📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 ভ্রান্ত ব্যাখ্যা

📄 ভ্রান্ত ব্যাখ্যা


আমি একবার আমার জন্য এমন বৈধ কিছু বিষয়ে নরম ব্যাখ্যার কথা চিন্তা করছিলাম, যার মাধ্যমে পার্থিব কিছু সুবিধা অর্জিত হতে পারত।

কিন্তু গভীরভাবে ভেবে দেখলাম, এগুলো পরহেজগারিতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কলংক। লক্ষ করে দেখেছি, এ ধরনের বিষয়ে প্রথমে দ্বীনের দুগ্ধ বন্ধ হয়। পরিণামে আল্লাহ তাআলার সাথে নির্জন প্রার্থনার মিষ্টতা দূরীভূত হয়। এরপরও যদি কাজটি অব্যাহত থাকে তাহলে তখন দ্বীনের ওলানও কর্তিত হয়ে যায়। তখন আমল-ইবাদত সব বিনষ্ট হয়ে যায় আর ইবাদতের মিষ্টতা তো আগেই হারিয়েছে।

অতএব আমি আমার নফসকে বললাম, এমন কাজের ক্ষেত্রে তোমার দৃষ্টান্ত হবে এমন এক জালেম বাদশাহর মতো, যে অন্যায়ভাবে বহু সম্পদ জমা করেছে। এরপর একদিন তার রাজত্বে আগ্রাসী আক্রমণ হলো। বাদশাহ হলো বন্দি। এতদিন সে যা কিছু জমা করেছিল, সব ছিনিয়ে নেওয়া হলো। এবং যা তার কাছে নেই, সেগুলোর কথা বলে সেগুলোর স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে শাস্তি প্রদান করা হতে লাগল।

এ কারণে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা থেকে সতর্ক থাকো। আল্লাহ তাআলাকে কখনো ধোঁকা দেওয়া বা প্রতারিত করা সম্ভব নয়। জেনে রেখো, তার নিকট যা রয়েছে, তা তো তার অবাধ্য হয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 বিচ্ছিন্নতার ক্ষতগুলো

📄 বিচ্ছিন্নতার ক্ষতগুলো


আমি প্রায়ই আমার নফসের একটি বিষয় খেয়াল করে দেখি- যখন তার চিন্তা পরিশুদ্ধ থাকে কিংবা কোনো বিলুপ্ত জাতি বা এলাকার মাধ্যমে উপদেশ প্রাপ্ত হয় অথবা পূর্ববর্তীদের কবরের নিকট উপনীত হয় তখন তার হিম্মত সকল মানুষ থেকে বিচ্ছিন্নতার আকর্ষণে ছটফট করতে থাকে এবং আল্লাহ তাআলার সাথে নির্জন প্রার্থনার প্রতি ধাবিত হয়।

একদিন যখন নফসের এমন অবস্থার সৃষ্টি হলো, আমি সেদিন তাকে ডেকে বললাম, 'তুমি আমাকে বলো, এভাবে বিচ্ছিন্ন বৈরাগ্যের প্রতি ঝোঁকার দ্বারা তোমার উদ্দেশ্য কী? তোমার চাওয়ার শেষ সীমা কোনটি? তুমি কি চাও আমি নিঃস্ব ফকির হয়ে বসবাস করি, যাতে আমি অভ্যস্ত নই? তুমি কি চাও আমার জামাতের সাথে নামাজ ছুটে যাক? যে ইলম শিখেছি তা বিনষ্ট হয়ে যাক এবং তার ওপর আমল ছুটে যাক? তুমি আসলে কী চাও? আমি কি পানিতে মেশানো নিম্নমানের খাবার খাব, যাতে আমি অভ্যস্ত নই? তাহলে তো আমি দু-দিনেই জীর্ণ ও কাহিল হয়ে পড়ব।

তুমি কি চাও, আমি অমসৃণ খুষ্ক কাপড় পরিধান করে বেড়াব, যা আমাকে পীড়া দেয়? এবং শরীরকে এক অদ্ভুত জামার আস্তরণে ডুবিয়ে নিজেকেই হয়তো প্রশ্ন করে বসব, এ আবার কে?

আর সন্তান কামনার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমি কি সন্তান কামনা করব না, যারা আমার পরে ইবাদত করতে পারবে?

তোমার এ কথাগুলো যদি আমি মেনে চলি তাহলে বুঝতে হবে, জীবনভর আমার অর্জিত ইলম আমাকে কোনো উপকার করতে পারেনি। তোমার কথা শোনলে চলবে না। আমার অনেক কাজ রয়েছে। বরং আমি আমার ইলম দ্বারা বুঝতে পারছি, তোমার এই প্ররোচনাগুলো ভুল ও ভ্রান্ত। জেনে রেখো, শরীর হলো এক জীবন্ত বাহন। আর বাহনকে যদি তার যথার্থ খাদ্য প্রদান না করা হয় তবে সে তার আরোহীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারে না। আর আমি যথার্থ খাদ্য বলতে প্রবৃত্তির সকল চাহিদা পূরণের কথা বলছি না। আমি বলতে চাই, আমি আমার শরীরের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ভালো খাদ্য গ্রহণ করব। এতে আমার শরীর ভালো থাকবে। চিন্তা পরিশুদ্ধ হবে, আকল সুস্থ থাকবে এবং মস্তিষ্ক শক্তিশালী হবে।

তুমি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে মস্তিষ্কের পরিশুদ্ধির প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি লক্ষ করোনি?

হাদিসে এসেছে,
لا يقضى القاضي بين اثنين وهو غضبان.

বিচারক রাগান্বিত অবস্থায় দুজন বিচারপ্রার্থীর মাঝে বিচার করবে না।

আলেমগণ এ হাদিসের ওপর কিয়াস করে বলেছেন, বিচারক ক্ষুধা, প্রস্রাবের বেগ কিংবা মনের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তারকারী কোনো অবস্থা নিয়ে বিচারের ফয়সালা দেবে না।

একটি সুস্থ সুন্দর বিশ্বাস, চিন্তা ও মেজাজের জন্য শারীরিক সুস্থতারও প্রয়োজন রয়েছে। তাই ভালো থাকা আর ভালো খাওয়া থেকে দূরে থাকার মধ্যে কোনো উপকারিতা নেই।

হ্যাঁ, মন্দ থেকে দূরে থাকা হবে; কল্যাণ থেকে নয়। আর এভাবে মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার মধ্যে যদি কোনো কল্যাণ থাকত তাহলে অবশ্যই এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবিদের থেকে কোনো বর্ণনা থাকত।

আমি কিছু লোকের কথা জানি, অব্যাহত কম খাওয়ার কারণে এবং শুধু শুকনো খাবার খাওয়ার কারণে যাদের শরীর জীর্ণ হয়ে গেছে, চিন্তা পরিবর্তন হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে চিন্তার বিভ্রান্তি বেড়ে গেলে মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নির্জনে বসবাস শুরু করেছে। এদের মধ্যে কারও মধ্যে পাগলামির ভাব এসে পড়েছে। হয়তো একদিন.. দুইদিন... তিনদিন কিছু খায়নি। ভাবতে থাকে, এভাবে থাকতে পারা বুঝি অলৌকিক শক্তির প্রকাশ। কিন্তু এভাবে দিন যেতে যেতে বদহজম সৃষ্টি হয়েছে। পেট খারাপ হয়েছে। শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে। চিন্তার বিভ্রান্তি আরও বেড়ে চলেছে। অবশেষে অতি দুর্বলতার কারণে চোখে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রম শুরু হয়েছে। আর এটাকেই মনে করতে শুরু করেছে, এই বুঝি আলোর ফেরেশতাদের আগমন।

মানুষ ইলম দিয়েই আল্লাহকে চেনে। মানুষ আকল দিয়েই আল্লাহকে বোঝে। এ কারণে আকলের আলোকে কিছুতেই নিভিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ইলমের ধারকে কমিয়ে ফেলতে পারে-এমন কাজ করাও উচিত নয়। এই ইলম ও আকলকে যখন রক্ষা করা হবে, তখন এ দুটিই যুগের কর্তব্যগুলোকে রক্ষা করবে। কষ্টকে লাঘব করবে। কল্যাণকর জিনিসকে আনয়ন করবে। একই সঙ্গে খাদ্য-খাবার, চলাফেরা ইবাদাত-বন্দেগি ও পরহেজগারিও অক্ষুণ্ণ থাকবে।

নফস আমাকে বলল, তাহলে আমার জন্য একটি নির্ধারিত ওজিফা নির্দিষ্ট করে দাও। একজন রোগীর মতো আমাকেও একটি ব্যবস্থাপত্র লিখে দাও।

আমি বললাম, আমি এতক্ষণ যে ইলমের কথা বললাম, সেটাই হলো তোমার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষক ও চিকিৎসক। প্রত্যেক মুহূর্তে সব ধরনের অসুখের চিকিৎসাও সে দিতে সক্ষম। ইলমই হলো তোমার 'ওজিফা'।

মোটকথা, তুমি তোমার সর্বক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করে চলবে—তোমার কথাবার্তায় চাল-চলনে, দর্শনে, খাদ্য-খাবারে। আর যা কল্যাণকর, সেদিকেই শুধু ধাবিত হবে। যা ক্ষতিকর, তা থেকে বিরত থাকবে। এবং প্রতিটি কাজ করার আগে নিয়তকে শুদ্ধ ও সুদৃঢ় করে নেবে।

আর বেশি চঞ্চলতা ও লঘুকথা বর্জন করবে। এগুলো মূর্খতার প্রকাশ; ইলমের নয়। অনর্থক কথাবার্তা বর্জন করবে—অমুক এটা খায়, তমুক সেটা করে। অমুক রাতে ঘুমায় না। তমুক খুব চালাক। এ ধরনের অনর্থক কথা ও গিবত বর্জন করে চলবে।

যা তুমি বহনে সক্ষম, সে রকম জিনিসই কেবল বহন করবে। শরীরে সাধ্যের বাইরে কিছু চাপাবে না। তুমি নিজেও লক্ষ করেছ—কোনো চতুষ্পদ জন্তু কোনো খাল বা ঝরনা পার হতে গেলে কিংবা পানি পান করতে গেলে, তুমি যদি লাফ দেওয়ার জন্য তাকে প্রহারও করো, তবুও সে লাফ দেবে না— যতক্ষণ না সে নিজের কাছে নিজে পরিমাণটা মেপে নিচ্ছে। সে যদি বোঝে— এখানে তার লাফ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তাহলেই শুধু সে লাফ দেবে। আর যদি বোঝে—সেই ক্ষমতা তার নেই, তবে তুমি যদি পিটিয়ে মেরেও ফেলো, তবুও সে লাফ দেবে না।

জেনে রেখো, সকল শরীরই সমান ক্ষমতা রাখে না। কিছু কিছু মানুষ তাদের অজ্ঞতার কারণে যৌবনে এমন কঠিন কঠিন কাজ করে, ভারি ভারি জিনিস বহন করে, যার কারণে তারা দ্রুতই অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আর কোনো ভালো কাজ করতেও সক্ষম হয় না। এগুলোর কারণে তাদের অন্তরও বিষিয়ে ওঠে।

আবারও বলি, তুমি সব সময় ইলমের সাথে চলবে। এটিই তোমার সকল রোগের ওষুধ। আল্লাহ হলেন একমাত্র তাওফিকদাতা।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 সাদৃশ্যপূর্ণ জিনিস থেকে বেঁচে থাকা

📄 সাদৃশ্যপূর্ণ জিনিস থেকে বেঁচে থাকা


এমন লোকদের বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করি, যারা ইলমের দাবি করে, অথচ হাদিসগুলোকে তার বাহ্যিক অর্থের ওপর ধরে সাদৃশ্য নিরূপণের দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু হাদিসে কথাগুলো যেভাবে এসেছে, ঠিক সেভাবেই যদি ধরে নিত, তাহলে তারা নিরাপদ থাকতে পারত। কারণ, যে ব্যক্তি এগুলোকে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেভাবেই রেখেছে এবং সেভাবেই এর অর্থ করেছে, তার ব্যাপারে আর কোনো অভিযোগ থাকে না। সে তো অন্যকিছু সাব্যস্ত করছে না। যা আছে, তাকে রহিতও করছে না।

এ কারণে যে ব্যক্তি কোরআন ও হাদিস পড়ে এবং সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ে বাড়তি কিছু বলে না, তাকে আমি নিন্দা করি না। এটিই ছিল আমাদের 'সালাফে সালেহীন'-এর পথ ও পদ্ধতি। কিন্তু যে ব্যক্তি এগুলোর ক্ষেত্রে বলে, 'হাদিসটার চাহিদা এমন, এটিকে এই অর্থে ধরতে হবে-যেমন, আল্লাহ তাআলার আরশে 'ইসতিওয়া' নিয়ে কেউ বলল, استوى على العرش بذاته -তিনি আরশে নিজ সত্তায় সমাসীন হয়েছেন। কিংবা এমন বলল যে, ينزل إلى السماء الدنيا بذاته -তিনি দুনিয়ার আসমানে নিজ সত্তায় অবতরণ করেন- এভাবে অতিরিক্ত অর্থ লাগিয়ে বলা উচিত হয় কীভাবে? এটা তো নিজের অনুভব উপলব্ধি থেকে বলা হলো। এর পেছনে কোনো বর্ণিত দলিল-প্রমাণ নেই।

সত্যের সন্ধানে যারা আগ্রহী, তাদের জন্য বলি, আমাদের কাছে 'আকল' এবং 'নকল' দুটি মাধ্যমেই দুটি মৌলিক প্রমাণ রয়েছে, হাদিসের সকল বর্ণনা সেই ভিত্তিতে গ্রহণ করলেই আর কোনো সমস্যা থাকে না। নকল বা বর্ণিত প্রমাণ, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী- তিনি বলেন,
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ

তার মতো কিছু নেই। [সুরা শুরা: ১১]

আর আকল বা বুদ্ধি-বিবেক দ্বারা আমরা জেনেছি যে, স্রষ্টা কিছুতেই তার সৃষ্টির মতো নয়। সৃষ্টি ধ্বংসশীল। আর স্রষ্টা চিরঞ্জীব। সৃষ্টির ধ্বংসশীলতার প্রমাণ হলো, তার মাঝে পরিবর্তন আসে।

তাই কীভাবে আমরা চিরঞ্জীব সত্তার সাথে তার সৃষ্টবস্তুর সাদৃশ্য করতে পারি! জগতের কিছুই তার মতো নয়, তিনিও কারও মতো নন। তিনি যেমন, ঠিক তেমনই- যেমনটা কোরআনে বর্ণিত হয়েছে।

📘 হৃদয়ের দিনলিপি > 📄 রজমের আয়াত বিলোপের রহস্য

📄 রজমের আয়াত বিলোপের রহস্য


শাব্দিকভাবে রজমের আয়াত রহিত হওয়া এবং সর্বসম্মতিক্রমে বাস্তবে তার হুকুম বাকি থাকার রহস্য নিয়ে চিন্তা করলাম- এমনটি কেন করা হলো? আমার কাছে মনে হলো, এর দুটি কারণ হতে পারে-

১. বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার সূক্ষ্ম এক মমতার কারণে এই সর্বোচ্চ শাস্তিটি তাদের মুখোমুখি রাখেননি। দেখুন, তিনি বেত্রাঘাতের কথা স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন; কিন্তু রজমের কথা আড়াল করেছেন। ঠিক এ বিষয়টার দিকে ইঙ্গিত করে কিছু আলেম বলেন, আল্লাহ তাআলা তার অতি উচ্চ রুচি ও সূক্ষ্ম মমতার কারণে অতি কষ্টকর কিংবা অতি অপ্রিয় বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেন না। যেমন, ﴾كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصَّيَامُ

তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো। [সুরা বাকারা: ১৮৩]

এখানে ফরজকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। অথচ আমরা সবাই জানি, আল্লাহ তাআলাই হলেন এই ফরজকারী।

অথচ যেখানে রহম ও দয়ার কথা এসেছে, সেখানে তিনি নিজের নাম সরাসরি উল্লেখ করেছেন। যেমন, ﴾كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ

তোমাদের প্রতিপালক নিজের ওপর রহম করাকে আবশ্যক করে নিয়েছেন। [সুরা আনআম: ৫৪]

২. আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি ইশারা করেছেন। এই উম্মতের একটি দলিলের নাম- ইজমা। আলেমদের সর্বসম্মতি। রজমের বিষয়টি এভাবেই নির্ধারিত হয়েছে এবং এই উম্মত প্রাণ-বিয়োগান্তক বিষয়টির ক্ষেত্রে শরিয়তের এই দলিলের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ এ ব্যাপারে যখন সকলের সর্বসম্মতি এসে গেছে, তখন এটি দলিলে পরিণত হয়ে গেছে। অথচ ইজমা আল্লাহ তাআলার নিজের আয়াতের মতো সর্বোচ্চ প্রনিধানযোগ্য অকাট্য দলিল নয়। তবু ইজমা একটি দলিলে পরিণত হয়েছে এবং এই উম্মত সেটা মেনেও নিয়েছে।

ঠিক এ ধরনের বিষয়ই ঘটেছিল আল্লাহর খলিল হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে। ঘুমের মধ্যে পাওয়া নির্দেশকে তিনি প্রকৃত নির্দেশ হিসেবেই নিয়েছিলেন। অনর্থক স্বপ্ন না ভেবে একটি দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। স্বতঃস্ফূর্ত আনুগত্যের বিষয় এমনই হয়- সাধারণ কথাও নির্দেশ বলে মানতে মন চায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00