📄 সংযত ব্যক্তির সান্নিধ্য
আমি অনেক দিনের অভিজ্ঞতায় একটি জিনিস বুঝেছি- ফিকহের অব্যাহত চর্চা এবং বিচার-বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন হাদিস শ্রবণ, এগুলো অন্তরের সংশোধনে যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন অন্তরকে রেকাকের [যে সকল আয়াত ও হাদিসের মাধ্যমে অন্তর ভীত হয়, বিগলিত হয়, নরম হয়, আখেরাতের প্রতি ধাবিত হয়- এমন আয়াত ও হাদিসসমূহ] সাথে সংমিশ্রণ করা এবং সালাফে সালেহিনের জীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করা। কারণ, তারা কোরআন ও হাদিসের মৌলিক উদ্দেশ্য ও খাজানা প্রাপ্ত হয়েছেন এবং এগুলোতে আদেশপ্রাপ্ত বিষয়ে আমলের বাহ্যিকতা থেকে বের হয়ে তার প্রকৃত অর্থের মিষ্টতা ও উদ্দেশ্য চেখে দেখেছেন; অথচ কখনো শরিয়তের বাইরে যাননি।
আমি তোমাকে যে কথাগুলো বলছি, এটা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষ দর্শনের মাধ্যমেই বলছি। আমি অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও হাদিস শিক্ষার্থীদের দেখেছি- তারা সর্বদা হাদিস সংগ্রহ ও বিন্যাস-বিশ্লেষণ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আর অধিকাংশ ফিকাহবিদ বিভিন্ন মাসআলা এবং সেগুলো নিয়ে হরেক রকম তর্ক-বিতর্ক নিয়ে মশগুল থাকে।
এই সকল বিষয়ের সাথে ব্যস্ত থেকে হৃদয়ের কোমলতা ও বিগলন আসবে কীভাবে?
কিন্তু আমাদের সালাফে সালেহিন কোরআন-হাদিসের নস দ্বারা সার্বিকভাবে কোনো দিকে চিন্তা না করে শুধু তার অর্থ, উদ্দেশ্য ও হিদায়েতের দিকে লক্ষ করতেন। এগুলো একত্র করা, বিন্যাস করা, বিশ্লেষণ করা, তর্ক-বিতর্ক করা, নিজের মতের পক্ষে দলিল-প্রমাণ অন্বেষণ করা- এসবের দিকে তারা মন দিতেন না এবং এগুলো এভাবে লোকদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার নিয়তও করতেন না। বরং এগুলো তারা তাদের জীবনে আমলে পরিণত করেছেন। তারা শুধু হিদায়েতকে খুঁজেছেন।
প্রথমে কোরআন ও হাদিসের এই বিষয়টা অনুধাবন করো। এরপর তার সাথে চর্চা করো ফিকাহ। এবং চর্চা করো সালাফে সালেহিনের জীবনী, দুনিয়াবিমুখ আবেদ ও জাহেদদের জীবন- যাতে এগুলো তোমার অন্তরের নম্রতা সৃষ্টির মাধ্যম হয়।
এ কারণে আমি আমাদের প্রসিদ্ধ শাইখদের জীবনী- তাদের ঘটনাবলি, আদব, আখলাক ও জীবনাচারগুলো নিয়ে আলাদা আলাদা স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছি। যেমন, হজরত হাসান বসরি, হজরত সুফিয়ান সাওরি, হজরত ইবরাহিম ইবনে আদহাম, হজরত বিশর হাফি, হজরত আহমদ ইবনে হাম্বল, হজরত মারুফ কারখি রহিমাহুমুল্লাহসহ আরও অনেক আলেম ও জাহেদদের।
স্মরণ রাখা দরকার, ইলমের কমতির সাথে কখনো আমল বিশুদ্ধ হতে পারে না। তখন অবস্থা হবে এমন যে, একজন আগে টানবে- অন্যজন টানবে পেছনে- এর মাঝখানে বেচারার আত্মার অবস্থা হবে কাহিল। জীবনভর এই অগ্র ও পশ্চাতে টানাটানি চলতেই থাকবে, কিছুটা সামনে আবার কিছুটা পেছনে- এভাবে কখনো কাঙ্ক্ষিত মানজিলে পৌঁছা সম্ভব হবে না। তাই প্রথমে ইলমে পরিপক্কতা অর্জন করা একান্ত জরুরি।
📄 তাকওয়াই সবচেয়ে উত্তম পথ
আমি একবার এমন একটি বিষয়ে শিথিলতা গ্রহণ করলাম- যা অন্য মাজহাব অনুযায়ী জায়েয ছিল। এরপর আমি আমার অন্তরের মধ্যে এক ধরনের অন্ধকার অনুভব করতে লাগলাম। আমি যেন স্রষ্টার দরবার হতে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা বোধ করতে লাগলাম। অন্ধকারের ওপর অন্ধকার যেন আমার অন্তর ছেয়ে ফেলতে লাগল।
আমার অন্তর বলে বসল, এটা কী শুরু হলো? আমি ফিকাহবিদদের মতের বাইরে তো কিছু করিনি- তাহলে এমন হচ্ছে কেন?
আমি তাকে বললাম, হে দুষ্ট নফস, তোমার এই প্রশ্নের উত্তর দু-ভাবে প্রদান করা যায়।
এক. তুমি নিজের জন্য এমন ব্যাখ্যা বেছে নিয়েছ, যা তুমি নিজেই বিশ্বাস করো না। তোমার নিকট কেউ যদি ফতোয়া জিজ্ঞাসা করত, তাহলে তুমি যা করেছ, তার বিপরীত ফতোয়াই তুমি দিতে।
নফস বলল, আমি যদি এটার জায়েযের বিষয় বিশ্বাস না করতাম, তবে তো আমি এটা করতামই না।
আমি বললাম, তাহলে অবশ্যই তোমার এই বিশ্বাসের ফতোয়া অন্যকে সন্তুষ্ট করত না। এটা তোমার নিজস্ব মত।
দুই. তুমি যে এই কাজটি করার পর তোমার অন্তরের মধ্যে অন্ধকার অনুভব করছ, এ জন্য তোমার খুশি হওয়া উচিত। কারণ, তোমার অন্তরের মধ্যে যদি আলো না থাকত, তাহলে তুমি এই অন্ধকার অনুভব করতে পারতে না।
নফস বলল, কিন্তু নতুন এই অন্ধকারের মাধ্যমে অন্তরের মধ্যে আমি তো স্রষ্টার ভালোবাসা ও নৈকট্য থেকে বিচ্ছিন্নতা অনুভব করছি।
আমি বললাম, তাহলে এবার এ ধরনের কাজ আর না করার ওপর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও এবং বুঝে নাও, তুমি যা বর্জন করেছ, সেটাই ছিল সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয। এবং এটা বর্জন করাকে তাকওয়া হিসেবে গণ্য করো। এবার নফস আমার কথা মেনে নিল।
📄 কারও সাথে শত্রুতা না যাওয়া
জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় আমি যেটা বুঝেছি তা হলো, পারতপক্ষে কখনো কারও সাথে শত্রুতা সৃষ্টি করা উচিত নয়। কারণ, ব্যক্তি ও তার সামাজিক অবস্থান যেমনই হোক, হতে পারে তার নিকট কোনো ক্ষেত্রে নিজের প্রয়োজন পড়তে পারে। মানুষের কখনো কখনো এমনও হয়- যার ব্যাপারে কোনো সময় ধারণাই করা হয়নি- জীবনে তার সাহায্য কোনোদিন প্রয়োজন হবে, অথচ তার সাহায্যই একসময় প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। হয়তো কখনো তার দিকে কোনোদিন তাকিয়েও দেখা হয়নি কিংবা ভ্রুক্ষেপও করা হয়নি- এমন কত সামান্য ক্ষুদ্র মানুষের কাছেও কখনো প্রয়োজন পড়ে যায় মানুষের।
এমনকি কখনো তার থেকে কোনো উপকার প্রাপ্তির প্রয়োজন না হলেও, তার ক্ষতি থেকে বাঁচার প্রয়োজন হয়। আমার এই দীর্ঘ জীবনে এমন অনেক মানুষের উপকারের প্রয়োজন পড়েছে, অথচ কোনোদিন মনের কোণে সামান্যতম ধারণাও জাগেনি যে, তার উপকার আমার প্রয়োজন হতে পারে কিংবা তার সহানুভূতি আমার দরকার হতে পারে।
জেনে রেখো, অনর্থক শত্রুতা সৃষ্টি কখনো এমন দিক থেকে ক্ষতি ডেকে আনে, যা কল্পনাও করা যায় না। কারণ, শত্রুতার প্রকাশ তরবারির একটি আঘাতের মতো, যা করে ফেললে বিপরীত আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। কখনো কখনো এই আঘাত আসে খুবই গোপন জায়গা থেকে; নিজের অলক্ষ্যে।
সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সুন্দরভাবে বসবাস করার ইচ্ছা রাখে, তার জন্য কখনো কারও সাথে শত্রুতার প্রকাশ না ঘটানোর চেষ্টা করা উচিত। কারণ, এই পৃথিবীতে একজন আরেকজনের নিকট প্রয়োজন পড়াটা খুবই স্বাভাবিক এবং সেই সাথে একজন আরেকজনের ক্ষতি করার বিষয়টিও সাধারণ।
শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ না করা- এটি এমন এক বিষয়- মানুষের জীবনে যত দিন যাবে, যত অভিজ্ঞতা বাড়বে, এর উপকারিতা সে ততই বুঝতে শিখবে।
📄 খেলাধুলা ও আনন্দ
আমি নিজের থেকেই বুঝতে পারি—নফস কখনো কখনো দুনিয়াদারদের অর্জিত বিত্ত-বৈভব ও বাহ্যিক আনন্দ-উল্লাসের দিকে কাতর নয়নে চেয়ে থাকে এবং ভুলে যায়—এগুলো অর্জনের পদ্ধতির কথা এবং অর্জনের পেছনে যেই বিপদ বিভ্রাট কিংবা পঙ্কিলতা বিরাজমান—সেগুলোর কথা।
এটা এভাবেও ব্যাখ্যা করা যায়—তুমি যখন কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিত্তশালীকে দেখো, তখন তুমি তাদের এই কর্তৃত্ব নেতৃত্ব ও ঐশ্বর্যের পেছনে নিদারুণ কদর্যতার দেখা পাবে। হ্যাঁ, কারও যদি ভালো নিয়ত থাকে, নিজের চেষ্টা শ্রম ও সততার মাধ্যমেই এগুলো অর্জন করে, তবুও তার কিছু বাস্তব অসুবিধা ও বিভ্রাটের মধ্যে পড়তে হয়। সে তখন তার প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে ভীত সন্ত্রস্ত ও শঙ্কিত থাকে। ভয়ে ভয়ে থাকে—কোনো শত্রু তার ক্ষতি করতে পারে। তার চেয়ে উপরের মানুষ তাকে অধঃপতিত করতে পারে। সমশ্রেণিরা ষড়যন্ত্র করতে পারে। এবং সে যেই সুলতান মন্ত্রী বা শাসকের অধীনে আছে, জীবনের দীর্ঘ সময় তার সেবা ও সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ব্যয় করতে হতে পারে। নিত্যদিন বিশাল সম্পদের হিসাব-নিকাশে সময় দিতে হবে। এবং এগুলো পরিচালনার মধ্যেও সময় দিতে হবে—যার মধ্যে কিছু কিছু অপ্রীতিকর বিষয় তো আছেই। যদি আরও লাভ হতে থাকে, তখন আবার এগুলো দিয়ে আরও সম্পদকে বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। এ ব্যক্তির কোনো অবসর বা ক্ষান্তি নেই। এরপর এই বিশাল সম্পদের নষ্ট হওয়ার ভয়, ছিনতাই বা ডাকাতির ভয়; হিংসুক, লোভী ও শত্রুদের ভয় তো আছেই।
এছাড়াও তুমি বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের দেখবে, যারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে গলদঘর্ম। ছুটে চলেছে শহর থেকে শহরে। দিনরাত খেটে চলেছে। তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য—অঢেল সম্পদ অর্জনে তখনই সক্ষম হয়, যখন তাদের বয়স যায় বেড়ে, আনন্দ-স্ফূর্তির যৌবন যায় ডুবে।
যেমন একটি ঘটনা আছে। বিত্তশালী এক নেতা। যৌবনে যার ছিল দারুণ অভাব অনটন। কিন্তু ভীষণ পরিশ্রম করে খেটেখুটে একসময় অনেক সম্পদের মালিক হয়। তুর্কিস্তান ও বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছু গোলাম ক্রয় করে। রোম থেকে ক্রয় করে অনেক সুন্দরী রূপসী সব দাসী। কিন্তু জীবনের সূর্য তো পড়ন্ত বেলায়। তিনি তার নিজের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে কবিতা বলেন-
ما كنت أرجوه إذ كنت ابن عشرينا ... ملكته بعد أن جاوزت سبعينا يردن إحياء ميت لا حراك به ... وكيف يحيين ميتاً صار مدفونا قالوا أنينك طول الليل يسهرنا ... فما الذي تشتكي قلت الثمانينا
আমি আজ আমার সত্তর অতিক্রম করে যে সম্পদের মালিক হয়েছি, আমার বিশ বছর বয়সে তার কল্পনাও করতে পারিনি।
এমনই লাস্যময়ী সুন্দরী রূপসী- তাদের স্পর্শে যেন জেগে ওঠে মৃত শরীর। কিন্তু যাকে করা হয়ে গেছে দাফন- তেমন মৃতকে তারা জাগাবে কেমন করে?
তারা বলে, দীর্ঘ রাত জেগে থাকব আমরা তোমার সঙ্গী হয়ে। তোমার অসুবিধা কোথায়? আমি বলি, অসুবিধা আমার বয়স-আশি।
অধিকাংশ বিত্তবানের ক্ষেত্রে এমনটিই ঘটে। শ্রম সাধনা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষ যখন তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো অর্জনে সক্ষম হয়ে ওঠে, ততদিনে অক্ষম হয়ে পড়ে তার শরীর ও মন- ততদিনে শুভ্র কেশে মৃত্যুর বার্তা এসে দুয়ারে নাড়তে থাকে কড়া।
আর কেউ যদি কৈশোর বা যৌবনের শুরুতেই সম্পদের দেখা পায়, তবুও তার এই নতুন বয়সের অদক্ষতা সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না কিংবা মার্জিতভাবে উপভোগও করতে পারে না। প্রাপ্তবয়স্ক ও পরিণত না হওয়ার আগে মানুষ তার সঠিক পথটি খুঁজেও পায় না। এরপর যখন বালেগ হয়ে পড়ে, বিয়ের জন্য উৎসুক ও তাড়িত হয়ে ওঠে। আর যখন বিয়ে হয়- এর কিছুদিন পরই সন্তান। এরপর আরও সন্তান। তখন আর ইচ্ছেমতো নিজের জীবন উপভোগ করতে পারে না। উপার্জনের চিন্তায় নিজেও ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ে। এই করতে করতেই ত্রিশের কোটা অতিক্রম করে যায়। পৌঢ়ত্ব এসে দেখা দিতে থাকে। মনের স্ফূর্তি ভাবও কেটে যেতে থাকে। নিজেও আকর্ষণ হারাতে থাকে। কারণ, ইতিমধ্যে নারীরাও তার থেকে আকর্ষণ হারাতে চলেছে।
যেমন কবি ইবনুল মু'তায বলেন, لقد أتعبت نفسي في مشيبي ... فكيف تحبني الغيد الكعاب
বার্ধক্যের জরা-খরায় আজ আমি এক ক্লান্তপ্রাণ- আমাকে তবে আর কীভাবে ভালোবাসবে লাস্যময়ী কোমল তন্বী রূপসী তরুণীগণ!
অনেক মানুষের ক্ষেত্রেই তুমি এমনটি দেখতে পাবে। হৃদয়ের তপ্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কোনো সুন্দরীর স্পর্শের জন্য হয়তো কাতর- চোখে রঙিন স্বপ্ন, কিন্তু নিজের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে সে তার আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতে পারছে না। আবার যখন সে সম্পদ অর্জনের জন্য লেগে পড়ছে, শ্রম ও সাধনা করছে, ততদিনে তার সেই কাতরিত হৃদয়ের তপ্ত বাসনা নিভে গেছে। তারপর সম্পদ ও সুন্দরী- উভয়টিই যখন মিলল, বার্ধক্যের নিকৃষ্টতম শীতলতা ও অক্ষমতা এসে তখন ভর করল।
এছাড়া সম্পদশালী ব্যক্তি তার নিকট ও অধীনস্থ ব্যক্তিদের খরচের ব্যাপারেও ভয়ে ভয়ে থাকে। একটু কম খরচ করলেই কৃপণতার দায়ে কটাক্ষের তির এসে বিদ্ধ করে। অপচয় করলেও তারা মন্দ বলে। তার সন্তানেরা তার মৃত্যুর প্রতীক্ষা নিয়ে ওত পেতে থাকে। চারদিক তার বৈরিতায় ছেয়ে যায়। অথচ একটি দীর্ঘ সময় সে ভীষণ কষ্টের মধ্যে থেকে এই সম্পদ অর্জন করেছে। তখন কোনো ভোগ-বিলাসের চিন্তা করেনি। আবার এখনো সক্ষম নয়- তবে তার জীবনে থাকলটা কি?
এছাড়া এটা যদি অবৈধ পথে হয়- তবে আখেরাতের শাস্তির বিষয় তো ধরাই রইল। কড়ায়-গণ্ডায় সকল হিসাব তাকেই আদায় করতে হবে।
এবার আমি নফসকে ডেকে বলি, তুমি তাদের এই বাহ্যিক ধন-সম্পদ ও বিত্ত-বৈভবের দিকে তাকিয়ো না। তুমি শুধু দূর থেকে এগুলোকে সুখময় মনে করছ। কিন্তু তুমিও যদি এই স্থানে পৌঁছাও, তবে তুমি এটাকে অপছন্দই করবে।
তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোর অর্জনের আড়ালে দুনিয়া ও আখেরাতের যেই ক্ষতি ও বিপদ লুকায়িত আছে, সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা এখানে সম্ভব নয়। সুতরাং তুমি যথাসম্ভব অল্পেতুষ্ট থাকো। এর মধ্যেই রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা।
এবার একটি ঘটনা বলি-
একবার এক জাহেদ ব্যক্তি এক জায়গায় বসে আছে। তার হাতে একটি শুকনো রুটি। তাকে একজন প্রশ্ন করল, এই সামান্য শুকনো রুটি- এটা খেতে আপনার চাহিদা হয়?
জাহেদ ব্যক্তি উত্তরে বলল, আমি রুটিকে রুটির জায়গায় রেখে দিই। ঠিক আমার যখন তার প্রতি চাহিদা হয়, তখনই শুধু আহার করি। চাহিদা না হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।