📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 আদর্শ ও যুক্তির অনুসরণ

📄 আদর্শ ও যুক্তির অনুসরণ


বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো, তিনি নিজের জন্য একটি যুক্তি ও আদর্শকে আঁকড়ে ধরবেন এবং এ জন্য তার ওপর যত কষ্ট ও দুঃখই আসুক, সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করবেন না।
যেমন ধরো, বহু অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে মহান স্রষ্টা আল্লাহ তাআলার হিকমত এবং তার কর্তৃত্ব ও পরিচালনার বিশুদ্ধতা প্রমাণিত। এরপর কোনো মানুষ যখন দেখে, একজন আলেম ও পণ্ডিত ব্যক্তি রিজিক হতে বঞ্চিত- নিঃস্ব ও দরিদ্র। অন্যদিকে একজন অশিক্ষিত মূর্খ ব্যক্তি রিজিক ও ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ। তখন আল্লাহর হিকমতকে সাব্যস্তকারী পূর্বোক্ত দলিল এটা মেনে নেওয়াকেই আবশ্যক করে। সে সেভাবেই মানবে এবং ভেবে নেবে, এগুলোর হিকমত বা রহস্য বোঝার অক্ষমতা তার নিজের। স্রষ্টার প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই।
কিন্তু কিছু কিছু ব্যক্তি তাদের মূর্খতার কারণে এমনটি করে না। এমনটি ভাবে না। এমনটি মেনেও নিতে চায় না। তুমি কি তাদেরকে দেখেছ, এসকল ব্যাপারে তারা কী ধরনের মন্তব্য করে? এটা কি আল্লাহর ভুল পরিচালনা? তারা কি তাদের নিজেদের বুদ্ধি দিয়ে বিষয়টা বিচার করতে চাচ্ছে না? কিংবা নিজেদের বুদ্ধি দিয়ে এটাকে অন্যায় ধার্য করছে না?
এবার তাহলে ভাবো একবার! একটি মানুষ, স্রষ্টার কোটি কোটি সৃষ্টির মধ্যে একটি ক্ষুদ্র অংশ, সেই ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম অবয়বটিই বিচার করতে চাচ্ছে সমস্ত জগতের স্রষ্টা, সকল জ্ঞানের অধিকারী আল্লাহর হিকমত ও তার পরিচালনার বিষয়! এমনকি ভুলও ধরতে চায়!
এমনই এক অভিশপ্ত ব্যক্তি হলো ইবনে রাওয়ান্দি। তার একটি ঘটনা আমার কানে এসেছে। সে একদিন দজলার ব্রিজের ওপর বসে তার হাতে থাকা শুকনো রুটি খাচ্ছিল। এ সময় ব্রিজ দিয়ে অনেক ঘোড়া ও সম্পদ পার করে নিয়ে যাওয়া হলো। সে এগুলো দেখে জানতে চাইল, এগুলো কার?
উত্তরে বলা হলো, অমুক খাদেমের।
এরপর আরও অনেক ঘোড়া ও সম্পদ নিয়ে যাওয়া হলো। এবারও সে জানতে চাইল- এগুলো কার?
উত্তরে বলা হলো, একই ব্যক্তি- অমুক খাদেমের।
এরপর যখন সেই খাদেমটি ব্রিজ পার হচ্ছিল, তখন সে দেখল, ব্রিজের উপর একটি বিরক্ত বৃদ্ধলোক বসে আছে এবং সে তার হাতে থাকা রুটিটা তার পাশে নিক্ষেপ করে নিজের দিকে ইশারা করে ক্ষুব্ধভাবে বলে উঠল, আর এটা হলো অমুকের জন্য! স্রষ্টার এ কী ধরনের বণ্টন!
এই অভিযোগকারী যদি কিছুটা চিন্তা করত, তবে তার কাছে অনেকগুলো বিষয় প্রকাশিত হতো। এর একটি বিষয় হলো, যাকে চেনার দাবি সে করছে, তার সম্পর্কে তার অজ্ঞতা এবং তার প্রতি যথার্থ সম্মানবোধ না থাকা। এ কারণে তার সেই অসচ্ছল জীবনযাপন তার কাছে কঠিন ও অন্যায় মনে হয়ে উঠছে। এভাবেই দীর্ঘদিনের ইবাদতকারী ইবলিস মাটি দ্বারা নতুন সৃষ্ট আদমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের বিষয়টি ভুল মনে করছিল!
মোটকথা, মানুষের জন্য উচিত একটি সুচিন্তিত ও প্রমাণিত যুক্তি ও আদর্শ গ্রহণ করা। এরপর তার চারদিক থেকে যত কষ্ট আর সন্দেহই আসুক- সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করা। এবং জেনে রাখা, ইলমই হলো মানুষের অর্জিত বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান ও শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
মূর্খদের একটি দল ধারণা করে, আলেমদের দুনিয়ার আনন্দ-খুশির অংশ বুঝি তেমন একটা নেই। তারা ইলমকেও ততটা মূল্য দেয় না। তারা বলে- এর মধ্যে কোনো কল্যাণ ও জীবিকা নেই।
তারা এটা বলে, ইলমের মর্যাদা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে। কিন্তু সুদৃঢ় যুক্তির অনুসারী ব্যক্তি অন্যকোনো দিকে তাকাবে না। সে জানে, মানুষের কামনা ও বাসনার অপূর্ণতাই হলো দুনিয়ার পরীক্ষা। সত্যপথে থাকার তাওফিক হলে, আর কোনোদিকে তাকানোর দরকার নেই।
আমরা অকাট্যভাবেই আমাদের নবীর নবুয়তের সত্যতা সম্পর্কে জানি ও মানি। এরপরও তার দুনিয়া থেকে বিমুখ থাকা, দারিদ্র্যপূর্ণ জীবনযাপন করা, সম্পদ গচ্ছিত না করা এবং উত্তরাধিকারীদের জন্য কিছুই রেখে না যাওয়া- এগুলোই প্রমাণ করে তার সন্ধান ও লক্ষ্য ছিল অন্যকিছু- সেটা আখেরাত।
এরপরও কিছু মূর্খলোক ধারণা করে, আলেমগণ বুঝি সম্পদ অর্জন না করে ইলম অর্জনের মাধ্যমে ভুল করছেন। এসকল মূর্খ মানুষ ইলমকে হেয় জ্ঞান করে। এটাকে অপ্রয়োজনীয় ভাবে। এটা তাদের একটা বড় ভুল। কিন্তু অজ্ঞতার ওষুধ ইলম ছাড়া আর কীই-বা হতে পারে!
কিন্তু বুদ্ধিমানের উচিত, আল্লাহকে ভয় করে চলা। বুদ্ধিমত্তার দাবি অনুযায়ী চলা। অর্থাৎ আল্লাহর অনুগত হওয়া। ইলম অনুযায়ী আমল করা। এবং জেনে রাখা, কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের অপ্রাপ্তির মাধ্যমেই আল্লাহ কষ্টের ওপর ধৈর্যের পরীক্ষা নেন।
সুতরাং তার জন্য উচিত হবে, একনিষ্ঠভাবে যুক্তি ও আদর্শকে অনুসরণ করা- এতে যত কষ্ট আসে আসুক। আল্লাহই একমাত্র তাওফিকদাতা।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 ধৈর্যের প্রতিফল

📄 ধৈর্যের প্রতিফল


আমি একদিন সুরা ইউসুফ তেলাওয়াত করছিলাম। পড়তে পড়তে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ধৈর্যের প্রশংসা নিয়ে আমি আশ্চর্য বোধ করতে থাকি। তিনি যা থেকে বিরত থেকেছেন, সেটা এখন মানুষের বর্ণনা এবং তার মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আমি বিষয়টার রহস্য নিয়ে চিন্তা করলাম-তিনি কেন এত মর্যাদাশীল ও মানুষের জন্য এমন উত্তম চরিত্রের উদাহরণ হয়ে উঠলেন? আমার কাছে বিষয়টা প্রতিভাত হলো-এগুলোর কারণ হলো তাঁর অবৈধ আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা।
আমি মনে মনে বললাম, কী আশ্চর্য কাণ্ড! তিনি যদি তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে অবৈধ আবেগের ডাকে সাড়া দিতেন, তাহলে আজ তার কোথায় স্থান হতো? কিন্তু তিনি যখন প্রবৃত্তির বিরোধিতা করলেন, তখন এটিই হয়ে উঠল তার মহান এক গুণ। আজ তার ধৈর্যের ঘটনা দিয়ে মানুষের জন্য উদাহরণ পেশ করা হয়। সকল মানুষের উপর তাঁর এই ধৈর্য ও কষ্টস্বীকার একটি গর্বের বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়।
এই সকল কিছু হতে পেরেছে মাত্র কয়েক মুহূর্তের ধৈর্যের কারণে। কত স্বল্প সময়ের ব্যাপার ছিল এটা! মুহূর্তের এই ধৈর্যধারণই হয়ে গেল তার সারাজীবনের বিশাল সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। আর তিনি হয়ে উঠলেন অনাগত সকল মানুষের জন্য চারিত্রিক পবিত্রতার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত!
সুতরাং হে সেই ব্যক্তি, যার কিছুটা সম্মান মর্যাদা ও গর্ব করার বিষয় আছে, নিজের এ ধরনের আবেগঘন মুহূর্তে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ো। নিরাপদ নিরালায় নিজের প্রিয়তম কিংবা প্রিয়তমা- অথবা কোনো প্রিয়বস্তুর ক্ষেত্রে ধৈর্যহারা হয়ে যেয়ো না।
মুহূর্তের ধৈর্য কিংবা অধৈর্য তোমার পরবর্তী জীবনকে আমূল পাল্টে দিতে পারে!
সুতরাং যারা বুদ্ধিমান, তারা দুটো বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। বিষয় দুটো হলো, সাময়িক মিষ্টতা ও স্থায়ী তিক্ততা এবং সাময়িক তিক্ততা ও স্থায়ী মিষ্টতা।
দুনিয়ার মিষ্টতা কিংবা তিক্ততা- দুটোই সাময়িক। আর আখেরাতের মিষ্টতা কিংবা তিক্ততা- দুটোই স্থায়ী। সুতরাং বুদ্ধিমান ব্যক্তি কখনোই সাময়িক মিষ্টতার বিনিময়ে স্থায়ী তিক্ততা গ্রহণ করতে চাইবে না।
সুতরাং যে ব্যক্তি তার হিসাবের খাতা গোনাহ থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণে নিজেকে ঝুঁকিয়ে না দেবে- সে তার জীবনের প্রতিটি ধৈর্যের ক্ষেত্রে বহুগুণ লাভ ও অর্জন দেখতে পাবে। আর প্রতিটি প্রবৃত্তির অনুসরণে দেখতে পাবে অনুশোচনার বিষয়।
এ বিষয়ে যতটুকু আলোচনা করা হলো, প্রবৃত্তির অবৈধ অনুসরণ থেকে বেঁচে থাকার জন্য বুঝমানদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 সংযত ব্যক্তির সান্নিধ্য

📄 সংযত ব্যক্তির সান্নিধ্য


আমি অনেক দিনের অভিজ্ঞতায় একটি জিনিস বুঝেছি- ফিকহের অব্যাহত চর্চা এবং বিচার-বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন হাদিস শ্রবণ, এগুলো অন্তরের সংশোধনে যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন অন্তরকে রেকাকের [যে সকল আয়াত ও হাদিসের মাধ্যমে অন্তর ভীত হয়, বিগলিত হয়, নরম হয়, আখেরাতের প্রতি ধাবিত হয়- এমন আয়াত ও হাদিসসমূহ] সাথে সংমিশ্রণ করা এবং সালাফে সালেহিনের জীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করা। কারণ, তারা কোরআন ও হাদিসের মৌলিক উদ্দেশ্য ও খাজানা প্রাপ্ত হয়েছেন এবং এগুলোতে আদেশপ্রাপ্ত বিষয়ে আমলের বাহ্যিকতা থেকে বের হয়ে তার প্রকৃত অর্থের মিষ্টতা ও উদ্দেশ্য চেখে দেখেছেন; অথচ কখনো শরিয়তের বাইরে যাননি।
আমি তোমাকে যে কথাগুলো বলছি, এটা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষ দর্শনের মাধ্যমেই বলছি। আমি অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও হাদিস শিক্ষার্থীদের দেখেছি- তারা সর্বদা হাদিস সংগ্রহ ও বিন্যাস-বিশ্লেষণ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আর অধিকাংশ ফিকাহবিদ বিভিন্ন মাসআলা এবং সেগুলো নিয়ে হরেক রকম তর্ক-বিতর্ক নিয়ে মশগুল থাকে।
এই সকল বিষয়ের সাথে ব্যস্ত থেকে হৃদয়ের কোমলতা ও বিগলন আসবে কীভাবে?
কিন্তু আমাদের সালাফে সালেহিন কোরআন-হাদিসের নস দ্বারা সার্বিকভাবে কোনো দিকে চিন্তা না করে শুধু তার অর্থ, উদ্দেশ্য ও হিদায়েতের দিকে লক্ষ করতেন। এগুলো একত্র করা, বিন্যাস করা, বিশ্লেষণ করা, তর্ক-বিতর্ক করা, নিজের মতের পক্ষে দলিল-প্রমাণ অন্বেষণ করা- এসবের দিকে তারা মন দিতেন না এবং এগুলো এভাবে লোকদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার নিয়তও করতেন না। বরং এগুলো তারা তাদের জীবনে আমলে পরিণত করেছেন। তারা শুধু হিদায়েতকে খুঁজেছেন।
প্রথমে কোরআন ও হাদিসের এই বিষয়টা অনুধাবন করো। এরপর তার সাথে চর্চা করো ফিকাহ। এবং চর্চা করো সালাফে সালেহিনের জীবনী, দুনিয়াবিমুখ আবেদ ও জাহেদদের জীবন- যাতে এগুলো তোমার অন্তরের নম্রতা সৃষ্টির মাধ্যম হয়।
এ কারণে আমি আমাদের প্রসিদ্ধ শাইখদের জীবনী- তাদের ঘটনাবলি, আদব, আখলাক ও জীবনাচারগুলো নিয়ে আলাদা আলাদা স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছি। যেমন, হজরত হাসান বসরি, হজরত সুফিয়ান সাওরি, হজরত ইবরাহিম ইবনে আদহাম, হজরত বিশর হাফি, হজরত আহমদ ইবনে হাম্বল, হজরত মারুফ কারখি রহিমাহুমুল্লাহসহ আরও অনেক আলেম ও জাহেদদের।
স্মরণ রাখা দরকার, ইলমের কমতির সাথে কখনো আমল বিশুদ্ধ হতে পারে না। তখন অবস্থা হবে এমন যে, একজন আগে টানবে- অন্যজন টানবে পেছনে- এর মাঝখানে বেচারার আত্মার অবস্থা হবে কাহিল। জীবনভর এই অগ্র ও পশ্চাতে টানাটানি চলতেই থাকবে, কিছুটা সামনে আবার কিছুটা পেছনে- এভাবে কখনো কাঙ্ক্ষিত মানজিলে পৌঁছা সম্ভব হবে না। তাই প্রথমে ইলমে পরিপক্কতা অর্জন করা একান্ত জরুরি।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 তাকওয়াই সবচেয়ে উত্তম পথ

📄 তাকওয়াই সবচেয়ে উত্তম পথ


আমি একবার এমন একটি বিষয়ে শিথিলতা গ্রহণ করলাম- যা অন্য মাজহাব অনুযায়ী জায়েয ছিল। এরপর আমি আমার অন্তরের মধ্যে এক ধরনের অন্ধকার অনুভব করতে লাগলাম। আমি যেন স্রষ্টার দরবার হতে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা বোধ করতে লাগলাম। অন্ধকারের ওপর অন্ধকার যেন আমার অন্তর ছেয়ে ফেলতে লাগল।
আমার অন্তর বলে বসল, এটা কী শুরু হলো? আমি ফিকাহবিদদের মতের বাইরে তো কিছু করিনি- তাহলে এমন হচ্ছে কেন?
আমি তাকে বললাম, হে দুষ্ট নফস, তোমার এই প্রশ্নের উত্তর দু-ভাবে প্রদান করা যায়।
এক. তুমি নিজের জন্য এমন ব্যাখ্যা বেছে নিয়েছ, যা তুমি নিজেই বিশ্বাস করো না। তোমার নিকট কেউ যদি ফতোয়া জিজ্ঞাসা করত, তাহলে তুমি যা করেছ, তার বিপরীত ফতোয়াই তুমি দিতে।
নফস বলল, আমি যদি এটার জায়েযের বিষয় বিশ্বাস না করতাম, তবে তো আমি এটা করতামই না।
আমি বললাম, তাহলে অবশ্যই তোমার এই বিশ্বাসের ফতোয়া অন্যকে সন্তুষ্ট করত না। এটা তোমার নিজস্ব মত।
দুই. তুমি যে এই কাজটি করার পর তোমার অন্তরের মধ্যে অন্ধকার অনুভব করছ, এ জন্য তোমার খুশি হওয়া উচিত। কারণ, তোমার অন্তরের মধ্যে যদি আলো না থাকত, তাহলে তুমি এই অন্ধকার অনুভব করতে পারতে না।
নফস বলল, কিন্তু নতুন এই অন্ধকারের মাধ্যমে অন্তরের মধ্যে আমি তো স্রষ্টার ভালোবাসা ও নৈকট্য থেকে বিচ্ছিন্নতা অনুভব করছি।
আমি বললাম, তাহলে এবার এ ধরনের কাজ আর না করার ওপর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও এবং বুঝে নাও, তুমি যা বর্জন করেছ, সেটাই ছিল সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয। এবং এটা বর্জন করাকে তাকওয়া হিসেবে গণ্য করো। এবার নফস আমার কথা মেনে নিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00