📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 নফসের ভুলের ক্ষেত্রে সহানুভূতি দেখানো

📄 নফসের ভুলের ক্ষেত্রে সহানুভূতি দেখানো


পূর্বের এই অধ্যায়টি শেষ করার পর মনে হলো, নফসকে অবশ্যই তার পথ নির্দ্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা প্রদান করা দরকার। আর সেটা হলো, তার প্রতি কোমল আচরণও করা উচিত। কারণ, এক মারহালা পরিমাণ সময়ে যে মুসাফির দুই মারহালা অতিক্রম করতে চায়, সে তো বাস্তবেই একসময় ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে থমকে দাঁড়াতে হয়। সে কারণে যথাসম্ভব সহনীয় আচরণের সাথে চলা- যাতে গতি অব্যাহত থাকে।
আমরা জানি, যখন বাহনের প্রাণীগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়ে, রাখাল তখন তাকে বিশ্রাম প্রদান করে। নতুন এই বিশ্রাম আবার বাহনগুলোর মাঝে নতুন উদ্যমের সৃষ্টি করে। মুক্তার খোঁজে সাগরের তলদেশে মুক্তা আহরণকারী ডুবুরীকেও অক্সিজেনের জন্য ওপরে আসতে হয়। নতুবা অব্যাহত যাত্রা মরুর জাহাজ শক্তিশালী উটকেও ক্লান্ত করে ফেলে। রাস্তা চলা তখন কঠিন হয়ে পড়ে।
নিজের নফসকে কীভাবে কতটুকু বিশ্রাম দেওয়া দরকার, সেটা যদি কেউ জানতে চায়, তবে সে সিরাত থেকেই তা জেনে নিতে পারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো নফসের সাথে একটু নরমি আচরণ করতেন। হাসি-মজাক করতেন। স্ত্রীদের সাথে মিশতেন। চুমো খেতেন। শরবত খেতেন। প্রচণ্ড গরমে ঠান্ডা পানি পান করতেন। উপযুক্ত খাবার গ্রহণ করতেন। যেমন, পিঠের ও সিনার গোশত। মিষ্টান্ন খেতেন। এর সবকিছুই যেন শরীর নামক বাহনকে রাস্তা চলার সহজতার জন্য প্রস্তুত করা। কিন্তু যারা বাহনকে খাদ্য-খাবার না দিয়ে অব্যাহত চালানোর চেষ্টা করেন, চাবুক দিয়ে পেটালেও তা চলতে চাইবে না।
তাই নফসকে কঠোরভাবে যেমন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, আবার বৈধতার মধ্যে মাঝেমধ্যে একটু সবুজ চারণভূমিতে ছাড়ও দিতে হবে। তবেই না সফর নির্বিঘ্ন হবে।
যেমন কবি আবু আলি ইবনে শাবিল বলেন,
يحفظ الجسم تبقى النفس فيه ... بقاء النار تحفظ بالوعاء فباليأس الممض فلا تمتها ... ولا تمدد لها طول الرجاء وعدها في شدائدها رخاء ... وذكرها الشدائد في الرخاء يعد صلاحها هذا وهذا ... وبالتركيب منفعة الدواء
শরীরের বিদ্যমানতায় নফসের অবস্থান, পাত্রের রক্ষায় যেমন অবশিষ্ট থাকে আগুন। প্রবল হতাশায় তাকে মেরে ফেলো না, আবার আশার উচ্চতায় ছেড়ে দিয়ো না তার লাগাম। কষ্টের দিনগুলোতে শোনাও আশার বাণী, আর সুখের সময়ে স্মরণ করাও বিপদের সংঘটন। নরম ও গরমের এই যে পরিক্রমা, এতেই রয়েছে তার সমূহ কল্যাণ ও সংশোধন।

টিকাঃ
৮৬. এটা সেলেন্ডারে অক্সিজেন নেওয়ার আগের কথা- অনুবাদক

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক থাকা

📄 পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক থাকা


৫৭৫ হিজরি বছরের প্রথম দিকে বাগদাদে ভীষণ খাদ্যসংকট দেখা দিল। হু হু করে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যেতে লাগল। যখনই বাইরে থেকে কোনো গম-যবের চালান আসে, লোকজনের মধ্যে তা কেনার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। লোকজন পাল্লা দিয়ে সেই খাদ্য কিনতে থাকে।
ঠিক এই সময়ে যারা আগে থেকেই সারা বছরের খোরাক মজুদ করে রেখেছিল, তারা রীতিমতো মানুষের ঈর্ষার কারণ হয়ে উঠল। তাদের তখন তৃপ্তিদায়ক গর্বিত উচ্চ শির। আবার এপ্রিলের প্রথম দিকে আগেই যারা খাদ্য কিনে রেখেছিল, তারা খুবই খুশি হলো। তারা দ্বিগুণ মূল্যে তাদের দ্রব্যগুলো বিক্রয় করতে সক্ষম হলো। আর যারা ছিল নিঃস্ব দরিদ্র- খাদ্যখাবার নেই, তারা তাদের বাড়ি-ঘরের সকল জিনিসপত্র বিক্রয় করে হলেও খাবার কিনতে লাগল। তবুও যেন কুলিয়ে উঠতে পারে না। মানুষের সামনে মানুষের লাঞ্ছনা অপদস্থতা ও হীনতা প্রকাশিত হয়ে পড়তে লাগল। অনেকেই যারা সম্মানিত ও মুখাপেক্ষীহীন ছিল, কিন্তু অসতর্ক এই পরিস্থিতিতে তারাও আর তাদের সম্মান টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হলো না। ক্ষুধা ও দরিদ্রতা যেন সবই কেড়ে নিতে লাগল।
আমি আমার নফসকে এ সময় একদিন ডেকে বললাম, হে নফস, এই পরিস্থিতি থেকে একটি শিক্ষা গ্রহণ করে রাখো। এমন একদিন আসবে, আগে থেকেই যার অধিক সৎকর্ম গচ্ছিত থাকবে, সে সেদিন অন্যদের ঈর্ষার কারণ হবে। সেদিন সে খুশি হবে, কঠিন সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবে। আর সর্বদিক দিয়ে লাঞ্ছিত অপমানিত ও দুর্ভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি, যে এই পরিণাম সম্পর্কে অবহেলা ও উদাসীনতা দেখিয়েছে।
সুতরাং তুমি আজকেই সতর্ক হও। মানুষদের সতর্ক করো। এবং যতদিন শরীরে রুহ রয়েছে, এই অর্জনের মৌসুমে যা কিছু পারো অর্জন করে নাও। তোমার তো কোনো পাথেয়-খাদ্য নেই। অথচ জেনে রাখো, সেইদিনের সেই ভীষণ সময়ে নিজেদের তীব্র প্রয়োজনের কারণে কেউ কারও প্রয়োজনের দিকে ফিরেও তাকাবে না।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 হৃদয় কাঁপানো উদ্বেগ

📄 হৃদয় কাঁপানো উদ্বেগ


আমি একবার আমাদের শ্রেষ্ঠ মানুষগুলো এবং খারাপ লোকদের বিষয়ে চিন্তা করলাম। তাদের মাঝে এই পার্থক্যের কারণ কী? কোন মৌলিকতার কারণে মানুষের মাঝে এই পার্থক্য সূচিত হয়?
আমি বুঝতে পারলাম, এর কারণ হলো বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি। যে মানুষের মৌলিক বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, সে অপরিহার্যভাবেই ভালো পথে চলে এবং ভালো হয়। আর যার বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনষ্ট ও বিভ্রান্ত, সে অনিবার্যভাবেই খারাপ পথে চলে এবং খারাপ হয়।
এই বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় কীভাবে?
একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন চিন্তা করে, তখন সে বুঝতে পারে- অবশ্যই এই বিশ্বজগতের একজন স্রষ্টা রয়েছেন। এবং তার আনুগত্য করা অতি আবশ্যক। এরপর সে তার রাসুলের ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা করে। এবং তার মুজিজা ও সিরাত দেখে বুঝতে পারে- তিনি অবশ্যই আল্লাহর রাসুল। এবং তাঁর অনুসরণ আমাদের জন্য আবশ্যক।
এরপর সে এমন কাজগুলোই করার চেষ্টা করে, যে কাজগুলো তার স্রষ্টার নৈকট্য অর্জনে সহায়ক হয়। অর্থাৎ স্রষ্টার পছন্দ অনুযায়ী আমল করে। ইলম অন্বেষণের বিষয়টি যদি তার কাছে কঠিনও মনে হয়, কিন্তু যখন সে এর প্রতিদান ও প্রতিফল নিয়ে চিন্তা করে, তখন এটি তার কাছে সহজ হয়ে যায়। রাতের নির্জন ইবাদতও যদি তার কাছে কখনো কষ্টকর হয়, তখনও এটি তার পুরস্কারের আশায় সহজ হয়ে যায়।
যখন সে কোনো লোভনীয় জিনিস দেখে, তাতে লিপ্ত হওয়ার আগে সে তার পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করে। এরপর যখন সে বুঝতে পারে এটি হারাম এবং এটি সম্পাদনের স্ফূর্তি ও স্বাদ তো দ্রুতই নিঃশেষ হবে, কিন্তু তার প্রভাব ও শাস্তি স্থায়ীভাবে রয়ে যাবে তখন সে এটিকে বর্জন করে। এবং এই সুচিন্তার কারণে এটা বর্জন করতে তার সহজ হয়। এভাবে যখন সে এমন ব্যক্তির থেকে প্রতিশোধ নিতে চায়, যে তাকে কষ্ট দিয়েছে, তখন সে ধৈর্যধারণের প্রতিদানের কথা চিন্তা করে এবং রাগান্বিত অবস্থায় কোনো মানুষের কাজের ওপর পরবর্তী আফসোসের কথা চিন্তা করে- তখন সে এই প্রতিশোধ থেকে ফিরে আসে। এভাবে এই পার্থিব জীবনের সংক্ষিপ্ততা নিয়েও সে চিন্তা করে- সময় খুবই অল্প, সুতরাং সে এই অল্প সময়ের মধ্যে যথাসম্ভব সবচেয়ে ভালো কাজগুলো করে নেওয়ার চেষ্টা করে- যাতে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। কিন্তু যে ব্যক্তি গাফেল, নির্বোধ ও বুদ্ধিহীন- সে শুধু তাৎক্ষণিক আনন্দ-স্ফূর্তির কথাই চিন্তা করে এবং সেগুলো নিয়েই মজে থাকে। তার কোনো দূরদর্শিতা নেই।
এদের মধ্যে কেউ কেউ এই বিশ্বজগৎ ও তার স্রষ্টা নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনাই করে না। সুতরাং তারা স্রষ্টাকে অস্বীকার করে বসে এবং তার কোনো হুকুমের গুরুত্ব দেয় না। এভাবে তারা তাঁর রাসুলকেও অস্বীকার করে এবং তার আনীত বিধানকে স্বীকার করে না। তারা শুধু বর্তমান ও তাৎক্ষণিক বিষয়গুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়। এগুলোর সূচনা ও সমাপ্তি নিয়ে কোনো দৃষ্টিপাত করে না। সুতরাং তাদের নিকট খাদ্যদাতা নিয়ে কোনো জ্ঞান নেই-শুধু খাবারের দিকে তাদের দৃষ্টি। যদি তারা একবারও চিন্তা করত—তিনি তাদের কীভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিপালন করেছেন? কেন তিনি পৃথিবীতে মানুষের শরীর সংরক্ষণের এত এত উপাদান জড়ো করে দিয়েছেন? তাহলেই তারা সকল জিনিসের বাস্তবতা অনুধাবন করতে সক্ষম হতো।
আল্লাহ মানুষের জন্য যে সকল বিষয়ে আকর্ষণ ও আগ্রহ তৈরি করে দিয়েছেন, এগুলোর প্রতিফল ও পরিণাম সম্পর্কেও তারা চিন্তা করে না। তারা শুধু তাৎক্ষণিক স্বাদ আস্বাদন করেই ক্ষান্ত থাকে।
দুনিয়াতেও এমন কত ব্যক্তি তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় কোনো অপরাধ করায় তার হয়তো হাতকাটা যায়, হদ আপতিত হয়, কিসাস নেওয়া হয় কিংবা অপমানিত হতে হয়। এভাবেই তাৎক্ষণিক আনন্দ-স্ফূর্তি অনেক সময়ই স্থায়ী মর্যাদাকে বিনষ্ট করে। করে লাঞ্ছিত।
এগুলোর কারণ হলো, পরিণামের দিকে দৃষ্টিপাত না করা। এর সূচনা হয় মস্তিষ্ক থেকে। সমাপ্তি হয় প্রবৃত্তির অনুসরণের মধ্য দিয়ে।
আল্লাহ তাআলার নিকট আকুল প্রার্থনা- তিনি যেন আমাদের এমন সচেতনতা প্রদান করেন, যার মাধ্যমে আমরা পরিণাম দেখতে পাই। এবং আমাদের কাছে কোনো জিনিসের শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা কদর্যতা প্রকাশিত হয়ে যায়। তিনি সকল বিষয়েই ক্ষমতাবান।

টিকাঃ
৮৭আজকের দিনে আধুনিক গবেষণা শুরু হওয়ার আগের কথা এগুলো। যদিও অবিশ্বাসীদের দৃষ্টিভঙ্গি সেই আগের মতোই রয়ে গেছে- বস্তুতান্ত্রিক, একপেশে এবং প্রতারণাপূর্ণ।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 তাফাক্কুর ‘স্কৃতি স্থায়ী মর্যাদাকে রহিত করে

📄 তাফাক্কুর ‘স্কৃতি স্থায়ী মর্যাদাকে রহিত করে


আমি একবার আমাদের শ্রেষ্ঠ মানুষগুলো এবং খারাপ লোকদের বিষয়ে চিন্তা করলাম। তাদের মাঝে এই পার্থক্যের কারণ কী? কোন মৌলিকতার কারণে মানুষের মাঝে এই পার্থক্য সূচিত হয়?
আমি বুঝতে পারলাম, এর কারণ হলো বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি। যে মানুষের মৌলিক বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, সে অপরিহার্যভাবেই ভালো পথে চলে এবং ভালো হয়। আর যার বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনষ্ট ও বিভ্রান্ত, সে অনিবার্যভাবেই খারাপ পথে চলে এবং খারাপ হয়।
এই বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় কীভাবে?
একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন চিন্তা করে, তখন সে বুঝতে পারে- অবশ্যই এই বিশ্বজগতের একজন স্রষ্টা রয়েছেন। এবং তার আনুগত্য করা অতি আবশ্যক। এরপর সে তার রাসুলের ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা করে। এবং তার মুজিজা ও সিরাত দেখে বুঝতে পারে- তিনি অবশ্যই আল্লাহর রাসুল। এবং তাঁর অনুসরণ আমাদের জন্য আবশ্যক।
এরপর সে এমন কাজগুলোই করার চেষ্টা করে, যে কাজগুলো তার স্রষ্টার নৈকট্য অর্জনে সহায়ক হয়। অর্থাৎ স্রষ্টার পছন্দ অনুযায়ী আমল করে। ইলম অন্বেষণের বিষয়টি যদি তার কাছে কঠিনও মনে হয়, কিন্তু যখন সে এর প্রতিদান ও প্রতিফল নিয়ে চিন্তা করে, তখন এটি তার কাছে সহজ হয়ে যায়। রাতের নির্জন ইবাদতও যদি তার কাছে কখনো কষ্টকর হয়, তখনও এটি তার পুরস্কারের আশায় সহজ হয়ে যায়।
যখন সে কোনো লোভনীয় জিনিস দেখে, তাতে লিপ্ত হওয়ার আগে সে তার পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করে। এরপর যখন সে বুঝতে পারে এটি হারাম এবং এটি সম্পাদনের স্ফূর্তি ও স্বাদ তো দ্রুতই নিঃশেষ হবে, কিন্তু তার প্রভাব ও শাস্তি স্থায়ীভাবে রয়ে যাবে তখন সে এটিকে বর্জন করে। এবং এই সুচিন্তার কারণে এটা বর্জন করতে তার সহজ হয়। এভাবে যখন সে এমন ব্যক্তির থেকে প্রতিশোধ নিতে চায়, যে তাকে কষ্ট দিয়েছে, তখন সে ধৈর্যধারণের প্রতিদানের কথা চিন্তা করে এবং রাগান্বিত অবস্থায় কোনো মানুষের কাজের ওপর পরবর্তী আফসোসের কথা চিন্তা করে- তখন সে এই প্রতিশোধ থেকে ফিরে আসে। এভাবে এই পার্থিব জীবনের সংক্ষিপ্ততা নিয়েও সে চিন্তা করে- সময় খুবই অল্প, সুতরাং সে এই অল্প সময়ের মধ্যে যথাসম্ভব সবচেয়ে ভালো কাজগুলো করে নেওয়ার চেষ্টা করে- যাতে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। কিন্তু যে ব্যক্তি গাফেল, নির্বোধ ও বুদ্ধিহীন- সে শুধু তাৎক্ষণিক আনন্দ-স্ফূর্তির কথাই চিন্তা করে এবং সেগুলো নিয়েই মজে থাকে। তার কোনো দূরদর্শিতা নেই।
এদের মধ্যে কেউ কেউ এই বিশ্বজগৎ ও তার স্রষ্টা নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনাই করে না। সুতরাং তারা স্রষ্টাকে অস্বীকার করে বসে এবং তার কোনো হুকুমের গুরুত্ব দেয় না। এভাবে তারা তাঁর রাসুলকেও অস্বীকার করে এবং তার আনীত বিধানকে স্বীকার করে না। তারা শুধু বর্তমান ও তাৎক্ষণিক বিষয়গুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়। এগুলোর সূচনা ও সমাপ্তি নিয়ে কোনো দৃষ্টিপাত করে না। সুতরাং তাদের নিকট খাদ্যদাতা নিয়ে কোনো জ্ঞান নেই-শুধু খাবারের দিকে তাদের দৃষ্টি। যদি তারা একবারও চিন্তা করত—তিনি তাদের কীভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিপালন করেছেন? কেন তিনি পৃথিবীতে মানুষের শরীর সংরক্ষণের এত এত উপাদান জড়ো করে দিয়েছেন? তাহলেই তারা সকল জিনিসের বাস্তবতা অনুধাবন করতে সক্ষম হতো।
আল্লাহ মানুষের জন্য যে সকল বিষয়ে আকর্ষণ ও আগ্রহ তৈরি করে দিয়েছেন, এগুলোর প্রতিফল ও পরিণাম সম্পর্কেও তারা চিন্তা করে না। তারা শুধু তাৎক্ষণিক স্বাদ আস্বাদন করেই ক্ষান্ত থাকে।
দুনিয়াতেও এমন কত ব্যক্তি তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় কোনো অপরাধ করায় তার হয়তো হাতকাটা যায়, হদ আপতিত হয়, কিসাস নেওয়া হয় কিংবা অপমানিত হতে হয়। এভাবেই তাৎক্ষণিক আনন্দ-স্ফূর্তি অনেক সময়ই স্থায়ী মর্যাদাকে বিনষ্ট করে। করে লাঞ্ছিত।
এগুলোর কারণ হলো, পরিণামের দিকে দৃষ্টিপাত না করা। এর সূচনা হয় মস্তিষ্ক থেকে। সমাপ্তি হয় প্রবৃত্তির অনুসরণের মধ্য দিয়ে।
আল্লাহ তাআলার নিকট আকুল প্রার্থনা- তিনি যেন আমাদের এমন সচেতনতা প্রদান করেন, যার মাধ্যমে আমরা পরিণাম দেখতে পাই। এবং আমাদের কাছে কোনো জিনিসের শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা কদর্যতা প্রকাশিত হয়ে যায়। তিনি সকল বিষয়েই ক্ষমতাবান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00