📄 যাত্রাদিনের প্রস্তুতি
যে ব্যক্তি জানে না, কখন আকস্মিকভাবে তার মৃত্যু এসে যেতে পারে, তার জন্য উচিত হলো সর্বক্ষণ মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা। নিজের যৌবন বা সুস্থতা নিয়ে ধোঁকায় পড়া উচিত নয়। চারপাশে একটু তাকিয়ে দেখুক সে-বয়স্কদের চেয়ে কম বয়সীরাই বরং অধিকহারে মৃত্যুবরণ করছে। এ কারণেই তো বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সংখ্যা কম।
কবি বলেন,
يعمر واحد فيغر قوماً ... وينسى من يموت من الشباب
একজনের দীর্ঘ জীবন প্রাপ্তিতে ধোঁকায় পড়ছে পুরো জাতি। ভুলে যাচ্ছে মরছে কত যুবক-তরুণ- অল্প দিনের প্রদীপ-বাতি।
আর ধোঁকার আরেকটি বড় কারণ হলো, দীর্ঘ আশা। এর চেয়ে বড় কোনো বিপদ নেই। যদি এই দীর্ঘ আশা না থাকত, তবে সে কিছুতেই এই অবহেলার মধ্যে আপতিত হতো না। জীবনের এই দীর্ঘ আশার কারণেই একজন অপরাধী গোনাহ করছে, কিন্তু তাওবা করতে বিলম্ব করছে। এই দীর্ঘ আশার কারণেই প্রবৃত্তির কামনার দিকে ধাবিত হচ্ছে, কিন্তু তার থেকে ফিরে আসার কথা ভুলে থাকছে।
এই দীর্ঘ আশাই হলো একটি মারাত্মক প্রতারক সূত্র।
তুমি যদি তোমার জীবনের আশাকে ছোট ভাবতে সক্ষম না হও, তবে দীর্ঘ জীবন ও আশাকে না হয় ছোট ছোট ভাগ করে হিসাব নাও। সন্ধ্যায় তুমি তোমার পুরো দিবসের একটি হিসাব নাও। সেখানে যদি কোনো বিচ্যুতি বা অপরাধ দেখতে পাও, দ্রুত তাওবার মাধ্যমে তা মুছে ফেলো। আর যদি কোনো গোনাহ দেখতে পাও, তাওবার মাধ্যমে তা বিদূরীত করে নাও। আর যখন সকাল যাপন করো, তখন রাতের বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করো এবং কোনো সমস্যা দেখলে একইভাবে তাওবা ও ইস্তেগফার করে নাও।
অলসতা ও গড়িমসি থেকে খুবই সাবধান! কারণ, এটা হলো ইবলিসের সবচেয়ে বড় ফাঁদগুলোর একটি।
জীবনের স্বল্পতা ও ক্ষুদ্রতা নিয়ে কল্পনা করো। চিন্তা করো এর ব্যস্ততা নিয়ে। মৃত্যুর সময় এই অবহেলাগুলোর ওপর আফসোসের তীব্রতা নিয়ে চিন্তা করো। আর তখন দ্রুত সময় ও সুযোগ ফুরিয়ে যাওয়ার ওপর দীর্ঘ অনুশোচনার কথাও ভেবে দেখো।
পূর্ণ ও সম্পূর্ণ ব্যক্তিদের কথা চিন্তা করো- সেই তুলনায় তুমি কত ত্রুটিপূর্ণ। মুজতাহিদদের কথা ভাবো, সেই তুলনায় তুমি কত অলস ও বেখেয়াল। যে নসিহত বা উপদেশগুলো শোনো, তা থেকে নিজেকে কখনো মুক্ত মনে করো না। পরস্পর যে আলোচনাগুলো করো, সে চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রেখো না। নফস হলো এক বিবাগী ঘোড়ার মতো, তুমি যদি তার লাগামে সামান্য ঢিল দাও, সে তোমাকে উল্টে ফেলে দেবে।
তোমার এই অবৈধ কামনা-বাসনাগুলো তোমাকে পঙ্কিল করে তুলছে। তোমার জীবনকে নষ্ট করে তুলছে। এখনো সময় আছে- বাকিটা ধ্বংস হওয়ার আগেই তুমি তাকে বাগে আনো ও সংশোধন করো। নিজের নিয়ন্ত্রণের ওপর অযথা ভরসা করে থেকো না। সাবধান! বহু প্রত্যয়ী মজবুত ব্যক্তিরও ডানা আটকে গেছে প্রবৃত্তির ফাঁদে। বহু সচেতন ব্যক্তিও নিপতিত হয়েছে অধঃপাতের গভীর কূপে। সাবধান!
📄 আল্লাহর নিকট কিছুই হারিয়ে যায় না
হে বন্ধুগণ, তোমরা তার নসিহত শোনো- যে ব্যক্তি প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ।
তোমরা আল্লাহ তাআলাকে যে পরিমাণ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করবে, আল্লাহ তাআলা সে পরিমাণ তোমাদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করবেন। তোমরা যেভাবে তার বিধি-বিধানকে সংরক্ষণ ও পালন করবে, আল্লাহ তাআলা সে পরিমাণ তোমাদের পুরস্কার ও সম্মান বাড়িয়ে দেবেন।
আমি এমন অনেক আলেমকে দেখেছি, ইলমের চর্চায় যিনি তার জীবন অতিবাহিত করেছেন। বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন। এরপর আল্লাহর বিধানের অবাধ্য হওয়া শুরু করেছেন। তখন তিনিও মানুষের নিকট ছোট ও নীচু হয়ে পড়েছেন। তার অঢেল ইলম, সীমাহীন কষ্ট ও পরিশ্রম সত্ত্বেও মানুষ এখন আর তার দিকে ফিরেও তাকায় না।
আবার এমন ব্যক্তিদেরও দেখেছি, যারা তাদের শৈশব থেকে আল্লাহ তাআলার দিকে দৃষ্টি রেখে চলেছে, পূর্বোক্ত আলেমের তুলনায় ইলমে কম হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাদেরকে সম্মানিত করেছেন। মানুষের অন্তরে তাদের তার মর্যাদা ঢেলে দিয়েছেন। মানুষ শুধু তাদের কল্যাণের আলোচনাই করে। তার প্রশংসা করে।
আবার এমন ব্যক্তিদেরও দেখেছি, তারা যখন ভালো কাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, তখন তো থাকেই- কিন্তু আবার কখনো বিচ্যুত হলে, পুরোভাবেই বিচ্যুত হয়ে পড়ে। তখন তাদের থেকে সকল কোমলতা লীন হয়ে যায়। যদি আল্লাহ তার রহম দিয়ে তাদের এই বিচ্যুতিগুলো সংশোধন না করেন, তবে অচিরেই তারা মানুষদের মাঝে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের সুযোগ দেন। কিংবা শাস্তির ক্ষেত্রে বিলম্ব করেন। আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি এতটাই রহমশীল!
যেমন কবি বলেন,
ومن كان في سخطه محسناً ... فكيف يكون إذا ما رضي
ভাবো একবার, যিনি তার ক্রোধের অবস্থাতেই এমন দয়াবান, তাহলে যখন তিনি সন্তুষ্ট হবেন, তখন হবেন কত মেহেরবান!
কিন্তু কিয়ামতের দিনের ন্যায়বিচারের কথা সব সময় খেয়াল রেখো। স্মরণ রেখো বিচারকের কোনোপ্রকার অন্যায় না হওয়ার কথা। আর তার নিকট থেকে কিছুই যে হারিয়ে যায় না, সে কথাও বিস্মৃত হয়ো না।
📄 ধৈর্যের ওপর দৃঢ়তা
হে অপরাধী,
তুমি যখন কোনো প্রতিফল বা শাস্তির মুখোমুখি হও, তখন বেশি অস্থির হয়ো না ও চেঁচামেচি করো না। আর বলতে থেকো না- আমি কত তাওবা করলাম, অনুতপ্ত হলাম! এরপরও আমার থেকে কেন এই শাস্তি বিদূরীত হলো না?
এমন তো হতে পারে- সঠিকভাবে তোমার তাওবা করা হয়নি। এছাড়া দীর্ঘ অসুস্থতার মতো কখনো কখনো শাস্তির সময়ও দীর্ঘ হয়। সুতরাং তার নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার আগে তুমি আর অন্য কোনো বিরূপতা দেখিয়ো না।
সুতরাং হে অপরাধী, ধৈর্যধারণ করো। তোমার চোখের পানি নাপাক অন্তরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশের সুযোগ করে দাও। এরপর অনুশোচনার হাত দিয়ে পানি নিংড়ে নাও। এভাবে আবারও করো। তবেই এক সময় তোমার অন্তরে পবিত্রতার হুকুম লাগানো হবে।
স্মরণ রেখো, হজরত আদম আলাইহিস সালাম দীর্ঘ ৩০০ বছর ক্রন্দন করেছেন। হজরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম দীর্ঘ ১৮ বছর তাঁর বিপদের মধ্যে ধৈর্যধারণ করেছেন। হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তাঁর সন্তান ইউসুফের জন্য দীর্ঘ ২৮ বছর অশ্রু ঝরিয়েছেন।
এভাবে প্রতিটি বিপদ-আপদের একটি নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময় রয়েছে- সেই সময় পর্যন্ত তা বিলম্বিত হয়। এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে এই বিপদ তার মৃত্যু পর্যন্তও বিলম্বিত হয়!
সুতরাং তোমার জন্য কর্তব্য হলো, অপরাধের কথা স্মরণ করে বিনয়-অবনত হওয়া। নতুনভাবে তাওবা করা। উঠতে-বসতে চিন্তা ও ক্রন্দনের মধ্যে থাকা। কারণ, মাঝে মাঝে বিপদ এতটা বিলম্বিত হয় যে, সুসংবাদদাতা যখন আসে, ততদিনে দুঃখে-কষ্টে ক্রন্দন করতে করতে 'ইয়াকুব'-এর চোখ অন্ধ হয়ে যায়।
আর যদি তুমি এই বিপদের মধ্যে দুনিয়া থেকে বিদায় নাও, তবুও তো কারও জন্য এমন হয় যে, আখেরাতের সীমাহীন কষ্টের পরিবর্তে শুধু এই দুনিয়াতেই কষ্ট পেয়ে যায়। কিন্তু আখেরাতে শান্তি পায়। এটা তো অনেক বড় লাভ ও সৌভাগ্যের কথা।
📄 নফসের সাথে বোঝাপড়া
যে ব্যক্তি 'আরেফ বিল্লাহ' বা আল্লাহ্ সম্পর্কে অবগত, সে কি কখনো আল্লাহর বিরোধিতা করতে পারে- পরিণামে জীবন চলে গেলেও? দুনিয়া ও আখেরাত শুধু আল্লাহর জন্যই! তার সন্তুষ্টি ছাড়া কীভাবে তার জীবন চলে?
সে ব্যক্তির জন্য বড় আফসোস, যে ব্যক্তি নিজের পছন্দনীয় বিষয় অর্জনের জন্য আল্লাহর অপছন্দনীয় বিষয়ে লিপ্ত হয়! আল্লাহর কসম, এর মাধ্যমে সে যা অর্জন করে, তার চেয়ে বহুগুণ কল্যাণ থেকে নিজেকে সে বঞ্চিত করে।
হে আস্বাদনকারী, আমি যা বলি তার উত্তর দাও—তোমার জীবনে তুমি কি খুবই বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছ? তোমার অবস্থা কি খুবই সঙ্গীন? জেনে রেখো, আল্লাহর বিরোধিতার চেয়ে বড় কোনো বিপর্যয় বা সঙ্গীন অবস্থা হতে পারে না!
কবি বলেন, وَلا انْثَنَى عَزْمِي عَنْ بَابِكَ ... إِلَّا تَعَثَّرْتُ بِأَذْيَالِي
তোমার দরজা থেকে আমার আরজি এমনিতেই ফিরে আসেনি। আমারই দোষে- গোনাহের লেজ-লেজুড়ে বেঁধে আছড়ে পড়েছি আমি।
তুমি কি সেই সালাফের ঘটনা শোনোনি? আমাদের একজন মুরুব্বি ঘটনাটি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একদিন বৈরুতের ব্রিজের কাছে এক যুবককে বসে আল্লাহর জিকির করতে দেখলাম। আমি মনে করলাম- ভিক্ষুক বোধ হয়। আমি তাকে বললাম, তোমার কি কোনো প্রয়োজন রয়েছে? আমাকে বলো।
যুবক বলল, আমার যখন কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, আমি তা আমার অন্তর দিয়ে আল্লাহর কাছে চাই, তিনিই পূরণ করে দেন। মানুষের দরকার হয় না।
তুমি তোমার নফস নিয়ে মোরাকাবায় বসো। এরপর বলো, একজন বান্দার বৈশিষ্ট্য কী? আমি যদি কারও বান্দা হই, তবে আমার জন্য উচিত হলো আমার মালিকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাজ করা। এর জন্য আমাকে কোনো প্রতিদান দিতে হবে- এমন তো কোনো শর্ত নেই। আমি যদি তার প্রতি ভালোবাসাই রাখি, তবে তো তার সন্তুষ্টির জন্য আমার সকল ইচ্ছাকেও বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকব।
হে দুনিয়ার উদ্দেশ্য সাধনে অন্ধ ও প্রতারিত মানুষ! তুমি যদি তার পক্ষ থেকে প্রদত্ত বিপদ সহ্য করতে না পারো, তবে তার কাছেই আশ্রয় চাও। তার কোনো নির্বাচন তোমাকে যদি কষ্টে ফেলে, তবে তো তুমি তার সামনেই আছ। তার কাছে চাও। প্রার্থনা করো। রহম ও দয়া থেকে কিছুতেই নিরাশ হয়ো না—বিপদ যদি অনেক কঠিন ও দীর্ঘও হয়।
আল্লাহর কসম, বুদ্ধিমানদের এটাই কামনা। কাঙ্ক্ষিত সত্তার ইবাদত ও হুকুম মানার মধ্যেই যদি জীবনাবসান হয় তাহলে সে জীবন তো বড় সৌভাগ্যময়।
তুমি তোমার নফসকে ডেকে বলো,
হে আমার নফস, তোমাকে যা প্রদান করা হয়েছে, তুমি তার আশাও করতে পারতে না। তোমাকে এমন জায়গায় উপনীত করা হয়েছে, যা তুমি প্রার্থনাও করোনি। তোমার দোষ-ত্রুটিগুলো তিনি গোপন রেখেছেন। সেগুলো প্রকাশিত হলে মানুষের মাঝে তুমি লাঞ্ছিত হতে। তোমার সৎ কর্মগুলোর জন্য রয়েছে আখেরাতের মহান পুরস্কার। তবে আর দুনিয়ার সামান্য কামনাগুলোর অপূর্ণতা নিয়ে এত চেঁচামেচি করছ কেন? এত হায়-হাপিত্যেশই বা করছ কেন?
তুমি তার বান্দা-অধীন, নাকি মুক্ত-স্বাধীন? তুমি কি জানো না, তুমি রয়েছ কর্মের সময়ের মধ্যে? এটা কি বিশ্রাম ও আরামের সময়? মূর্খরা না হয় এ ধরনের কাজ করতে পারে— কিন্তু তুমি তো আরেফ— আল্লাহ সম্পর্কে অবগত হওয়ার দাবিদার! তোমার আচরণ তবে কেন এমন!
তুমি কি ভেবে দেখেছ, এক ঝড়ের ঝটকায় তোমার দু-চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে? তখন তোমার দুনিয়ার সাধ-আহ্লাদ কোথায় যাবে? কিন্তু তোমার জন্য আফসোস— তুমি তোমার শ্রেষ্ঠ চোখ— অন্তরের চোখই যেন হারিয়েছ। তুমি ভুলের দিকেই অগ্রসর হয়ে চলেছ। জীবনের জাহাজ কবরের তীরে এসে প্রায় উপনীত। অথচ তোমার বাহনে জীবনের ব্যবসার লাভের কোনো সঞ্চয় নেই। শূন্য তরী।
কী আশ্চর্যতম কথা, তোমার জীবন উচ্চে উঠতে শুরু হয়েছে, আর তুমি নিজে নিচে নামতে শুরু করেছ। এমন কত মানুষকেই তো দেখো, বিপদ ও ফিতনার মধ্যেই যার জীবন অবসান হয়েছে? তবুও কি শিক্ষা নেবে না?
আহা! তোমার এই পরবর্তী জীবনের চেয়ে তো প্রথম জীবনই ভালো ছিল। তোমার এই বয়সকালের আমলের চেয়ে তোমার যৌবনের আমলই তো ছিল পরিশুদ্ধ। নিজের আমলের দিকে দয়া করে আরেকবার ফিরে তাকাও। তা সংশোধন করো। তুমি কি খেয়াল করেছ, তুমি কী হতে গিয়ে কী হয়ে গেছ? কী করতে গিয়ে কী করে চলেছ? আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন-
﴿وَتِلْكَ الأَمْثَالُ تَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلا الْعَالِمُونَ﴾
আমি মানুষের কল্যাণার্থে এসব দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকি, কিন্তু তা বোঝে কেবল তারাই, যারা জ্ঞানবান। [সুরা আনকাবুত : ৪৩]
সকল প্রার্থনা কেবল আল্লাহ তাআলার নিকট। তার ইশারা ছাড়া কিছুই অর্জিত হয় না।