📄 মৃত্যুর পর আত্মার প্রত্যাবর্তন
সকলেই প্রাণের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। অথচ এর প্রকৃতি ও অবস্থান নিয়ে এক রহস্যময় সংকটের মধ্যে রয়েছে সকলেই। যদিও এর প্রকৃতি সম্পর্কে না জানলেও তার অবস্থান নিয়ে কোনো অসুবিধায় পড়তে হয় না। কারণ, এটা নিশ্চিত যে, সেটা আছে। শরীরের যেখানেই হোক, যেভাবেই হোক, আছে।
কিন্তু ঝামেলা বাঁধে মানুষের মৃত্যুর পর আত্মার অবস্থান নিয়ে। আহলে হকের মাজহাব হলো, মৃত্যুর পরও এটি বিদ্যমান থাকে এবং তখন তা হয়তো আরামে থাকে কিংবা আজাবে আক্রান্ত হয়। শহিদদের ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, তাদের আত্মা জান্নাতের সবুজ পাখিদের দেহে অবস্থান করে এবং জান্নাতের গাছে গাছে আনন্দের সাথে উড়ে বেড়ায়।
আত্মাদের আনন্দ উপভোগের ক্ষেত্রে হাদিসের এই বাহ্যিকতা ধরে কোনো কোনো মূর্খ ব্যক্তি বলে বসেন, মৃত ব্যক্তিরা তাহলে কবরে খায় এবং সম্ভোগও করে।
কিন্তু সঠিক কথা হলো, মানুষের মৃত্যুর পর আত্মা তার শরীর থেকে বের হয়ে বেহেশতের উচ্চতম স্থান বা অনন্ত কয়েদ-খানা জাহান্নামে অবস্থান করতে থাকে। কিয়ামত পর্যন্ত সেখানেই তারা অবস্থান করবে। যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে, আত্মা তখন আবার এক নতুন শরীরের সাথে এসে মিশবে; যাতে আত্মা তার সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসহ নিয়ামত বা আজাব ভোগ করতে সক্ষম হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা - في حواصل طير خضر [সবুজ পাখির আকৃতির মধ্যে থাকবে] প্রমাণ করে, আত্মা কোনো শরীর বা মাধ্যম ব্যতীত স্বাদ আস্বাদন করতে পারে না।
তবে এই স্বাদ আস্বাদন হলো খাবার ও পানীয়ের। নতুবা ইলম বা স্মরণ কোনো মাধ্যম বা উপায় ছাড়া শরীরহীন আত্মা নিজেই ধারণ করতে সক্ষম।
আমার এ নিয়ে আলোচনা করার কারণ হলো, আমি কিছু মানুষকে মৃত্যুর ভয়ে অধিক ভীত হয়ে পড়তে দেখি। আবার কিছু মানুষকে দেখি মৃত্যুর সময় আত্মার একেবারে ধ্বংস বা নিঃশেষ হওয়ার বিশ্বাসে বিশ্বাসী হতে। তাদের মাঝে একটি হাহাকার কাজ করে যে, হায়, মৃত্যুতে সব শেষ হয়ে যাবে!
আমি তাদেরকে অভয় দিয়ে বলি, তুমি যদি ইসলামি শরিয়তে বিশ্বাসী হও, তবে তো তুমি তোমার অবস্থা জানোই। মৃত্যুপরবর্তী আত্মার জীবন অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
কিন্তু তুমি যদি শরিয়তের খবর সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করো, তবে তো তোমার সামনে আগে শরিয়তের সত্যতা নিয়ে কথা বলতে হবে। সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু যারা বিশ্বাসী, তাদের কোনো ব্যক্তিকে আমি যখন সম্বোধন করে বলি, বলো, মৃত্যুপরবর্তী জীবন নিয়ে তোমার কি কোনো সন্দেহ আছে?
উত্তর আসে, না, আমার নিকট সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
আমি বলি, তাহলে মৃত্যুতে তোমার চিন্তা কী! তুমি বরং দুনিয়াতে তোমার ঈমানকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করো। তাকওয়া অবলম্বন করো। এটা যদি করতে পারো, তবে তুমি মৃত্যুর সময় থেকে প্রশান্তির সুসংবাদ গ্রহণ করো। মৃত্যুতে তোমার কোনো ক্ষতি হবে না। বেশির থেকে বেশি—আরও অধিক আমলের সুযোগ হারাবে, এই যা!
হে নফস! জেনে রেখো, মৃত্যুর পর তুমি তোমার দুনিয়ার আমল ও মর্যাদার অনুপাতে আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পাবে। তাই আর দেরি কেন! আমলের ডানায় ভর করে তুমি তোমার মর্যাদার শিখরে আরোহণে ব্যস্ত হও। নিজের খেয়াল-খুশি থেকে সতর্ক হও। আল্লাহর সাথে শিরক করা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহই সকল কিছুর তাওফিকদাতা।
টিকাঃ
৩০. সহিহ মুসলিম: ৩/১২১/১৫০২, ১৫১৩। সুনানে আবু দাউদ: ৩/৫২০। সুনানে তিরমিজি: ৫/৩০১১। মুসনাদে আহমদ: ১/২৬৬/২৩৮৮। আবু ইসা বলেন, এটি হাসান সহিহ হাদিস। তবে বিভিন্ন বর্ণনায় শব্দের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পূর্ণ হাদিসটি এমন-
عَنْ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ أَرْوَاحَ الشُّهَدَاءِ فِي طَيْرٍ خُضْرٍ تَعْلُقُ مِنْ ثَمَرِ الْجَنَّةِ أَوْ شَجَرِ الْجَنَّةِ.
📄 আলেমের হতভম্বতা
একদিন মজলিসে আলোচনার এক পর্যায়ে আমি বলে বসলাম, لو أن الجبال حملت ما حملت لعجزت. আমি যা বহন করছি পাহাড়কে যদি তা বহন করতে হতো, তবে সে পেরে উঠত না।
মজলিস থেকে ফিরে গৃহে যখন নিরিবিলি হলাম, হঠাৎ আমার নফস আমাকে ডেকে বলল, এ কথা তুমি কীভাবে বললে? মানুষ হয়তো মাঝেমধ্যে সন্দেহ করে যে, তোমার চিন্তা-ভাবনা ভিন্ন রকম। কিন্তু তুমি তো তোমার নিজেকে ও পরিবার নিয়ে বহাল তবিয়তেই আছ। জীবনযাপনের যে দায়িত্ব ও কষ্ট তুমি কখনো পাও—এটা তো সকল মানুষই বহন করে। তবে আর তোমার এই অভিযোগের কারণ বা যৌক্তিকতা কোথায়? এ কথা তুমি কেন বললে?
আমি তাকে উত্তরে বললাম, যেই মানসিক চাপ ও কষ্ট আমি বহন করে চলেছি, মাঝেমধ্যে সেটা বইতে অক্ষম হয়ে পড়ি বলেই কথাটি মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। এটি আমি কোনো অভিযোগ বা অনুযোগের ভিত্তিতে বলিনি। নিজের একটু আরামের জন্য দীর্ঘশ্বাস হিসেবে বলেছি। আমার পূর্বেও তো অনেক সাহাবি ও তাবেয়ি কখনো কখনো বলে উঠেছেন, ليتنا لم تخلق. হায়, আমাদের যদি সৃষ্টিই না করা হতো!
তাদের এ কথা বলার কারণ কী? তারা এটা বলেছেন জীবনের ভার বইতে অক্ষম হয়েই।
অনেকেই জানে না, মানুষকে পাগল করে ফেলানোর মতো চাপ কী? তার জন্য সবচেয়ে কঠিনতম কাজ কী? কেউ যদি ধারণা করে যে, মানুষের বিশ্বাসগত চাপ ও আনুগত্য খুবই সহজ তবে সে এর কিছুই জানে না।
তোমার কী মত? কেউ যদি ধারণা করে, মানুষের জন্য কঠিন কাজ হলো ভীষণ ঠান্ডায় পানি দিয়ে অজু করা, মসজিদে গিয়ে নামাজে দাঁড়ানো, রোজা পালন করা, জাকাত আদায় করা! আহা, তুমি যদি জানতে, এ সবই হলো সবচেয়ে সহজতম কাজ!
কষ্টের কাজ তো সেটা, যা পাহাড়ও বহন করতে অক্ষম। আহা, যখন এমন অনেক 'ভাগ্যের' বিষয় সংঘটিত হতে দেখি, বোধ-বুদ্ধি যেগুলোকে বুঝতে পারে না, তখন জ্ঞান-বুদ্ধিকে আনুগত্যের খাতিরে সেই 'ভাগ্য-নির্ধারিত' বিষয়গুলো মানতে বাধ্য করি। বিবেকের ওপর এই চাপ প্রয়োগই সবচেয়ে কঠিনতম কাজ।
অহরহ এমন কত বিষয় ঘটে চলেছে, জ্ঞান-বুদ্ধি যার অর্থ বা রহস্য উদঘাটনে অক্ষম। যেমন, নিষ্পাপ শিশুদের অসহ্য কষ্ট-কাতর আর্তনাদ, বিকলাঙ্গ ও দুরারোগ্য যন্ত্রণা-কাতর অসহায় মানুষের করুণ চাহনি এবং অবলা পশুদের জবাই- তবুও বিশ্বাস করি যে, এগুলোই এদের ভাগ্যলিপি এবং এসবের আদেশদাতা হলেন আররাহমানুর রাহীম বা শ্রেষ্ঠ করুণাকারী।
এগুলোর সামান্য চিন্তাও বুদ্ধিকে হতভম্ব করে তোলে। অদেখা ঝড়ে এলোমেলো হয়ে পড়ে মস্তিষ্কের প্রতিটি অণু। আহা! বন্ধু, এটাই তো যুক্তি বা বুদ্ধির আত্মসমর্পণের পরীক্ষা- কোনো অভিযোগহীন মেনে নেওয়ার সময়।
তবে প্রশ্ন হলো, শারীরিক ও চিন্তাগত আনুগত্যের এই কষ্টের মাঝে কতটা পার্থক্য?
এটি যদি বিস্তারিত আলোচনা করতে যাই, তবে কথা অনেক দীর্ঘ হয়ে পড়বে। এখানে সেদিকে যাওয়া প্রয়োজন মনে করি না। অন্যের কথা উল্লেখ না করে আমারই কিছু বিষয় উল্লেখ করছি। আশা করি, এর দ্বারা বিষয়টা কিঞ্চিৎ হলেও অনুধাবন করা যাবে।
আমি এমন এক বান্দা, শৈশব থেকেই যার নিকট ইলমকে প্রিয় করে তোলা হয়েছে। তাই আমি আমার শৈশব থেকেই ইলমের সাধনায় নিমগ্ন থেকেছি। অধিকন্তু আমার আকর্ষণের বিষয় শুধু একটি শাস্ত্র নয়; ইলমের প্রতিটি শাখায় আমার আগ্রহ ও আকর্ষণ রয়েছে। এবং এগুলোর কোনো শাখাতেই ভাসাভাসা ইলম অর্জনের ওপর আমি সন্তুষ্ট নই। আমি বরং ইলমের প্রতিটি শাখার সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ করতে চেয়েছি। কিন্তু সময় বড় সংকীর্ণ। জীবন বড় সংক্ষিপ্ত। আমার ইলমের সাধনা তো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে; কিন্তু সময়ের কারণে অক্ষমতা এসেছে। তাই এখনো কিছু কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের গভীরতম অনবগতি নিয়ে আমার আফসোস রয়ে গেছে।
এরপর ইলম আমাকে আমার মাবুদের পরিচয় জানিয়েছে। তাঁর দাসত্বের প্রতি ধাবিত ও উৎসাহিত করেছে। তাঁর অস্তিত্বের হাজারো দলিল-প্রমাণ আমাকে তাঁর দিকেই টেনেছে। আমি তাঁর কুদরতের সামনে নতজানু হয়েছি। তাঁর অসংখ্য নিয়ামতের মাঝে আমি তাঁকেই খুঁজে পেয়েছি। তাঁর গুণাবলির কার্যকারিতা আমি চিনেছি। আমার দূরদর্শী অভিজ্ঞতা যতই তাঁর দয়া ও অভিভাবকত্বের পরিচয় পেয়েছে, ততই তাঁর মুহাব্বত ও ভালোবাসার দিকে টেনে নিয়েছে। নির্জন-নীরব একান্ত ইবাদতের প্রতি আমাকে আকর্ষণ করেছে। এভাবে তাঁর জিকির হয়ে উঠেছে আমার কাছে প্রাপ্তির চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিটি অবকাশ ও নির্জনতার ইবাদত ও জিকির দুনিয়ার সকল মিষ্টতা থেকেও আমার নিকট বেশি আস্বাদনের হয়ে উঠেছে।
কিন্তু যখনই আমি ইলমের মগ্নতা ছেড়ে অন্য কিছুতে মনোনিবেশের ইচ্ছা করেছি, ইলম আমার আঁচল ধরে চিৎকার করে বলেছে, যাচ্ছ কোথায়? তুমি কি আমাকে ছেড়ে যেতে চাও? অথচ তুমি আমার মাধ্যমেই পেয়েছ তোমার রবের পরিচয়!
আমি তাকে বললাম, তুমি ছিলে সামান্য দলিল মাত্র। স্রষ্টাকে চেনার সামান্য মাধ্যম। এখন যখন উদ্দিষ্ট মাবুদকে পেয়ে গিয়েছি, দলিলের আর কী প্রয়োজন?
ইলম আমাকে কটাক্ষ করে বলেছে, আহা, এসব বলে না! এখনো যখন তুমি আরও কিছু ইলম অর্জন করো, তুমি তোমার মাহবুবের পরিচয় আরও বেশি করেই জানতে পারো। এবং জানতে পারো কীভাবে তাঁর আরও নিকটবর্তী হওয়া যায়। প্রতিদিনের এই অবস্থাটা প্রমাণ করে, ইলম থেকে দূরে থাকার অর্থ, তোমার প্রভুর পরিচয় লাভের দরজা বন্ধ করে দেওয়া। ইলমহীন কিছুদিন অবস্থান করলেই তুমি জানতে পারবে, কী ক্ষতির মধ্যে তুমি রয়েছ। তুমি কি তোমার রবকে তাঁর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শোনোনি?-
رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا ( وَقُل رَّبِّ زدْنِي عِلْمًا )
আপনি বলুন, হে আমার রব, আপনি আমার ইলম আরও বৃদ্ধি করে দিন। [সুরা তোয়াহা: ১১৪]
এরপর ইলম আমাকে বলে, তুমি কি তাঁর নৈকট্য প্রত্যাশী নও? তুমি কি তোমার রবের নৈকট্য প্রত্যাশা করো না? তাহলে এবার তুমি তাঁর গাফেল বান্দাদের তাঁর দিকে আহ্বানে মশগুল হও। সকল নবী আলাইহিমুস সালাম এগুলোই করেছেন। তুমি কি জানো না, নিজেদের নির্জন ইবাদত-বন্দেগির চেয়ে তাঁরা সব সময় মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান ও শিক্ষা-দীক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েছেন? তাদের মাঝেই থেকেছেন। তাদের সাথেই চলাফেরা করেছেন। যেহেতু তাঁরা জানতেন, এগুলোই তাদের প্রতিপালকের নিকট অধিক পছন্দনীয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি হজরত আলি রা.-কে বলেননি?-
لأن يهدي الله بك رجلاً، خير لك من حمر النعم. (হে আলি,) তোমার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা যদি একজন মানুষকেও হেদায়েত দান করেন, তবে এটা তোমার জন্য মূল্যবান শত লাল উট প্রাপ্তি থেকেও লাভজনক। ৩১
ইলমের এসকল প্রমাণ ও বক্তব্যে আমার মাথা ঘুরে গেল। তার কথাগুলোর সত্যতা স্বীকার করা ছাড়া কোনো উপায়ও ছিল না। কিন্তু যখন বাস্তবে আমি মানুষদের সাথে মেলামেশা ও ওঠাবসার জীবনযাপনের দিকে ধাবিত হলাম, কিছুদিনের মধ্যেই আমার লক্ষ্য ইচ্ছা ও মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ল। কারণ, আমি আমার সকল ইচ্ছাকে তাদের কল্যাণের দিকে নিয়োগ করেছিলাম। আমার সকল সময় তাদের জন্যই ব্যয় হচ্ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে আমি দুর্বল হয়ে পড়তে লাগলাম। কিছু কিছু সময় আমি এমন হতবুদ্ধি ও দ্বিধান্বিত অবস্থার মুখোমুখি হতাম যে, বুঝতে পারতাম না, আমি আমার কোন পায়ের ওপর ভর দেবো।
এরই মাঝে হঠাৎ একদিন আমার ইলম আমাকে চিৎকার করে ডেকে বলল, বয়স তো হলো, আল্লাহর নাম নিয়ে এবার বিয়ে করো। পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তান অন্বেষণ ও প্রতিপালনের জন্য অর্থ উপার্জনে নেমে পড়ো।
কথা তো সত্য। বিয়ে হলো। স্ত্রী-সন্তান হলো। উপার্জন তো দরকার। কিন্তু অবস্থার দাবি অনুযায়ী যখন উপার্জনের দিকে মনোযোগ দিলাম, আমি যেন দিশেহারা হয়ে উঠলাম। দুনিয়া যেন আমার দুধ দোহনের সময়ই তার সকল ওলান শুকিয়ে নিল। আমার মুখের সমুখে উপার্জনের সকল দরজা সরব শব্দে বন্ধ হয়ে গেল। আমি তো কিছুই পারি না। ইলম অর্জনের নিমগ্নতা আমাকে অর্থকড়ি বৈষয়িক জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা থেকে বঞ্চিত রেখেছে। ইলম ছাড়া তো আমার কোনো পুঁজি নেই।
আমি আমার চারপাশের সকল দুনিয়াদার খলিফা শাসক ও ধনবান ব্যক্তিদের দিকে দৃষ্টি দিলাম। দেখলাম, তারা তো গ্রহীতার দ্বীনের বিনিময় ছাড়া কিছুই প্রদান করে না। নিজেদের দ্বীনের ব্যাপারে আপস করা ছাড়া গ্রহণকারীগণ তাদের থেকে কিছুই প্রাপ্ত হয় না। তাদের থেকে কিছু পেতে হলে দ্বীনের ক্ষতি করা ছাড়া কিছুই অর্জন করা সম্ভব হয় না।
হায়, আরও ভয়াবহ কথা হলো, কিছু কিছু আলেম তাদের দরবারে নিজেদের দ্বীন-দুনিয়া ও মর্যাদাবোধ সকল কিছু বিকিয়ে দিয়েও কাঙ্ক্ষিত দুনিয়াটুকুও প্রাপ্ত হয় না।
আমার ক্রোধ ও ক্ষুব্ধতা বলে উঠল, এসব ছিন্ন করে নিজের পথে অটল থাকো।
শরিয়ত বলে বসল, সক্ষম কোনো ব্যক্তি যদি তার ক্ষমতা ও যোগ্যতাকে অপব্যয় করে, তবে এটি তার গোনাহের জন্যে যথেষ্ট।
সংকল্প এসে বলল, নিজের কাজে একাকী এগিয়ে যাও। ইলমে নিমগ্ন হও। নিজেকে বিকিয়ে দিয়ো না।
এবার নফস বলে উঠল, তাহলে তোমার পরিবার ও অধীনস্থদের কী হবে?
অনেক চিন্তা-ভাবনা করলাম। কিন্তু বাড়তি উপার্জনের জন্য কিছুই করলাম না। অথচ এদিকে পরিবার রয়েছে। মানুষদের সাথে মেলামেশাও রয়েছে। কারণ, একাকী নির্জনবাস তো গ্রহণ করিনি। পরিণামে জীবনযাপনের অনেক খরচ কমিয়ে দিতে হলো। অথচ এতদিন আমি স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাপন করে আসছিলাম। দুনিয়ার আস্বাদন করেছি। মেজাজ ও মানসিকতায় একটি সাধারণ পরিপাট্য আভিজাত্য ও সূক্ষ্ম ভব্যতা এসে ভর করেছে। কিন্তু এখন আমার পোশাক-পরিচ্ছদ ও খাদ্য-খাবারের ধরন নিম্নমানে রূপান্তরিত হলো। কারণ, এর চেয়ে প্রশস্তভাবে চলার আর্থিক সামর্থ্য আমার ছিল না।
পছন্দনীয় অভ্যাস ও জীবনযাপনের রুচিশীল পদ্ধতি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে আমার মেজাজে রুক্ষতা এসে গেল। শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ল। ধীরে ধীরে অনেক আবশ্যক কাজ করতেও অক্ষম হয়ে পড়লাম। জীবন আমাকে এক বিভীষিকাময় অবস্থায় ফেলে দিলো। আর এটা তো জানা কথা, অতীতে কোনো ধরনের কষ্ট-ক্লেশ ছাড়াই যার সুখময় খাদ্য-খাবারের সংস্থান হয়েছে, সে যদি হঠাৎ এই রুক্ষ ও স্বল্প খাবারের কবলে পতিত হয়, তবে তার জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
আমি মনে মনে ভাবলাম, তবে আমি এ অবস্থায় কী করতে পারি? এখন কী করা উচিত আমার?
প্রায় আমি নির্জনে নিমগ্ন হয়ে ভাবতে থাকি। আমার দুরাবস্থা দেখে আপনাআপনিই যেন আমার চোখে জল এসে যায়।
সাধক আলেমদের জীবনযাপন করতে চাই; অথচ আমার শরীর আর ইলমি সাধনায় মগ্ন হওয়ার মতো অবস্থায় নেই। সুফিদের জীবন ধারণ করব কি? কিন্তু আমার শরীর যে জুহুদ বা কৃচ্ছতা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না!
এদিকে বন্ধু বা সাধারণ মানুষদের সাথে মেলামেশা আমার মনোযোগ ও স্থিতিকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। প্রিয়তমের কান্তিমান অবয়ব আমার হৃদয় থেকে উধাও হতে থাকে। জং ও ক্লেশে ঝাপসা হয়ে আসে হৃদয়ের আয়না। অথচ সম্প্রীতি টিকে থাকার জন্য ভালোবাসার চারাকে উদার মাটির সবুজ বুকে কোমলতার সাথে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। হৃদয়ের আলমারিতে সুরভিত কথামালায় তাকে সিঞ্চিত ও সজিব রাখতে হয়। কিন্তু আমার মন ধীরে ধীরে শুধু রুক্ষই হতে থাকে।
এই অবস্থায় আমি যদি উপার্জনকেই প্রাধান্য দিই তবে সেটা আমার সাধ্যের বাইরে। আর যদি ইলমের পুঁজি নিয়ে দুনিয়াদার বিত্তবানদের নিকট উপস্থিত হই—যদিও আমার মর্যাদাবোধ, সচেতন স্বভাব এবং নিজের দ্বীনের প্রতি সতর্কতা এটাকে কিছুতেই সমর্থন করে না—আমার এই স্বভাব ও সতর্কতার কারণে তাদের সাথে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিন অটুট থাকবে না।
মানুষদের সাথে অবস্থানে কষ্টই শুধু বাড়তে থাকবে।
অথচ এদিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সক্ষমতাও আর অবশিষ্ট নেই। ইলম, আমল ও মুহাব্বতের কোনো মর্যাদাও হলো না অর্জিত। আমি যখন আমার অবস্থার দিকে তাকাই, নিচের কবিতাটিতে কবি যে অবস্থার কথা বলেছেন, আমার অবস্থাও ঠিক তেমনই দেখতে পাই। কবি বলেন,
ألقاه في اليم مكتوفاً وقال له ... إياك إياك أن تبتل بالماء.
হাত-পা বেঁধে তাকে ফেলে দিলো সাগরের মাঝে। এরপর বলল, দেখো, তুমি কিন্তু সতর্ক থেকো, পানিতে যেন আবার না ভিজে যাও!
আমি আমার বিষয় নিয়ে প্রায় চিন্তিত ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। জীবনের কর্ম নিয়ে হিসাব-নিকাশ করি। কষ্টে-দুঃখে কখনো কখনো দিশেহারা অবস্থা হয়ে যায়। আমার নিদারুণ নির্জনতায় প্রায় আমি এক সাধারণ ব্যক্তি থেকে শোনা কবিতার পঙ্ক্তি দুটি আবৃত্তি করি। তিনি যেন আমারই অবস্থা কত যথার্থভাবে তুলে ধরেছেন!
واحسرتي كم أداري فيك تعثيري . . مثل الأسير بلا حبل ولا سيري ما حيلتي في الهوى قد ضاع تدبيري . . لما شكلت جناحي قلت لي طيري
আফসোস, আমি আর কত তোমার ব্যাপারে প্রতারিত হব। রশি-রশদ ও অসহায় এক বন্দির মতো অপদস্থতার সাথে রয়েছি পড়ে।
আমার সকল কৌশল উধাও হয়েছে। প্রচেষ্টা হয়েছে ব্যর্থ। তুমি আমার উড়ে চলার সকল ডানা কেটে দিয়ে বলছ, এবার যাও উড়ে।
শরীর ও অর্থের এমন অসহ্য কষ্টে নিপতিত হয়েও আমি অনুভব করেছি, এগুলোর চেয়েও এই চিন্তাগত চাপ এবং নিঃশর্তভাবে তাকদিরকে মেনে নেওয়ার আনুগত্যই সবচেয়ে কঠিন ও দুঃসাধ্য। এর কাছে শারীরিক হাজার কষ্টও অতি তুচ্ছ। এটার আঘাত সইতে না পেরেই তো কত চিন্তাবিদ শিক্ষাবিদ পণ্ডিত নাস্তিকতার পথে পা বাড়িয়েছে, আত্মহত্যা করেছে। সন্দেহের গরল-বিষে জীবন তুলেছে বিষিয়ে।
তবুও জেনে রাখো বন্ধু, জান্নাতের বিনিময়ে দুনিয়ার হাজার কষ্টও কিছু নয়। একবার ভাবো তো জান্নাতের সেই বিশাল বিস্তৃতি এবং সতত নিয়ামতের বাহার! বিশ্বাসগত এই কষ্টটাও তাই এত বেশি।
টিকাঃ
৩১. ইমাম বোখারি রহ. এটি 'কিতাবুল জিহাদ'-এ উল্লেখ করেছেন-৬/২৯৪২, ফাতহুল বারি। ইমাম মুসলিম রহ, উল্লেখ করেছেন 'ফাজাইলুস সাহাবা' অধ্যায়ে- ৪/৩৪/১৮৭১। এটি হাদিসের শেষ অংশ। পূর্ণ হাদিসটি এমন-
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَوْمَ خَيْبَرَ لَأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلًا يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَى يَدَيْهِ فَقَامُوا يَرْجُونَ لِذَلِكَ أَيُّهُمْ يُعْطَى فَغَدَوْا وَكُلُّهُمْ يَرْجُو أَنْ يُعْطَى فَقَالَ أَيْنَ عَلِيٌّ فَقِيلَ يَشْتَكِي عَيْنَيْهِ فَأَمَرَ فَدُعِيَ لَهُ فَبَصَقَ فِي عَيْنَيْهِ فَبَرَأَ مَكَانَهُ حَتَّى كَأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ بِهِ شَيْءٌ فَقَالَ نُقَاتِلُهُمْ حَتَّى يَكُونُوا مِثْلَنَا فَقَالَ عَلَى رِسْلِكَ حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ فَوَاللَّهِ لَأَنْ يُهْدَى بِكَ رَجُلٌ وَاحِدٌ خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ.
সহিহ বোখারি: ১০/২৭২৪, পৃষ্ঠা: ৯৪- মা. শামেলা।
📄 সফলতার রাজপথ
আমি দুনিয়া ও আখেরাত নিয়ে চিন্তা করলাম। দেখলাম, দুনিয়ার বিষয়াবলি মানুষের অধিকতর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং স্বভাবগত। আর আখেরাতের বিষয়গুলো ঈমান ও বিশ্বাসগত। আকর্ষণ ও প্রভাবের দিক দিয়ে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়গুলোই প্রাধান্য লাভ করে; যদি না সে মানুষের ইলম ও ইয়াকিন অতি দৃঢ় হয়।
দুনিয়ার সকল বিষয়ের প্রভাবই নির্ভর করে তার উপকরণের আধিক্যের ওপর। চারদিকেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইন্দ্রিয়-আকর্ষণের উপকরণ। এ কারণে সাধারণ মানুষদের সাথে মেলামেশা, নয়নাভিরাম জিনিসের প্রতি দৃষ্টিপাত এবং সুখ-উপভোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে লিপ্ত থাকা ইন্দ্রিয়ানুভবকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
অন্য দিকে নির্জনতা, আল্লাহর নিয়ামত নিয়ে চিন্তা-ফিকির এবং ইলম ও জ্ঞানের চর্চা আখেরাতের প্রভাবকে শক্তিশালী করে তোলে।
এটি বোঝা যাবে এভাবে যে, মানুষ যখন বাজারে হেঁটে বেড়ায়, দুনিয়ার বিভিন্ন মানুষের প্রাচুর্য ও শোভা-সৌন্দর্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করে, এরপর সে যখন কবরস্থানে যায় এবং নিজের অন্তরের শ্বেতপত্রের দিকে তাকায়, তখন সে তার আগের বাজারে অবস্থানকালে অন্তরের অবস্থা এবং এই সময়ে অন্তরের অবস্থার মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখতে পাবে।
এটির একমাত্র কারণ হলো, এ সময় দুনিয়ার প্রভাব ও আকর্ষণ থেকে তার দূরে অবস্থান।
সুতরাং হে বন্ধু, তোমার নফসের সংশোধনের জন্য এবং তাকে আখেরাতমুখী করার জন্য নির্জনতা অবলম্বন করা, আল্লাহর জিকির করা এবং বেশি বেশি ইলম চর্চা করা কর্তব্য। কেননা নির্জনতা হলো নিয়ামক পথ্য। জিকির ও ইলম হলো ওষুধ। সাধারণ মানুষদের সাথে মেলামেশা করে জ্বরাক্রান্ত হয়ে ওষুধ ব্যবহারে কোনো উপকার আসবে না। তাই মেলামেশাহীন নির্জনতার সাথে যখন জিকির ও ইলম সংযুক্ত হবে, রোগ সেরে ওঠার মতোই তোমার অন্তরও পরিশুদ্ধ হয়ে উঠবে। আখেরাতের দিকে ধাবিত হবে।
📄 নিযিদ্ধের প্রতি আকর্ষণের কারণ
নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণের কারণ নিয়ে চিন্তা করলাম। এটাতে আমি একটি ভয়ানক ব্যাপার লক্ষ করলাম। দেখলাম, যেটাকে যতটা শক্তভাবে নিষিদ্ধ করা হয়, মানুষের আগ্রহ ও আকর্ষণ সেটার প্রতি ততটাই বেশি সৃষ্টি হয়। প্রথম উদাহরণ দেখা যাক। হজরত আদম আলাইহিস সালামকে যখন একটি নির্দিষ্ট গাছ থেকে নিষেধ করা হলো, জান্নাতে আরও অসংখ্য গাছগাছালি থাকা সত্ত্বেও এই অপ্রয়য়োজনীয় গাছের প্রতিই তাদের আগ্রহ বাড়তে লাগল।
প্রবাদ রয়েছে-
المرء حريص على ما منع، وتواق إلى ما لم ينل.
যে জিনিস সম্পর্কে নিষেধ করা হয়, মানুষ সে জিনিসের প্রতি বেশি আকর্ষণ বোধ করে। আর যে জিনিস তার হস্তগত হয়নি, সেটির প্রতিই ঝুঁকে থাকে তার যত আগ্রহ।
তাছাড়া এভাবেও বলা হয়, মানুষের স্বভাবটাই এমন যে, তাকে যদি ক্ষুধার্ত থাকার আদেশ দেওয়া হয়, তবু সেটা সে মেনে নেবে। কিন্তু তাকে যদি গোবর-লাদিকেও ছড়িয়ে দিতে নিষেধ করা হয় তবে সে এটি করাতেই প্রচণ্ড আগ্রহ বোধ করবে।
আরবরা বলে, এ কারণে আমরা কাউকে দিয়ে কোনো কাজ করানোর জন্য তাকে সে কাজ থেকে নিষেধ করি।
কারণ, প্রবাদে আছে-
أحب شيء إلى الإنسان ما منعا.
মানুষের নিকট সবচেয়ে আগ্রহের বস্তু হলো, নিষিদ্ধ বস্তু।
মানুষ-স্বভাবের এ এক অতি রহস্যময় দিক। আমি এ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে এর দুটি কারণ পেয়েছি। যেমন,
এক.
মানুষের অন্তর বাধ্য হয়ে শরীর নামক এক গণ্ডি বা খাঁচাকে মেনে নিয়েছে। সে কারণে কোনো কল্পনা ও কর্মের ক্ষেত্রে আর কোনো সীমাবদ্ধতা সে মানতে চায় না। যখনই কোনো নিষেধের মাধ্যমে তার সীমানা নির্ধারণ করা হয় তখনই সে উদ্ভ্রান্ত হয়ে ওঠে। ছটফট করতে থাকে। লাভ-ক্ষতির চিন্তা পরে; এটাকে তার আগে ডিঙানো চাই-ই চাই।
এ কারণে কোনো মানুষ এমনিতেই তার ঘরে যদি এক মাসও অবস্থান করে, সেটা তার কাছে কঠিন মনে হয় না। কিন্তু তাকে যদি কখনো বলা হয়, তুমি তিনদিন ঘর থেকে বের হবে না। এটা তার কাছে অতি দীর্ঘ ও কষ্টকর মনে হয়ে উঠবে।
দুই.
মানুষের মন বা অন্তরের জন্য যেকোনো হুকুমের অধীনে প্রবেশ করাটাই কষ্টকর। এ কারণে সে হারাম জিনিসে মজা পায়। আর বৈধ জিনিসে কোনো উৎফুল্লতা অনুভব করে না। যেমন, কোনো মানুষের নিকট হয়তো দুধপান খুবই প্রিয় একটা জিনিস। কিন্তু তাকে যদি নির্দেশ দেওয়া হয়, তোমাকে প্রতিদিন দুধ খেতে হবে। কিছুদিনের মধ্যেই সে দুধপানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। বিরক্ত হয়ে উঠবে।
এ কারণে মানুষের নফস যেটাকে পছন্দ করে, সেভাবে ইবাদত করতে তার সহজ হয়। অথচ যেটাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, সেটাকে সে প্রাধান্য দিতে চায় না। এতে তো আল্লাহর হুকুম মানা হয় না। এতে বরং নিজের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করা হয়। এটা থেকে বেঁচে থাকা প্রয়োজন।