📄 শান্তির ক্ষেত্রে নিজেকে নিরাপদ মনে না করা
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কত মহান ও ক্ষমতাধর!
তাকে যে চিনতে পেরেছে, সে তাকে ভয় করবেই। আর যে তার শাস্তি ও আজাব থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করছে, সে আসলে তাকে চিনতেই পারেনি। এ ব্যাপারে আমি একটি আশ্চর্য বিষয় চিন্তা করে বের করলাম। বিষয়টি হলো এই-
আল্লাহ তাআলা কখনো কাউকে এমনভাবে ঢিল দেন, যেন তাকে তিনি ছেড়েই দিয়েছেন। এভাবে জালেমের হাত বাড়তেই থাকে। তাকে যেন আটকে রাখার কেউ নেই। ক্রমে তার ঔদ্ধত্য বাড়তেই থাকে। এরপরও অন্তর ফিরে আসে না বা ভীত হয় না- তখন তিনি হঠাৎ তাকে তার ক্ষমতা দিয়ে কঠোরভাবে ধরে বসেন।
কিন্তু মাঝখানে এই যে তাকে অবকাশ দেওয়া, ঢিল দেওয়া- এর মাঝে দুটো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লুকিয়ে আছে-
১. জুলুমের মাধ্যমে ধৈর্যশীলদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া।
২. জালেমকে ফিরে আসার সুযোগ প্রদান করা।
এদিকে ধৈর্যশীলের ধৈর্যের কারণে তার ওপর আল্লাহর প্রতিদান নেমে আসে। আর জালেমের নিকৃষ্টতম কাজের আধিক্যের কারণে তার শাস্তিরও প্রবৃদ্ধি হতে থাকে।
আবার কখনো কখনো মানুষের নিকট জালেমের শাস্তির কারণটি মানুষের অগোচর থাকে। হঠাৎ তার ওপর শাস্তি দেখে মানুষরা বলাবলি করতে থাকে- অমুককে তো আমরা ভালো বলেই জানি। তার ওপর এ বিপদ আসার কী কারণ?
তখন অদৃশ্যের ভাগ্য এসে বলতে থাকে, এটি তার গোপন পাপের শাস্তি। তার সেই গোপন পাপ শাস্তির মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসে গেল। আল্লাহ হলেন মহান সত্তা- যার কাছে কিছুই গোপন নেই। তাই শাস্তিও অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু বান্দা যদি তাওবা করে, তখন মানুষের গোনাহকে এমনভাবে গোপন করেন, যেন তিনি তা জানেনই না! আর অন্য মানুষের জানার প্রশ্নই ওঠে না।
কিন্তু তিনি কখনো কাউকে ঢিল দেন আর তাই দেখে জালেম আরও ভুল ও অবাধ্যতার মধ্যে অগ্রসর হয়। আবার তিনিই যখন ধরে বসেন, তার ভয়াবহতায় মানুষের অন্তর কেঁপে কেঁপে উঠতে থাকে। ভয়ে বিহ্বল হয়ে পড়ে।
আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। আমিন।
📄 নফসকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া
আমি একবার ইলম, ইলমের ঝোঁক এবং তার চর্চায় মশগুল থাকা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলাম। লক্ষ করলাম—এগুলো অন্তরকে যেমন শক্তি প্রদান করে আবার মনের মধ্যে এক ধরনের কঠোরতাও সৃষ্টি করে।
অন্তরের শক্তির প্রয়োজন আছে। কারণ, অন্তরের এই শক্তি যদি না থাকত এবং তার একটি দীর্ঘ আশা না থাকত, তবে আর সে ইলমে মগ্ন থাকতে পারত না। যেমন, আমি হাদিস লিখি এবং এগুলো বর্ণনা করার আশা রাখি। এগুলো রচনা শুরু করেছি এবং সেগুলো শেষ করার প্রত্যাশা করি। আমি একটি দীর্ঘজীবন কামনা করি। আরও কত কত কাজ করার স্বপ্ন দেখি।
কিন্তু আমি যখন শুধু ‘মোআমালা’র বিষয়ে চিন্তা করি, তখন এসকল বাহ্যিক প্রত্যাশা কমে আসে। তখন শুধু আখেরাতের ভাবনা আসে। দুনিয়ার কাজের ব্যাপারে অন্তর দমে যায়। চোখ দিয়ে অশ্রু নামে। প্রার্থনায় নত হয়ে পড়ি। তখন মনের মধ্যে অন্য ধরনের এক প্রশান্তি অনুভব করি। আর অবস্থা এমন হয়—যেন আমি মোরাকাবার মধ্যে রয়েছি।
অবশ্যই আমি মানি, ইলম হলো সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল। সবচেয়ে মর্যাদার বিষয়। তার জন্য কিছু এদিক-সেদিক হলেও, ইলমের ব্যাপারে আমার কোনো অভিযোগ নেই।
আর ‘মোআমালা’— তাতেও অনেক উপকারিতা রয়েছে, যেগুলোর দিকে একটু আগে আমি নিজেই ইশারা করেছি, তবুও সেটা যেন এমন অলস ভীরু ব্যক্তির কাজ—যে শুধু নিজের অন্তরের পরিশুদ্ধি নিয়ে ব্যস্ত থাকে— অন্যের হেদায়াতের ব্যাপারে কিছুই করে না। নিজের নির্জনতা নিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে। মানুষদের তাদের প্রতিপালকের সাথে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে না। আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি হলো, আলেম ব্যক্তি সঠিকভাবে তার ইলমচর্চায় লেগে থাকবে—সাথে সাথে অন্তরকে মোরাকাবা ও মোশাহাদার চাবুকে মৃদু মৃদু আঘাত করবে। তবে এত প্রবল আঘাত করবে না— যাতে আবার পূর্ণভাবে ইলমচর্চায় মশগুল হতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু আমার অবস্থার কথা বলি—
আমি আমার অন্তরের দুর্বলতা ও অধিক কোমলতার কারণে অধিক কবর জিয়ারত এবং মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হওয়াকে পছন্দ করি না। কারণ, এটি আমার চিন্তার মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে এবং ইলমচর্চা থেকে বের করে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর চিন্তার মধ্যে ফেলে দেয়। মনে হয়—আমি যেন আর বেঁচে থাকব না! বাহ্যিক কাজগুলো তখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে যায়।
তবে এক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, ওষুধ হতে হবে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী। এ কারণে যার অন্তর কিছুটা কঠোর ও কঠিন, যার কাছে এমন মোরাকাবা একেবারেই অনুপস্থিত—যা তাকে গোনাহ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে, তার জন্য উচিত হবে বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করা এবং মুমূর্ষু ব্যক্তিদের কাছে উপস্থিত হওয়া, কবর জিয়ারত করা এবং অন্তরকে নরম করার চেষ্টা করা।
কিন্তু যার অন্তর আগে থেকেই নরম ও কোমল, তার বিদ্যমান অবস্থাই তার যথেষ্ট। তাকে বরং এখন এমন কিছু ভালো কাজে ব্যস্ত হয়ে থাকা উচিত— যেগুলো তাকে আরও বেশি নরম হওয়া থেকে ভুলিয়ে রাখবে। যাতে সে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে এবং নিজের কাজ-কর্মের ক্ষেত্রে যত্নবান হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও কখনো কখনো হাসি-মজাক করতেন। আয়েশা রা. এর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন। গল্প করতেন। এভাবে নফসকে কিছুটা স্বস্তি ও বিশ্রাম দিতেন।
যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী অধ্যয়ন করেছে, সে বুঝবে, নফসকে স্বস্তি প্রদানের যে কথা আমি বলছি, তার প্রয়োজন আছে।
📄 মৃত্যুক্ষণ
অনেক সৌভাগ্যের একটি বিষয় হলো, মৃত্যুর সময় মুমূর্ষু ব্যক্তির উপলব্ধি আসা। কারণ, তখন যে সচেতনতা আসে, তার কোনো বর্ণনা হয় না। তখনকার অস্থিরতারও কোনো সীমা থাকে না। তখন সে অতীতের ত্রুটিগুলোর ওপর আফসোস করতে থাকে।
মুমূর্ষু ব্যক্তি কামনা করে, সে যদি এবারের মতো বেঁচে যায়, তবে এতদিনের ছুটে যাওয়া ভালো কাজগুলো সে করবে। অতীতের সকল ভুল-ত্রুটির ওপর তাওবা করবে যথার্থভাবে- মৃত্যুর ওপর তার যেমন দৃঢ় বিশ্বাসের রয়েছে।
আর যখন এ কাজগুলো না করেই নিজের মৃত্যুর আশঙ্কা করে, সেই চিন্তা ও আফসোস মৃত্যুর আগেই যেন তাকে মেরে ফেলার উপক্রম হয়।
কথা হলো, সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় এই উপলব্ধিগুলোর সামান্য অণু পরিমাণও যদি কারও অর্জিত হতো, তাহলে সে দৃঢ় তাকওয়ার ওপর আমল করার কারণে তার সকল উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে যেত। সে আরেফদের কাতারে উঠে যেতে সক্ষম হতো। কিন্তু আফসোসের কথা হলো, এই উপলব্ধি আমাদের আগে থেকে হয় না।
কিন্তু বুদ্ধিমান তো সেই ব্যক্তি, যে নিজের ক্ষেত্রে মৃত্যু-মুহূর্তের উপলব্ধিগুলো অনুধাবন করে নেয় এবং সে অনুযায়ী আমল করে। যদিও মৃত্যুর বাস্তব সেই অবস্থা অনুভব করা কখনো সম্ভব নয়, তবুও নিজের উপলব্ধির সক্ষমতা অনুপাতে কল্পনা করে নেওয়া যায়। এভাবে সে প্রবৃত্তির বাসনা থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং কল্যাণের দিকে ধাবিত হয়।
হজরত হাবিব আজমি রহ.৭২ থেকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি প্রতিদিন সকালে স্ত্রীকে বলতেন, 'আমি যদি আজ মারা যাই, তবে অমুক আমাকে গোসল দেবে আর অমুক আমাকে বহন করে নিয়ে যাবে।'
একবার হজরত মারুফ কারখি রহ. এক ব্যক্তিকে বললেন, 'আপনি আমাদের জোহরের নামাজে ইমামতি করুন।' লোকটি বলল, 'আমি যদি আপনাদের জোহরের নামাজে ইমামতি করি, তাহলে হয়তো আসরের নামাজ আর পড়াতে পারব না।'
হজরত মারুফ রহ. তাকে বললেন, 'তার মানে আপনি আশা করে বসে আছেন যে, আপনি আসর পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন। জীবন সম্পর্কে কত দীর্ঘ আপনার আশা!
টিকাঃ
৭২. পুরো নাম: আবু মুহাম্মদ আল ফারসি। বসরার অধিবাসী। তিনি ছিলেন সেখানকার বিখ্যাত আবেদ ও জাহেদ। মুস্তাজাবুদ দাওয়া। তার থেকে অনেক কারামত প্রকাশ পেয়েছে। তিনি ১৩৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৬/২৮১ : হিলইয়াতুল আওলিয়া ৬/২৮০।
📄 সুগন্ধীদের অনুধাবন ও শিক্ষা
কখনো কখনো এমনও হয়—সচেতন অনুভূতিশীল কোনো ব্যক্তি হয়তো একটি কবিতা পড়লেন কিংবা শুনলেন-এর থেকে তিনি এমন একটি ইশারা বা শিক্ষা প্রাপ্ত হন, যা তার জীবন পাল্টে দেয়। যা তাকে অনেক উপকার করে।
হজরত জুনায়েদ রহ. ৭৩ বলেন, একবার আমার এক সুহৃদ ব্যক্তি আমাকে একটি কাগজের টুকরা এনে দেন। তাতে লেখা ছিল, আমি মক্কার পথে এক উটচালককে বলতে শুনেছি এই কবিতা-
أبكي وما يدريك ما يبكيني أبكي حذارا أن تفارقيني وتقطعي حبلي وتهجريني
আজ আমি কাঁদি। তুমি কি জানো, কেন আমি অশ্রু ঝরাই? তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে, কাঁদি আমি সেই বেদনায় ছিন্ন হবে সকল বাঁধন; তুমি আমায় ছেড়ে যাবে হায়!
একজন গোপন প্রেমিকের নিকট কবিতার এই চরণগুলোর প্রভাবের বিষয়টি লক্ষ করে দেখো তো। সে এর দ্বারা যা বুঝেছে, সেটাকে হজরত জুনায়েদ রহ.-কেও অবহিত করাকে ভালো মনে করেছে। আর এটা বোঝার জন্য তো হজরত জুনায়েদকেই প্রয়োজন—আর কে হবে এর সমবাদার!
মানুষের মধ্যে অনেক শ্রেণি রয়েছে। এদের কিছু ব্যক্তির মেজাজ-স্বভাব খুবই মোটা ধরনের। তাদের অনুভব-অনুভূতি অতটা সূক্ষ্ম নয়। তাদের কেউ যখন এ ধরনের কোনো কবিতা শোনে, তখন সে বলে ওঠে, এর দ্বারা কী বোঝায়?
এর দ্বারা যদি খোদাকে উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তবে তো কিছুতেই স্ত্রী-বাচক শব্দ দিয়ে তার দিকে ইশারা করা হতো না। আর যদি কোনো নারীই উদ্দেশ্য হয়, তবে আর এখানে তাসাওউফ বা দুনিয়াবিমুখতা কিংবা শিক্ষার কী আছে?
আমার জীবনের কসম! এগুলো আসলে উদাসীন উটচালকদেরই গান— এগুলো তারাই শোনে। এ কারণেই এ ধরনের কবিদের কবিতা ও গায়কদের গান শুনতে নিষেধ করা হয়। কারণ, অধিকাংশ ব্যক্তিই এই কবিতার চরণগুলোকে প্রবৃত্তির কামনা এবং জৈবিক বাসনা হিসেবে অনুধাবন করে। নতুবা আমাদের আর কি সেই জুনায়েদ ও সেই গোপন প্রেমিক আছে! যদি আজ তাদের মতো কেউ থাকত, তাহলে তারাই বুঝত এর মর্ম! অন্যদের জন্য এগুলো শোনা নিষেধ হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
তবে একেবারে মোটা দাগে বাহ্যিক অর্থে প্রয়োগ করে যারা এটির ক্ষেত্রে আপত্তি পেশ করেন, তাদের কথাও গ্রহণীয় নয়। এটাকে অন্তরের গভীরতম বোধ দিয়ে বুঝতে হবে। আর তা হলো,
গোপন সেই প্রেমিক শাব্দিক কোনো ইশারা-ইঙ্গিত গ্রহণ করেনি এবং এটাকে তার নিজের চাহিদার ওপরও উপলব্ধি করে নেয়নি যে—এখানে নারী বা পুরুষের কোনো বিষয় আসবে। এখানে সে শুধু অর্থের দিক থেকে একটি ইশারা বা বোধকে গ্রহণ করেছে। যেন সে এই চরণগুলোর অর্থ দিয়ে তার হাবিব বা প্রিয়কে আহ্বান করছে। সে বলছে, 'আমি তোমার বিরহ ও বিচ্ছিন্নতার ভয়ে ক্রন্দন করি।' এটিই তার মূল উদ্দেশ্য। এখানে সে নারী বা পুরুষবাচক শব্দের দিকে কখনোই খেয়াল রাখছে না।
বিষয়টির মর্মকথা মর্ম দিয়েই বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
অনুভূতিশীল সচেতন ব্যক্তিরা এই ধরনের কথা থেকে নিজের শিক্ষণীয় বিষয়ের ইশারা-ইঙ্গিত গ্রহণ করে নিতে পারে। এমনকি অতি সাধারণ ব্যক্তিরাও যে সকল কথা বলে—সেগুলোকেও তারা একটু এদিক-সেদিক ঘুরিয়ে মহান কোনো শিক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
আমি নিজে ইবনে আকিলের লেখায় দেখেছি—তিনি তার এক শাইখের থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক মেয়েকে বলতে শোনেন—
غسلت له طول الليل فركت له طول النهار خرج يعاين غيري زلق وقع الطين
তার জন্য রাতভর গোসল করলাম। তার জন্য দিনভর শরীর করলাম পরিচ্ছন্ন।
আর সে বের হলো অন্যকে দেখতে। তাই পড়ল নরম কাদামাটিতে পা পিছলে।
এর দ্বারা শাইখ এই অর্থ নিয়েছেন—যেন আল্লাহ তাআলা বলছেন, হে আমার বান্দা, আমি তোমার শারীরিক গঠনকে কত সুন্দর করেছি। তোমার অবস্থা কত ভালো করেছি। তোমার গঠন শক্তিশালী করেছি। তোমাকে কত নিয়ামত প্রদান করেছি। তোমার জন্য জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছি। আর তুমি ধাবিত হয়েছ অন্যের দিকে। শিরকের দিকে। তাহলে অচিরেই আমার বিরোধিতার শাস্তি তুমি লক্ষ করবে। পা পিছলে পড়বে জাহান্নামে!
ইবনে আকিল আরও বলেন, আমি একটি মেয়েকে বলতে শুনেছি। কথাটি দীর্ঘ দিন আমার অন্তরের মধ্যে প্রভাব সৃষ্টি করে রেখেছিল। কথাটি এই—
كم كنت بالله أقول لك ... لذا التواني غائله وللقبيح خميرة ..... تبين بعد قليل
আমি কতবার তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলেছি, এই অবহেলার কারণেই তার ধ্বংস।
সকল নিকৃষ্টতার এমন একটি উপরি গাজনা রয়েছে, যা অচিরেই প্রকাশিত হয়ে পড়বে।
কবিতাটির শেষে ইবনে আকিল রহ. বলেন, আমাদের পালনীয় বিষয়ের অনেক ক্ষেত্রে শিথিলতার বিষয়টিও এই রকম লজ্জাজনক- যা অচিরেই আল্লাহ তাআলার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে।
টিকাঃ
৭৩. পুরো নাম: জুনায়েদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জুনায়েদ আননাহাওন্দি। তিনি ছিলেন বিখ্যাত সুফি সাধক ও আবেদ। হজরত আবু ছাউর-এর নিকট দ্বীনের শিক্ষা অর্জন করেছেন। তার মারেফাতের গভীরতা নিয়ে তুমি চিন্তা করতেও পারবে না। তার বাবা ছিলেন একজন তাঁতী। আর তিনি নিজে ছিলেন একজন মুচি। তাদের পৈতৃক আবাস ছিল নাহাওন্দ। কিন্তু তার জন্ম ও বেড়ে উঠা বাগদাদে। তিনি অনেক আলেম থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি ২৯৮ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। طبقات الحنابلة : ১/১২৭-১২৯ سير أعلام النبلاء : ২৪/৩৬/১