আছে মানুষের ইচ্ছার বিপরীত কোনো বিষয় সংঘটনের মধ্যে। কারণ, ইচ্ছাধীন কর্ম সবাই করে। এটাই তার স্বভাব। কিন্তু নিজের ইচ্ছার বিপরীত কর্মে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখা এবং তার হুকুম মান্য করাই হলো মানুষের আসল কর্তব্য।
এ কারণে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য উচিত হবে- তার অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ও ঘটনাবলির ক্ষেত্রেও নিজের ধৈর্য ও সন্তুষ্টির প্রকাশ করা। সে যদি দুআ করে এবং নিজের কোনো কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের জন্য প্রার্থনা করে, তাহলে সে এই দুআ ও প্রার্থনার মাধ্যমেও আল্লাহর ইবাদত করল। এরপর যদি তার প্রার্থিত বিষয় প্রদান করা হয়, তাহলে সে শুকরিয়া আদায় করবে। আর যদি সে তার প্রার্থিত বিষয় প্রাপ্ত না হয়, তাহলে তার উচিত হবে- প্রার্থনার মধ্যে বেশি বাড়াবাড়ি না করা। কারণ, দুনিয়া তো সকল আকাঙ্ক্ষা পূরণের জায়গা নয়। বরং এ সময় মনকে এটা বলে বোঝাতে হবে-
﴿وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ﴾
এটা তো খুবই সম্ভব যে, তোমরা একটা জিনিসকে মন্দ মনে করো, অথচ তোমাদের পক্ষে তা মঙ্গলজনক। [সুরা বাকারা : ২১৬]
আরেকটি বড় মূর্খতা হলো, নিজের উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়ার কারণে মনে মনে অসন্তুষ্ট হওয়া। কখনো আবার মনে মনে অভিযোগ ও আপত্তি উত্থাপন করা। মনে মনে বলে, আমার উদ্দেশ্য পূরণ হলে কী ক্ষতি ছিল? আমার প্রার্থনায় সাড়া দেওয়া হলো না কেন? আমার ক্ষেত্রে এমনটি কেন হলো?...
এ কথাগুলো নিজের মূর্খতা, ঈমানের স্বল্পতা এবং স্রষ্টার হিকমতকে মেনে না নেওয়ার ওপর ইঙ্গিত করে।
মানুষ কেন বুঝতে চায় না- দুনিয়ার কোনো উদ্দেশ্য পূরণ হবে আর তাতে কোনো কদর্যতা মিশ্রণ হবে না- এমন কি কখনো হয়? তাই বারবার প্রার্থনার মাধ্যমে উদ্দেশ্য পূরণে বাড়াবাড়ি করার কী প্রয়োজন? দুনিয়া বরং কষ্ট স্বীকারেরই জায়গা, পরীক্ষার জায়গা।
নবী ও রাসুলগণ ছিলেন আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে প্রিয় বান্দা। দুনিয়ার নিয়মে তাদেরকেও কষ্টে আপতিত হতে হয়েছে। এখানে তাদেরও সকল উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি। হজরত নুহ আলাইহিস সালাম তার সন্তানের ক্ষেত্রে প্রার্থনা করেছিলেন; কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। আল্লাহর খলিল হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে। হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামকে পরীক্ষা করা হয়েছে জবাইয়ের ক্ষেত্রে। হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে পরীক্ষা করা হয়েছে তার সন্তান হারানোর মাধ্যমে। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামও অনেক কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন— প্রবৃত্তির সাথে তাকে লড়াই করতে হয়েছে। হজরত আইয়ুব আলাইহিস সালামকে অনেক রকম কষ্ট দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছে। হজরত দাউদ ও সোলাইমান আলাইহিমাস সালামকে ‘ফিতনা’ দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্যও পূরণ হয়নি। এভাবে সকল নবীকেই কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে।
এরপর আমাদের নবীকেও জীবনভর যে কষ্ট, ক্ষুধা-দারিদ্র্য সহ্য করতে হয়েছে— তা তো সবারই জানা। কারণ, দুনিয়াকে বানানোই হয়েছে পরীক্ষা করার জন্য। এ কারণে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য উচিত হবে, নিজেকে ধৈর্যের সাথে সইয়ে নেওয়া। এবং এ কথা জেনে রাখা যে, চাওয়া ছাড়াই যতটুকু উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে, এর ওপরই সন্তুষ্ট থাকা উত্তম। আর যেগুলো অর্জিত হয়নি— এটাই তো দুনিয়ার মানুষের স্বাভাবিক প্রাপ্তি এবং এটাই হলো দুনিয়ার নিয়ম ও স্বভাব।
জনৈক কবি বলেন, طبعت على كدر وأنت تريدها ... صفوا من الأقذاء والأكدار ومكلف الأيام ضد طباعها ... متطلب في الماء جذوة نار
যার স্বভাব ও সৃষ্টিই হলো পঙ্কিলতা দিয়ে, তুমি তাকে পেতে চাও সকল কদর্যতা ও পঙ্কিলতা থেকে মুক্তভাবে।
যুগের স্বভাবের বাইরে গিয়ে দাঁড়াতে যে চায়, সে যেন পানির সরোবরের মাঝে আগুনের ফুলকি খোঁজে।
কষ্ট ও কামনার এই বিপরীত জায়গাটিতে এসেই প্রকাশ পায় মানুষের ঈমানের শক্তি কিংবা তার দুর্বলতা। এ রোগের নিরাময়ে মুমিন ব্যক্তির জন্য উচিত হলো, প্রভুর নিকট নিজের নফসকে সঁপে দেওয়া। তার হিকমতকে মেনে নেওয়া। এবং নিজের নফসকে সেই কথা বলা- যা বলা হয়েছিল নবীকেও-
(لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ) তোমার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। [সুরা আলে ইমরান: ১২৮]
এরপর অন্তরকে সান্ত্বনা দাও- এই না পাওয়া কোনো বঞ্চনা নয়। বরং নিশ্চয় এটা এমন কোনো কল্যাণের কারণেই করা হয়েছে, যা তুমি জান না। আর যে ব্যক্তি তার উদ্দেশ্যগুলো অপূরণের ওপর ধৈর্যধারণ করে, তাকে অবশ্যই প্রতিদান দেওয়া হয়। যারা আল্লাহ তাআলার এই নির্বাচনকে মেনে নেয় এবং তাঁর সিদ্ধান্তের ওপরই সন্তুষ্ট থাকে- আল্লাহ তাদেরকে জানেন এবং দেখেন।
জেনে রেখো, এই কষ্ট ও পরীক্ষা খুবই সীমিত সময়ের জন্য। তোমার সকল আকাঙ্ক্ষা জমা করে রাখা হচ্ছে, অচিরেই এগুলো তোমাকে প্রদান করা হবে। দুনিয়ার এই কষ্ট যেন একটি অন্ধকার- অচিরেই তা কেটে যাবে। এটা যেন একটি রাত- অচিরেই উদ্ভাসিত হবে সকাল।
এভাবে যখন নিজের বুঝ ও চিন্তাকে উন্নত করবে, তখন বুঝে আসবে- নিজের জন্য যা হচ্ছে এটা আল্লাহর ইচ্ছাতেই হচ্ছে। তখন ঈমানের দাবি হলো, তাঁর চাওয়ার সাথেই নিজের চাওয়াকে মিলিয়ে নেওয়া এবং তিনি যা নির্ধারণ করেছেন, তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। কারণ, এমনটি যদি না করা হয়, তবে এটা প্রকৃত অর্থে তার দাসত্ব স্বীকার করা হয় না। তার ইবাদতও করা হয় না।
এই বুঝ ও বোধটি এমনই একটি মৌলিক বিষয়, যার সম্পর্কে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা- ভাবনা করা দরকার এবং প্রতিটি বিপদ বা পরীক্ষার মুহূর্তে সে অনুযায়ী আমল করা দরকার।
📄 জালেমদের সহযোগী হয়ো না
তুমি অনেক আলেম ও বক্তাকে দেখতে পাবে- তারা তাদের পার্থিব অসচ্ছলতার কারণে সুলতানদের তোষামোদ করে বেড়ায়; যাতে করে তারা তাদের থেকে সম্পদ প্রাপ্ত হতে পারে। অথচ তারা জানে, সুলতানরা সাধারণত বৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে না। এবং অর্জিত সম্পদও যথাযথ জায়গায় খরচ করে না। তাদের অধিকাংশেরই অভ্যাস এমন—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে খারাজ (ভূমিকর) ও সম্পদ আহৃত হয়, যেগুলো সঠিক ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা উচিত ছিল—তারা হয়তো একেবারেই নিজের খেয়ালের বশে কোনো কবিকে দিয়ে দিলো। কোনো চাটুকারকে দিয়ে দিলো। নিজের বিলাসিতায় খরচ করল। কিংবা তার সাথে যে সৈনিকবাহিনী থাকে, তাদের মাসিক বেতন হয়তো দশ দিনার। কিন্তু হঠাৎ কারও প্রতি খুশিতে দশ হাজার দিনার দিয়ে দিলো। কখনো কখনো লড়াইয়েও তারা অবতীর্ণ হয়—সেখান থেকে যে সম্পদ অর্জন হয়, তা সৈনিকদের মাঝে বণ্টন না করে হয়তো নিজের জন্যই রেখে দিলো।
আর বাস্তব কার্যাবলির ক্ষেত্রে যে সকল জুলুম ও অনিয়ম সংঘটিত হয়—তার ফিরিস্তি তো অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত।
এ কারণে একজন আলেম যখন এ ধরনের সুলতানদের সান্নিধ্যে আসে—তখন সে তার ইলমকে বিসর্জন দিয়েই আসে। তার জ্ঞাত ইলমের ওপর তখন সে আর আমল করতে সক্ষম হয় না। যেমন, একবার এক সৎ ব্যক্তি একজন আলেমকে ইয়াহইয়া ইবনে খালেদ বারমাকির এর প্রাসাদ থেকে বের হতে দেখে বললেন, হায়, আল্লাহর নিকট এমন ইলম থেকে আশ্রয় চাই—যে ইলম কার্যক্ষেত্রে কোনো উপকার করে না।
এমন আলেমের জন্য সেখানে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যেমন, সে অনেক অপছন্দনীয় জিনিস ও অবৈধ বিষয় দেখে, কিন্তু নিষেধ করতে পারে না। আর তাদের সাধারণ হারাম খাবারের মাধ্যমে অন্তরে অন্ধকারের সৃষ্টি হয়। আলো চলে যায়। তখন আর আল্লাহ তাআলার সাথে একান্তে ইবাদতের মজা ও স্বাদ থাকে না। তার দ্বারা কারও হেদায়েত নসিব হয় না।
বরং উল্টো তার এই আচরণ মানুষের বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। লোকজন তাদের অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকে। এভাবে সে নিজের ক্ষতি করে। সুলতানকেও সুযোগ করে দেয়। সুলতান তখন বলতে সুযোগ পায়- আমি যদি সঠিকতার ওপর না থাকতাম, তবে অমুক আলেম আমার সান্নিধ্যে আসত না। আমার কোনো কাজে তো সে অপছন্দনীয়তা প্রকাশ করে না।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর আর্থিক অসচ্ছলতা ছিল। কুড়ানো দ্রব্য দিয়েও তিনি অনেক সময় আহার সমাধা করেছেন। কিন্তু কখনো কোনো সুলতানের প্রদান করা টাকা তিনি গ্রহণ করেননি। হজরত ইবরাহিম আল হারবি রহ. সামান্য লতাপাতা-শাক সবজি খেয়ে জীবনধারণ করেছেন। তবুও তিনি খলিফা মুতাসিমের হাজার দিনার ফিরিয়ে দিয়েছেন। হজরত বিশর হাফি রহ. একবার প্রচণ্ড ক্ষুধায় আক্রান্ত হলেন। কেউ একজন তাকে বলল, আপনার জন্য কি হালকা কোনো ঝোল তরকারি এনে দেবো? তিনি তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বললেন, আমি ভয় পাই- আল্লাহ যদি আমাকে কিয়ামতের দিন প্রশ্ন করেন, এই সুস্বাদু পাতলা ঝোল তোমার কোথা থেকে এলো, যাচাই করেছ কি?
এভাবে বহু প্রত্যয়ী, সুদৃঢ় চরিত্রের পূর্বসূরির ঘটনা আমাদের সামনে উপস্থিত রয়েছে। তাদের নিকট ধৈর্যধারণ ছিল নিতান্তই ঘুমের মতো- অপরিহার্য। এটাকে তারা মোটেও কষ্টকর মনে করতেন না। বরং কষ্টকর মনে করতেন হারাম ভক্ষণকে।
কিন্তু যারা হারাম ও বাছবিচারহীনতার মধ্যে নিজেদের ভাসিয়ে দেয়- অবশেষে একসময় তাদেরও তো আস্বাদনের সময় শেষ হয়। শরীর বিনষ্ট হয়। কবরেই যেতে হয় অবশেষে। কিন্তু মাঝখান থেকে নিজের দ্বীন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কত বড় প্রতারক জীবনের এই ব্যবসা!
যার মধ্যে সামান্যতম বোধ ও বুঝ রয়েছে- তাকে এবার বলি, ধৈর্য ও অল্পেতুষ্টির সাথে জীবন ধারণ করো। কারও পার্থিব সচ্ছলতা যেন তোমাকে প্রতারিত না করে। কারণ, তুমি যখন এই বিশাল সচ্ছলতা সম্পর্কে চিন্তা করবে, দেখবে, সেখানে আখেরাতের দরজা সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। তাই অন্তরকে কোনোভাবেই কোনো ব্যাখ্যার পেছনে ফেলো না। দুনিয়ায় তোমার জীবনের মেয়াদ কতই না অল্প স্বল্প এবং ক্ষণস্থায়ী! একটু সয়ে নাও না!
জনৈক কবি বলেন,
وسواء إذا انقضى يوم كسرى ... في سرور ويوم صابر كسره
যেদিন নিঃশেষ হয় সম্রাটের আনন্দের দিনগুলো এবং এদিকে শেষ হয় ধৈর্যশীলের কষ্টের দিনগুলো- তখন সকলেই সমান।
কিন্তু ধৈর্যের স্বল্পতার কারণে নফস যখন অস্থির হয়ে ওঠে, তখন তুমি তাকে দুনিয়াত্যাগী বিভিন্ন ব্যক্তির ঘটনাবলি শোনাও। তার মধ্যে যদি সামান্যতম বোধ, চিন্তা ও জাগরণ থাকে, তবে সে অবশ্যই এগুলোর মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করবে। হারামের দিকে হাত বাড়াতে লজ্জাবোধ করবে এবং অবনত হবে।
একবার চিন্তা করে দেখো সেই বিখ্যাত ঘটনার কথা- আলি ইবনে মাদিনি নিজেকে সহজতার মধ্যে ফেলে ইবনে আবু দাউদের থেকে সম্পদ গ্রহণ করলেন আর হজরত আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. গ্রহণ করলেন ধৈর্য ও দীনতা। আজ এতদিন পরও তাদের বিষয়টা চিন্তা করে দেখো- তাদেরকে আজ কীভাবে স্মরণ করা হয়। সমসাময়িক দু-জন ব্যক্তির একজন কোথায় উঠে গেছেন আর অপরজন কোথায় নেমে গেছেন! একজন ধৈর্যধারণ করেছেন- অন্যজন সহজতা গ্রহণ করেছেন। শীঘ্রই ইবনুল মাদিনি লজ্জিত হবেন, যখন ইমাম আহমদ রহ. বলবেন, 'আমার জন্য আমার দ্বীন নিরাপদ হয়েছিল'।