📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 মানার মধ্যেই নিরাপত্তা ও কামিয়াবি

📄 মানার মধ্যেই নিরাপত্তা ও কামিয়াবি


যে ব্যক্তি আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ব নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে, নিশ্চয় বিস্ময়ে তার মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। এক ধরনের চাপ তাকে স্বীকার করতে হয়। কারণ, তাকে এমন এক সত্তার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হয়, যার কোনো সূচনা নেই। তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ। এটি এমন এক বিষয়- যা সাধারণ ইন্দ্রিয়শক্তি আয়ত্ব করতে সক্ষম নয়। মাথা-মস্তিষ্ক খাটিয়ে এটাকে স্বীকার করতে হয়। তবুও এই স্বীকারোক্তির পরও সে বিভিন্ন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে থাকে। কিন্তু সে চারপাশে স্রষ্টার এত এত নিদর্শন দেখতে পায় এবং তার এত কাজ দেখতে পায়, যেগুলো তার অস্তিত্বের প্রমাণ উপস্থাপন করে। তবে আবার তার ভাগ্যে এমন অনেক ব্যাপার ঘটতে থাকে, যখন মনে হয়, তাঁর অস্তিত্বের ওপর যদি এত প্রমাণ না থাকত, তবে তো সে অস্বীকার করেই বসত।
আল্লাহ হলেন সেই মহান সত্তা, যিনি বনি ইসরাইলের জন্য সমুদ্র বিদীর্ণ করে রাস্তা করেছেন। এটি এমন এক বিষয়, যা কখনো স্রষ্টা ব্যতীত অন্য কেউ করতে পারে না। তিনি লাঠিকে সাপে রূপান্তরিত করেছেন, সেই সাপ জাদুকরদের সকল সাপকে ভক্ষণ করে ফেলেছে। এরপর তাকে আবার লাঠিতে রূপান্তরিত করেছেন। এগুলোর পরও কি আর কোনো প্রমাণ দরকার হয় তাঁর অস্তিত্ব ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে?
কিন্তু কথা হলো, যখন জাদুকররা ঈমান আনল, তিনি তাদেরকে ফিরআউনের কবলেই রেখে দিলেন। ফিরআউন তাদেরকে হত্যা করল। শূলে চড়াল। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না। এভাবে আরও কত নবী ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। যেমন, হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামকে করাত দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছে। হজরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামকেও হত্যা করা হয়েছে। আরও অনেক নবীকেও নির্যাতন-নিপীড়ন, কষ্টক্লেশ, হাসি-ঠাট্টা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের মাঝে নিপতিত হতে হয়েছে। আমাদের নবীকেও অনেক কষ্ট দেওয়া হয়েছে। মক্কায় থাকার সময় তাঁকে অনেকবার বলতে হয়েছে- কে আমাকে সাহায্য করবে? কে আমাকে সাহায্য করবে? অবস্থা ছিল এতটাই ভয়াবহ!
এক্ষেত্রে স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে যারা মূর্খ, তারা বলতে চায়, তিনি যদি থাকতেনই তবে তিনি তাঁর প্রিয় ব্যক্তিদের সাহায্য করতেন। তাঁদেরকে এভাবে কষ্ট সহ্য করতে দিতেন না। নির্যাতন ও হত্যার শিকার হতে দিতেন না!
এটা খুবই মূর্খতাসুলভ কথা ও যুক্তি। স্রষ্টাকে যদি স্রষ্টাই মানি, তবে তাঁর কাজের ক্ষেত্রে আপত্তি আসে কীভাবে? যে বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট বিভিন্ন অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণিত, তাঁর জন্য উচিত হবে কিছুতেই স্রষ্টার কার্যাবলির ক্ষেত্রে আপত্তি না করা। তাঁর কোনো কাজের জন্য কারণ অন্বেষণ না করা। কারণ, তাঁর নিকট যেহেতু প্রমাণিত হয়েই আছে তিনি স্রষ্টা মালিক এবং প্রজ্ঞাময়- তবে আর তাঁর কোনো কাজের ক্ষেত্রে আপত্তি আসবে কেন?
কিন্তু কথা হলো, তাঁর কোনো কাজের রহস্য, মূল কারণ কিংবা কল্যাণকামিতা যদি আমাদের নিকট অস্পষ্ট ও অধরা থাকে, না বুঝে আসে- তবে নিশ্চয় সেটা আমাদের বুঝের অভাবের কারণে। আমাদেরই অযোগ্যতা ও অক্ষমতার কারণে। দুনিয়ার পরীক্ষাগারে এটা এমনই থাকতে পারে। আবার ইচ্ছা করলে কিছু কিছু তিনি দুনিয়াতেই আমাদের কাছে প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু তার সবকিছু আমরা বুঝতে সক্ষম নই। এটা সম্ভবও নয়।
আমরা হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনার দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখি। তিনি তো প্রথমে নৌকা বিদীর্ণ করা এবং ছোট বাচ্চাটাকে হত্যা করার রহস্য সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেননি। এতে তিনি কোনো কল্যাণ দেখতে পাননি। বরং এটাকে তার মনে হয়েছে অন্যায় ও জুলুম। কিন্তু যখন তার নিকট মূল বিষয়টি প্রকাশ করা হলো, তখন তিনিই স্বীকার করলেন- হ্যাঁ, এর মধ্যেই কল্যাণ ও ইনসাফ ছিল।
ঠিক একইভাবে স্রষ্টার কার্যাবলির ক্ষেত্রে যখন আমাদের নিকট কল্যাণটা অস্পষ্ট থাকে, তখনই আমাদের মস্তিষ্ক অস্বীকার করে বসে। এ বড় তাড়াহুড়াপ্রবণ কাজ। মূর্খের মতো আচরণ। বরং যখন তুমি মস্তিষ্ককে বলতে শুনবে- আমি কেন চুপ করে থাকব?
তখন তুমি তাকে বলো, হে মূর্খের মূর্খ, তুমি তো তোমার নিজের বাস্তবতা সম্পর্কেই কিছু জানো না। তবে আর কোন মুখে স্রষ্টা ও মালিকের কাজের ওপর আপত্তি তোলো?
আবার কখনো কখনো ঘুমন্ত বিবেক মাথা তুলে বলে ওঠে, মানুষদের এত কষ্টের মধ্যে আপতিত করে স্রষ্টার কী লাভ! তিনি তো কোনো ধরনের কষ্ট ছাড়াও তাদেরকে পুরস্কার ও শান্তি দিতে সক্ষম? জাহান্নামিদের শাস্তি প্রদানের মধ্যেই বা তার কী উদ্দেশ্য লুকায়িত?
তখন তুমি তাকে বলো, তার হিকমত ও প্রজ্ঞা তোমার সকল অবস্থান থেকে বহু ঊর্ধ্বে। সুতরাং যে সম্পর্কে তুমি জানো না, তা স্বীকার করে নাও। কারণ, সর্বপ্রথম যে নিজের যুক্তি দিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল, সে হলো ইবলিস। সে মাটির ওপর আগুনের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে যুক্তি দেখিয়েছিল। তাই সে সেজদা করতে অস্বীকার করেছিল।
আমরা এমন অনেককে দেখেছি এবং আরও অনেকের কথা শুনেছি- যারা স্রষ্টার হিকমতকে স্বীকার করতে চায় না। তারা নিজেদের বুদ্ধি বিবেক ও যুক্তির দাবি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু তারা ভুলে যায়- স্রষ্টার হিকমত তাদের যুক্তি-বুদ্ধির কত ঊর্ধ্বে! তিনিই হলেন এসকল যুক্তি বুদ্ধি ও বিবেকের স্রষ্টা!
সুতরাং তোমার এই সামান্য বুদ্ধি ও ভঙ্গুর যুক্তি নিয়ে স্রষ্টার ভুল ধরতে যাওয়া থেকে বেঁচে থাকো। তাঁর কোনো কাজে আপত্তির উত্তর অন্বেষণ করা থেকে বিরত থাকো। তুমি তোমার নিজের জ্ঞান-বুদ্ধিকে বলো - سلم تسلم মেনে নাও, নিরাপদ থাকবে। কারণ, তুমি তো তার জ্ঞানের সাগরের অতলে পৌঁছতে পারবে না, বৃথাই শুধু তার আগেই ডুবে মরবে।
বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এটিই হলো মূলনীতি। যে মানুষ এটার অনুসরণ করে না, সে আপত্তি করতে করতে কুফরির দিকে ধাবিত হয় এবং ধ্বংস হয়।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 বুদ্ধিমান ব্যক্তির কোনো উদাসীনতা থাকে না

📄 বুদ্ধিমান ব্যক্তির কোনো উদাসীনতা থাকে না


জ্ঞান ও বুদ্ধি যখন পরিপক্ক হয়, দুনিয়ার আস্বাদন তখন বিদূরীত হয়ে যায়। শরীর ভেঙে পড়ে। অসুস্থতা বাড়তে থাকে। চিন্তা-কষ্ট তীব্র থেকে তীব্র হতে থাকে।
কারণ, জ্ঞান ও বুদ্ধি যখন সবকিছুর পরিণামের দিকে দৃষ্টিপাত করে, তখন সে দুনিয়ার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তখন সে তার সুদূর স্থায়িত্বের দিকে ধাবিত হয়। তখন তার কাছে আর তাৎক্ষণিক স্বাদ-আহ্লাদের কোনো মূল্য থাকে না।
দুনিয়ার আনন্দ-স্ফূর্তি নিয়ে তারাই মেতে থাকে, যারা আখেরাতের চিন্তা থেকে গাফেল ও উদাসীন। যারা আসন্ন ভয়াবহতা সম্পর্কে অসতর্ক। কিন্তু জ্ঞান ও বুদ্ধি যার পরিপক্ক হয়েছে এবং দৃষ্টিতে দূরদর্শিতা এসেছে, সে তো আর উদাসীন ও অসতর্ক থাকতে পারে না। এ কারণেই হয়তো সে অন্যদের মতো সকল মানুষের সাথে নির্বিবাদে মিশতে পারে না। অবুঝ মানুষদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না। তারাও যেন তার শ্রেণির নয়। সেও যেন তাদের শ্রেণির নয়।
যেমন জনৈক কবি বলেন, ما في الديار أخو وجد نطارحه ... حديث نجد ولا خل نجاريه
ঘরে নেই ব্যথার সাথি, যার সাথে কিছু সন্তুষ্টচিত্ত কথা বলতে পারি। নেই কোনো এমন বন্ধু, আপন বলে যাকে কাছে টানতে পারি।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 সকল কাজে সতর্কতা অবলম্বন করা

📄 সকল কাজে সতর্কতা অবলম্বন করা


বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য উচিত সকল কাজেই যথাসম্ভব সর্বোচ্চ পরিমাণে সতর্কতা অবলম্বন করা। সতর্কতা সত্ত্বেও যদি ভাগ্যের কিছু ঘটে যায়, তবে সেটা কষ্ট দেবে না।
ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সকল বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত এবং সে জন্য প্রস্তুত থাকা ও প্রয়োজন। এটা সকল অবস্থার জন্যই প্রযোজ্য।
একবার একলোক তার নখ কাটছিল। অসতর্কতায় আঙুলের কিছু অংশ কেটে গেল। এতে একসময় তার হাতটিই পচে গেল। অবশেষে এতে করে লোকটি মারাই গেল।
আমাদের উস্তাদ শায়খ আহমদ আল হারাবি রহ. একবার বাহনে সাওয়ার হয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। রাস্তা ছিল খুবই সংকীর্ণ। বাধ্য হয়ে বরফের ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়েছিল। এতে তার বক্ষ সংকীর্ণ হয়ে উঠল। ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাতেই ইন্তেকাল করলেন।
ইয়াহইয়া ইবনে নিযার নামে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি প্রায় আমার মজলিসে আগমন করতেন। একদিন তার কান ভারি ভারি লাগছিল। যেন কানের মধ্যে ঘণ্টাধ্বনি বাজছে। কানে জোরে একটি থাপ্পড় দিলেন। মগজ থেকে কিছু একটা বের হয়ে এল এবং তৎক্ষণাৎ তিনি মৃত্যুবরণ করলেন।
স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সতর্কতার বিষয়টি লক্ষ করে দেখো—তিনি একবার এক হেলে পড়া দেয়ালের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় দ্রুত রাস্তা পার হলেন। এছাড়া তার জীবনের অন্যান্য কাজেও সতর্কতা ছিল সব সময়। কত আগেই না হিজরত সম্পর্কে আবু বকর রা.-কে সজাগ করে দিয়েছিলেন!
একজন মানুষের জন্য কর্তব্য হবে- সে তার যৌবনের উপার্জনে সতর্কতার সাথে বৃদ্ধ বয়সের জন্য সঞ্চয় করে রাখবে। জীবনের কোনো কারবার বা লেনদেনের ক্ষেত্রে পরীক্ষিত আস্থাবান না হলে কারও ওপর আস্থা করে বসবে না। কখন মৃত্যু এসে যায় ঠিক নেই, কিছু ওসিয়ত করতে হলে আগেই করে রাখবে। শত্রুর ক্ষেত্রে যেমন সতর্ক থাকবে, বন্ধুর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকবে এবং জীবনে কখনো কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে তার হৃদ্যতার ব্যাপারেও সতর্ক থাকবে। কারণ, তার অন্তরের ক্রোধ বা ক্ষোভ হয়তো এখনো ধিকিধিকি জ্বলছে। সুযোগ পেলে যেকোনো সময় ক্ষতি করতে পারে।
মুসতারশিদের খেলাফতের সময় কবি ইবনে আফলাহ গোপনে তার নেতার সাথে চিঠি আদান-প্রদান করত। এই ঘটনা জানত তার দারোয়ান। ঘটনাক্রমে একসময় তিনি তার দারোয়ানকে বাদ দিয়ে দিলেন। দারোয়ান ক্ষুব্ধ হয়ে কবির গোপন চিঠি আদান-প্রদানের কথা ফাঁস করে দিলো। পরিণামে বাদশাহর বাহিনী এসে কবির বাড়ি-ঘর সব ভেঙে চুরমার করে দিয়ে গেল।
এখানে মাত্র অল্পকিছু উদাহরণ উপস্থাপন করা হলো। এমন অসতর্কতার ভয়াবহ পরিণতির ঘটনা ছড়িয়ে আছে আরও অনেক। মোটকথা সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সতর্ক থাকতে হবে কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতি প্রদানের ক্ষেত্রে, প্রকৃত তাওবার ক্ষেত্রে- তাকে মৃত্যু আক্রমণ করার আগেই। আর বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে অলসতার চোর থেকে। কারণ, সে মানুষের সময় চুরি করার ক্ষেত্রে ভয়াবহ রকমের দক্ষ।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 ইন্দ্রিয়জাত সুখ

📄 ইন্দ্রিয়জাত সুখ


আমি একবার চিন্তা করলাম রাজা-বাদশাহর পারস্পরিক লড়াই নিয়ে, ব্যবসায়ীদের লোভ নিয়ে, জাহেদদের কপটতা নিয়ে এবং মানুষের হিংসা ও শত্রুতা নিয়ে। তাদের অব্যাহত সীমাহীন গিবত, প্রতিশোধ ও অন্যায় নিয়ে। অবশেষে বুঝলাম, এগুলোর অধিকাংশই করা হয় বাহ্যিক ইন্দ্রিয়জাত আনন্দ ও সুখ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে।
কিন্তু কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি যদি একটু ভেবে দেখে, তবে সে জানতে পারবে- ইন্দ্রিয়জাত সুখ খুবই দ্রুত অপসারিত ও অবসাদিত হয়ে পড়ে। এখানে কখনোই সর্বোচ্চ বা সীমাহীন সুখ ও তৃপ্তি লাভ করা সম্ভব নয়। বরং কেউ যদি এক্ষেত্রে বেশি বাড়াবাড়ি করে- অতি বেশি রকমের সুখ আস্বাদন করতে চায়, তবে তো সে যতুটুকু সুখ পাবে, তার চেয়ে বহুগুণ কষ্টের মধ্যে নিজেকে আপতিত করবে।
একজন মানুষ কতই আর খেতে পারে এবং কতই আর সহবাস করতে পারে! বাড়াবাড়ি করলে নিজেকেই কষ্ট ও ধ্বংসের মধ্যে আপতিত করে ছাড়ে।
কিন্তু সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি- যিনি তার দ্বীনের সংরক্ষণে গুরুত্ব প্রদান করেন। দ্বীনকে প্রাধান্য দেন এবং দুনিয়া থেকে তার পরিমাণমতো গ্রহণ করেন- হালালভাবে।
আহা, কে বুঝবে, এটি এমন এক পোশাক, যে ব্যক্তি তা পরিমিতভাবে পরিধান করবে, পোশাক তার খেদমত করবে। আর যে ব্যক্তি অনেক বাড়িয়ে লম্বা করে বানাবে, তাকে নিজেকেই পোশাকের খেদমতে লাগতে হবে। আর যদি কোনো অহংকারী পোশাকবিলাসী তার নিজের পোশাকের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে অবলোকন করে, তবে আল্লাহ তখন তার দিকে আর তাকাবেন না!
সহিহ হাদিসে রয়েছে, একদা এক ব্যক্তি তার পরিধেয় চাদর নিয়ে অহমিকা দেখাচ্ছিল, এমতাবস্থায় সে ভূমিতে ধ্বসে গেল।
কারও পানাহার যদি হারাম হয়, তবে সে তার আস্বাদনের বহুগুণ বেশি শাস্তি প্রাপ্ত হবে। আর ধর্ষকের শরয়ি দণ্ড ছাড়াও সামাজিকভাবে তার ভিন্ন রকম মানসিক শাস্তি রয়েছে।
তুমি বিভিন্ন রাজা-বাদশাহর বিষয়ে চিন্তা করে দেখো, তারা কত মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। কত হারাম কাজের মধ্যে প্রবেশ করেছে। এগুলো করার দ্বারা তারা কী অর্জন করেছে? দুনিয়ার সামান্য কিছু ইন্দ্রিয়জাত সুখ ও আনন্দ। কিন্তু ভালো কাজ না করার আফসোস এবং মন্দের শাস্তি ভোগ তাদের উজ্জ্বল জীবনের ওপর কলঙ্কের ছায়া ফেলে দিয়েছে।
সুতরাং হে পাঠক, নিরালায় মহৎ ইলমচর্চাকারী আলেমের চেয়ে সুখী ও আনন্দদায়ক জীবন পৃথিবীতে আর কারও নেই। ইলমই তার সর্বক্ষণের সঙ্গী ও সাথি। যতটুকু হালাল উপার্জনে নিজের দ্বীনকে রক্ষা করা সম্ভব, ততটুকুতেই সে সন্তুষ্ট। তার কোনো লোক দেখানো লৌকিকতার প্রয়োজন হয় না। এর জন্য নিজের দ্বীনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে হয় না। সে দুনিয়া ও তার অধিবাসীদের লাঞ্ছনা থেকে বহুদূরে সম্মানের চাদর পরিধান করে আছে। অঢেল সচ্ছলতা যদি তার না-ও থাকে, তবুও সে অল্পতেই সন্তুষ্টির পোশাকে আচ্ছাদিত হয়ে আছে। আর এতেই সে তার দ্বীন ও দুনিয়া রক্ষা করার সহজ পথটি পেয়ে যায়।
ইলমের মধ্যে মগ্ন থাকা তাকে বহু শ্রেষ্ঠত্বের সন্ধান প্রদান করে। জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিভিন্ন উদ্যানে পরিভ্রমণ করিয়ে আনে। এটাই তাকে শয়তান থেকে, সুলতান থেকে এবং মানুষের ভিড় থেকে বিচ্ছিন্ন ও নিরাপদ রাখে। কিন্তু এই অবস্থাটি শুধু একজন আলেমের জন্যই সমুচিত। কারণ, কোনো মূর্খ যদি এমন নির্জনতা অবলম্বন করতে যায়, তবে তো সে ইলম থেকে বঞ্চিত হবে এবং বিপথগামী হয়ে পড়বে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00