📄 ফিতনার গোড়া কেটে ফেলো
আমি মনে করি, ফিতনার নিকটে থাকাই হলো সবচেয়ে বড় ফিতনা। এর চেয়ে বড় ফিতনা আর হয় না। কারণ, কেউ ফিতনার নিকটে থাকে আর ফিতনার মধ্যে আপতিত হয় না- এমন খুবই কম ঘটে। যে ব্যক্তি আগুনের চারপাশে ঘোরে, তার আগুনে পোড়ার আশঙ্কাই বেশি।
এক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি নিজের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, একবার আমার এমন একটি বাসনা পূরণের সুযোগ হয়- যা প্রকাশ্যভাবে হারাম, আবার হালালেরও সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বিষয়টি ছিল সন্দেহপূর্ণ।
এসময় আমার নফস বলে উঠল, তুমি আসলে এটি করতেই সক্ষম নও। সে কারণে এটা বর্জন করতে চাচ্ছ। তুমি আগে বিষয়টির নিকটবর্তী হও, এরপর যখন তা অর্জনে সক্ষম হবে এবং বর্জন করবে, তখনই শুধু তুমি প্রকৃত বর্জনকারী হিসেবে গণ্য হবে।
আমি নফসের কথামতো তা-ই করলাম এবং সেটি বর্জন করতে সক্ষমও হলাম।
এর কিছুদিন পর আবার এমন একটি বিষয়ে উপনীত হলাম, বিভিন্ন ব্যাখ্যা হালাল হওয়ার প্রতি ইশারা করে- কিন্তু বিষয়টি আসলে সন্দেহযুক্ত। এরপর যখন আমি সেটি করার উপযোগী হলাম, আমার অন্তরের মধ্যে এক ধরনের অন্ধকার অনুভব করলাম। ভয় পেলাম, এটা বুঝি হারাম হবে। এভাবে আমার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। কখনো নফস তার ব্যাখ্যা ও সহজতা নিয়ে আমার ওপর শক্তিশালী হয়ে ওঠে, আবার কখনো আমিই চেষ্টা ও দৃঢ়তা দ্বারা তার ওপর বিজয়ী হয়ে উঠি।
এখন কথা হলো, আমি যদি সহজতাকে গ্রহণ করি, তবে এ ব্যাপারে নির্বিঘ্ন থাকতে পারি না- এটি আসলেই নিষিদ্ধ ছিল কি না? তাছাড়া নগদ আমি আমার অন্তরের মধ্যে এর খারাপ প্রভাব অনুভব করছিলাম। সহজতার ব্যাখ্যার মাধ্যমে আমি নিরাপত্তা বোধ করছিলাম না, তখন এই বিষয়টির আশা অন্তর থেকে দূর করার পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করতে লাগলাম। অবশেষে একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করলাম। আমি আমার নফসকে বললাম, তুমি এটাকে নিশ্চিত বৈধ বলেও যদি সাব্যস্ত করো- আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তবুও আমি কিছুতেই এটা করব না।
এ কথা বলার পর আমি আশ্চর্য রকমের ফল পেলাম। এই কসম ও ওয়াদার কারণে অন্তর থেকে এর আশা একেবারে রহিত হয়ে গেল। নফস আর কোনো ব্যাখ্যার দিকে ধাবিত হলো না। এ ধরনের বিষয় থেকে বিরত থাকার জন্য আমি একটি উপযুক্ত ওষুধ প্রাপ্ত হলাম। কারণ, এখন ব্যাখ্যাটা কসম ভঙ করা ও কাফফারা প্রদানের দিকে নিয়ে যেতে সাহস করবে না।
এ কারণে সবচেয়ে উত্তম হলো ফিতনার গোড়া কেটে ফেলা। তার কোনো শিকড় না রাখা। আর যা হারামের দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রাখে, সে রকম সহজতা ও শিথিলতাকে বর্জন করা। আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা।
📄 প্রবৃত্তির উত্তেজনা এক ধরনের আবরণ
অপরাধ সংঘটনের সময় অপরাধীর মধ্যে যদি এক ধরনের আবরণ ও পর্দা না পড়ত, তবে সে অপরাধটাকে স্পষ্ট খনিজ পদার্থের মতো দেখতে পেত। কিন্তু প্রবৃত্তির তীব্র কামনা তার মাঝে এবং পরিস্থিতি অনুধাবনের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং তখন সে শুধু বাসনাটি পূরণের দিকেই পূর্ণভাবে ঝুঁকে থাকে। সাময়িকের জন্য তার অপরাধের হুঁশ-জ্ঞান বা চেতনা রহিত হয়ে যায়।
যদি এমনটি না হতো- অপরাধের সময় যদি তার মাঝে আল্লাহর হুকুমের বিরোধিতার পূর্ণ সচেতনতা থাকত, তবে সেই বিরোধিতার কারণে ঈমান থেকে বের হয়ে যেত। সে আর মুমিনই থাকত না। কিন্তু আসলে তখন সে কোনো দিকে লক্ষ না করে অচেতন মাতালের মতো তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে বসে, বিরোধিতা ঘটে এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে। আর মানুষের জাহান্নামে যাওয়ার অধিকাংশ বিষয় এভাবেই সংঘটিত হয়।
কিন্তু কোনো বুদ্ধিমান যদি মুহূর্তের উত্তেজনায় সাময়িক স্ফূর্তি ও এর পরিণামে বাকি জীবনের আফসোস ও অনুশোচনার ক্ষতির মাঝে পার্থক্য করতে পারে, তাহলে সে কিছুতেই অপরাধের নিকটবর্তীও হবে না- এমনকি পুরো দুনিয়া তাকে প্রদান করা হলেও না। কিন্তু প্রবৃত্তির উত্তেজনা তার মাঝে এবং তার চিন্তার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই অপরাধ বা গোনাহ সংঘটিত হয়ে পড়ে।
আহা! আফসোস! কত গোনাহের স্বাদ মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়- যেন তা কখনো করাই হয়নি। কিন্তু তার কুপ্রভাব স্থায়ী কলঙ্কের মতো অবশিষ্ট থেকে যায়। অন্তত এতটুকু তো হয়-ই, জীবনভর তাকে এর অনুশোচনায় দগ্ধ হতে হয়।
এ কারণে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো, ফিতনার উপকরণের মুখোমুখি না হওয়া, তার নিকটবর্তীও না হওয়া।
যে ব্যক্তি এই কথাগুলো বুঝবে এবং সতর্ক থাকার জন্য প্রবল চেষ্টা করবে- আশা করা যায়, সেই কেবল নিরাপদ ও গোনাহমুক্ত থাকতে সক্ষম হবে।
📄 অভাবগ্রস্তকে সংশোধন করা
কোনো আলেমের নিয়ত যদি বিশুদ্ধ থাকে, তবে তিনি লৌকিকতার কষ্ট থেকে মুক্ত থাকেন। কারণ, অনেক আলেম আছে, তারা যেন কিছুতেই ‘আমি জানি না’ কথাটা বলতে চান না। তাই নিশ্চিত উত্তর না জানা সত্ত্বেও তারা মানুষদের বিভিন্ন ফতোয়া প্রদান করে। এতে করে তারা মানুষদের নিকট নিজেদের সম্মান রক্ষা করেন; যেন মানুষরা বলতে না পারে- অমুক আলেম উত্তর জানে না।
এটা একটি সীমাহীন খিয়ানত ও লাঞ্ছনার বিষয়।
হজরত মালেক ইবনে আনাস রহ.-এর ক্ষেত্রে বর্ণিত আছে-একবার একলোক তাকে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করল। মালেক বিন আনাস রহ. বললেন, আমি এটা জানি না।
লোকটি বলল, আমি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আপনার নিকট এসেছি মাসআলাটি জানার জন্য- আর আপনি বলছেন, জানেন না। আমি ফিরে গিয়ে আমাদের লোকদের কী বলব?
মালেক বিন আনাস রহ. বললেন, তুমি তোমার দেশে গিয়ে বলো, আমি মালেককে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করেছিলাম। উত্তরে তিনি বললেন, আমি জানি না।
তুমি এই মহান ব্যক্তিত্বের দ্বীন ও বিবেচনাবোধের দিকে লক্ষ করো- কী চমৎকারভাবে তিনি সকল লৌকিকতা ও লোকদেখানো কষ্ট থেকে নিজেকে মুক্ত রাখলেন। আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখলেন।
একজন আলেম আল্লাহর দিকে চেয়ে ফতোয়া দেবেন। মানুষদের সম্মান ও বাহবা প্রাপ্তির জন্য নয়। কিন্তু যদি এমনটি করা হয়, তাহলে আলেমদের অন্তর নিয়ন্ত্রণ করবে মানুষদের ইচ্ছা, মানুষদের বাসনা। মানুষ যেভাবে কামনা করবে, লোভী আলেম ঠিক সেভাবেই চলবে এবং বলবে!
আল্লাহর কসম, আমি এমন অনেককে দেখেছি, যারা অনেক নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, চুপচাপ থাকে। পোশাকে-আচরণে বিনয়ী ভাব প্রকাশ করে; কিন্তু মানুষের অন্তর তবুও তার দিকে আকর্ষণবোধ করে না। মানুষের অন্তরে তার প্রতি তেমন একটা সম্মানবোধ জাগ্রত হয় না।
আবার এমন অনেক মানুষকে দেখেছি, যারা পরিপাট্য অভিজাত পোশাক পরিধান করে, খুব বেশি বিনয়ী ভাব প্রকাশ করে না। আবার খুব বেশি নফল ইবাদত করে- এমনও না। কিন্তু মানুষের অন্তরসমূহ তার ভালোবাসায় পাগলপারা। তার জন্যে সবার অন্তরে একটি অন্য ধরনের সম্মানবোধে স্থান দখল করে রাখে।
আমি এই পার্থক্যের কারণ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করলাম। আমি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় অনুধাবন করলাম। যেমন হজরত আনাস ইবনে মালেক রহ. সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়- তিনি খুব বেশি নফল নামাজ পড়তেন না বা খুব বেশি নফল রোজা রাখতেন না। কিন্তু তার অভ্যন্তরীণ আমল ছিল অতি শক্তিশালী। তাতে কোনো লৌকিকতা ও শিরকের মিশ্রণ ছিল না।
এভাবে যে ব্যক্তি তার গোপনীয় আমলকে বিশুদ্ধ করে নেয়, তার শ্রেষ্ঠত্বের সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অন্তরসমূহ তার ছড়ানো সুভাসে সুভাসিত হয়ে ওঠে।
আল্লাহর দোহাই! নিজেদের অভ্যন্তরকে বিশুদ্ধ করে নাও। বাহ্যিক যতই চাকচিক্যময় ও উজ্জ্বল হোক- অভ্যন্তর যদি সঠিক না হয়, তবে এগুলো কোনোই কাজে আসবে না।
📄 দুআ কবুল না হওয়ার কারণসমূহ
আমি একবার একটি কঠিন বিষয়ে আপতিত হই। আমি এর থেকে মুক্তি ও নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য অনেক দুআ করতে থাকি। কিন্তু তা কবুলে বিলম্ব হয়। নফস এতে অধৈর্য ও অস্থির হয়ে উঠতে থাকে।
আমি নফসকে ধমক দিয়ে বলে উঠলাম, তোমার ধ্বংস হোক, তুমি কি তোমার নিজের বিষয়টি একটুও চিন্তা করে দেখেছ? তুমি তার বান্দা নাকি স্বাধীন মালিক? তুমিই কি পরিচালক না তার দ্বারা পরিচালিত?
তুমি কি জানো না, পৃথিবী হলো পরীক্ষা ও কষ্টের স্থান? যখন তুমি তোমার বাসনার কথা প্রার্থনা করো এবং এরপর তোমার কামনামতো যখন সবকিছু প্রদান করা না হয়, তখন যদি তুমি ধৈর্যধারণ না করো, তবে আর তোমার পরীক্ষার বিষয় থাকল কোথায়? তোমার দাসত্ব ও আনুগত্য থাকল কোথায়? তোমার ইচ্ছা ও কামনার বিপরীত হওয়াটাই তো তোমার পরীক্ষা!
সুতরাং 'তাকলিফ'-এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করো। আজ ভারি জিনিস তোমার নিকট হালকা হয়েছে। আর কঠিন জিনিসও তোমার নিকট সহজ হয়েছে। এভাবে আমি যা বললাম, তা নিয়ে নফস যখন চিন্তা-ভাবনা করল, তখন সে কিছুটা চুপ হলো।
এরপর তাকে বললাম, দুআ কবুল না হওয়ার ওপর আমার নিকট আরও অনেক যুক্তি রয়েছে। আর তা হলো—এটা তুমি তোমার নিজের কামনা-বাসনা দিয়ে পাওয়ার ইচ্ছা করছ। অথচ তোমার নিজেকে প্রভুর ইচ্ছার সাথে আবশ্যক করে দিয়ে তা পেতে চাচ্ছ না। এটা তো স্পষ্ট মূর্খতা। বরং বিষয়টি হওয়ার প্রয়োজন ছিল এর উল্টো। কারণ, তুমি হলে তার বান্দা বা দাস। আর একজন বুদ্ধিমান বান্দা সর্বক্ষণ মালিকের ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য তৎপর থাকবে এবং সে জেনে রাখবে, মালিকের জন্য বান্দার সকল কামনা-বাসনা পূরণ করা আবশ্যক নয়।
আমার এ কথায় নফস আগের চেয়ে আরও কিছুটা নরম হলো।
এরপর আবার বললাম, আমার নিকট আরও যুক্তি আছে। আর তা হলো, তুমি নিজেই এই দুআ কবুল হওয়াকে বিলম্বিত করেছ। গোনাহের মাধ্যমে দুআ কবুলের দরজা তুমি নিজেই বন্ধ করে দিয়েছ। তুমি যদি এর দরজা খুলে রাখতে, তবে অনেক দ্রুতই দুআ কবুল হতো। তুমি কি জানো না, শান্তি ও স্বস্তির মাধ্যম হলো তাকওয়ার পথে চলা? যেমন, আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেন-
وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ( যে-কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার জন্য সংকট থেকে উত্তরণের কোনো পথ তৈরি করে দেবেন। এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিজিক দান করবেন, যা তার ধারণার বাইরে। [সুরা তালাক: ২-৩]
এবং অন্য আয়াতে বলেন,
(وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا)
যে-কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার কাজ সহজে সমাধান করে দেন। [সুরা তালাক: ৪]
নফসকে বললাম, এবার কি বুঝতে পারছ- তোমার উল্টে যাওয়ার কারণে বিষয়টিও উল্টে গেছে? উদাসীনতার অচেতনতা কতটাই না শক্তিশালী হয়ে পড়েছে, তাই আজ শ্যামল বাগানে পানির উৎসমুখ বন্ধ হয়ে গেছে।
এ কথায় নফস বুঝতে পারে- হ্যাঁ, এটাই সত্য। সে বিষয়টা পুরোপুরি মেনে নেয়।
এরপরও আমি তাকে বললাম, দুআ কবুল না হওয়ার ক্ষেত্রে আমার নিকট চতুর্থ আরেকটি যুক্তি আছে। সেটা হলো- তুমি যা কামনা করছ, তার পরিণাম তুমি জানো না। এমনও হতে পারে- এর পরিণাম তোমার জন্য ক্ষতিকর হবে। যেমন, কোনো অবুঝ শিশু এমন খাদ্য কামনা করে, যা আসলে তার জন্য ক্ষতিকর। সুতরাং যারা বুঝমান অভিভাবক, তারা বাচ্চার শত আবদার সত্ত্বেও সে খাবার তাকে প্রদান করে না। যেহেতু এটা পরিণামে ক্ষতিকর। ধ্বংসাত্মক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
(وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ )
এটা তো খুবই সম্ভব যে, তোমরা একটা জিনিসকে মন্দ মনে করো, অথচ তোমাদের পক্ষে তা মঙ্গলজনক। আর এটাও সম্ভব যে, তোমরা একটা জিনিসকে পছন্দ করো, অথচ তোমাদের পক্ষে তা মন্দ। আর (প্রকৃত বিষয় তো) আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না। [সুরা বাকারা: ২১৬]
এই উত্তরগুলোর মাধ্যমে নফসের নিকট যখন সঠিক বিষয়টি প্রকাশিত হয়ে গেল, তখন সে পুরোপুরি তৃপ্ত হয়ে গেল।
এরপর আমি তাকে আরও বললাম, আমার নিকট আরও উত্তর আছে। সেটা হলো, তোমার এই কাঙ্ক্ষিত বিষয় প্রদত্ত হলে তোমার প্রতিদান তো আরও কম হবে। তোমার মর্যাদার আরও অবনতি হবে। কিন্তু এটার পরিবর্তে আল্লাহ যখন নিজে তোমাকে কিছু দেবেন, সেটা তিনি তার পছন্দমতোই দেবেন। সেটা কত মর্যাদাকর হবে, একবার ভেবে দেখেছ! আর তাছাড়া এটা যদি তোমার দ্বীনের জন্য হয়, তাতেও তো আল্লাহর ইচ্ছা অনুসারে প্রদান করাটাই তোমার জন্য কল্যাণকর।
আর এতক্ষণ আমি তোমাকে যা বোঝালাম, সেগুলো যদি তুমি বোঝো, তবে তোমার জন্যই কল্যাণকর।
তখন নফস আমাকে বলল, আমি এতক্ষণ তোমার বর্ণনার সুরভিত বাগানে বিচরণ করলাম। তুমি যদি বুঝে থাকো, তাহলে আমিও বুঝলাম।