📄 উচ্চাকাঙ্ক্ষা
আমি একদিন দু'আয় প্রার্থনা করে বললাম, হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ইলম ও আমলের শীর্ষচূড়ায় পৌঁছে দিন। এবং আমার জীবন এতটা দীর্ঘ করে দিন, আমি যেন আমার সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি।
তখন ইবলিসের পক্ষ থেকে একটি ওয়াসওয়াসা এলো। সে বলল, এরপর কী? এরপরেও তো মৃত্যুই এসে যাবে—না-কি? তবে আর এই দীর্ঘ জীবন প্রার্থনা করে লাভ কী?
আমি তাকে বললাম, দূর হ! তুই যদি বুঝতি আমার প্রার্থনার আড়ালে কী রয়েছে, তাহলে তো বুঝতি জীবনের এই দীর্ঘতা কিছুতেই অনর্থক নয়। এটি অনেক মূল্যবান।
আমি যদি জীবিত থাকি, প্রতিদিন কি আমার ইলম ও মারেফাত বাড়বে না? তাহলে আমার শস্যের ফলও বাড়তে থাকবে। তা আহরণের দিন শুকরিয়াও ব্যাপক হবে। আমি যদি আমার ২০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করতাম— সেটা কি আমাকে আনন্দিত করত? আল্লাহর কসম, কিছুতেই না। কারণ, আজ আমার প্রতিপালকের সম্পর্কে যতটুকু আমার পরিচয় ও মারেফাত রয়েছে, ২০ বছর বয়সে মারা গেলে আজকের দশভাগের এক ভাগও আমার জানা হতো না।
সব কিছুই এই জীবনের ফসল— এই দীর্ঘ যাপিত সময়ে আমি আল্লাহ তা'আলার একত্ববাদ নিয়ে আরও বেশি জেনেছি। অন্ধ অনুসরণের হাত থেকে দূরদর্শিতার উচ্চভূমিতে আরোহণ করেছি। আরও এমন অনেক ইলম সম্পর্কে অবগত হয়েছি—যার মাধ্যমে আমার মূল্য বেড়েছে এবং আমার নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ করতে পেরেছি।
এছাড়া আখেরাতের জন্য আমার শস্যরোপণ আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষক হয়ে ছাত্রদের মাঝে ইলম বিতরণের মাধ্যমে আমার সওয়াবের ব্যবসাকেও করেছি লাভবান। এভাবে ইলম বাড়ানোর মতো শ্রেষ্ঠত্ব আর কী হতে পারে?
আল্লাহ তাঁর রাসুলকেও নির্দেশ দিয়েছেন, (وَقُلْ رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا)
(হে নবী!) তুমি বলো, হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার ইলম বৃদ্ধি করে দিন। [সুরা তোয়াহা : ১১৪]
এবং হাদিসে এসেছে- حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ ... قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَتَمَنَّى أَحَدُكُمْ الْمَوْتَ وَلَا يَدْعُ بِهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُ إِنَّهُ إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ انْقَطَعَ عَمَلُهُ وَإِنَّهُ لَا يَزِيدُ الْمُؤْمِنَ عُمْرُهُ إِلَّا خَيْرًا.
হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যেন তার মৃত্যু কামনা না করে। এবং মৃত্যু তার নিকট আসার আগে সে যেন সে ব্যাপারে প্রার্থনাও না করে। কারণ, যখন তোমাদের কেউ মারা যায়, তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিনের দীর্ঘ জীবন তার শুধু কল্যাণই বৃদ্ধি করে। ৬৭
এছাড়া অন্য এক হাদিসে এসেছে- عَنِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ... وَإِنَّ مِنْ السَّعَادَةِ أَنْ يَطُولَ عُمْرُ الْعَبْدِ وَيَرْزُقَهُ اللَّهُ الإنابة.
হারেস ইবনে ইয়াজিদ রহ. বলেন, আমি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা.-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো বান্দার দীর্ঘ জীবন প্রাপ্ত হওয়াও তার জন্য একটি সৌভাগ্য। আল্লাহ তাআলা তখন তাকে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব প্রদান করেন। ৬৮
সুতরাং হায়! আমার আফসোস, আমার যদি হজরত নুহ আলাইহিস সালামের মতো দীর্ঘ জীবন হতো! দুনিয়াতে ইলমের ভান্ডার কত বড় ও ব্যাপক। যখনই কেউ এখান থেকে কিছু অর্জন করে- সে আরও উচ্চ ও উন্নত হয়, মর্যাদাবান হয় এবং সে আরও বেশি উপকৃত হয়।
টিকাঃ
৬৭ সহিহ মুসলিম: ১৩/৪৮৪৩, পৃষ্ঠা ১৮১- মা. শামেলা • মুসনাদে আহমদ: ২৯/১৪০৩৭, পৃষ্ঠা: ৮৬- মা. শামেলা
৬৮. মুসনাদে আহমদ: ৩/১৮ এবং হাকেম ইবনে মুসতাদরাক: ১/৪৯৩। এবং ইমাম বোখারি রহ.ও এটি 'আলআদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-২/৭১০। ইমাম যাহাবি রহ. এবং তবারনি রহ. এটাকে বিশুদ্ধ বলেছেন।
📄 উপকরণ ও উপায়
দুনিয়া দারুল আসবাব। এখানে স্বাভাবিকভাবেই দুনিয়াবি উপায়-উপকরণের দরকার হয়।
আরেফদের অন্তরও কখনো কখনো পার্থিব উপকরণের দিকে আকৃষ্ট হয়- কিন্তু কখনোই সেগুলোর ওপর লেগে থাকে না। কারণ, যখনই তারা এগুলো সম্পর্কে একাকী নির্জনে চিন্তা করে, এগুলোর অক্ষমতা সম্পর্কে অবগত হয়ে পড়েন। তাই যখনই তারা বাহ্যিক উপকরণ দ্বারা পরীক্ষায় উপনীত হন, তখন তারা উপকরণের সকল প্রভাব একেবারে মুছে ফেলেন। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেন,
﴿ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئًا ﴾
স্মরণ করো সেদিনের কথা, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদের মুগ্ধ করে তুলেছিল। অনন্তর তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। [সুরা তাওবা: ২৫]
আয়াতের বর্ণনায় দেখা যায়-কিছু সময় সাহাবিদের অন্তরও বাহ্যিক উপকরণের দিকে ধাবিত হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পরীক্ষা আসার পর তারা আবার সংশোধন হয়ে গিয়েছেন।
এভাবে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-
﴿ وَقَالَ لِلَّذِي ظَنَّ أَنَّهُ نَاجٍ مِنْهُمَا اذْكُرْنِي عِنْدَ رَبِّكَ ﴾
সেই দু-জনের মধ্যে যার সম্পর্কে তার ধারণা ছিল যে, সে মুক্তি পাবে, ইউসুফ তাকে বলল, নিজ প্রভুর কাছে আমার কথাও বলো। [সুরা ইউসুফ: ৪২]
এভাবে কথাটা বলার কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে জেলখানায় সাত বছর অবস্থান করালেন। যদিও ইউসুফ আলাইহিস সালাম খুব ভালোভাবেই জানেন ও জানতেন, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তার মুক্তি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর বাহ্যিক উপকরণের আশ্রয় নেওয়া শরিয়তেও বৈধ। তাই তিনি এভাবে বলেছেন।
কিন্তু এখানে আদবেরও একটি বিষয় রয়েছে। আল্লাহ চান, তার প্রিয় বান্দাগণ সবচেয়ে প্রিয় পথ ও পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। অন্যদের জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয় হবেন। একারণে অনেক সময় বৈধ বিষয়েও আল্লাহ তাআলা তাদেরকে আদব শিখিয়েছেন।
নতুবা উপকরণ হলো একটি পদ্ধতি। মানুষের জন্য তার ব্যবহার অপরিহার্য। তবে আরেফগণ কখনো এগুলোর দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন না। কারণ, এগুলোর যে বাস্তবতা, আরেফদের সামনে তা যেমনভাবে প্রকাশিত, অন্য কারও নিকট তা সেভাবে প্রকাশিত নয়। সে কারণে যদিও তারা কখনো পুরোপুরি উপকরণের দিকে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন না, কিন্তু কখনো কখনো তাদেরও এদিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে তাদেরকে তাদের অবস্থান অনুপাতে শাস্তি প্রদান করা হয়। কারণ, এটা আদবের খেলাফ। যেমন, আমরা হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের বিষয়টি চিন্তা করে দেখতে পারি। ঘটনাটি ছিল এমন- তিনি একবার কথাপ্রসঙ্গে বললেন, আজ রাতে আমি আমার এক শ স্ত্রীর সাথে মিলিত হব। আর তাদের প্রত্যেকেই একটি করে পুত্র সন্তান প্রসব করবে।... কিন্তু এ কথা বলার সময় তিনি ‘ইনশাআল্লাহ' বলেননি কিংবা বলতে ভুলে গেলেন। সে কারণে পরে দেখা গেল, মাত্র একজন স্ত্রী গর্ভবতী হয়েছে। এবং সেই স্ত্রীও একটি বিকলাঙ্গ সন্তান প্রসব করল।
এবার নিজের ঘটনার কথা বলি- একবার আমার একটি বিষয়ে কিছু জিনিসের প্রয়োজন পড়ল। কিন্তু সেই উপকরণগুলো জোগাড় করতে হলে এক জালেম ব্যক্তির সাথে দেখা করতে হয় এবং তার সাথে তোষামোদের ভাষায় কথা বলতে হয়। আমি বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করতে লাগলাম-কী করা যায়? এমন সময় আমার নিকট একজন ক্বারী সাহেব এলেন। কোরআন থেকে পড়তে শুরু করলেন। এবং তিনি এমন কিছু আয়াত পড়লেন, যা নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী হয়ে উঠলাম। আমি যেন আমার পথ পেয়ে গেলাম। কারি সাহেব পড়ছিলেন-
﴿وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ)
এবং (হে মুসলিমরা,) তোমরা ওই জালেমদের দিকে একটুও ঝুঁকবে না, অন্যথায় জাহান্নামের আগুন তোমাদেরকেও স্পর্শ করবে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো রকমের বন্ধু লাভ হবে না আর তখন কেউ তোমাদের সাহায্যও করবে না। [সুরা হুদ: ১১৩]
এমন আকস্মিকভাবে আমার অন্তরের উত্তর প্রাপ্ত হয়ে আমি যেন বিস্ময়ে হতবুদ্ধ হয়ে গেলাম। আমি আমার নফসকে বললাম, খুব ভালোকরে শুনে রাখ, আমি এই জালেমের তোষামোদ করে সাহায্য প্রার্থনার ইচ্ছা করেছিলাম, তখন কোরআন আমাকে শিক্ষা দিয়েছে, আমি যদি কোনো জালেমের নিকট নত হই কিংবা ঝুঁকে পড়ি, তাহলে যেই সাহায্যের জন্য আমি ঝুঁকলাম সেটা থেকে আমি বঞ্চিত হব।
ওই ব্যক্তির জন্যই কতই না সৌভাগ্য, যিনি আসল দাতাকে চিনিছেন এবং তাঁকেই সর্বক্ষণ ধরে আছেন। কারণ, সেটিই হলো মূল গন্তব্য। আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা—তিনি যেন আমাদের উত্তম রিজিক দান করেন। তিনিই একমাত্র দাতা।
📄 মুমিন ও গোনাহ
মুমিন কখনো গোনাহের ওপর বাড়ন্ত হতে পারে না। কারণ, এটি গোনাহের প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কামনার আগুনকে প্রজ্বলিত করে। এবং পরিণামে অধঃপতিত করে।
কারণ, এর রয়েছে একটি দীর্ঘ পরিক্রম প্রবণতা—একজন মুমিন কিছুতেই তাতে আপতিত হতে পারে না। সে কখনো গোনাহ থেকে ফারেগ হয়ে তাতে আবার ফিরে যেতে পারে না। সে রাগান্বিত হলে, কিছুতেই প্রতিশোধে সীমালঙ্ঘন করে না। আর অক্ষমতার আগেই তাওবা করে নেয়।
তুমি একবার ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইদের কথা চিন্তা করে দেখো—তারা মূলত ইউসুফকে রেখে আসার আগেই তাওবার নিয়ত করেছিল। তারা প্রথমে বলল, اقتلوا يوسف — তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো। কিন্তু এরপর এটাকে তাদের নিকট অনেক নিষ্ঠুর মনে হলো। এ কারণে তারা এবার বলল, أو اطرحوه أرضا — কিংবা তাকে কোনো দূরবর্তী জায়গায় ফেলে এসো। এরপর তারা তখনই ভালো হওয়ার প্রতি দৃঢ় ইচ্ছা ব্যক্ত করল। তারা বলল, وتكونوا من بعده قوما صالحين —এরপর তোমরা খুব ভালো দল হয়ে থাকবে।
এরপর তারা যখন হজরত ইউসুফকে সাথে নিয়ে মরুভূমির দিকে বের হলো, তাদের অন্তরের হিংসার কারণে প্রথমে তারা তাকে হত্যা করারই ইচ্ছা করল। কিন্তু তাদের বড়ভাই বললেন, لَا تَقْتُلُوا يُوسُفَ وَأَلْقُوهُ فِي غَيَابَتِ الْجُبِّ তোমরা তাকে হত্যা করো না। বরং তোমরা তাকে কুয়ার অন্ধকারে ফেলে রেখে এসো।
আর ফেলে রাখার মাধ্যমে তাকে হত্যা করার ইচ্ছা তিনি করেননি। বরং ইচ্ছা করেছেন যে, কোনো মুসাফির দল তাকে তুলে নিয়ে যাবে। এবার সকলেই বড় ভাইয়ের কথাকেই মেনে নিল।
মানুষের ঈমান ও কর্মের মধ্যে এই ভিন্নতার কারণ হলো, অন্তরের কুঠুরির মধ্যে ঈমান তার শক্তি অনুযায়ী ঘুরতে থাকে। কখনো তা শক্তিশালী হয়ে সংকল্পে সুদৃঢ় হয়। কখনো দুর্বল হয়ে গোনাহের দিকে ধাবিত হয়। কখনো ভালো কাজ করে। কখনো আবার ছেড়ে দেয়। কিন্তু এভাবে যখন উদাসীনতা ও গাফিলতি প্রাধান্য বিস্তার করে, অব্যাহতভাবে গোনাহ সংঘটিত হতে থাকে, তখন মেজাজ ও স্বভাবও নষ্ট হয়ে যায়।
অতএব, এখনই... এখনই ঈমানকে আমলের জন্য জাগ্রত করে তোলো। গোনাহের জন্য তাওবা করো। তাহলে দেখবে, এই অনুশোচনাতেও এমন মজা ও আনন্দ পাবে- সেই গোনাহে লিপ্ত হওয়ার সময়ও যা তুমি পাওনি।
📄 ইলমের ক্ষেত্রে প্রবঞ্চনা
আমার মতে- পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয় হলো ইলমের মধ্যে প্রবৃদ্ধি লাভ করা। কারণ, যে ব্যক্তি যতটুকু জেনেছে, তার ওপরই যদি সে সীমাবদ্ধ থাকে এবং এটাকেই যথেষ্ট মনে করে, তাহলে সে তার সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে এবং নিজের প্রতি নিজের শ্রেষ্ঠত্ববোধের কারণে অন্যের থেকে তার উপকৃত হওয়ার রাস্তা রুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন আলোচনা-পর্যালোচনা তার ভুলকে প্রকাশ করে তোলে, কিন্তু নিজের ব্যাপারে আত্মগর্বী হওয়ার কারণে সে কখনো সেই ভুল থেকে ফিরে আসার সৎসাহস দেখায় না।
কিন্তু সে যদি অন্যের থেকে উপকৃত হওয়ার মানসিকতা পোষণ করত, তবে এটা তাকে সকলের সমপর্যায়ে এনে দিত। এবং সেই ভুল থেকে ফিরে আসা তার জন্য সহজ হতো।
অপূর্ণ ইলমের একটি উদাহরণ বর্ণনা করেছেন ইবনে আকিল রহ.। তিনি বলেন, আবুল মাআলি আল জুওয়াইনি রহ. বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَعْلَمُ جُمَلَ الْأَشْيَاءِ وَلَا يَعْلَمُ التَّفَاصِيلَ.
নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা সকল কিছু সামগ্রিকভাবে জানেন, কিন্তু প্রতিটি বিষয় বিস্তারিত খুঁটে খুঁটে জানেন না।’
আমি জানি না, ইলমের মাঝে কতটা কমতি ও মূর্খতা থাকলে এমন কথা বলা যায়!
এভাবে আরও অনেকেই তাদের অজ্ঞতা, মূর্খতা ও একগুঁয়েমির কারণে সকলের সর্বসম্মত মতকে বর্জন করে ভিন্ন মত পোষণ করেছে। এবং এক্ষেত্রে তাদের কোনো শক্তিশালী দলিলও নেই। তাদের মুক্তির কি কোনো পথ আছে?
কেউ যদি মনে করে তার কিতাবের মধ্যে কিছু ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে এবং সেগুলো সীমাহীন নয়, তবে তার জন্য উচিত হলো, সমসাময়িক গ্রহণযোগ্য আলেমদের সেটা দেখানো। এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ববোধকে বর্জন করা। তাহলে আশা করা যায়, তিনি সঠিক পথে থাকতে পারবেন। নতুবা ইলমের ওপর ব্যক্তির এই সীমাবদ্ধতা যদি নিজেকে প্রদর্শনের জন্য হয়ে থাকে, তবে তার বিশুদ্ধতার পথ চির রুদ্ধ হয়ে পড়বে।
এমন অবস্থা থেকে আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় চাই।