📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 সুফিতত্ত্ব এবং মূর্খতার প্রসার

📄 সুফিতত্ত্ব এবং মূর্খতার প্রসার


জগতে অস্তিত্বশীল জিনিসের মধ্যে ইলমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু নেই। আর এটা হবেই বা না কেন, এটাই হলো সকল কিছুর দলিল? ইলম না থাকা মানে অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতা।

শয়তানের গোপন চক্রান্তের মধ্যে একটি হলো, মানুষের অন্তরে সাধারণ ইবাদতকে সুশোভিত করে তোলা-যাতে করে সে যেন তাকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত ইলম থেকে বিরত রাখতে পারে।

এমনকি আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে একটি দলকে শয়তান এই ধোঁকার মধ্যে ফেলেছিল। এ কারণে তাদের অনেকেই তাদের কিতাব মাটির নিচে দাফন করে দিয়েছিলেন। কেউ সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছিলেন তাদের কিতাব।

যারা এমনটি করেছিলেন, আমি তাদের ব্যাপারে সুধারণা রেখে বলি, তাদের সে কিতাবগুলোর মধ্যে হয়তো কোনো অশুদ্ধ মত বা কথা ছিল, সে কারণে তারা এগুলোর প্রচার-প্রসার পছন্দ করেননি। নতুবা তার মধ্যে যদি বিশুদ্ধ ইলম থাকে, যার পরিণাম ভালো, তবে তো তা পুড়িয়ে ফেলা কিংবা সমুদ্রে নিক্ষেপ করার অর্থ সম্পদের বিনষ্ট করা—যা জায়েয নয়।

ইবলিস এমন চক্রান্তে কিছু সুফিকেও ফেলেছিল। এ কারণে তারা তাদের ছাত্রদের লেখার জন্য দোয়াত-কলম রাখতে নিষেধ করতেন। এ ব্যাপারে জাফর খুলদি একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আমি এক মজলিসে বললাম, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য যদি আমার সুফিত্ব চলে যাওয়ার কথা বলা হয়, তবে আমি আমার সুফিত্বের অক্ষুণ্ণতার ক্ষেত্রে অঢেল প্রমাণ তোমাদের নিকট উপস্থিত করতে পারি, যা আমি আবুল আব্বাস আদ-দাওরির মজলিসে বসে লিখেছি।

তখন এক সুফি দাঁড়িয়ে বলল, 'এসব কাগুজে লেখার কথা ছাড়ো, তুমি আমাদের কাছে রুহানি ইলম নিয়ে এসো।

মজলিসের মধ্যে এ সময় আমি এক সুফির হাতেও একটি দোয়াত দেখতে পেলাম। হঠাৎ আরেক সুফি তার দিকে কটাক্ষ দৃষ্টি হেনে বলল, 'তোমার সতর ঢাকো' [দোয়াত-কলম]। এরপর তারা আমার নিকট শিবলীর কবিতা আবৃত্তি করে বলল,
إذا طالبوني بعلم الورق بزرت عليهم بعلم الخرق

তারা যখন আমার নিকট কাগজের ইলম অন্বেষণ করল, আমি তখন তাদের নিকট রুহানি ইলম নিয়ে আবির্ভূত হলাম।

এটা হলো ইবলিসের এক গোপন চক্রান্ত। তাদের ওপর ইবলিস তার ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করেছে। ইবলিস এটা করেছে দুটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। যেমন-

১. ইবলিস চেয়েছে তারা যেন এভাবেই অজ্ঞতার অন্ধকারের মধ্যেই হেঁটে চলে।

২. প্রতিদিন পৃথিবীতে যত ইলম বাড়ছে, তারা যেন সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করা থেকে বিরত থাকে।

ইবলিস এভাবেই ইলমকে মানুষ থেকে গোপন রাখতে চায়। কারণ, ইলম মানুষের ঈমান ও মারেফাতকে শক্তিশালী করে। তার আমল-আখলাকের ভুলগুলো ধরিয়ে দেবে। বিশেষ করে, ইলম জানা থাকলে তখন সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবিদের পথ-পদ্ধতিকে পর্যবেক্ষণ করে ‘সিরাতে মুস্তাকিমে’ উঠে পড়বে। ইবলিসের হলো এই ভয়।

সুতরাং ইবলিস-শয়তান তার গোপন চক্রান্তের মাধ্যমে চেয়েছে, মুমিনের সামনে ইলমের এই সকল রাস্তা বন্ধ করে দিতে। মানুষের সামনে প্রকাশ করেছে যে, আসল উদ্দেশ্য হলো আমল; নিছক ইলম নয়। আর এই ধোঁকায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে এটাও লুকিয়ে রেখেছে—ইলমও যে এক প্রকার আমল এবং ইলম ছাড়া আমল হয় না।

সুতরাং ইবলিসের এই গোপন চক্রান্ত থেকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, ইলমই হলো মূল স্তম্ভ। সর্বোচ্চ আলো। কখনো কখনো ইলমের এই পাতাগুলো উল্টানো নফল রোজা ও নামাজ থেকেও উত্তম। হজ ও জিহাদ থেকেও শ্রেষ্ঠ কর্ম।

ইলম থেকে বিমুখ থাকার কারণে বহু মানুষ নিজের ইবাদতের মধ্যে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে চলেছে। অসংখ্য মানুষ নফল আদায় করতে গিয়ে নিজের অকাট্য ফরজকে নষ্ট করে ফেলছে। স্পষ্ট ওয়াজিবকে তরক করে নিজের ধারণাপ্রসূত উত্তম কাজে [অথচ শরিয়তে সেটা উত্তম নয়] নিমগ্ন রয়েছে। আহা! তার কাছে যদি ইলমের একটি আলোকবর্তিকা থাকত, তাহলে সে নিশ্চয় সঠিক পথটি পেত।

এতক্ষণ যা উল্লেখ করলাম, এগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করো। ইনশাআল্লাহ সঠিক পথটি পেয়ে যাবে।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 নফসের প্রতি সহজতা করা

📄 নফসের প্রতি সহজতা করা


একবার আমার পাশ দিয়ে এমন দুজন ব্যক্তি অতিক্রম করল—যারা একটি মোটা ভারি ডাল বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। আর তারা গানের সুরে বিভিন্ন কবিতা ও রসাত্মক কথা বলছিল। প্রথমজন যে কথাটি বলছিল, দ্বিতীয়জন তার সেই কথাটিকে পূর্ণতা দিচ্ছিল কিংবা একই কথা সুরের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছিল। দ্বিতীয় জনও তা-ই করছিল। এভাবে তারা কোরাস গাইতে গাইতে ভারি ডালটি নিয়ে চলছিল।

আমি বুঝলাম, তারা যদি এভাবে উৎফুল্লতার সাথে কোরাস গাইতে গাইতে না চলত, তবে এই বোঝা বহন করা তাদের জন্য বেশি কষ্টকর হয়ে উঠত। কিন্তু তারা যখন আনন্দের সাথে এটা করছে, তখন তাদের অনুভবে বোঝা বহন করাটা হালকা হয়ে গেছে।

আমি তাদের এই কষ্ট লাঘবের কারণটি নিয়ে চিন্তা করলাম। লক্ষ করলাম— প্রথমজন যা বলছে, অন্যজনের চিন্তাটি তার সাথে সংযুক্ত থাকছে এবং তাকে উৎফুল্ল রাখছে। দ্বিতীয়জনও ঠিক একই উত্তর বা বিষয় তার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে প্রীতি ও নৈকট্যের সাথে তাদের রাস্তাও শেষ হলো—আবার বহনের কষ্টও তারা ভুলে থাকল।

এই ঘটনা থেকে আমি একটি আশ্চর্যজনক শিক্ষা গ্রহণ করলাম। আমি দেখি, মানুষ কখনো কখনো অনেক কঠিন ও ভারি কর্ম সম্পাদন করে। আর এ কঠিন কর্মগুলোর মধ্যে আরও কঠিনতর হলো, নফসকে তোষামোদ করে রাখা এবং সে যা পছন্দ করে কিংবা অপছন্দ করে, সে বিষয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখা। কিন্তু এখন আমি অনুধাবন করছি, ধৈর্যধারণের এই কষ্টকর পথ পাড়ি দিতে হবে নফসকে সান্ত্বনা ও আশ্বাস দিয়ে এবং কোমল আচরণ করে।

যেমন কবি বলেছেন, فإن تشكت فعللها المجرة من ضوء الصباح وعدها بالرواح ضحى

সে যদি আপত্তি করতে চায়, তবে তাকে প্রভাতের আলোর আশা দেখাও। আর তাকে ওয়াদা দাও সকালের সূর্যকিরণের উজ্জ্বলতার।

এ ধরনের একটি চমৎকার ঘটনা বর্ণনা করা হয় বিখ্যাত সুফি বিশর হাফি রহ.-এর। একবার তিনি এবং তার এক সঙ্গী সফর করছিলেন। পথিমধ্যে তার সঙ্গী পিপাসার্ত হয়ে গেল। লোকটি সামনে একটি কুয়া দেখে বিশর হাফিকে বলল, আমরা এই কুয়া থেকে পানি পান করে নিতে পারি না? বিশর হাফি বললেন, এটা না, একটু ধৈর্য ধরো। সামনে আরেকটি কুয়া থেকে পান করা যাবে।

চলতে চলতে তারা যখন আরেকটি কুয়ার নিকট এসে গেলেন এবং লোকটি পানি পান করতে চাইল। বিশর হাফি তখন তাকে বললেন, এটা নয়, সামনের আরেকটি থেকে পান করব।

এমনিভাবে একটির পর একটি কুয়া থেকে পানি পানের আশা দিয়ে দিয়ে আরও সামনে চলতে লাগলেন তারা। অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছার পর বিশর হাফি লোকটির দিকে তাকিয়ে বললেন, বুঝলে, এভাবেই আশায় আশায় একদিন দুনিয়ার সফর শেষ হয়ে যাবে- দুনিয়ার আশা তবুও পূরণ হবে না।'

এর থেকে আমরা একটি মূলনীতি বুঝতে পারি- তুমি তোমার নফসকে আশা দিতে থাকো। তার সাথে কোমল আচরণ করো। তাকে সুন্দর প্রতিশ্রুতি প্রদান করো। তুমি তার ওপর যে কষ্টগুলো বহন করাবে, সেগুলো যেন সে সইতে পারে। কিংবা আশায় আশায় তার সয়ে নেওয়াটা যেন সহজ হয়। যেমন আমাদের এক সালাফে সালেহ তার নফসকে বলতেন,
والله ما أريد بمنعك من هذا الذي تحبين إلا الإشفاق عليك.

আল্লাহর কসম, তুমি যা পছন্দ করছ, তা থেকে তোমাকে বিরত রাখছি তোমার প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতার কারণেই। আমি তোমার শত্রু নই; বন্ধু।

হজরত মুআবিয়া রা. বলতেন,
ما زلت أسوق نفسي إلى الله تعالى وهي تبكي حتى سقتها وهي تضحك.

আমি যখনই নফসকে আল্লাহ তাআলার দিকে টেনে নিয়ে যেতে চেয়েছি, তখনই সে কাঁদতে শুরু করেছে। কিন্তু যখন তোষামোদ করে টেনে নিয়েছি, তখন সে হাসি-আনন্দের সাথে পথ চলেছে।

জেনে রেখো, এভাবে নফসকে তোষামদ করা এবং তার কষ্টের প্রতি কোমল আচরণ করা খুবই জরুরি একটি বিষয়। তুমি যদি এটি করতে পারো- আশা করা যায়, আশায় আশায় আমলের মধ্যে জীবনের সফর সে সমাপ্ত করতে পারবে। কষ্ট ও ক্লান্তিকে গায়েই মাখবে না।

মূলত এখানে কিছু ইশারা দেওয়া হলো। এর ব্যাখ্যা অনেক দীর্ঘ। আপাতত এটুকুর ওপরই আমল করে দেখো না!

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 কারি এবং বস্তার আপদ

📄 কারি এবং বস্তার আপদ


চিন্তা করে দেখলাম, ওয়াজের মজলিসে এমন অনেক কিছুই চলে, যেগুলোকে সাধারণ মানুষ- এমনকি জাহেল আলেমগণও সঠিক ও সওয়াবের কাজ মনে করে- অথচ সেগুলো বর্জনীয় পরিত্যাজ্য ও বিদআত।

কারি সাহেব কখনো কখনো অতি উল্লাসের সাথে তেলাওয়াত শুরু করে এবং গানের মতো সুর করে পড়তে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভুল উচ্চারণ করে। এদিকে বক্তাগণও আনন্দ-বেদনায় উদ্বেলিত হয়ে সুর করে লাইলি-মজনুর কবিতা বলতে থাকে। কেউ বাহ্বা দেয়... কেউ তালি দেয়... আবেগে কেউ আবার নিজের জামা ছিঁড়ে ফেলে। আর ধারণা করে- এগুলো বুঝি সওয়াবের কাজ। অথচ জানা বিষয় যে, ভুল উচ্চারণে এভাবে পড়া তো একজন গায়কের মতো হয়ে গেল, যে তার গানের সুর দিয়ে মানুষের অন্তর মজায়, নেশায় আপ্লুত করে এবং আনন্দ জোগায়। সুতরাং এভাবে তেলাওয়াত করা- যা ফাসাদ সৃষ্টি করে, তা কখনো সঠিক পদ্ধতি হতে পারে না।

এক্ষেত্রে বক্তাদেরও একটু হিসাব করে চলা এবং বলা উচিত।

এমনই আরেকটা বিষয় হলো লাশ দাফনকারীদের কর্ম। তারা লাশ দাফন করতে গিয়ে নিজেদের বেদনাদায়ক বিভিন্ন কথার মাধ্যমে আত্মীয়দের ব্যথা-বেদনা ও শোককে আরও উসকে দেয়- যাতে মহিলারা আরও বেশি ক্রন্দন করে। এভাবে তাদের অন্তর বিগলিত করে ফেলে- যাতে তাদেরকে আরও বেশি হাদিয়া ও তোহফা প্রদান করে। কিন্তু তারা যদি এটা না করে, আত্মীয়দেরকে ধৈর্য ও সবরের নির্দেশ দিত, তাহলে আর মহিলারা এমন ব্যাকুলভাবে ক্রন্দন করত না এবং তাদেরকে এত পরিমাণ হাদিয়াও দিত না। এ কারণেই তারা এটা করে না। অথচ দ্বীনের নির্দেশনা এমনই- আত্মীয়দেরকে ধৈর্যের কথা বলা। এটা না করে তাদের শোককে আরও উসকে দেওয়া দ্বীনের স্পষ্ট বিরোধিতা এবং অবৈধভাবে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির পায়তারা।

ইবনে আকিল একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, একবার আমাদের নিকট এক লোকের শোকসংবাদ এলো যে তার পুত্র মারা গিয়েছে। শোনামাত্র আমাদের মাঝের এক কারি সাহেব বলে উঠলেন, يا أسفى على يوسف হায়, ইউসুফের ওপর আফসোস!

আমি বললাম, এটা তো ঠিক হলো না। এর দ্বারা কোরআনের সাথে ঠাট্টা করা হলো। আর লোকটির আফসোসকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া হলো।

বক্তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার গভীর মারেফাত ও মুহাব্বাতের ওয়াজ করেন। তখন তুমি দেখবে, সেই পরিচালক বা আয়োজনকারী, যে হয়তো নামাজের ফরজটাও ঠিকমতো জানে না, ওয়াজ শুনে সেও আল্লাহর মুহাব্বাতের দাবিতে তার শরীরের কাপড় ছিঁড়তে থাকে, বুক চাপড়াতে থাকে।

কোনো সুফির অবস্থা এমনও হয় নিজের ধারণামতো কল্পনায় কোনো সত্তাকে উপস্থিত করে—যেমন স্রষ্টাকে, এরপর তার যে বড়ত্ব রহমত ও সৌন্দর্যের কথা শুনেছে, সে কারণে তাকে পাওয়ার আগ্রহে ক্রন্দন করতে থাকে। অথচ তারা কল্পনায় যাকে উপস্থিত পায়— তিনি তো মাবুদ নন। কারণ, মাবুদ কখনো কল্পনায় ধরা দেন না। ধরা যায় না।

এসব বিভ্রান্তি ও ভুল ছড়ানোর পর সঠিক জিনিসটা জানা সাধারণ মানুষদের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এসব চিত্তাকর্ষক বর্ণনা শোনার পর তারা আর সত্যের তিক্ততা গ্রহণ করতে চায় না। দ্বীনের ক্ষেত্রে আর উপকৃত হতে পারে না। এটাই হলো বক্তাদের আপদ।

কিন্তু যে বক্তা সত্যের ওপর রয়েছেন, তিনি লোকদেরকে বিভ্রান্তিকর কথা বলেন না। বরং হিকমত প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সাথে তাদেরকে সত্যের দিকে উৎসাহিত করেন। এ ধরনের বক্তা ও বক্তব্য প্রশংনীয়।

আর মূলত বক্তৃতা হলো একটি বিশেষ শিল্প। স্থান ও পাত্রের ভিন্নতায় এটাকে যতটা সুন্দর ও উপযোগী করা যায়, ততই কার্যকর উপকার বয়ে আনে। কিছু শ্রোতা ভালোবাসে সুন্দর উপস্থাপনা ও ভাষামাধুর্য। আর কিছু শ্রোতা পছন্দ করে সংক্ষিপ্ততা, ইঙ্গিত ইশারা এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা। আর কোনো কোনো শ্রোতা ভালোবাসে সুর শের কবিতার ছন্দ এবং সুললিত কণ্ঠ।

কিন্তু এখন আসলে প্রয়োজন, মানুষকে দ্বীনের প্রতিটি মৌলিক বিষয়ে সঠিকভাবে জানানো ও উজ্জীবিত করা- সুন্দর ভাষায় এবং উপযোগী পদ্ধতিতে। একজন বক্তা অবশ্যই তার প্রধান কর্তব্য ও লক্ষ্যের প্রতি খেয়াল রাখবেন, নির্দিষ্ট বিষয়েই আলোচনা করবেন এবং প্রয়োজন হলে খাবারে সামান্য লবণ মেশানোর মতো বৈধ কিছু হাসি-মজাক বা চিত্তাকর্ষক কথাও বলতে পারেন। এভাবেই তিনি শ্রোতাদেরকে ইবাদতের সংকল্পের দিকে উৎসাহিত করবেন। তাদেরকে সত্যের পথ চেনাবেন।

একবার আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. একটি মজলিসে আগমন করলেন। সেখানে তিনি হারেস মুহাসাবির আলোচনা শুনে অনেক ক্রন্দন করলেন। এরপর তিনি বললেন, হৃদয়ের গভীরে কোনো বিগলন আমাকে এভাবে কাঁদায়নি। কিন্তু পরিবেশটাই এমন হয়ে উঠেছিল যে, ক্রন্দনকে আবশ্যক করেছে।

কোনো কোনো মানুষের পরিবেশ কায়েম করার এই এক আশ্চর্য ক্ষমতা আল্লাহ তাআলা দিয়ে থাকেন। তাদেরকে সেটা সঠিক কাজে ব্যবহার করা উচিত।

সালাফে সালেহিনের কেউ কেউ ওয়াজ বা বক্তৃতার মাঝে ঘটনার মিশ্রণকে দূষণীয় মনে করতেন এবং যারা এমনটি করে, তাদের মজলিসে উপস্থিত হতে নিষেধ করতেন। অবশ্য আজকের দিনে সেটা আর সর্বক্ষেত্রে দূষণীয় নয়। কেননা, তখনকার সময়ে মানুষ ইলমচর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। সেখানে ঘটনা- কাহিনির উপস্থিতি তাদের জন্য ছিল একটি প্রতিবন্ধকতা। আর আজ ইলমের প্রতিবন্ধকতা অনেক বেড়ে গেছে। সুতরাং আজ ওয়াজের মজলিস- মানুষদের অধিক উপকার করে, তাদেরকে গোনাহ থেকে বিরত রাখে এবং তাওবার দিকে ধাবিত করে। তাই ওয়াজের মধ্যে প্রাসঙ্গিক ঘটনা ও কাহিনি বলতেও কোনো অসুবিধা নেই।

আসলে কী-ঘটনার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলো ঘটনা বর্ণনাকারীর মধ্যে তিনি যেন মিথ্যা বা বানানো কাহিনি না বলেন। আল্লাহকে ভয় করে চলেন-তাহলেই চলবে।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 আল্লাহ তাআলার গুণাবলি সাব্যস্ত করা

📄 আল্লাহ তাআলার গুণাবলি সাব্যস্ত করা


সাধারণ মানুষের ওপর সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় হলো তাবিলকারীদের কথা, আল্লাহর বিভিন্ন গুণ এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়কে নাকচকারীদের কথা। সকল নবী আলাইহিমুস সালাম জীবনভর মানুষের অন্তরে আল্লাহর গুনাবলি প্রতিষ্ঠার জন্য মেহনত করেছেন- যাতে মানুষের অন্তরে আল্লাহর অস্তিত্ব সাব্যস্ত হয়। কারণ, অন্তর হ্যাঁ-বাচক বিষয়ের সাথে বেশি একাত্মতা বোধ করে।

কিন্তু আল্লাহ তাআলার গুণাবলি নিয়ে আমাদের আজকের এই ভুলচর্চার কারণে সাধারণ মানুষ এমন শব্দ-বাক্য-কথা শোনে, যেগুলো তাদেরকে না-বাচকতার দিকে ঠেলে দেয়, তাদের অন্তর থেকে তখন হ্যাঁ-বাচকতার বোধই উঠে যায়। এটি তাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর একটি বিষয়। অবশ্য আলেমদের কেউ কেউ ধারণা করেন, এই না-বাচকতা নবীগণ যেই হ্যাঁ-বাচকতা প্রচার করেছেন, সেটাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সাধারণ মানুষ যে সমস্যার মধ্যে আপতিত হয়, তা থেকে উদ্ধার করবে।

আল্লাহ তাআলা নিজেও এমনটি করেছেন। প্রথমে হ্যাঁ-বাচকতা বর্ণনা করে পরে না-বাচকতা বর্ণনা করেছেন।

যেমন, আল্লাহ তাআলা তাঁর আরশের ওপর 'ইসতিওয়া' সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে অন্তরসমূহ আল্লাহ তাআলার অবস্থিতি ও তার অস্তিত্বে বিষয়ে একাত্মতা বোধ করে ওঠে। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন, وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ -তোমার প্রতিপালকের 'চেহারা' অবশিষ্ট থাকবে। [সুরা রহমান: ২৭]। আরও বলেন, بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ বরং তার দু-হাত প্রশস্ত। [সুরা মায়েদা : ৬৪]। তিনি আরও বলেন, غَضِبَ اللهُ عَلَيْهِمْ -আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন। [সুরা আল ফাতহ : ৬]। আরও বলেন, رَضِيَ اللهُ عَنْهُم - আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। [সুরা মায়েদা : ১১৯]। একইভাবে তাঁর দুনিয়ার আসমানে অবতরণের বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন। আরও বলেছেন, বান্দাগণের অন্তর তাঁর দু-আঙুলের মাঝে। আরও বলেছেন, তাওরাত তিনি নিজ হাতে লিখেছেন। আরও বলেন, তিনি একটি কিতাব লিখেছেন, সেটা তার নিকট আরশের ওপর রয়েছে। এমনই আরও বিভিন্ন বিষয় রয়েছে, যার তালিকা অনেক দীর্ঘ।

এধরনের হ্যাঁ-বাচক কথার মাধ্যমে সাধারণ থেকে সাধারণ, বাচ্চা-কাচ্চা সবার অন্তর হ্যাঁ-বাচকতায় ভরে গেছে। এগুলোকে যখন তারা ইন্দ্রিয় অনুভবের জাগতিক গুণাবলির কাছাকাছি ধরে নিয়েছে, তখন আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করে দিয়েছেন না-বাচক এই কথা— তাঁর মতো কোনো কিছু নেই। [সুরা শুরা : ১১]

এখন মানুষের অন্তরে যতসব কল্পনা-জল্পনা সৃষ্টি হয়েছিল আল্লাহ তাআলার গুণ সম্পর্কে, সবকিছু তিনি মুছে দিলেন। এবার শুধু হ্যাঁ-বাচকতার বিষয়গুলো নিঃষ্কলুষভাবে শুধু তাঁর জন্যই অবশিষ্ট রয়ে গেল। এ কারণেই শরিয়ত প্রথমে হ্যাঁ-বাচক এবং পরে অসংগত বিষয়ে না-বাচকতা সাব্যস্ত করেছে।

কিন্তু মানুষ শুধু উল্টা পথে চলেছে। হয়তো না-বাচকতা বেশি লাগিয়েছে কিংবা নিজেদের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলার সত্তার সাথে অনুচিত গুণ আরও সংযুক্ত করেছে।

যেমন এক কবি বলেন, وفوق العرش رب العالمين، فضحك.

আরশের ওপর রয়েছেন আমাদের মহান প্রতিপালক। অনন্তর তিনি হেসেছেন।

এ কবিতা শুনে অন্য আরেকজন বলে বসল, আমাদের প্রতিপালক কি হাসেন? কবি বলল, অবশ্যই। নিশ্চয় তিনি আরশের ওপর এভাবে রয়েছেন। এমন রয়েছেন। এগুলো সে বলল, মানুষের অন্তরের মধ্যে হ্যাঁ-বাচকতা সুদৃঢ় করার জন্য।

এভাবে সৃষ্টির অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ তাআলার গুণাবলির হ্যাঁ-বাচকতার বিষয়টি অবিমিশ্রভাবে অনুধাবন করতে পারে না। তারা তাদের প্রত্যক্ষ বিষয়াদির সাথে আল্লাহর গুণাবলিকেও গুলিয়ে ফেলে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে এই না-বাচকতার মাধ্যমে কামনা করা হয়- তারা যেন অন্তত তার অনুচিত বিশেষণগুলো বুঝতে পারে।

কিন্তু যে ব্যক্তির মস্তিষ্ক হ্যাঁ-বাচকতার বোধ থেকে মুক্ত, তার ক্ষেত্রে যদি না-বাচকতার বিষয়গুলো দিয়ে শুরু করা হয়-যেমন আমরা যদি বলি, তিনি আসমানে নেই, আরশেও নেই, তার হাতের কোনো বর্ণনা সম্ভব নয়, তার কথা তার এমন একটি গুণ- যা তার সত্তার সাথে সংলগ্ন, আমাদের নিকট আসল কালামের কিছুই অবশিষ্ট নেই- এটা শুধু শব্দ। তার অবতরণ কল্পনা করা যায় না। তিনি এদিকে নন, ওদিকেও নন ইত্যাদি কথা যদি আমরা ক্রমাগত বলতে থাকি, তবে তার অন্তর থেকে কোরআনের মহত্ব মুছে যাবে এবং তার এই সীমাহীন না-বাচকতার রহস্যের মাঝে আল্লাহ তাআলার হ্যাঁ-বাচকতা প্রতিষ্ঠিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আমাদের জন্য এটি একটি বড় অপরাধ। নবীগণ জীবনভর কষ্টক্লেশ করে যে বর্ণনাগুলো মানুষের অন্তরে প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেগুলোকে এভাবে না-বাচকতার প্রাধান্যের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করা অপরাধ ছাড়া আর কী! এ কারণে কোনো আলেমের জন্য হ্যাঁ-বাচকতায় প্রতিষ্ঠিত সাধারণ প্রচলিত কোনো বিশ্বাসের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়। তাহলে সে এই বিশ্বাসটাকে আরও নষ্ট করবে এবং তার সংশোধন হয়ে পড়বে কঠিন।

একজন আলেম তো নিরাপদ থাকবে। কারণ, সে জানে, আল্লাহ তাআলার গুণাবলির মধ্যে নতুন কোনো গুণ যুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। নিজের মধ্যে 'ইসতিওয়া' বলতে যে ধরনের আকার ভাসে, আল্লাহ তাআলার 'ইসতিওয়া' এমন নয়। তার গুণের কোনো রূপান্তর হয় না, স্থানান্তর হয় না। তা স্পর্শও করা যায় না।

আর তিনি এটাও জানেন, বান্দাদের অন্তর দুই আঙুলের মাঝে থাকার অর্থ হলো, অন্তরের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ থাকা। আর কোনো ব্যাখ্যায় যাওয়া উচিত নয়।

আর সাধারণ লোকদের ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হলো, কোরআন ও হাদিসে এই বিষয়গুলো ঠিক যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, তোমরা সেভাবেই বিশ্বাস করে নাও। এর ব্যাখ্যার দিকে ধাবিত হয়ো না। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে যেকোনো প্রান্তিকতা ছেড়ে মানুষের অন্তরে একটি মৌলিক বিষয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। সালাফে সালেহিন সব সময় এই পদ্ধতিই গ্রহণ করেছেন।

এর সাথে আমাদের শরিয়তের নির্ধারণটাও বুঝতে হবে। নবীদের উদ্দেশ্যটাও অনুধাবন করতে হবে। শরিয়ত যেটাকে গুণ্ঠিত করে রেখেছে, সেটাকে বিভিন্ন ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করাকে তারা নিষেধ করেছেন। এ কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদর বা ভাগ্যলিপি নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। এবং এ ব্যাপারে মতানৈক্য করতেও নিষেধ করেছেন। কারণ, এগুলোর ফলাফল দু-পক্ষকেই কষ্টের মধ্যে ফেলে দেবে। কারণ, এ সম্পর্কে আলোচনাকারী যখন পরিণামে এই সিদ্ধান্তে এসে যাবে যে, সবকিছু আল্লাহ তাআলাই নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং শাস্তিও নির্ধারিত হয়ে আছে। তখন আল্লাহ তাআলার ন্যায়-ইনসাফ নিয়ে তার ঈমান নড়বড়ে হয়ে উঠতে পারে।

আবার যদি আলোচনা শেষে সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, তিনি নির্ধারণ করেননি এবং তিনি ফয়সালা করেন না। এবার সে আল্লাহ তাআলার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নিয়েই সন্দেহের মধ্যে পড়ে যাবে। সুতরাং উত্তম হলো, এই সকল বিষয়ে আলোচনায় লিপ্ত না হওয়া।

এক্ষেত্রে হয়তো কেউ বলে বসতে পারে, এটা তো আমাদের প্রকৃত বাস্তবতা বুঝতে নিষেধ করার নামান্তর। বিশ্লেষণহীন বিশ্বাসের সাথে অবস্থানের আদেশ।

উত্তরে আমি বলব, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তোমার নিকট চাহিদা হলো সামগ্রিকতার ওপর ঈমান আনা। খুঁটে খুঁটে সকল কিছু বুঝে তার ওপর ঈমান আনার আদেশ তোমাকে দেওয়া হয়নি এবং এটা তোমার দায়িত্বও নয়। তাছাড়া তোমার বুঝশক্তিও এটা পুঙ্খানুপুঙ্খ বুঝতে সক্ষম নয়।

আল্লাহর খলিল হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার কাছে আবেদন করেছিলেন, أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى -আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করবেন, আমাকে একটু দেখান। [সুরা বাকারা: ২৬০]

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা তাকে মৃত প্রাণীকে জীবিত অবস্থায় দেখিয়েছেন। তা ছিল বাহ্যিক দেখা। কিন্তু কীভাবে জীবিত করেছেন- তার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া তিনি দেখাননি। কারণ, মানব নবীর ক্ষমতা সেটা অনুধাবন করতে অক্ষম।

আর আমাদের নবী- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যাকে পাঠানোই হয়েছে নিজের ওপর অবতারিত বিধি-বিধান মানুষের নিকট পৌঁছানোর জন্য, তিনি মানুষের শুধু স্বীকারোক্তি ও সামগ্রিক বিশ্বাসের ওপরই সন্তুষ্ট থেকেছেন। সাহাবিগণও ছিলেন এমন। তাদের থেকে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, তারা تلاوة و متلو এবং قراءة و مقروء নিয়ে আলোচনা করেছেন। এবং তারা কখনো বলেননি استولى অর্থ إستوى এবং يرحم অর্থ ينزل । তারা বরং সেই সামগ্রিক হ্যাঁ-বাচকতার ওপর সন্তুষ্ট থেকেছেন, যা মানুষের অন্তরের মধ্যে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিয়ে বিরাজ করে। এরপর ليس كمثله شيء -তার মতো কিছু নেই-আল্লাহ তাআলার এই কথার মাধ্যমে তারা তাদের সকল ধরনের খেয়াল, কল্পনা-জল্পনার লাগাম টেনে ধরেছেন।

আমাদের স্মরণ রাখা দরকার- কবরে আমাদের নিকট যে 'মুনকার' ও 'নাকির' ফেরেশতার আগমন ঘটবে, তারা তো আমাদের দ্বীনের শুধু মৌলিক নীতি সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করবেন। কোনো সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মারপ্যাঁচ সেখানে নেই। তারা বলবেন, তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? তোমার নবী কে?

এই অধ্যায়টি যে ব্যক্তি ভালোভাবে বুঝে নেবে, সে সকল ধরনের প্রান্তিকতা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে। তাশবিহ, তাজসিম ও তাতিল (আল্লাহকে নিষ্ক্রিয় ভাবা) ধরনের ভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকবে। এবং অবস্থান করতে পারবে আমাদের সালাফে সালেহিনের মত ও পথের উপর। আল্লাহ আমাদের তাওফিকদাতা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00