📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 গোনাহকে ছোট মনে করা

📄 গোনাহকে ছোট মনে করা


মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে ভুল করে এবং এগুলোকে তারা সামান্য ধারণা করে। অথচ এটি খুবই খারাপ এক মানসিকতা। যেমন, ছাত্রদের কারও থেকে কিছু ধার নেওয়া, এরপর সেটা ফেরত না দেওয়া। কারও খাবারের সময়ে এই উদ্দেশ্যেই যাওয়া যে, তার সাথে বসে খাবে। স্বল্প ভুলেই কারও দিকে অবজ্ঞার চোখে তাকানো। না জেনেও ফতোয়া প্রদান করা—যাতে কেউ মূর্খ ধারণা না করে বসে।
এ ধরনের ভুল বা গোনাহকে ছোট মনে করা হয়। কিন্তু এগুলো আসলে অনেক বড় গোনাহ এবং খুবই ক্ষতিকর।
এমনকি এরচেয়েও ছোট ছোট ভুলও একজন ব্যক্তিকে মানুষদের মাঝে ব্যতিক্রমী মানুষের মর্যাদা থেকে নিচে নামিয়ে দেয়। আল্লাহর নিকট তার সম্মানের স্তর থেকে নিচে নেমে যায়। যুগের ভাষা যেন তাকে ডেকে ডেকে বলে, হে সেই ব্যক্তি, যে এত সামান্য বিষয়েও খিয়ানত করে বসো, তুমি কীভাবে বড় কোনো বিষয়ে দ্বীনদার ব্যক্তিদের পরিচালনায় তাদের সন্তুষ্টির আশা করো?
আমাদের একজন সালাফ বলেন, একবার আমি এক লোকমা খাবার ভুল করে খেয়ে ফেলেছিলাম, সেই থেকে আজ চল্লিশ বছর অধঃপাতের দিকেই চলেছি।
আল্লাহর ওয়াস্তে যারা এ রাস্তায় অভিজ্ঞ, তাদের কথা শোনো। সর্বদা সতর্ক থাকো। পরিণামের দিকে লক্ষ রাখো। আর নিষেধকারীর বড়ত্ব ও ক্ষমতার কথা স্মরণ রাখো—তিনি আমাদের স্রষ্টা ও রব। তাঁর ক্ষমতা অসীম। তাঁর শাস্তিও সহ্যের বাইরে। তাই সামান্য অহংকার থেকেও সতর্ক থাকো। সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেও বেঁচে থাকো—কারণ, এই সামান্যটুকুও একটি পুরো দেশ পুড়িয়ে দিতে সক্ষম।
আমি এ বিষয়ে এখানে অতি অল্পকিছু উল্লেখ করলাম—যা অনেক কিছুর প্রতি ইশারা করছে। কিংবা সামান্য কিছু উদাহরণ পেশ করলাম, এর মাধ্যমে অন্য গোনাহের ক্ষেত্রগুলোকেও চিনে নাও।
ইলম এবং সতর্কতা- আমি যা হয়তো উল্লেখ করিনি, এ দুটো জিনিস তোমাকে সেগুলোর পরিচয় করিয়ে দেবে। তুমি যদি দূরদর্শিতার চোখে লক্ষ করো, তবে এ দুটি জিনিসই তোমাকে গোনাহের নিকৃষ্ট প্রভাব সম্পর্কে জানিয়ে দেবে।
সকল শক্তি ও সক্ষমতা এক আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 আগে তাওবা তারপর প্রার্থনা

📄 আগে তাওবা তারপর প্রার্থনা


আমি আমার নফসের একটি আশ্চর্য বিষয় খেয়াল করেছি। সেটা হলো, সে আল্লাহ তাআলার নিকট তার প্রয়োজনগুলো প্রার্থনা করে-কিন্তু তার নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর কথা সে যেন ভুলেই থাকে!
আমি একদিন তাকে ডেকে বললাম, হে নিকৃষ্টতম নফস, তোমার মতো কেউ কি এ ধরনের প্রার্থনা-আবেদন করতে পারে? যদি কিছু প্রার্থনা করতে চাও, তবে তার কাছে আগে ক্ষমা প্রার্থনা করো। এত কিছু দাবি করার অধিকার কি তুমি রাখো?
নফস বলল, তাহলে আমি আমার প্রয়োজনের বিষয়গুলো কার কাছে প্রার্থনা করব?
আমি বললাম, আমি তোমাকে তোমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো প্রার্থনা করতে নিষেধ করছি না। আমি শুধু বলতে চাচ্ছি, আগে তো প্রকৃতভাবে তাওবা করো- এরপর যা ইচ্ছা প্রার্থনা করো।
যেমন, পাপের উদ্দেশ্যে সফরকারীর ক্ষেত্রে আমরা বলি, সে যদি ক্ষুধার কারণে কোনো হারাম জিনিস খেতে বাধ্য হয়, তবুও তার জন্য তা খাওয়া জায়েজ নয়।
হ্যাঁ, এখন কেউ যদি আমাদের প্রশ্ন করে-তবে কি লোকটি না খেয়ে মারা যাবে?
আমরা তখন বলি, না-না খেয়ে মারা যাবে কেন? বরং প্রথমে নিজের কাজের ব্যাপারে তাওবা করবে-এরপর খেতে পারবে।
নতুবা এটা কত বড় দুঃসাহসের কথা বলুন, নিজের অঢেল গোনাহের কথা ভুলে থেকে, সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে আল্লাহর কাছে শুধু নিজের আবেদন-আবদার পেশ করা হবে! অথচ গোনাহের বিশালতা নিয়ে আগে তার মাথা নুইয়ে আসা দরকার ছিল।
আসল কাজ হলো, আগে তাওবা করা। গোনাহের কাজ থেকে ফিরে থাকার চেষ্টা করা। তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি যদি অতীতের গোনাহের বিষয়ে অনুতপ্ত হও, নিজেকে সংশোধন করে নাও, তবে দেখবে আপনাআপনিই তোমার আকাঙ্ক্ষা ও কামনাগুলো বাস্তবায়িত হয়ে যাবে। যেভাবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ شَغَلَهُ الْقُرْآنُ وَذِكْرِي عَنْ مَسْأَلَتِي أَعْطَيْتُهُ أَفْضَلَ مَا أُعْطِي السَّائِلِينَ.
হজরত সাইদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, যে ব্যক্তি কোরআন ও আমার জিকিরের মগ্নতায় আমার কাছে প্রার্থনার সুযোগ কম পায়, আমি তাকে যারা প্রার্থনা করে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম জিনিস প্রদান করি। ৭১
হজরত বিশর হাফি রহ. দুআর জন্য হাত বাড়িয়ে দিতেন। এরপর আবার হাত গুটিয়ে নিয়ে বলতেন, গোনাহের এত প্রাচুর্য বিদ্যমান থাকা অবস্থায় আমার মতো মানুষ কি কিছু প্রার্থনা করার অধিকার রাখে!
অবশ্য বিশর হাফির এই অবস্থার কথা ভিন্ন। তার মারেফাতের আধিক্যের কারণে কখনো কখনো এমনটি তিনি করেছেন। তার প্রার্থনা ছিল এমন- যেন তিনি মুখোমুখি আল্লাহর কাছে চাচ্ছেন। এতটাই নৈকট্য অনুভব করতেন তিনি!
কিন্তু অন্যদের বিষয়- তারা তো মানসিকভাবেই অনেক দূর থেকে প্রার্থনা করে। তাদের মাঝে তো এই নৈকট্যের সৃষ্টি হয়নি। তাদের উচিত আকুল মনে আল্লাহ তাআলার নিকট নিজ গোনাহের জন্য মাফ চেয়ে নেওয়া। ক্ষমা প্রার্থনা করা।
যা কিছু বলা হলো, এগুলো বোঝার চেষ্টা করো এবং তাওবার দিকে ধাবিত হও। এছাড়া তোমার প্রার্থনার আরেকটি ভুল পদ্ধতি হলো, তুমি তোমার প্রার্থনার মধ্যে দুনিয়া ও আখেরাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সংশোধনের প্রার্থনা না করে, শুধু প্রার্থনা করো বিভিন্ন ভোগ-বিলাস ও আরাম-আয়েশের বিষয়ে। আর দুনিয়ার প্রাপ্তি নিয়ে যেমন বেশি বেশি প্রার্থনা করো, তেমন তো অন্তর ও দ্বীনের সংশোধন নিয়ে প্রার্থনা করো না!
প্রতিপালকের কাছে তোমার এ কেমন প্রার্থনা! তুমি তোমার বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখো। অব্যাহত গাফলত ও ভ্রুক্ষেপহীনতায় ধীরে ধীরে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়ে পড়েছ- এ বিষয়ে সচেতন হও। এখনই হও।
তুমি তোমার কামনা ও বাসনার চিন্তা বাদ রেখে, আগে তোমার স্খলন ও অপরাধ সম্পর্কে চিন্তিত হও। হজরত হাসান বসরি রহ. তার গোনাহের ব্যাপারে সব সময় প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যে থাকতেন। একবার তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি এত ভয় পান কেন?
উত্তরে তিনি বলেন, আমার কোন কোন গোনাহ মাফ করা হয়নি, সে বিষয়ে আমার নিশ্চিত জ্ঞান নেই। হায়, কিয়ামতের মাঠে যদি আমাকে বলা হয়, যাও জাহান্নামে, তোমার এই এই গোনাহ এখনো ক্ষমা করা হয়নি, তখন আমার কী অবস্থা হবে!

টিকাঃ
৭১. সুনানে তিরমিজি: ১০/২৮৫০, পৃষ্ঠা: ১৬৯- মা. শামেলা

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 আবেদদের ধোঁকায় পতিত হওয়া

📄 আবেদদের ধোঁকায় পতিত হওয়া


সবচেয়ে আশ্চর্যতম বিষয় হলো, আল্লাহর মারেফাত থেকে বহুদূরে অবস্থান করেও কোনো ব্যক্তির ‘আরেফ’ হওয়ার দাবি করা কিংবা ভান করা। আল্লাহর কসম, যে তাকে ভয় করে চলে, সেই তাকে চিনেছে। আর আরেফ তো একমাত্র সেই ব্যক্তিই হতে পারে, যে নিজের সম্পর্কে এই ধারণা রাখে যে, তার মতো মানুষ কখনো ‘আরেফ’ হতে পারে না।
অথচ জাহেদদের মাঝে এমন কিছু বুদ্ধিহীন মূর্খ লোক রয়েছে, তারা যেন নিজেদের ক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়ে বসে আছে যে, তারা এই পৃথিবীর একেক জন ওলি, মাহবুব এবং মাকবুল ব্যক্তি- আরেফ বিল্লাহ।
হয়তো কখনো তাদের কারও ক্ষেত্রে কোনো সহজতা বা অনুগ্রহ করা হয়- আর সেটাকেই সে ভেবে বসে ‘কারামত’। আর আল্লাহর অবকাশের কথা ভুলে যায়। অন্যদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে- আর ভাবে, নিজের ভবিষ্যৎ বুঝি নিরাপদ ও সংরক্ষিতই হয়ে আছে। তার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাধি তাকে ধোঁকায় ফেলে রাখে। তাকে ধোঁকায় ফেলে রাখে, তার দিকে যেসকল ইবাদতের কথা সম্পৃক্ত করা হয়- সেইগুলো। এভাবে কখনো সে নিজেকে পৃথিবীর ‘কুতুব’ ভাবে। কখনো ভাবে জগতের ‘ওলি’। যেন তার পর কেউ আর এই মর্যাদা ও স্থান প্রাপ্ত হবে না।
সে কি জানে না সেই বালআম বিন বাউরার কথা- যে ছিল ‘মুস্তাজাবুত দাওয়াত’, এক সময় সেই হয়ে উঠল ‘কুকুরের মতো’। বোঝা উচিত, যে শরীর সুস্থ থাকে, তা কখনো অসুস্থও হয়ে উঠতে পারে।
এমন কত কবি-সাহিত্যিক অতিবাহিত হয়ে গেছে- যারা বলেছিল, আমার মতো কেউ নেই। আমার মতো আসবে না কেউ।
কিন্তু তারা যদি আরও কিছুদিন বেঁচে যেতে পারত, তবে তারা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ রচনা ও সাহিত্যগুলো দেখে নিজেরাই অনুভব করে যেতে পারত- তাদেরটা ছিল কতটা নিকৃষ্ট ও নিম্নমানের।
সুতরাং সকল সময় নিজের পদস্খলনের ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং কখনো নিজের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত না হওয়া উচিত। অন্যদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা থেকে সতর্ক থাকা- নিজেরই অবস্থা তেমন না হয়ে যায়। এবং তাকদিরের বিষয়েও নিজের ব্যাপারে ভয়ে ভয়ে থাকা উচিত।
জেনে রাখো, এখন আমি যেসকল বিষয়ের দিকে ইশারা করলাম, এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে যদি লক্ষ রাখা হয়, তবে নিশ্চয় আত্মগর্বের মাথা নত হয়ে আসবে। অহংকারের অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকা যাবে।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 বিপদের ক্ষেত্রে মানুষের বিভিন্ন আচরণ

📄 বিপদের ক্ষেত্রে মানুষের বিভিন্ন আচরণ


যাকে আল্লাহ তাআলা সব সময় নিয়ামত দিয়ে আসছেন এবং সুখী ও নিরাপদ রেখেছেন, তার কাছে বিপদ ও দারিদ্র্যের কষ্ট অনুপস্থিত। অথচ এটিই হলো মূল পরীক্ষার সময়। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কখনো গড়েন, কখনো ভাঙেন। তিনিই প্রদান করেন। তিনিই আবার বঞ্চিত করেন। প্রতিপালকের প্রতি মানুষের রাজি ও সন্তুষ্টির বিষয়টি এই কষ্টের সময়ই তো প্রকাশ পায়!
সুতরাং যাকে অব্যাহত নিয়ামত প্রদান করা হচ্ছে, সে ব্যক্তি তার এই নিয়ামতের কারণে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টচিত্ত রয়েছে। কিন্তু যখন তার ওপর কোনো বিপদের কষ্ট এসে আঘাত করছে, তখন তার সন্তুষ্টি, রাজি ও দৃঢ়তা পলায়ন করছে। তাহলে আর প্রতিপালকের ফয়সালার প্রতি তার কিসের সন্তুষ্টি?
হজরত হাসান বসরি রহ. বলেন,
كانوا يتساوون في وقت النعم فإذا نزل البلاء تباينوا.
তারা নিয়ামতপ্রাপ্তির সময় খুবই শান্ত-শিষ্ট থাকে, কিন্তু যখনই বিপদ এসে উপস্থিত হয়, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে-দূরে সরে যায়।
কিন্তু বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিজের ভান্ডার প্রস্তুত করে রাখে। পাথেয় সঞ্চয় করে রাখে। বিপদের আশঙ্কার কথা ভেবে অনেক রকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। আকস্মিক মৃত্যুর ঘণ্টা বেজে উঠা ছাড়াও জীবনের বাঁকে হরেক রকম বিপদ আসাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আল্লাহ না করুন- কেউ যদি মৃত্যুর সময়ের বিপদে সন্তুষ্ট না থাকে, ধৈর্যধারণ করতে না পারে, তবে তো সে কুফর নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে।
আমি এমন একটি লোকের কথা শুনেছি, যার ক্ষেত্রে আমি ভালো ধারণা করতাম। কিন্তু লোকটি তার মৃত্যুর আগে বিপদের রাতগুলোতে বলত, আমার প্রতিপালক আমার প্রতি জুলুম করছে। নতুবা আজ আমার এই অবস্থা কেন?
ঠিক এই অভিযোগ-অনুযোগ করা অবস্থায় তার মৃত্যু এসে গেছে। এটা কেন হলো? বর্ণনা করা হয়, শয়তান মানুষের ঠিক এই অবস্থাগুলোর ব্যাপারে তার সাথিদের তাকিদ দিয়ে বলে,
عليكم بهذا، فإن فاتكم لم تقدروا عليه.
এই হলো তোমাদের সময়, একে অবশ্যই গোমরাহ করে ছাড়বে। এখন যদি সে তোমাদের হাত থেকে ফসকে যায়, কোনোদিন তাকে আর নাগাল পাবে না- এই হলো শেষ সময়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আমরা খুব করে শেষ সময়ে দৃঢ় ‘ইয়াকিন’-এর প্রার্থনা করি; যেন বিপদের ওপর ধৈর্যধারণ করতে পারি কিংবা তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকি। এবং তার প্রতি দৃঢ় আশা রাখি- তিনি তার প্রিয়দের যে নিয়ামত দান করেন, তা আমাদেরও প্রদান করবেন। সে কারণে আমাদের দুনিয়াতে অবস্থানের চেয়ে তার সাথে সাক্ষাৎই যেন প্রিয় হয়ে ওঠে। আমাদের নিজেদের ইচ্ছা ও নির্বাচনের চেয়ে তার নির্ধারিত বিষয়ের দিকেই যেন আমরা আগ্রহী ও সন্তুষ্ট থাকি।
আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, আমাদের ওপর কোনো বিপদ এসে পড়লে, আমরা যেন তাকদিরের প্রতি ক্রোধান্বিত না হয়ে উঠি। সেটা হবে একটি অকাট মূর্খতা। স্পষ্ট লাঞ্ছনা। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। আমিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00