📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 আল্লাহর সীমাহীন নিয়ামত

📄 আল্লাহর সীমাহীন নিয়ামত


একবার আমার নফস আমাকে শরিয়তে 'মাকরুহ' একটি বিষয়ের দিকে প্ররোচিত করছিল। আমার জন্য জায়েযের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছিল। মাকরুহটাকে দূরে সরিয়ে রাখছিল। কিন্তু আসলে তার ব্যাখ্যাগুলো ছিল ভুল। সেটা মাকরুহ হওয়ার ওপর স্পষ্ট প্রমাণ ছিল।
আমি আমার নফসের এই চক্রান্ত থেকে রক্ষা পাবার জন্য আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করলাম। কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত শুরু করলাম। আমার পড়ার ধারাবাহিকতা 'সুরা ইউসুফ' পর্যন্ত এসেছিল। আমি সুরা ইউসুফ খুলে বসলাম। কিন্তু আমার অন্তরের বিক্ষিপ্ততার জন্য আমি বুঝতে পারছিলাম না, কোথা থেকে এখন পড়া শুরু করতে পারি। অবশেষে সুরা ইউসুফ থেকেই পড়া শুরু করলাম। পড়তে পড়তে যখন এই স্থানে এসে পৌঁছালাম-
﴿وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَايَ)
নারীটি বলল, এসে পড়ো। ইউসুফ বলল, আল্লাহর পানাহ! তিনি আমার মনিব। তিনি আমাকে ভালোভাবে রেখেছেন। [সুরা ইউসুফ : ২৩]
এই আয়াতের দ্বারা আমি সচকিত হয়ে উঠলাম। এটা দ্বারা যেন আমাকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমার সেই হতভম্বতা থেকে জেগে উঠতে সক্ষম হলাম। আমি আমার নফসকে ডেকে বললাম, হে নফস, কিছু কি বুঝতে পারছ?
ইউসুফ আলাইহিস সালাম ছিলেন একজন স্বাধীন বালক। তাকে অন্যায়ভাবে বিক্রয় করে গোলাম বানিয়ে ফেলা হয়। এরপর যিনি তাকে কিনে স্বাধীন করে তার ওপর অনুগ্রহ করেছেন, তার প্রতি তিনি কতটা সন্তুষ্টচিত্ত ছিলেন এবং তাকে ‘রব বা মালিক’ বলে উল্লেখ করছেন। যদিও তার ওপর তার প্রকৃত মালিকানা নেই। এরপরও তিনি বলছেন, তিনি আমার মনিব। এরপর তিনি নিজের ক্ষেত্রে এমন বিষয় না করার কথা উল্লেখ করছেন- যা তার মালিককে কষ্ট দেবে এবং বলছেন- তিনি আমার অবস্থানকে সুন্দর করেছেন।
এবার হে নফস, তোমার ব্যাপার দেখো। তুমি এক মাওলার প্রকৃত বান্দা বা গোলাম। তোমার অস্তিত্বের সূচনা থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত তোমার প্রতি তার কত অনুগ্রহ ও দয়া। অসংখ্য বালি-কণার চেয়েও তোমার কত দোষ-ত্রুটি তিনি আবৃত করে রেখেছেন। তুমি কি একটু স্মরণ করে দেখবে না- তিনি তোমাকে কীভাবে লালনপালন করেছেন? তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, রিজিক দিয়েছেন। তোমার বালা-মুসিবত দূর করেছেন। কত কল্যাণ তোমাকে দান করেছেন! সঠিক পথে তোমাকে পথ দেখিয়েছেন। সকল ষড়যন্ত্র থেকে তোমাকে রক্ষা করেছেন। বাহ্যিক আকার-আকৃতির সাথে সাথে অভ্যন্তরীণ জ্ঞান-বুদ্ধির সৌন্দর্য দান করেছেন। তোমার জন্য ইলম অর্জনকে সহজ করেছেন। দীর্ঘ পরিশ্রম ও অধ্যয়নে অন্যরা যা শিখতে পারে না, তুমি তা অল্পদিনের মধ্যেই অর্জন করতে পেরেছ। তোমার বিশুদ্ধ সুধাময় ভাষার মাঝে ইলমের ফল্গুধারা জারি করেছেন। মানুষের থেকে তোমার কত গোনাহ ও অপরাধ গোপন রেখেছেন। তারা তোমার সাথে কত সুন্দর ও ভালো ধারণা নিয়ে সাক্ষাৎ করে। কোনো ধরনের অসম্মান ও বড় কষ্ট ছাড়া তোমার রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন।
আল্লাহর কসম, হে নফস, আমি বুঝতে পারছি না, তোমার প্রতি প্রদত্ত আর কত নিয়ামতের কথা আমি উল্লেখ করব! আকার গঠনের সৌন্দর্যের কথা? সুস্থ ও নিরাপদ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কথা? নাকি সুন্দর স্বভাবের কথা? নাকি বলব ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা? নাকি বলব পঙ্কিলতামুক্ত সূক্ষ্ম অভিরুচির কথা? নাকি শৈশব থেকেই একটি অনাবিল সঠিক সৌন্দর্যের পথে পরিচালিত হওয়ার কথা? নাকি বলব তোমার ফাহেশা ও বিচ্যুতি থেকে সংরক্ষিত থাকার কথা? নাকি তোমার কোরআন হাদিসের মৌলিক বর্ণনা ও হেদায়েতের পথে থাকার কথা? বিদআত ও কুসংস্কার থেকে নিরাপদ থাকার কথা?
আমাকে বলো- আর কোন কোন নিয়ামতের কথা তোমাকে আমি বলি? এ কারণে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
( وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا )
তোমরা যদি আল্লাহর নিয়ামতসমূহ গুণতে শুরু করো, তবে তা গুণে শেষ করতে পারবে না। [সুরা নাহল : ১৮]
হে নফস, কত ষড়যন্ত্রকারী তোমার জন্য কত রকম ষড়যন্ত্র করেছে, কিন্তু সেগুলো থেকে তিনি তোমাকে রক্ষা করেছেন?
কত শত্রু তোমাকে নিন্দার আবরণে একেবারে ঢেকে ফেলেছিল, কিন্তু তিনি তা থেকে তোমাকে মুক্ত ও উজ্জ্বল করেছেন?
তোমার সম-সাথিদের কতজনই তো কাঙ্ক্ষিত পিপাসা নিবারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, অথচ তিনি তোমাকে তা পান করিয়ে তৃপ্ত করেছেন?
তোমার সঙ্গীদের কতজনকেই তো তাদের চাহিদা পূর্ণ হওয়ার আগেই আল্লাহ মৃত্যু দিয়েছেন, কিন্তু তিনি তোমাকে এখনো জীবিত রেখেছেন?
তুমি এখনো নিরাপদ সুস্থ শরীরে সকাল-সন্ধ্যা পার করছ। ইলম ও আমলে সজ্জিত হয়ে দ্বীনকে সংরক্ষণ করছ। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেছ। আবার যদি কোনো লক্ষ্যে পৌঁছুতে না পারো, বিপদ আসে- তখনো তুমি ধৈর্যের নিয়ামত প্রাপ্ত হয়ে সেগুলো সয়ে নিচ্ছ। কারণ, তুমি তো প্রতিপালকের কল্যাণ প্রদানের পদ্ধতি ও হিকমতের কথা জানো। সে কারণে তুমি মেনে নাও যে, দুনিয়াতে কখনো কখনো প্রদানের চেয়ে বঞ্চনাই অধিকতর কল্যাণকর।
হে নফস, এভাবে তুমি যদি এসকল নিয়ামতের কথা গণনা করতে থাকো, তবে তার গণনা শেষ হবে না। লিখতে চাইলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যাবে- কিন্তু লেখা শেষ হবে না। আর তুমি নিজেও জানো, এখানে যত নিয়ামতের কথা উল্লেখ করলাম, অনুল্লেখ রয়েছে তারচেয়ে অনেক বেশি। আর যেগুলোর প্রতি ইশারা করেছি, তার ব্যাখ্যাও করা হয়নি।
তাহলে কীভাবে তোমার জন্য শোভা পায়, তিনি যা অপছন্দ করেন তা করতে থাকা?
এবার তোমারও কি বলা উচিত নয়-
﴿مَعَاذَ اللَّهِ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَايَ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ﴾
আল্লাহর পানাহ! তিনি আমার মনিব। তিনি আমাকে ভালোভাবে রেখেছেন। বাস্তবতা হলো, জালেমরা কখনো সফলকাম হয় না। [সুরা ইউসুফ : ২৩]

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 ফিতনার গোড়া কেটে ফেলো

📄 ফিতনার গোড়া কেটে ফেলো


আমি মনে করি, ফিতনার নিকটে থাকাই হলো সবচেয়ে বড় ফিতনা। এর চেয়ে বড় ফিতনা আর হয় না। কারণ, কেউ ফিতনার নিকটে থাকে আর ফিতনার মধ্যে আপতিত হয় না- এমন খুবই কম ঘটে। যে ব্যক্তি আগুনের চারপাশে ঘোরে, তার আগুনে পোড়ার আশঙ্কাই বেশি।
এক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি নিজের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, একবার আমার এমন একটি বাসনা পূরণের সুযোগ হয়- যা প্রকাশ্যভাবে হারাম, আবার হালালেরও সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বিষয়টি ছিল সন্দেহপূর্ণ।
এসময় আমার নফস বলে উঠল, তুমি আসলে এটি করতেই সক্ষম নও। সে কারণে এটা বর্জন করতে চাচ্ছ। তুমি আগে বিষয়টির নিকটবর্তী হও, এরপর যখন তা অর্জনে সক্ষম হবে এবং বর্জন করবে, তখনই শুধু তুমি প্রকৃত বর্জনকারী হিসেবে গণ্য হবে।
আমি নফসের কথামতো তা-ই করলাম এবং সেটি বর্জন করতে সক্ষমও হলাম।
এর কিছুদিন পর আবার এমন একটি বিষয়ে উপনীত হলাম, বিভিন্ন ব্যাখ্যা হালাল হওয়ার প্রতি ইশারা করে- কিন্তু বিষয়টি আসলে সন্দেহযুক্ত। এরপর যখন আমি সেটি করার উপযোগী হলাম, আমার অন্তরের মধ্যে এক ধরনের অন্ধকার অনুভব করলাম। ভয় পেলাম, এটা বুঝি হারাম হবে। এভাবে আমার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। কখনো নফস তার ব্যাখ্যা ও সহজতা নিয়ে আমার ওপর শক্তিশালী হয়ে ওঠে, আবার কখনো আমিই চেষ্টা ও দৃঢ়তা দ্বারা তার ওপর বিজয়ী হয়ে উঠি।
এখন কথা হলো, আমি যদি সহজতাকে গ্রহণ করি, তবে এ ব্যাপারে নির্বিঘ্ন থাকতে পারি না- এটি আসলেই নিষিদ্ধ ছিল কি না? তাছাড়া নগদ আমি আমার অন্তরের মধ্যে এর খারাপ প্রভাব অনুভব করছিলাম। সহজতার ব্যাখ্যার মাধ্যমে আমি নিরাপত্তা বোধ করছিলাম না, তখন এই বিষয়টির আশা অন্তর থেকে দূর করার পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করতে লাগলাম। অবশেষে একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করলাম। আমি আমার নফসকে বললাম, তুমি এটাকে নিশ্চিত বৈধ বলেও যদি সাব্যস্ত করো- আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তবুও আমি কিছুতেই এটা করব না।
এ কথা বলার পর আমি আশ্চর্য রকমের ফল পেলাম। এই কসম ও ওয়াদার কারণে অন্তর থেকে এর আশা একেবারে রহিত হয়ে গেল। নফস আর কোনো ব্যাখ্যার দিকে ধাবিত হলো না। এ ধরনের বিষয় থেকে বিরত থাকার জন্য আমি একটি উপযুক্ত ওষুধ প্রাপ্ত হলাম। কারণ, এখন ব্যাখ্যাটা কসম ভঙ করা ও কাফফারা প্রদানের দিকে নিয়ে যেতে সাহস করবে না।
এ কারণে সবচেয়ে উত্তম হলো ফিতনার গোড়া কেটে ফেলা। তার কোনো শিকড় না রাখা। আর যা হারামের দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রাখে, সে রকম সহজতা ও শিথিলতাকে বর্জন করা। আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 প্রবৃত্তির উত্তেজনা এক ধরনের আবরণ

📄 প্রবৃত্তির উত্তেজনা এক ধরনের আবরণ


অপরাধ সংঘটনের সময় অপরাধীর মধ্যে যদি এক ধরনের আবরণ ও পর্দা না পড়ত, তবে সে অপরাধটাকে স্পষ্ট খনিজ পদার্থের মতো দেখতে পেত। কিন্তু প্রবৃত্তির তীব্র কামনা তার মাঝে এবং পরিস্থিতি অনুধাবনের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং তখন সে শুধু বাসনাটি পূরণের দিকেই পূর্ণভাবে ঝুঁকে থাকে। সাময়িকের জন্য তার অপরাধের হুঁশ-জ্ঞান বা চেতনা রহিত হয়ে যায়।
যদি এমনটি না হতো- অপরাধের সময় যদি তার মাঝে আল্লাহর হুকুমের বিরোধিতার পূর্ণ সচেতনতা থাকত, তবে সেই বিরোধিতার কারণে ঈমান থেকে বের হয়ে যেত। সে আর মুমিনই থাকত না। কিন্তু আসলে তখন সে কোনো দিকে লক্ষ না করে অচেতন মাতালের মতো তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে বসে, বিরোধিতা ঘটে এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে। আর মানুষের জাহান্নামে যাওয়ার অধিকাংশ বিষয় এভাবেই সংঘটিত হয়।
কিন্তু কোনো বুদ্ধিমান যদি মুহূর্তের উত্তেজনায় সাময়িক স্ফূর্তি ও এর পরিণামে বাকি জীবনের আফসোস ও অনুশোচনার ক্ষতির মাঝে পার্থক্য করতে পারে, তাহলে সে কিছুতেই অপরাধের নিকটবর্তীও হবে না- এমনকি পুরো দুনিয়া তাকে প্রদান করা হলেও না। কিন্তু প্রবৃত্তির উত্তেজনা তার মাঝে এবং তার চিন্তার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই অপরাধ বা গোনাহ সংঘটিত হয়ে পড়ে।
আহা! আফসোস! কত গোনাহের স্বাদ মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়- যেন তা কখনো করাই হয়নি। কিন্তু তার কুপ্রভাব স্থায়ী কলঙ্কের মতো অবশিষ্ট থেকে যায়। অন্তত এতটুকু তো হয়-ই, জীবনভর তাকে এর অনুশোচনায় দগ্ধ হতে হয়।
এ কারণে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো, ফিতনার উপকরণের মুখোমুখি না হওয়া, তার নিকটবর্তীও না হওয়া।
যে ব্যক্তি এই কথাগুলো বুঝবে এবং সতর্ক থাকার জন্য প্রবল চেষ্টা করবে- আশা করা যায়, সেই কেবল নিরাপদ ও গোনাহমুক্ত থাকতে সক্ষম হবে।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 অভাবগ্রস্তকে সংশোধন করা

📄 অভাবগ্রস্তকে সংশোধন করা


কোনো আলেমের নিয়ত যদি বিশুদ্ধ থাকে, তবে তিনি লৌকিকতার কষ্ট থেকে মুক্ত থাকেন। কারণ, অনেক আলেম আছে, তারা যেন কিছুতেই ‘আমি জানি না’ কথাটা বলতে চান না। তাই নিশ্চিত উত্তর না জানা সত্ত্বেও তারা মানুষদের বিভিন্ন ফতোয়া প্রদান করে। এতে করে তারা মানুষদের নিকট নিজেদের সম্মান রক্ষা করেন; যেন মানুষরা বলতে না পারে- অমুক আলেম উত্তর জানে না।
এটা একটি সীমাহীন খিয়ানত ও লাঞ্ছনার বিষয়।
হজরত মালেক ইবনে আনাস রহ.-এর ক্ষেত্রে বর্ণিত আছে-একবার একলোক তাকে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করল। মালেক বিন আনাস রহ. বললেন, আমি এটা জানি না।
লোকটি বলল, আমি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আপনার নিকট এসেছি মাসআলাটি জানার জন্য- আর আপনি বলছেন, জানেন না। আমি ফিরে গিয়ে আমাদের লোকদের কী বলব?
মালেক বিন আনাস রহ. বললেন, তুমি তোমার দেশে গিয়ে বলো, আমি মালেককে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করেছিলাম। উত্তরে তিনি বললেন, আমি জানি না।
তুমি এই মহান ব্যক্তিত্বের দ্বীন ও বিবেচনাবোধের দিকে লক্ষ করো- কী চমৎকারভাবে তিনি সকল লৌকিকতা ও লোকদেখানো কষ্ট থেকে নিজেকে মুক্ত রাখলেন। আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখলেন।
একজন আলেম আল্লাহর দিকে চেয়ে ফতোয়া দেবেন। মানুষদের সম্মান ও বাহবা প্রাপ্তির জন্য নয়। কিন্তু যদি এমনটি করা হয়, তাহলে আলেমদের অন্তর নিয়ন্ত্রণ করবে মানুষদের ইচ্ছা, মানুষদের বাসনা। মানুষ যেভাবে কামনা করবে, লোভী আলেম ঠিক সেভাবেই চলবে এবং বলবে!
আল্লাহর কসম, আমি এমন অনেককে দেখেছি, যারা অনেক নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, চুপচাপ থাকে। পোশাকে-আচরণে বিনয়ী ভাব প্রকাশ করে; কিন্তু মানুষের অন্তর তবুও তার দিকে আকর্ষণবোধ করে না। মানুষের অন্তরে তার প্রতি তেমন একটা সম্মানবোধ জাগ্রত হয় না।
আবার এমন অনেক মানুষকে দেখেছি, যারা পরিপাট্য অভিজাত পোশাক পরিধান করে, খুব বেশি বিনয়ী ভাব প্রকাশ করে না। আবার খুব বেশি নফল ইবাদত করে- এমনও না। কিন্তু মানুষের অন্তরসমূহ তার ভালোবাসায় পাগলপারা। তার জন্যে সবার অন্তরে একটি অন্য ধরনের সম্মানবোধে স্থান দখল করে রাখে।
আমি এই পার্থক্যের কারণ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করলাম। আমি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় অনুধাবন করলাম। যেমন হজরত আনাস ইবনে মালেক রহ. সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়- তিনি খুব বেশি নফল নামাজ পড়তেন না বা খুব বেশি নফল রোজা রাখতেন না। কিন্তু তার অভ্যন্তরীণ আমল ছিল অতি শক্তিশালী। তাতে কোনো লৌকিকতা ও শিরকের মিশ্রণ ছিল না।
এভাবে যে ব্যক্তি তার গোপনীয় আমলকে বিশুদ্ধ করে নেয়, তার শ্রেষ্ঠত্বের সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অন্তরসমূহ তার ছড়ানো সুভাসে সুভাসিত হয়ে ওঠে।
আল্লাহর দোহাই! নিজেদের অভ্যন্তরকে বিশুদ্ধ করে নাও। বাহ্যিক যতই চাকচিক্যময় ও উজ্জ্বল হোক- অভ্যন্তর যদি সঠিক না হয়, তবে এগুলো কোনোই কাজে আসবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00