📄 দুনিয়া সুখের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি
হজরত শীবান আর-রাঈ রহ. হজরত সুফিয়ান সাওরি রহ.-কে যে কথাটি বলেছিলেন, একদিন আমি সেই কথা নিয়ে চিন্তা করলাম। কথাটি হলো,
'হে সুফিয়ান, তোমার প্রার্থিত যে নিয়ামত তোমাকে প্রদান করা হয় না, সেটাকেও তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত হিসেবেই গণ্য করে নিয়ো। এটা তিনি তোমাকে কৃপণতা করে বঞ্চিত করেছেন এমন নয়; বরং তিনি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেই এটা থেকে বঞ্চিত করেছেন।'
ভেবে দেখলাম, এটি এমন এক ব্যক্তির কথা, যিনি বস্তুসমূহের বাস্তবতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। যার বুঝ ও বোধের মধ্যে কোনো দুর্বলতা নেই। কারণ, মানুষ কখনো কখনো অনিন্দ্য সুন্দরী নারীদের প্রত্যাশায় বিবাগী হয়। কিন্তু তাকে পেতে সক্ষম হয় না। সে তাতে খুবই পেরেশান ও ব্যথিত হয়। কিন্তু কথা হলো, এই না পাওয়ার মধ্যেই আসলে তার কল্যাণ নিহিত ছিল। যেমন, সে যদি নারীগুলোকে প্রাপ্ত হতো, তাহলে তার অন্তর সব সময় অস্থির হয়ে থাকত। তাদের আদর-যত্নে রাখার জন্য উপার্জন করতে হতো। তাদের প্রতি তার প্রচণ্ড ইশক বা ভালোবাসা তার জীবনটাই যেন নষ্ট করে দিত। তাদের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সে আখেরাতের প্রতি গুরুত্ব প্রদানকে অবহেলা করে বসত। এরপর যদি সেই নারীরা তাকে মন থেকে না চায়, তবে তো তার জন্য আরও বড় ধ্বংস। এরপর তারা তাদের ইচ্ছামতো খরচ-পত্র চাইবে, আর যদি সে দিতে সক্ষম না হতো, তাহলে তো এতে তার সম্মান বিনষ্ট হতো এবং উদ্দেশ্যগুলোও অধরা থাকত। তারা যদি ঘনঘন সহবাস কামনা করত আর সে যদি অক্ষম হয়ে পড়ত, তাহলে তারাই তাকে শেষ করে দিত কিংবা অবাধ্য হয়ে অন্যকোথাও চলে যেত। আর যদি তার প্রিয়তমা মারা যেত, তাহলেও সে আফসোসে আফসোসে নিজেকে নিঃশেষ করে দিত।
সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো অনিন্দ্য সুন্দরীর কামনা করে, সে যেন নিজেকে জবাই করার জন্য শান্তি ছুরি প্রার্থনা করে; কিন্তু সে এটা জানে না।
অধিক সম্পদের প্রার্থনার বিষয়টাও ঠিক এমন। বরং প্রয়োজন পরিমাণ সম্পদ থাকাই শ্রেষ্ঠতর। এটাই নিয়ামত। বেশি হয়ে পড়লে অনেক সময় সেটা 'গজব' হয়ে ওঠে।
সহিহ বোখারি ও মুসলিমের সংকলিত হাদিসের মধ্যে আছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'হে আল্লাহ, তুমি মুহাম্মদের পরিবারকে পরিমিত প্রয়োজন পরিমাণ রিজিক দিয়ো।'
আর যখন বেশি সম্পদ হয়, তখন মনোযোগও বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। বুদ্ধিমান তো ওই ব্যক্তি, যে জেনেছে- দুনিয়া নিরবচ্ছিন্ন সুখ উপভোগ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। সুতরাং সে অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকে।
📄 শিক্ষার আলোর চিন্তার জানালা খোলো
আমি কিছু লোককে দেখেছি, যারা তাকদির বা ভাগ্যকে দোষারোপ করে। তারা বলে, 'যদি জানতাম (ভাগ্যে ভালো আছে), তবে আমল করতাম।'
এটা খুবই দুর্বল এক যুক্তি। যেন হাত দিয়ে পাহাড় ঠেকানো। এ দ্বারা যেন সে সকল নবী ও শরিয়তকে প্রত্যাখ্যান করতে চায়। কোনো কাফের যদি রাসুলকে বলত, 'তিনি যদি আমাকে তাওফিক দেন, তবে আমি ইসলাম গ্রহণ করব।' তবে এর উত্তর শুধু তার ঘাড় মটকে দেওয়ার মাধ্যমেই দেওয়া উচিত হতো। কারণ, সে যেন বলতে চায়, আল্লাহই তার ইসলাম গ্রহণ ঠেকিয়ে রেখেছেন!
ঠিক এই ধরনের কথা লোকজন হজরত আলি রা.কে বলেছিল, তারা বলেছিল- 'আমরা আপনাকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করছি।'
উত্তরে হজরত আলি রা. বলেছিলেন, كلمة حق أريد بها باطل - কথাটি খুব সত্য- কিন্তু তার দ্বারা উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে খারাপ।'
ঠিক এইভাবে দান-সদকা থেকে বিরত থাকা ব্যক্তিরা দলিল প্রদান করে এই কথা বলে-
( أَنُطْعِمُ مَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ أَطْعَمَهُ )
আমরা কি এমন ব্যক্তিকে খাওয়াতে যাব, আল্লাহ ইচ্ছা করলেই যাকে খাওয়াতে পারেন। [সুরা ইয়াসিন: ৪৭]
আমি কসম করে বলতে পারি, আল্লাহর পক্ষ থেকে কাউকে 'তাওফিক' বা 'সক্ষমতা' প্রদান করাই হলো আসল বিষয়। এটা ছাড়া মানুষ বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত হতে পারে। এমনকি কোরআনের আয়াতের মাধ্যমেও।১৭ কিন্তু তাওফিক জিনিসটা একটি অদৃশ্য বিষয়। এটা আগে থেকে বোঝার উপায় নেই। কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে আদেশ প্রদান- এটা স্পষ্ট বিষয়। হুকুম মান্য করার আবশ্যকতা একটি স্পষ্ট বিষয়। সুতরাং কোনো বুদ্ধিমানের জন্য উচিত হবে না, অস্পষ্ট বিষয়ের কথা বলে স্পষ্ট বিষয় থেকে বিরত থাকা।
পূর্বে উল্লেখিত বিভ্রান্ত ব্যক্তিদের কথার উত্তর এভাবেও প্রদান করা যায় যে, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাকে এমন বিষয়েরই আদেশ দিয়েছেন, যে বিষয়ে তোমার অভ্যাস রয়েছে এবং সেটা করার ওপর তোমার সক্ষমতাও রয়েছে।
সেটা করার সক্ষমতা যদি তোমার না থাকত এবং সে ধরনের কাজের অভ্যাস যদি তোমার না থাকত, তবে আর তোমাকে এ ধরনের আদেশও দেওয়া হতো না এবং এ ধরনের দায়িত্বও প্রদান করা হতো না।
বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করো—তুমি যেহেতু তোমার দুনিয়ার উদ্দেশ্য ও চাহিদা পূরণের জন্য অভ্যস্ত কাজগুলো করে থাকো, তাহলে এবার তোমার ওপর অর্পিত কর্তব্য হিসেবে সেই কাজগুলো করো। কিন্তু এগুলো তখন তোমার নিকট কষ্টকর মনে হয়। যেমন, তুমি তোমার ব্যবসার লাভের জন্য বহু দূর-দূরান্তে সফর করো; কিন্তু তোমাকে হজের কথা বলা হলো, অথচ তুমি সেটা করছ না।
রাতে তোমার নামাজের জন্য জাগতে কষ্ট হয়, কিন্তু কোনো আনন্দ-উৎসবে দ্রুত বের হওয়ার জন্য গহীন রাতেও তুমি উঠতে পারো।
তুমি তোমার কোনো উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কিংবা অযথা তোমার বন্ধুর সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে পারো, কিন্তু নামাজের কথা আসলেই তোমার কষ্ট হয়, সময় থাকে না কিংবা তাড়াহুড়া বেঁধে যায়।
জীবনে এমন কত অনর্থক কাজেই না তুমি তোমার মূল্যবান সময়গুলো বিনষ্ট করছ। সুতরাং আজই... আজই এ ব্যাপারে সতর্ক হও। সময় তো চলে যায়। তোমার প্রাপ্তির অংশগুলো কমতে চলেছে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে সতর্ক করছেন তোমারই জন্য। তিনি তোমাকে উৎসাহিত করছেন তোমারই কল্যাণের জন্য। দ্রুত প্রতিযোগিতায় নামো। এখানে তোমার অনেক প্রতিযোগী রয়েছে।
আগে থেকেই যারা প্রতিযোগিতায় রয়েছে, পরিশ্রম করে চলেছে, তাদের পুরস্কারের কথা একবার চিন্তা করো— সেগুলো তোমার থেকে ছুটে গেছে। এরপরও কি অলসতার মধ্যে তুমি ডুবে থাকবে?
যার মধ্যে সামান্যতমও আত্মসম্মানবোধ ও জীবনীশক্তি রয়েছে, তার জেগে ওঠার জন্য বঞ্চনার এই তিরস্কারটুকুই যথেষ্ট। কিন্তু যার হিম্মত মরে গেছে— এমন মৃতের জন্য কোনো ওষুধ নেই।
তখন অবস্থাটা কেমন হবে, যখন তুমি তোমার কবর থেকে উত্থিত হবে আর দেখবে— আশপাশের সকলেই মুক্তি ও পুরস্কারের আনন্দে উদ্বেলিত আর তোমাকে দেওয়া হচ্ছে শাস্তি?
সৎকর্মশীলরা জোর পায়ে সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে আর উদ্দেশ্যহীনভাবে তুমি কোথায় ঘুরপাক খাচ্ছ?
হায়! জেনে রেখো, বিভ্রান্তির এই সকল উচ্ছল আনন্দ কোথায় ছুটে টুটে যাবে; অবশিষ্ট থাকবে শুধু তোমার আফসোসের তিক্ত তীক্ষ্ণ শাস্তি। বিবশ অলসতার গ্লাসভরা বিলাস কোথায় পড়বে উল্টে; পড়ে থাকবে শুধুই অনুশোচনা আর অনুতাপ!
আখেরাতের অনন্তকালের তুলনায় দুনিয়ার এই সামান্য অবস্থিতির কি কোনো তুলনা চলে? তাছাড়া এই দুনিয়ার জীবনই বা কেমন কাটে? অর্ধেক তো ঘুমে আর অর্ধেক গাফলতে! হে অলীক স্বপ্নবিলাসী, জান্নাতের হুরের প্রত্যাশা করো, অথচ দৃঢ়তার পয়সা অর্জন করো না।
অভিজ্ঞতার আলোয় চিন্তার জানালা এবার একবার খুলেই দেখো না! তুমি কোথায় দাঁড়িয়ে—অথচ কোথায় তোমার উচিত ছিল দাঁড়ানো!
টিকাঃ
১৭. আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারায় (২/২৬) বলেন, 'কোরআনের দ্বারা তিনি অনেককে বিপথগামী করেন, আবার অনেককে সুপথে পরিচালিত করেন।' -সম্পাদক
📄 প্রকৃত সুখের জায়গা
প্রসিদ্ধ ওয়ায়েজ হজরত আলি ইবনুল হুসাইনকে আমি মেম্বারে বসে বলতে শুনেছি— 'আল্লাহর কসম, গতরাতে আমি আমার অবস্থা নিয়ে অঝোর ধারায় ক্রন্দন করেছি।'
আমি চিন্তা করতে লাগলাম এবং মনে মনে বলতে লাগলাম, তার এমন কী হলো যে, তিনি দীর্ঘরাত ক্রন্দন করলেন? তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যার কোনো অভাব নেই। অনেকগুলি তুর্কি দাসী আছে। এছাড়াও শুনেছি সুন্দরী রূপসী কয়েকজন স্ত্রীও আছে। ভালো ভালো খাবার খান। মুরগি। মিষ্টান্ন। ফল-ফলাদি। তার রয়েছে অনেক কৃতিত্ব ও অঢেল সম্পদ। অবারিত সম্মান ও মর্যাদা। বহু মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব। আবার অনেক ধরনের ইলম ও জ্ঞানও তিনি অর্জন করেছেন। অনেক আলেম ও পণ্ডিত ব্যক্তিকে তিনি নিজের কাছে পোষ্য করে রেখেছেন। তারা তাকে প্রশান্তি দান করে। তার প্রশংসা স্তুতি প্রকাশ করে। এত এত সুখ! এত এত সুখের উপকরণ! তবে আর কোন জিনিস তাকে এভাবে কাঁdal? কিসের অভাব তার?
এটা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করার পর যে বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট হলো, তা হলো, নফস কখনো একটি গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সে প্রতিনিয়ত এক আস্বাদন ও আনন্দ থেকে আরেকটির দিকে ধাবিত হতে থাকে। একের পর এক চলতেই থাকে। এর কোনো শেষ বা সীমা নেই। যখনই একটি নতুন আনন্দের সন্ধান পায়, কিছুক্ষণ বা কিছুদিন সেটা নিয়ে মেতে থাকে। এরপর আরেক নতুনের দিকে ধাবিত হয়। এভাবে জীবনের সময় নিঃশেষ হতে থাকে। শরীর দুর্বল হয়ে আসে। বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দিতে থাকে। সম্মান ও কর্তৃত্বও কমতে থাকে। আগের মতো নিজের যেকোনো কামনা ও বাসনা পূরণের সক্ষমতা আর থাকে না।
দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বোকা হলো সেই, যে ব্যক্তি এখানে তার পূর্ণ সুখ উপভোগ করতে চায়। কারণ, দুনিয়া তো প্রকৃত সুখের জায়গা নয়। এখানে শুধু কষ্ট ও বেদনার মাঝে ক্ষণিকের জন্য কিছু স্বস্তি ও আরাম অনুভব করা যায়। এখানে নিরবচ্ছিন্ন কোনো সুখ নেই এবং তা সম্ভবও নয়।
আমরা অনেক সময় ঈর্ষান্বিত হই এমন ব্যক্তিকে দেখে- যে কোনো নারীকে ভালোবেসেছে। নারীটিও তাকে ভালোবেসেছে। দুজন দুজনার একান্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, একজন অন্যজনের বিরহ একমুহূর্তও সইতে পারে না। প্রবল প্রতাপ ভালোবাসার এমনই শক্তি ও বন্ধন। একে অপরের প্রতি সার্বক্ষণিক দৃষ্টির বিনিময়। চোখে চোখে থাকা এবং চোখে চোখে রাখা।
কিন্তু কালের পরিক্রমায় একসময় এই রূপময় ভালোবাসার মাঝেও চিড় ধরে। চোখ আবার অন্যকোথাও পড়ে। নতুন কারও ওপর। মনের মধ্যে আবারও কেমন আনচান করে ওঠে। আর মানুষের স্বভাব হলো এই যে, যখন নতুন কোথাও দৃষ্টি যায়, পুরাতনকে তা দুর্বিষহ করে তোলে। তার সান্নিধ্যকে আকর্ষণহীন করে তোলে। কারণ, দূর অনুপস্থিতির কোনো দোষ-ত্রুটি তার দৃষ্টিগোচর নয়। তাই প্রবলভাবে মন তখন হঠাৎ দেখা অচেনা মানুষের দিকে ছুটতে থাকে এবং উপস্থিত নিকটবর্তী মানুষের সাথে বসবাসকে কদর্যময় করে তোলে। এরপর দ্বিতীয়াকে পাওয়ার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে— যেমন একদিন ব্যাকুল হয়েছিল প্রথমার জন্য।
অবশেষে দ্বিতীয়াকে যদি পায়— একদিন তার সাথেও প্রথমার মতো বিষয়গুলো ঘটে। তখন সে তৃতীয়ার দিকে আকর্ষিত হতে থাকে। এরপর হয়তো অন্যকেউ... তারপর অন্যকেউ... কিংবা ততদিনে নিজেই হয়তো ফুরিয়ে যাবে। অক্ষম অথর্ব হয়ে পড়বে। নিজের থেকে আর কোনো উত্তেজনা অনুভব করবে না। মন নিরাশ হয়ে উঠবে। তখন কিছুই আর ভালো লাগবে না।
কেউ যদি এভাবে প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে থাকে, খুব দ্রুতই সে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। সেই তো দুর্ভাগা— যে ব্যক্তি পরিণতির কথা চিন্তা না করেই কোনো বিষয়ে নিজেকে ঠেলে দেয়। এবং নিজের দুনিয়া ও আখেরাত ধ্বংস করে।
📄 দীর্ঘ উচ্চাশার প্রতারণা
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, বর্তমান সুস্থতা নিয়ে মানুষের ধোঁকায় পতিত হওয়া। সে আশা করে, পরেও বুঝি এভাবেই সুস্থ ও সবল থাকবে। এটি এমনই এক আশার বিষয়— যার কোনো শেষ নেই। এই প্রতারণারও কোনো সীমা নেই। যখনই সে সকাল করে কিংবা সন্ধ্যা— এই আশা সে করতে থাকে। প্রতারিত সময় যেতে থাকে, উচ্চাশাও দীর্ঘ হতে থাকে।
অথচ তোমার জন্য এর চেয়ে বড় শিক্ষণীয় বিষয় আর কী হতে পারে যে, তুমি তোমার অনেক সমবয়সীকে মরে যেতে দেখেছ। তোমার অনেক ভাই, অনেক আত্মীয় এবং অনেক প্রিয় ব্যক্তির কবরও আজ পুরোনো হয়ে গেছে। তুমি কি চিন্তা করে দেখো না, কিছুদিন পর তুমিও তাদের মতো হয়ে যাবে? এরপরও কেন অন্যকেউ তোমাকে সতর্ক করে না দিলে তুমি সতর্ক হও না? এটা তো খুবই নির্বোধের মতো কাজ। যার কোনো জ্ঞান ও বুদ্ধি রয়েছে, সে তো এমন অবহেলার পথ অনুসরণ করবে না।
হ্যাঁ, বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার সুস্থতার সময় অধিকহারে কাজ করে নেয়। সে এই সময়ে তার অথর্ব সময়ের জন্য গচ্ছিত করে রাখে। সক্ষমতার সময়ে পাথেয় সংগ্রহ করে অভাবের সময়ের চিন্তা করে। বিশেষ করে যে ব্যক্তি জেনে নিয়েছে যে, আখেরাতের মর্যাদা প্রদান করা হবে দুনিয়াতে তার আমলের পরিমাণ অনুযায়ী। এটি এমন এক প্রতিযোগিতা, যা একবার ছুটে গেলে আর কখনো সুযোগ পাওয়া যায় না।
আচ্ছা, তুমি নিজেই ভেবে বলো তো দেখি, যে গোনাহগারকে সর্বশেষ ক্ষমা করা হবে, সে কি কখনো উচ্চ পর্যায়ের নিষ্কলুষ ব্যক্তিদের মর্যাদা প্রাপ্ত হবে? হবে না।
যে ব্যক্তি নিজের মনের মধ্যে সেই জান্নাতের কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে- যার মধ্যে কোনো মৃত্যু নেই, নেই অসুস্থতা, ঘুম এবং কষ্ট। বরং সেখানে রয়েছে সার্বক্ষণিক আনন্দ সুখ ও উপভোগ- যার কোনো শেষ নেই। এবং সেখানকার সুখ ও আনন্দ বৃদ্ধি পাবে দুনিয়ার সময়গুলোর চেষ্টা ও পরিশ্রম করার পরিমাণ অনুপাতে। যে ব্যক্তি এই কথাগুলো ভাববে, সে তো এই জীবন নিয়ে আমলের প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়বে। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘুমাবেও না। একটি মুহূর্তও সে নষ্ট করবে না। এমনটি হওয়াই উচিত নয় কি?