📄 নির্জন আল্লাহর ধ্যান
নির্জন ধ্যানমগ্নতার প্রচুর প্রভাব রয়েছে। অনেক মুমিন ব্যক্তি ধ্যানের এই প্রভাব অনুধাবন করতে পারে। মুমিন তখন তার অনেক অবৈধ কামনা ও বাসনা বর্জন করার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞ হয়- আল্লাহর শাস্তির ভয়ে কিংবা তাঁর পক্ষ থেকে পুরস্কারের আশায় অথবা তার বড়ত্বের প্রতি অনুগত হয়ে। এভাবেই সে পূত-পবিত্র হয়ে ধূপদানিতে যেন এক 'হিন্দুস্তানি সুগন্ধি উদ'-এ পরিণত হয়। চারদিকে তার সুবাস ও সৌরভ ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন তার ঘ্রাণ অনুভব করে- কিন্তু কেউ জানতে পারে না বস্তুটি কোথায়!
এভাবে গোনাহ বর্জনের প্রচেষ্টার পরিমাণ অনুপাতে প্রভুর প্রতি তার ভালোবাসাও বাড়তে থাকে। একই সাথে দুনিয়ার কোনো 'প্রিয়তম' কিংবা 'প্রিয়তমা'র আহ্বান উপেক্ষার কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী তার সম্পর্কের সুঘ্রাণ ছড়াতে থাকে।
তখন মানুষের চোখ তাকে সম্মান করতে শুরু করে। মানুষের জিহ্বা তার প্রশংসা করতে থাকে- কিন্তু তারা ভালোভাবে বুঝতে পারে না, কেন এটা তারা করছে! এর রহস্য তাদের বোধগম্য না হওয়ার কারণে এর গুণাগুণও তারা বর্ণনা করতে সক্ষম হয় না।
আর এই প্রশংসা ও সৌরভ মূলত তার মৃত্যুর পর তার মর্যাদা অনুযায়ী আরও বিস্তৃত হতে থাকে। সাধারণ কোনো ব্যক্তির কল্যাণ নিয়ে আলোচনা করা হয় কিছুকাল- এরপর তাকে সকলে ভুলে যায়। আর কাউকে স্মরণ করা হয় শত বছর। এরপর আস্তে আস্তে তার আলোচনাও কমতে থাকে এবং একসময় বন্ধ হয়ে যায়। আর কেউ কেউ এমনই অমর আদর্শ হয়ে ওঠেন যে, তাদের স্মরণ-আলোচনা চিরদিন চলতেই তাকে। কখনো শেষ হয় না। বন্ধ হয়ে যায় না।
ঠিক এর বিপরীত অবস্থা হলো তার, মানুষজন যাকে ভয় করে। যার অনিষ্টকে ভয় করে। প্রকৃতপক্ষে তার অনুপস্থিতিতে কেউ তাকে সম্মান দেখায় না। আর এটা হয়ে থাকে তার গোনাহ ও অপরাধের অনুপাতে। তার থেকে কেমন যেন অপছন্দের বাতাস আসতে থাকে। অন্তরসমূহ তার প্রতি বিরক্ত বিতৃষ্ণ ও বিরূপ হয়ে ওঠে। তার ক্ষতির আশঙ্কা যখন কমে যায়, তখন লোকজনের জিহ্বাও তার কল্যাণের আলোচনা কমিয়ে দেয়। তখন শুধু বাহ্যিক সম্মানটাই বাকি থাকে। আর যদি ক্ষতির আশঙ্কা বেড়ে যায়- তখন অধিকাংশ মানুষ চুপ থাকে। তার প্রশংসাও করে না। নিন্দাও করে না।
হজরত আবু দারদা রা. বলেন,
إن العبد ليخلو بمعصية الله تعالى فيلقي الله بغضه في قلوب المؤمنين من حيث لا يشعر.
মানুষ যখন নির্জনে আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতা অব্যাহত রাখে, তখন আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অন্তরে তার প্রতি অপছন্দনীয়তা এমনভাবে স্থাপন করেন যে, তা সেই ব্যক্তি নিজেও টের পায় না।
যেগুলো লিখলাম, সেগুলো নিয়ে চিন্তা করো। যা উল্লেখ করলাম, সেগুলো স্মরণ করো। নিজেদের একান্ত ও নির্জন অবস্থা ও আমল সম্পর্কে অবহেলা করো না। আমল নির্ভর করে নিয়তের ওপর। আর প্রতিদান প্রদান করা হয় ইখলাস বা একনিষ্ঠতা অনুসারে।
📄 অন্তরের হিসাব-নিকাশ
বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য উচিত, তার সক্ষমতার অতিরিক্ত কোনো বিষয়ের প্রত্যয় না করা এবং তা বাস্তবায়িত করতে অগ্রসর না হওয়া। কারণ, বহু মানুষ আবেগের বশবর্তী হয়ে আকাশ সমান বিষয় জমিয়ে নেয়। কিন্তু ভেবে দেখে না- এগুলোর সাধনা ও অর্জনের কষ্টের ওপর সে ধৈর্যধারণ করতে পারবে কি না? এ ধরনের ব্যক্তি অবশেষে নিরাশ হয়, হতাশ হয়ে ফিরে আসে এবং লজ্জিত হয়।
এভাবে অন্যদের দেখাদেখিও কোনো জিনিস করতে না যাওয়া উচিত। ময়দানে নামার আগে নিজের ক্ষমতার ওজন মেপে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, সবার সক্ষমতা একরকম নয়।
যিনি বুদ্ধিমান- তিনি সব সময় নিজেকে মানুষদের মাঝে ‘মধ্যপন্থার’ পোশাকে আচ্ছাদন করে রাখেন। এর দ্বারা তিনি সম্পদশালীদের কাতার থেকে বের হয়ে যান না, আবার তাকে অভাবগ্রস্তও মনে হয় না। তার যদি আমল ও ইবাদতের আগ্রহ বেড়ে যায়, তিনি সেগুলো বাড়ির ভেতরে পালন করেন। আর সৌন্দর্যপূর্ণ কাপড় বর্জন করেন- নিজের অবস্থা অপ্রকাশিত রাখার জন্য। মানুষের সামনে সবকিছু প্রকাশ করে বেড়ান না। আর এভাবেই অহংকার থেকে দূরে থাকা যায়। আবার মানুষদের থেকে ‘কিপটে’র অপবাদও শুনতে হয় না।
📄 সুখের পরে দুঃখ
বোকার চেয়েও বোকা হলো সেই ব্যক্তি- বর্তমানের সুখকে যে এমন ভবিষ্যতের ওপর প্রাধান্য দেয়, যার অন্তহীন কষ্ট থেকে সে নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ নয়।
আমরা পৃথিবীতেই এমন কত আমির, সুলতান ও ধনবান ব্যক্তির কথা শুনেছি- যারা, নিজেদেরকে অবাধ কামনা-বাসনা ও বিলাস-ব্যসনের মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল। হালাল-হারামের দিকে কোনো লক্ষ রাখেনি। কিন্তু মৃত্যুর সময় এসে শুধু আফসোসই করেছে। সারাজীবন যা ভোগ করেছে, মৃত্যুর সময় তার বহুগুণ অনুশোচনায় বিদগ্ধ হয়েছে। প্রতিটি অবৈধ আনন্দের পরিবর্তে বিশাল পরিমাণ আফসোস এসে ভর করেছে তাদের মাথায়।
তাছাড়া পৃথিবীর এই শোক-তাপ-অনুশোচনা দ্বারাই তো তার মুক্তি মিলবে না। এ শাস্তিই সবটুকু নয়। বরং আখেরাতের স্থায়ী শাস্তি-শাপ ওত পেতে আছে তার জন্য- যার থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো উপায় তার নেই।
সত্যকথা হলো, দুনিয়ার আনন্দ-স্ফূর্তি মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। একে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় না। তার অন্বেষণ, উপার্জন এবং ভোগের বিষয়ও আমি অস্বীকার করি না কিংবা অপছন্দ করি না। কিন্তু আমার কথা হলো, সে যেন তার উপার্জনে হালাল-হারামের বিষয়ে লক্ষ রাখে। যাতে তার আনন্দের পরিণামও আনন্দকর হয়। নতুবা সেই সাময়িক আনন্দের মাঝে কি কোনো কল্যাণ আছে- যার পরিণাম হলো দীর্ঘ ও স্থায়ী কষ্ট ও আগুন?
কথার কথা, কাউকে বলা হলো, 'তুমি একবছরের জন্য রাজ্য শাসন করো- এরপর আমরা তোমাকে হত্যা করব।'
এটা যে গ্রহণ করবে, তাকে কিছুতেই বুদ্ধিমান ভাবা যায় না। বরং বুদ্ধিমান তো সে-ই, যে একবছর- প্রয়োজনে বছরের পর বছর অপেক্ষা করবে, ধৈর্যধারণ করবে, পরবর্তী পুরো ভবিষ্যৎ আরাম-আয়েশে থাকার জন্য।
মোটকথা- যে আনন্দের পরিণাম হলো স্থায়ী দুঃখ, আফসোস তার জন্য।
দালফ ইবনে আবি দালফ নিজের একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, আমি আমার বাবার মৃত্যুর কয়েক দিন পর স্বপ্নে দেখলাম, যেন একজন আগন্তুক আমার নিকট এসে বলল, তোমাকে আমির ডেকেছে। আমি তার সাথে রওনা দিলাম। সে আমাকে একটি অপরিচিত কামরায় প্রবেশ করাল। জীর্ণ শীর্ণ পুরোনো কালো জানালা। ছাদ এবং দরজাও বন্ধ। এরপর আমাকে সেখান থেকে আরেকটু ওপরে নিয়ে গেল। এরপর আমাকে সামনের আরেকটি কামরায় প্রবেশ করাল। এ কামরার জানালায় কিছুটা আলোর ছিটা বাইরে থেকে এসে পড়ছে বলে ঘর কিছুটা আলোকিত। নিচে অনেক পুড়া ছাইয়ের স্তুপ। এবং এর পাশেই আমার বাবাকে দেখলাম- তিনি তার মাথা দু-হাঁটুর মাঝে গুঁজে মাথা নিচু করে বসে আছেন।
আমাকে আগন্তুক ব্যক্তিটি বলল, হে দালফ, কিছু কি বুঝতে পারছ?
আমি বললাম, হ্যাঁ, আল্লাহ আমিরকে পরিশুদ্ধ করুন।
এরপর তিনি কবিতা আকারে বললেন,
أبلغن أهلنا ولا تخف عنهم .... ما لقينا في البرزخ الخفاق قد سئلنا عن كل ما قد فعلنا ... فارحموا وحشتي وما قد ألاقي
এই বারযাখের জগতে আমাদের যে কষ্ট ও হৃদয়ের ধুকপুকানি- তা আমাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়ো- কিছুই করবে না গোপন। আমরা যা করেছি, তার সবকিছু সম্পর্কে এখানে জিজ্ঞাসা করা হয়, আমাদের এই অসহায়-আপতিত বিপদের ক্ষেত্রে একটু করো তো রহম।
এতটুকু বলে তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, বুঝতে পারছ কী বলছি?
আমি বললাম, জি, বুঝতে পারছি।
এরপর তিনি আবার কবিতার আকারে বললেন,
فلو أنا إذا متنا تركنا ... لكان الموت راحة كل حي ولكنا إذا متنا بعثنا . .. ونسأل بعده عن كل شيء
মৃত্যুই যেহেতু সকল প্রাণের অবশ্যম্ভাবী বাহন, তাই যখন মারা গেলাম, তখন যদি সবই ছেড়ে আসতে পারতাম, সাথে না আসত কোনো কর্ম!
কিন্তু যখন আমাদের হলো মৃত্যু, আমাদের উত্থিত করা হলো সকল কর্মসহ। এরপর জিজ্ঞাসা করা হলো সকল কিছু সম্পর্কে।
📄 ইন্দ্রিয় ও আকলের আনন্দ অনুভব
মানুষের সকল সুখানুভব দুই ভাগে বিভক্ত।
১. ইন্দ্রিয়জাত- অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সুখটা অনুভব করা হয়।
২. মস্তিষ্ক বা হৃদয়জাত- অর্থাৎ মস্তিষ্ক বা হৃদয় দ্বারা অনুভব করা হয়। তবে সবচেয়ে তীব্র সুখানুভব হয় ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমেই এবং তার সর্বোচ্চ স্তর হলো সহবাস।
আর আকল বা মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ সুখানুভব ঘটে ইলম বা জ্ঞানার্জনে।
যে ব্যক্তি এই দুটি জিনিসই দুনিয়াতে যথার্থ পরিমাণে অর্জন করতে সক্ষম হয়, তার মতো সুখী আর কেউ হয় না।
কিন্তু আমি তো শিক্ষার্থীদের এর চেয়ে আরও উচ্চের ও ঊর্ধ্বর স্তরের দিকে পথ দেখাতে চাই। তাদের সুখ যেন শুধু অর্জনেরই সুখ নয়; তা হবে 'পাগলপ্রায়' আনন্দ ঢেউয়ের মতো- তা হলো, ইলমের সাধনায় নিমগ্ন হওয়া।
কিন্তু ইলম অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীর মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। যেমন উঁচু হিম্মত থাকতে হবে। এই হিম্মত আবার কারও ক্ষেত্রে শৈশব থেকেই প্রকাশ পায়। এ ধরনের কোনো বাচ্চাকে শৈশব থেকেই ভালো ভালো ব্যতিক্রম বিষয় গ্রহণ করতে দেখা যায়।
যেমন বর্ণনা করা হয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা আবদুল মুত্তালিবের একটি মূল্যবান গালিচা ছিল। সেটা 'দারুন নাদওয়া'র কামরায় বিছানো থাকত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শৈশবের সেই ছোট বয়সে এই একান্ত গালিচার ওপর এসে বসতেন। তখন দাদা আবদুল মুত্তালিব বলতেন, 'নিশ্চয় আমার এ নাতির আলাদা একটি আভিজাত্য রয়েছে।'
এক্ষেত্রে কেউ যদি বলেন, আমার তো হিম্মত, শক্তি ও সাহস রয়েছে; কিন্তু যা কামনা করি তার কোনোটিই প্রাপ্ত হই না- আসলে এর কী সমাধান?
উত্তরে আমি বলব, কিছু ক্ষেত্রে সফল না হতে পারা সকল ক্ষেত্রে সফল না- হওয়াকে আবশ্যক করে না। তোমার উপযুক্ত কোনো একটা পথ তো বের হবেই। তাছাড়া, তোমাকে হিম্মত ও সাহস প্রদান করা হয়েছে, আর সেটা কার্যকর করার জন্য তোমাকে সাহায্য করা হবে না- এমন তো কখনো হবে না।
বরং তুমি গভীরভাবে তোমার নিজের দিকে আবার একটু তাকাও, সম্ভবত, তিনি তোমাকে এমন কিছু দিয়েছেন, যার শুকরিয়া তুমি করোনি। কিংবা প্রবৃত্তির বাসনার কোনো বিষয়ে তোমাকে পরীক্ষা করা হয়েছে; কিন্তু তুমি তাতে ধৈর্যধারণ করোনি।
আবার এটাও জেনে রেখো, তোমার থেকে হয়তো এই কারণে দুনিয়ার বেশি উপযোগিতা সরিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে তুমি বেশি বেশি ইলম ও প্রজ্ঞার স্বাদ অনুভব করতে পারো। কারণ, তুমি একজন মানুষ। খুবই দুর্বল। দুনিয়ার ভোগ ও ইলমের স্বাদ- উভয়টি সমানভাবে একত্রে সন্নিবেশ করতে তুমি শক্তি রাখো না। তাই তোমাকে ইলমের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তোমার প্রতিপালক- তিনিই তোমার তুলনামূলক কল্যাণের ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো জানেন।
এবার তোমাকে জীবনসূচনার বিবরণগুলো বলি- একটি কিশোরের জন্য উচিত হবে, কোরআন দিয়ে শিক্ষা শুরু করা। এরপর সকল প্রকার ইলম থেকে প্রাথমিক জ্ঞানগুলো অর্জন করা। এবং এগুলোর মাঝে ইলমে ফিকহকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া। শুধু বর্ণনার ওপর নির্ভর করবে না। নিজেও চিন্তা-ভাবনা করবে। এরপর যখন এগুলো স্পষ্টভাবে জানা হয়ে যাবে- সেই সাথে অর্জিত হবে ভাষা-সাহিত্যের জ্ঞান, তখন তার ভাষা ও বক্তব্য হয়ে উঠবে অধিকতর ধারালো শক্তিশালী ও হৃদয়গ্রাহী। এভাবে সে যদি সত্যকে চেনার হক আদায় করে এবং রবের প্রতি অনুগত থাকে, তবে তার জন্য এমন এমন সৌভাগ্যের দরজা খুলে যাবে- যা সে কল্পনাও করতে পারে না।
এরপর তার জন্য উচিত হবে, খুবই সতর্কতার সাথে কিছু সময় কোনো উপার্জন বা ব্যবসায় ব্যয় করা। কিন্তু সরাসরি সার্বক্ষণিকভাবে তাতে যুক্ত থাকবে না। আর খরচ ও জীবনযাপনের ক্ষেত্রে খুবই মিতব্যয়ী হবে। অপচয় ও অপব্যয় থেকে বিরত থাকবে।
কিন্তু কখনো কখনো ইলমের বর্ণনা, প্রচার ও আমল- ধীরে ধীরে কাউকে আল্লাহ তাআলার মারেফাতের দিকে এমনভাবে ধাবিত করতে থাকে যে, সে এতেই মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সাংসারিক বিষয়াবলির কথা ভাবার যেন সময় থাকে না। ইলমের এই স্বাদ ও আস্বাদন তাকে সকল কিছু থেকে মুখাপেক্ষীহীন করে রাখে। তার আর বাহ্য উপভোগের কোনো প্রয়োজন পড়ে না।
কিন্তু কেউ যদি নিজের মধ্যে বাহ্যিক উপভোগ্যতার তীব্র আকর্ষণ বোধ করে, তবে তার জন্য উচিত হবে দ্রুত বিয়ে করে নেওয়া। কিন্তু এতেও আবার এমনভাবে মগ্ন হয়ে পড়বে না যে- শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্রুত শক্তি ক্ষয় হয়ে যায়। তাহলে তো তার আসল উদ্দেশ্য- ইলমই হাতছাড়া হয়ে যাবে। ইন্দ্রিয় ও মস্তিষ্কের আনন্দ উপভোগ্যতার কিছু বিষয় এখানে ইশারার মাধ্যমে উল্লেখ করলাম। আর যা বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো না, সেগুলো ইশারার মাধ্যমেই বুঝে নাও।