📄 হৃদয় কাঁপানো উদ্বেগ
আমি একবার আমাদের শ্রেষ্ঠ মানুষগুলো এবং খারাপ লোকদের বিষয়ে চিন্তা করলাম। তাদের মাঝে এই পার্থক্যের কারণ কী? কোন মৌলিকতার কারণে মানুষের মাঝে এই পার্থক্য সূচিত হয়?
আমি বুঝতে পারলাম, এর কারণ হলো বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি। যে মানুষের মৌলিক বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, সে অপরিহার্যভাবেই ভালো পথে চলে এবং ভালো হয়। আর যার বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনষ্ট ও বিভ্রান্ত, সে অনিবার্যভাবেই খারাপ পথে চলে এবং খারাপ হয়।
এই বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় কীভাবে?
একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন চিন্তা করে, তখন সে বুঝতে পারে- অবশ্যই এই বিশ্বজগতের একজন স্রষ্টা রয়েছেন। এবং তার আনুগত্য করা অতি আবশ্যক। এরপর সে তার রাসুলের ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা করে। এবং তার মুজিজা ও সিরাত দেখে বুঝতে পারে- তিনি অবশ্যই আল্লাহর রাসুল। এবং তাঁর অনুসরণ আমাদের জন্য আবশ্যক।
এরপর সে এমন কাজগুলোই করার চেষ্টা করে, যে কাজগুলো তার স্রষ্টার নৈকট্য অর্জনে সহায়ক হয়। অর্থাৎ স্রষ্টার পছন্দ অনুযায়ী আমল করে। ইলম অন্বেষণের বিষয়টি যদি তার কাছে কঠিনও মনে হয়, কিন্তু যখন সে এর প্রতিদান ও প্রতিফল নিয়ে চিন্তা করে, তখন এটি তার কাছে সহজ হয়ে যায়। রাতের নির্জন ইবাদতও যদি তার কাছে কখনো কষ্টকর হয়, তখনও এটি তার পুরস্কারের আশায় সহজ হয়ে যায়।
যখন সে কোনো লোভনীয় জিনিস দেখে, তাতে লিপ্ত হওয়ার আগে সে তার পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করে। এরপর যখন সে বুঝতে পারে এটি হারাম এবং এটি সম্পাদনের স্ফূর্তি ও স্বাদ তো দ্রুতই নিঃশেষ হবে, কিন্তু তার প্রভাব ও শাস্তি স্থায়ীভাবে রয়ে যাবে তখন সে এটিকে বর্জন করে। এবং এই সুচিন্তার কারণে এটা বর্জন করতে তার সহজ হয়। এভাবে যখন সে এমন ব্যক্তির থেকে প্রতিশোধ নিতে চায়, যে তাকে কষ্ট দিয়েছে, তখন সে ধৈর্যধারণের প্রতিদানের কথা চিন্তা করে এবং রাগান্বিত অবস্থায় কোনো মানুষের কাজের ওপর পরবর্তী আফসোসের কথা চিন্তা করে- তখন সে এই প্রতিশোধ থেকে ফিরে আসে। এভাবে এই পার্থিব জীবনের সংক্ষিপ্ততা নিয়েও সে চিন্তা করে- সময় খুবই অল্প, সুতরাং সে এই অল্প সময়ের মধ্যে যথাসম্ভব সবচেয়ে ভালো কাজগুলো করে নেওয়ার চেষ্টা করে- যাতে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। কিন্তু যে ব্যক্তি গাফেল, নির্বোধ ও বুদ্ধিহীন- সে শুধু তাৎক্ষণিক আনন্দ-স্ফূর্তির কথাই চিন্তা করে এবং সেগুলো নিয়েই মজে থাকে। তার কোনো দূরদর্শিতা নেই।
এদের মধ্যে কেউ কেউ এই বিশ্বজগৎ ও তার স্রষ্টা নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনাই করে না। সুতরাং তারা স্রষ্টাকে অস্বীকার করে বসে এবং তার কোনো হুকুমের গুরুত্ব দেয় না। এভাবে তারা তাঁর রাসুলকেও অস্বীকার করে এবং তার আনীত বিধানকে স্বীকার করে না। তারা শুধু বর্তমান ও তাৎক্ষণিক বিষয়গুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়। এগুলোর সূচনা ও সমাপ্তি নিয়ে কোনো দৃষ্টিপাত করে না। সুতরাং তাদের নিকট খাদ্যদাতা নিয়ে কোনো জ্ঞান নেই-শুধু খাবারের দিকে তাদের দৃষ্টি। যদি তারা একবারও চিন্তা করত—তিনি তাদের কীভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিপালন করেছেন? কেন তিনি পৃথিবীতে মানুষের শরীর সংরক্ষণের এত এত উপাদান জড়ো করে দিয়েছেন? তাহলেই তারা সকল জিনিসের বাস্তবতা অনুধাবন করতে সক্ষম হতো।
আল্লাহ মানুষের জন্য যে সকল বিষয়ে আকর্ষণ ও আগ্রহ তৈরি করে দিয়েছেন, এগুলোর প্রতিফল ও পরিণাম সম্পর্কেও তারা চিন্তা করে না। তারা শুধু তাৎক্ষণিক স্বাদ আস্বাদন করেই ক্ষান্ত থাকে।
দুনিয়াতেও এমন কত ব্যক্তি তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় কোনো অপরাধ করায় তার হয়তো হাতকাটা যায়, হদ আপতিত হয়, কিসাস নেওয়া হয় কিংবা অপমানিত হতে হয়। এভাবেই তাৎক্ষণিক আনন্দ-স্ফূর্তি অনেক সময়ই স্থায়ী মর্যাদাকে বিনষ্ট করে। করে লাঞ্ছিত।
এগুলোর কারণ হলো, পরিণামের দিকে দৃষ্টিপাত না করা। এর সূচনা হয় মস্তিষ্ক থেকে। সমাপ্তি হয় প্রবৃত্তির অনুসরণের মধ্য দিয়ে।
আল্লাহ তাআলার নিকট আকুল প্রার্থনা- তিনি যেন আমাদের এমন সচেতনতা প্রদান করেন, যার মাধ্যমে আমরা পরিণাম দেখতে পাই। এবং আমাদের কাছে কোনো জিনিসের শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা কদর্যতা প্রকাশিত হয়ে যায়। তিনি সকল বিষয়েই ক্ষমতাবান।
টিকাঃ
৮৭আজকের দিনে আধুনিক গবেষণা শুরু হওয়ার আগের কথা এগুলো। যদিও অবিশ্বাসীদের দৃষ্টিভঙ্গি সেই আগের মতোই রয়ে গেছে- বস্তুতান্ত্রিক, একপেশে এবং প্রতারণাপূর্ণ।
📄 তাফাক্কুর ‘স্কৃতি স্থায়ী মর্যাদাকে রহিত করে
আমি একবার আমাদের শ্রেষ্ঠ মানুষগুলো এবং খারাপ লোকদের বিষয়ে চিন্তা করলাম। তাদের মাঝে এই পার্থক্যের কারণ কী? কোন মৌলিকতার কারণে মানুষের মাঝে এই পার্থক্য সূচিত হয়?
আমি বুঝতে পারলাম, এর কারণ হলো বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি। যে মানুষের মৌলিক বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, সে অপরিহার্যভাবেই ভালো পথে চলে এবং ভালো হয়। আর যার বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনষ্ট ও বিভ্রান্ত, সে অনিবার্যভাবেই খারাপ পথে চলে এবং খারাপ হয়।
এই বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় কীভাবে?
একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন চিন্তা করে, তখন সে বুঝতে পারে- অবশ্যই এই বিশ্বজগতের একজন স্রষ্টা রয়েছেন। এবং তার আনুগত্য করা অতি আবশ্যক। এরপর সে তার রাসুলের ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা করে। এবং তার মুজিজা ও সিরাত দেখে বুঝতে পারে- তিনি অবশ্যই আল্লাহর রাসুল। এবং তাঁর অনুসরণ আমাদের জন্য আবশ্যক।
এরপর সে এমন কাজগুলোই করার চেষ্টা করে, যে কাজগুলো তার স্রষ্টার নৈকট্য অর্জনে সহায়ক হয়। অর্থাৎ স্রষ্টার পছন্দ অনুযায়ী আমল করে। ইলম অন্বেষণের বিষয়টি যদি তার কাছে কঠিনও মনে হয়, কিন্তু যখন সে এর প্রতিদান ও প্রতিফল নিয়ে চিন্তা করে, তখন এটি তার কাছে সহজ হয়ে যায়। রাতের নির্জন ইবাদতও যদি তার কাছে কখনো কষ্টকর হয়, তখনও এটি তার পুরস্কারের আশায় সহজ হয়ে যায়।
যখন সে কোনো লোভনীয় জিনিস দেখে, তাতে লিপ্ত হওয়ার আগে সে তার পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করে। এরপর যখন সে বুঝতে পারে এটি হারাম এবং এটি সম্পাদনের স্ফূর্তি ও স্বাদ তো দ্রুতই নিঃশেষ হবে, কিন্তু তার প্রভাব ও শাস্তি স্থায়ীভাবে রয়ে যাবে তখন সে এটিকে বর্জন করে। এবং এই সুচিন্তার কারণে এটা বর্জন করতে তার সহজ হয়। এভাবে যখন সে এমন ব্যক্তির থেকে প্রতিশোধ নিতে চায়, যে তাকে কষ্ট দিয়েছে, তখন সে ধৈর্যধারণের প্রতিদানের কথা চিন্তা করে এবং রাগান্বিত অবস্থায় কোনো মানুষের কাজের ওপর পরবর্তী আফসোসের কথা চিন্তা করে- তখন সে এই প্রতিশোধ থেকে ফিরে আসে। এভাবে এই পার্থিব জীবনের সংক্ষিপ্ততা নিয়েও সে চিন্তা করে- সময় খুবই অল্প, সুতরাং সে এই অল্প সময়ের মধ্যে যথাসম্ভব সবচেয়ে ভালো কাজগুলো করে নেওয়ার চেষ্টা করে- যাতে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। কিন্তু যে ব্যক্তি গাফেল, নির্বোধ ও বুদ্ধিহীন- সে শুধু তাৎক্ষণিক আনন্দ-স্ফূর্তির কথাই চিন্তা করে এবং সেগুলো নিয়েই মজে থাকে। তার কোনো দূরদর্শিতা নেই।
এদের মধ্যে কেউ কেউ এই বিশ্বজগৎ ও তার স্রষ্টা নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনাই করে না। সুতরাং তারা স্রষ্টাকে অস্বীকার করে বসে এবং তার কোনো হুকুমের গুরুত্ব দেয় না। এভাবে তারা তাঁর রাসুলকেও অস্বীকার করে এবং তার আনীত বিধানকে স্বীকার করে না। তারা শুধু বর্তমান ও তাৎক্ষণিক বিষয়গুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়। এগুলোর সূচনা ও সমাপ্তি নিয়ে কোনো দৃষ্টিপাত করে না। সুতরাং তাদের নিকট খাদ্যদাতা নিয়ে কোনো জ্ঞান নেই-শুধু খাবারের দিকে তাদের দৃষ্টি। যদি তারা একবারও চিন্তা করত—তিনি তাদের কীভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিপালন করেছেন? কেন তিনি পৃথিবীতে মানুষের শরীর সংরক্ষণের এত এত উপাদান জড়ো করে দিয়েছেন? তাহলেই তারা সকল জিনিসের বাস্তবতা অনুধাবন করতে সক্ষম হতো।
আল্লাহ মানুষের জন্য যে সকল বিষয়ে আকর্ষণ ও আগ্রহ তৈরি করে দিয়েছেন, এগুলোর প্রতিফল ও পরিণাম সম্পর্কেও তারা চিন্তা করে না। তারা শুধু তাৎক্ষণিক স্বাদ আস্বাদন করেই ক্ষান্ত থাকে।
দুনিয়াতেও এমন কত ব্যক্তি তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় কোনো অপরাধ করায় তার হয়তো হাতকাটা যায়, হদ আপতিত হয়, কিসাস নেওয়া হয় কিংবা অপমানিত হতে হয়। এভাবেই তাৎক্ষণিক আনন্দ-স্ফূর্তি অনেক সময়ই স্থায়ী মর্যাদাকে বিনষ্ট করে। করে লাঞ্ছিত।
এগুলোর কারণ হলো, পরিণামের দিকে দৃষ্টিপাত না করা। এর সূচনা হয় মস্তিষ্ক থেকে। সমাপ্তি হয় প্রবৃত্তির অনুসরণের মধ্য দিয়ে।
আল্লাহ তাআলার নিকট আকুল প্রার্থনা- তিনি যেন আমাদের এমন সচেতনতা প্রদান করেন, যার মাধ্যমে আমরা পরিণাম দেখতে পাই। এবং আমাদের কাছে কোনো জিনিসের শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা কদর্যতা প্রকাশিত হয়ে যায়। তিনি সকল বিষয়েই ক্ষমতাবান।
📄 উচ্চাকাঙ্ক্ষার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
আমাকে এমন এক উচ্চ হিম্মত প্রদান করা হয়েছে- যা তার শেষসীমায় পৌঁছতে চায়। কিন্তু সেই তুলনায় মানুষের জীবন খুবই ছোট। আমি যা চাই, তাতে এই সময়ে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সুতরাং এ নিয়ে আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করতে থাকি একটি অতি দীর্ঘ জীবনের, শারীরিক সুস্থতার এবং আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছবার।
কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক প্রকৃতি ও ব্যবস্থাদি এটার ক্ষেত্রে বাধ সেধে বলল, তুমি যা প্রার্থনা করছ, সাধারণভাবে এটা কখনো হওয়ার নয়।
আমি বললাম, আমি তো এমন সত্তার নিকটই প্রার্থনা করছি, যিনি এই সকল স্বাভাবিকতার বাইরেও ক্ষমতা রাখেন। অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন।
একবার এক ব্যক্তির নিকট কিছুলোক এসে বলল, আমাদের সামান্য কিছু প্রয়োজন রয়েছে।
সেই ব্যক্তি বলল, অসুবিধা কী! আমি একটি আস্ত তেজি ঘোড়া প্রদান করে দিলাম।
আরেক ব্যক্তির নিকট প্রার্থনা করা হলো, আমাদের খুবই সামান্য কিছু প্রয়োজন- আপনার যাতে কষ্ট না হয়।
সেই ব্যক্তি বললেন, অসুবিধা কী! তোমাদের সকলের জন্যই আমার দ্বার খোলা।
এখন কথা হলো, দুনিয়াবাসীর একজন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ব্যক্তিই যদি কারও প্রার্থনার ক্ষেত্রে এমন উদারহস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে কেন আমরা এমন সত্তার নিকট আমাদের উচ্চ প্রার্থনার ক্ষেত্রে আশা রাখব না? অথচ তিনি অতি সম্মানিত এবং শক্তিমান।
আমি আল্লাহ তাআলার নিকট এই প্রার্থনা করেছিলাম ৫৭৫ হিজরির রবিউস সানি মাসে। এখন কথা হলো, যদি আমার জীবনসীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয় আর আমি যদি আমার সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি তবে তো একদিন এই বিষয়ে আলোচনা করব। আমার অভিষ্ট লক্ষ্যের কথাও বলব। আর যদি কোনোটিই না হয়, তবে তো আমার প্রভুই কল্যাণের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত। তিনি অতি কৃপণকেও বঞ্চিত করেন না। তাকে ছাড়া কোনো শক্তি নেই।
📄 শরিয়তের প্রচারে ইলম একটি পদ্ধতি
আল্লাহর প্রশংসা- যিনি আলেম ও ফকিহদের মাধ্যমে এই উম্মতের ওপর বড় অনুগ্রহ করেছেন। তারা আল্লাহ তাআলার আদেশের উদ্দেশ্য বোঝেন এবং তার লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত হন। এভাবেই তারা দ্বীন ও শরিয়তের সংরক্ষণ করেন। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দেন।
শয়তান তাদের ব্যাপারে খুবই কঠোর আচরণ করে এবং তাদেরকে ভয়ও পায়। কারণ, এঁরা তাকে কষ্ট দিতে এবং তার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম। কিন্তু সে তাদেরকে কষ্ট দিতে এবং বিভ্রান্ত করতে সক্ষম নয়। শয়তান তার ষড়যন্ত্রের খেলায় বিজয়ী হয় শুধু মূর্খদের এবং যাদের বুঝ-বুদ্ধি কম, তাদের নিয়ে। এবং তার সবচেয়ে ভয়ংকর খেলা হলো, সে একটি সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে ইলম বর্জন করাকে সুশোভিত করে তোলে। এমনকি তারা তখন এতেই শুধু ক্ষান্ত থাকে না- বরং যারা ইলমের চর্চায় নিমগ্ন রয়েছে, তাদেরকে নিন্দা-মন্দ করে। হায়, তারা যদি বুঝত, এর দ্বারা মূলত দ্বীন ও শরিয়তকেই নিন্দা-মন্দ করা হয়! কারণ, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুলকে বলছেন,
(يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ)
'হে রাসুল, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার ওপর যা কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে, তুমি তা প্রচার করো।'
এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও উম্মতদের বলেছেন, بلغوا عنى ولو آية -'তোমরা আমার পক্ষ থেকে প্রচার করো, যদি একটি আয়াতও শেখো।' এখন কথা হলো, তারা যদি ইলম চর্চায় নিমগ্নই না হয়, তাহলে মানুষদের নিকট তারা শরিয়ত পৌঁছাবে কীভাবে? দ্বীনের জ্ঞানই যদি তাদের অর্জিত না হয়, তাহলে তারা মানুষের কাছে পৌঁছাবেটা কী?
ঠিক এই বিভ্রান্তিমূলক কথা কিছু বড় জাহেদদের থেকেও প্রকাশিত হয়েছে। যেমন, বিশর হাফি রহ.। তিনি একদিন আব্বাস ইবনে আবদুল আজিমকে উপদেশ দিয়ে বললেন, 'তুমি হাদিস চর্চাকারীদের নিকট বসবে না।'
আরেক দিন ইসহাক ইবনে যাইফকেও তিনি বলেন, 'তুমি হলে একজন হাদিস চর্চাকারী, সুতরাং তুমি আমার নিকট আর আসবে না।' অবশ্য এ কথা বলার পর একটু সহজ করার জন্য বললেন,
إنما الحديث فتنة إلا لمن أراد الله به. وإذا لم يعمل به فتركه أفضل.
'হাদিস হলো মানুষের জন্য একটি ফিতনা- যদি না সে তার মাধ্যমে আল্লাহকে পাওয়ার ইচ্ছা করে। আর যদি তার ওপর আমলই না করা হয়, তবে তার চর্চা বর্জন করাই ভালো।'
বিশর হাফি রহ. থেকে এটি এক আশ্চর্যজনক বক্তব্য! তিনি কীভাবে মনে করলেন যে, হাদিসের অধ্যয়নকারীরা এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রার্থনা করবে না? এবং তারা এর ওপর আমল করবে না?
হ্যাঁ, হাদিসের ক্ষেত্রে আমল দুই প্রকার।
এক. ওয়াজিব বা আবশ্যক আমল। এটা বর্জন করা কারও জন্য জায়েয নয়।
দুই. নফল বা ঐচ্ছিক আমল। যার ওপর আমল করা আবশ্যক নয়- এগুলো ঐচ্ছিক বিষয়। আর হাদিস নিয়ে চর্চা করা এই ধরনের নফল নামাজ ও রোজার চেয়েও অনেক উত্তম। আমার ধারণা, তিনি সম্ভবত তার কথা দিয়ে অব্যাহত রোজা, জিকির ও জুহুদকে বুঝিয়েছেন। কিন্তু কথা হলো, এগুলো বর্জনকারীকে তো নিন্দা-মন্দ করার কিছু নেই। আর যদি তিনি বোঝাতে চান যে, এভাবে হাদিসের জ্ঞানের মধ্যে মগ্ন থাকা যাবে না- তাহলে তার কথা সম্পূর্ণই ভুল। কারণ, ইলমের এই সকল শাখাই প্রশংসনীয়।
আচ্ছা, তোমার কি মনে হয়, আলেমরা যদি এই হাদিস ও ফিকাহচর্চা ছেড়ে দেয়, তবে কি বিশর হাফি রহ. ফতোয়া দিয়ে বেড়াবে? মানুষকে মাসআলা- মাসাইল বলে বেড়াবে?
আল্লাহর ওয়াস্তে এমন কারও কথার দিকে দৃষ্টি দেবে না- যে ফকিহ নয়। এমনকি বিশর হাফি রহ.-এর মতো মহান ব্যক্তির নামও যেন তোমাকে বিভ্রান্ত করতে না পারে! আল্লাহ তাকে মাফ করুন। আমিন।