📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 ধৈর্যের উপর উত্তম পুরস্কার

📄 ধৈর্যের উপর উত্তম পুরস্কার


আমি একদিন আমার নফসের এমন একটি চাহিদা পূরণের সুযোগ পেলাম- যা ছিল তার কাছে তীব্র পিপাসিত মুসাফিরের মুখের কাছে স্বচ্ছ শীতল পানির চেয়েও মিষ্টিকর। নফস বিভিন্ন ব্যাখ্যা জানাচ্ছিল, এটাতে কোনো অসুবিধা নেই। শুধু একটু তাকওয়ার ব্যাপার। তবে প্রকাশ্যভাবে বিষয়টি জায়েযের পর্যায়ে মনে হচ্ছিল।
আমি বিষয়টিতে অগ্রগামী হওয়া বা না-হওয়া নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গেলাম। কী করা যায়! কিন্তু অবশেষে আমি সেটা থেকে নফসকে বিরত রাখতে সক্ষম হলাম। আমি শরিয়তের নিষেধের বিষয়টিকেই প্রাধান্য প্রদান করলাম। কিন্তু মনের মাঝে অস্থিরতা বিরাজ করতে লাগল। নিজের সর্বোচ্চ চাহিদার বিষয়টি সুযোগ পেয়েও অর্জিত হলো না বলে শুরু হলো নফসের ছটফটানি।
আমি তাকে বললাম, হে নফস, তুমি এটা করতে গেলে তোমার ধ্বংস ছাড়া আর কীই-বা হতো?
নফস তবুও আকুলি-বিকুলি করতে লাগল।
আমি তাকে ধমকের সুরে বললাম, এরকম কামনার ক্ষেত্রে আমি তোমাকে আর কতবার জানাব, এ ধরনের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে চলে যায় আর বাকি থেকে যায় শুধু আফসোস আর অনুশোচনা। এই কামনা চরিতার্থ করার ক্ষেত্রেও তুমি হিসাব করে দেখো, এটা কি সাময়িক অর্জিত আনন্দ তার পরিবর্তে বহুগুণ আফসোস ও অনুশোচনার উপলক্ষ রেখে যাবে না?
নফস কিছুটা নত হয়ে বলল, তবে আমি এক্ষেত্রে কী করতে পারি? আমি তাকে কবিতার মাধ্যমে বললাম, صبرت ولا والله ما بي جلادة ... على الحب لكني صبرت على الرغم
ধৈর্যধারণ করেছি। কিন্তু আল্লাহর কসম, ভালোবাসার ওপর আমার তো কোনো ধৈর্য নেই। তবুও অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধৈর্যই ধরেছি।
এভাবে আমি আমার নফসের অবৈধ চাহিদা থেকে বিরত থাকি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এর উত্তম প্রতিদানের অপেক্ষা করতে থাকি। সুন্দর প্রতিদানের আশা নিয়ে দিন গুণতে থাকি। কারণ, আমি জানি, নিশ্চয় তিনি ধৈর্যের প্রতিদান দিয়ে থাকেন- হয়তো দ্রুতই কিংবা বিলম্বে। তিনি যদি দ্রুত প্রদান করেন, তবে করলেনই। আর যদি বিলম্বে প্রদানের পথ অবলম্বন করেন, তবুও তো তার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহ তাআলার জন্য কষ্ট সত্ত্বেও কোনো নিষিদ্ধ জিনিস বর্জন করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাকে এর চেয়েও উত্তম বিনিময় প্রদান করেন।
আল্লাহর কসম, আমি এটা শুধু আল্লাহর জন্যই বর্জন করেছিলাম। আর ভেবেছিলাম, নিশ্চয় এটা আমার একটি গচ্ছিত সম্পদ হবে। এমনকি আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হতো, আপনার কি এমন কোনো দিনের কথা স্মরণ হয়, যখন আপনি নিজের প্রবৃত্তির ওপর আল্লাহকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন?
আমি নির্দ্বিধায় বলে দিতে পারতাম, হ্যাঁ, অমুক অমুক দিন... অমুক অমুক বিষয়ে প্রবৃত্তির ওপর আমি আল্লাহকেই প্রাধান্য দিয়েছি- ভীষণ কষ্ট সত্ত্বেও।
সুতরাং সে নফস, যে তোমাকে এটি করতে সক্ষম করেছে, তাকে নিয়ে গর্ব করো। তোমাকে ছাড়া আর কতজনই তো এতে আপতিত হয়ে লাঞ্ছিত হয়েছে। তুমিও তেমন কাজে লাঞ্ছিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকো। আল্লাহ তাআলাই সকল কিছুর ক্ষমতাদাতা।
আমার এই ধৈর্যের ঘটনাটি ঘটেছিল ৫৬১ হিজরিতে। এরপর আমি যখন ৫৬৫ হিজরিতে পদার্পণ করলাম, তখন সেই উল্লিখিত বিষয়ে ধৈর্যের বিনিময় আমি প্রাপ্ত হলাম- তাকওয়ার সাথে এবং আত্মসম্মানবোধের সাথে।
আমি মনে মনে বললাম, এটা হলো আল্লাহর জন্য কিছু বর্জনের দুনিয়ার প্রতিদান- আখেরাতের পুরস্কার তো আরও উত্তম। সকল প্রশংসা শুধু আল্লাহ তাআলার জন্যই।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 সচেতনতার চোখ খুলে রাখো

📄 সচেতনতার চোখ খুলে রাখো


যে ব্যক্তি বৈধভাবে দুনিয়ার স্বাদ অন্বেষণ করে, তার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। কারণ, সকল মানুষই সমানভাবে স্বাচ্ছন্দ্যকে বর্জন করতে সক্ষম হয় না।
কিন্তু দুর্ভাগ্য তার জন্য- যে ব্যক্তি অবৈধভাবে দুনিয়ার অন্বেষণে লিপ্ত হয়। হয়তো সে দুনিয়া পায় কিংবা আরও চায়। দুনিয়ার অন্বেষণে এমনভাবে লিপ্ত হয় যে, সেটা কীভাবে অর্জিত হলো, সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। এই দুর্ভাগ্যটি সংঘটিত হয় নিজের বুদ্ধি বা আকল না খাটানোর কারণে। কিংবা সে তার বুদ্ধি দিয়ে সামান্যতমও উপকৃত হয়নি। কারণ, সে যদি তার বুদ্ধি দিয়ে তার কৃতকর্মের দ্বারা শাস্তির বিষয়টা পরিমাপ করে নিত, তাহলে সে দেখতে পেত, অচিরেই বিদূরীত আনন্দের পাল্লাটি বিশাল শাস্তির কণা পরিমাণও নয়।
কত ব্যক্তিকে দেখেছি, নিজের প্রবৃত্তির চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে নিজের দ্বীন-ধর্মই বিনষ্ট করে ফেলেছে এবং ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়েছে।
এ কারণে সর্বক্ষণ সচেতনতার চোখ খুলে রাখা উচিত। কারণ, তোমরা সর্বক্ষণ অবস্থান করছ জীবন-যুদ্ধের ময়দানে, কোন দিক থেকে যে শয়তানের তির এসে বিদ্ধ করে-তা বলা মুশকিল। সুতরাং সর্বক্ষণ নিজেদের সাহায্যের কাজে নিয়োজিত থাকো। নিজেদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যেয়ো না।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 আনুগত্যের পরিস্থিতি

📄 আনুগত্যের পরিস্থিতি


আল্লাহ তাআলা তার বান্দার ঘাড়ের শাহরগের চেয়েও নিকটবর্তী। কিন্তু বান্দার সাথে তিনি এমন অবস্থান নিয়ে থাকেন, তিনি যেন বান্দার থেকে অনেক দূরে। এ কারণে তিনি তার নিয়তের ইচ্ছা করতে আদেশ দেন। তার দিকে হাত তুলতে বলেন এবং প্রার্থনার কথা বলেন।
কিন্তু মূর্খদের অন্তর তাকে বহু দূরবর্তী ভাবে। এ কারণেই তাদের থেকে গোনাহ সংঘটিত হয় বেশি। কিন্তু তাদের চেতনায় যদি তার ‘হাজির-নাজির’ হওয়ার বিষয়টি সঠিকভাবে উদ্ভাসিত হতো, তাহলে তারা অবশ্যই এই ভুল করা থেকে বিরত থাকত। কিন্তু যারা সচেতন, জাগ্রত হৃদয়, তাদের নিকট তার নৈকট্য-চেতনা উদ্ভাসিত, সে কারণে এটা তাদেরকে অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখে।
কিন্তু কিছুটা পর্দা বা আবরণ তো থেকেই যায়। প্রকৃত মুরাকাবার ক্ষেত্রে চোখে যদি এই আবরণটুকু না থাকত, তবে তো কেউ খাবার খেতে পারত না। চোখ দিয়ে অন্য কিছু দেখতে পেত না।
ঠিক এই বিষয়টার দিকে ইঙ্গিত করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إنه ليغان على قلبي -আমার অন্তরেও কখনো কিছুটা আবরণ আসে। ৮০
এভাবে যখন পরিপূর্ণ নৈকট্যের চেতনা আসে, তখন মারেফাতও অর্জিত হয়। আর এই মারেফাত বা ঘনিষ্ঠতা অর্জিত হয় প্রকৃত আনুগত্যের মাধ্যমে। অন্যদিকে অবাধ্যতা ও অমান্যতা অপরিচয় ও দূরত্ব সৃষ্টি করে। আর আনুগত্যের মাধ্যমে আসে স্বতঃস্ফূর্ততা।
হায়, কে বুঝবে ঘনিষ্ঠদের আনন্দ! আর কেই-বা অনুধাবন করবে অপরিচিতদের দুর্ভাগ্য!
তবে আনুগত্য বলতে শুধু সেগুলোই নয়; যা অনেক মূর্খ ধারণা করে। তারা ধারণা করে, ইবাদত যেন শুধু নামাজ, রোজা, হজ। মূলত আনুগত্য হলো আল্লাহ তাআলার সকল আদেশ পালন করা এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকা।
এটাই হলো মূলনীতি এবং প্রকৃত পদ্ধতি। তাছাড়া কত ইবাদতকারীই তো তার নৈকট্য থেকে বঞ্চিত। কারণ, তারা শরিয়তের মূল বিষয়কে বিনষ্ট করে। প্রকৃত পদ্ধতিকে ধ্বংস করে। কারণ, তারা আদেশগুলো মান্য করে না এবং নিষেধগুলো থেকে বিরত থাকে না। প্রকৃত বীর তো সেই, যে নিজের হিসাব-নিকাশের দাঁড়িপাল্লা নিজের মুঠোয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। গোনাহের কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছে। যা কর্তব্য তা করেছে। আর যা বর্জনীয়- তা থেকে বিরত থেকেছে। এরপর যদি অতিরিক্ত আরও ভালো কাজের তাওফিক পায়, ভালো। আর যদি না পায়- তবুও তার কোনো ক্ষতি নেই। সেই নিরাপদ।

টিকাঃ
৮০ সহিহ মুসলিম : ১৩/৪৮৭০, পৃষ্ঠা: ২১৬। মুসনাদে আহমদ: ৩৭/১৭৫৭৫, পৃষ্ঠা: ২৪৩- মা. শামেলা। পুরো হাদিসটি এমন-
عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ الْأَغَرِّ الْمُزَنِي وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وََسَلَّمَ قَالَ إِنَّهُ لَيُغَانُ عَلَى قَلْبِي وَإِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 ভালোবাসার জিনিসের সৌন্দর্য রক্ষা

📄 ভালোবাসার জিনিসের সৌন্দর্য রক্ষা


দুনিয়া আসলে একটি মুসাফিরখানা। সুতরাং মানুষদের এখানে এর স্বাদ-আনন্দ উপভোগের জন্য প্রতিযোগিতায় নামা উচিত নয়। সময়গুলো এর পেছনে ব্যয় করাও বুদ্ধিমানের কাজও নয়। এখানে মোটামুটি কাজ চলে যাওয়ার মতো হলেই যথেষ্ট- গভীর অনুসন্ধানের কোনো প্রয়োজন নেই।
যেমন, গোশতজাতীয় কোনো খাবারের ক্ষেত্রে- কেউ যদি প্রাণীটির জবাই দেখে। শ্রমিকদের অপরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ করে। যদি দেখে স্থান ও পাত্র। এবং স্মরণে রাখে পরিবেশনার আগের ও পরের অবস্থা ও চিত্র। আর এগুলো নিয়ে বেশি চিন্তা-কল্পনা করে- তাহলে তার অনেক খাবারের ক্ষেত্রেই আর রুচি থাকবে না।
এমনকি কেউ যদি তার মুখের মধ্যে খাদ্যের লালার সাথে মিশ্রিত হওয়া, তার ঘুরতে থাকা, চক্কর কাটা, দাঁতের নিচে পিষ্ট হওয়া, থুথু ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা করে- তারও খেতে ভালো রুচি হবে না। এ কারণে সাময়িক উপভোগ্যতার ক্ষেত্রে গভীর অনুসন্ধানে না যাওয়াই ভালো।
উপভোগ্যতার মানসিকতার বিচারে মানুষ দু-প্রকার-
১. বৈধ আনন্দ-উপভোগ্যতার মাধ্যমে বিলাস-ব্যসনের কামনা করা।
২. প্রয়োজনগুলো পূরণের মাধ্যমে যেকোনোভাবে দিন অতিবাহিত করতে চাওয়া।
এখন কথা হলো, যার যেই উদ্দেশ্যই থাক, তার উচিত হবে, তার ভোগ্যতার বিষয়ে গভীর অনুসন্ধানে না যাওয়া। কারণ, কেউ যদি তার স্ত্রীর গোপন বিষয়গুলো অকপটে দেখে ও চিন্তা করে, তবে অচিরেই তার স্ত্রী থেকে তার মন আকর্ষণহীন হয়ে পড়বে।
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রা. বলেন,
مَا رَأَيْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ وَلَا رَآهُ مِنِّي.
আমি কখনো রাসুলুল্লাহর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] গোপনাঙ্গ দেখিনি, তিনিও কখনো আমার থেকে দেখেননি। ৮১
এ কারণে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের জন্য উচিত, স্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রাখা। স্ত্রীকে সে সময় সাজ-গোজ করে থাকতে নির্দেশ দেওয়া। এছাড়া জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও তার দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করা থেকে বিরত থাকা। নতুবা জীবন কখনো সুখের হবে না। কারণ, কেউ-ই দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত নয়। নিজেও না।
আর স্ত্রীরও উচিত হবে, সর্বক্ষণ স্বামীর সাথে না ঘেঁষে থাকা। কিছুটা মনোরম দূরত্ব রাখা উচিত। আর যখনই সে স্বামীর নিকট উপস্থিত হবে কিংবা মিলিত হবে, কিছুটা সাজ-সজ্জা ও সুঘ্রাণে সুমণ্ডিত হয়ে উপস্থাপিত হবে।
এগুলো অনুসরণের মধ্যেই নিহিত আছে সুখময় জীবন।
কিন্তু কেউ যদি বেশি অনুসন্ধান চালাতে যায়, এটা-ওটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে যায়, তাহলে তার দৃষ্টিতে বিভিন্ন দোষ-ত্রুটি প্রকাশিত হতে থাকবে। অন্তর আকর্ষণহীন হয়ে পড়বে। সঙ্গী পাল্টাতে চাইবে। কিন্তু তার অভ্যাস যদি না পাল্টায়- তবে দ্বিতীয়জনের ক্ষেত্রেও এই একই বিষয় সংঘটিত হবে- যা প্রথমজনের ক্ষেত্রে হয়েছে।
পুরুষের জন্যেও এই একই কথা। পুরুষ নিজেও পরিচ্ছন্ন সুঘ্রাণ ও উপযুক্ত পরিপাটি হয়ে থাকবে- যেমনটা সে স্ত্রীর ক্ষেত্রে ভালোবাসে। এটা কোনো লৌকিকতা নয়; জীবনযাপনের সুন্নত পদ্ধতি। নবীর চেয়ে সুঘ্রাণ ও পরিপাটি আর কেউ ছিলেন না।
কিন্তু এভাবে যদি কারও দাম্পত্য জীবন না চলে, তবে অচিরেই সেখানে দুটি বিষয়ের একটি বিষয় সংঘটিত হবে। হয়তো স্বামী বা স্ত্রী সঙ্গী পরিবর্তন করে ফেলবে কিংবা নিজেদের মধ্যে বিতৃষ্ণা ভাব চলে আসবে।
বিতৃষ্ণা ভাব এলে, তখন তার কাঙ্ক্ষিত বাসনাগুলো চরিতার্থ না হওয়ায় তাকে নিয়েই ধৈর্যধারণ করতে হবে। আর যদি তালাকের সিদ্ধান্তে চলে আসে, তখনো তাকে একে-অপরের প্রতি অনুগ্রহ ও সহানুভূতির কথা মনে করে বিরত থাকতে হবে- কিন্তু দুটি বিষয়ই কষ্টকর। এটা দুজনকেই কষ্টে ফেলে দেবে।
তাই যেভাবে চলার বর্ণনা প্রদান করা হলো, সেভাবে না চললে জীবন সুখময় হবে না এবং জীবন ও সময় যেভাবে কাটানো উচিত, সেভাবে কাটাতে সক্ষম হবে না।

টিকাঃ
৮১. সুনানে ইবনে মাজা:১/২১৭/৬১৯। এবং মুসনাদে আহমদ: ৬/১৯০, ৬৩। শামায়েলে তিরমিজি: ৩৪৪। তবে ইবনে মাজা বর্ণনায় হাদিস এভাবে এসেছে-
مَوْلًى لِعَائِشَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا نَظَرْتُ أَوْ مَا رَأَيْتُ فَرْجَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَط.
সুনানে ইবনে মাজা: ২/৬৫৪, পৃষ্ঠা: ৩৪০- মা. শামেলা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00