📘 হৃদয় জুড়ানো সালাত 📄 আসল সুখের আকর

📄 আসল সুখের আকর


রুকু থেকে দাঁড়ানোও হয়ে গেল। এর ফলে আমরা প্রস্তুত হয়ে গেছি সালাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিটির জন্য। এই সেই অংশ, যা এক এক রাকআতের সুমধুর সমাপ্তি নির্দেশক। এর আগের সবকিছু ছিল কেবল এখানে আসার পথ। সিজদা নামক সাড়ম্বর সমাপ্তির পূর্বকথন মাত্র।

সিজদা আসলে কী? এ কাজটা আমরা অনেকেই রোবটের মতো করে চলেছি বছরের বছর। তাই বুঝে উঠতে পারি না এর শক্তিশালী প্রভাব। হৃদয় না লাগালে তো সালাতের কোনো অংশের স্বাদই পাব না আমরা। সিজদা মানে নিজের সবচেয়ে দামি, সবচেয়ে সম্মানিত জিনিসটিকে চরম লাঞ্ছনার শিকার বানানো। চেহারাকে মাটিতে লুটানো। যেন আল্লাহকে বলা হচ্ছে, হে প্রতিপালক, নিজের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব আপনার কাছে সমর্পণ করে দিলাম।

সত্যিকার সুখের আসল রহস্য এই সিজদা। কীভাবে? নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: চিরসুখের জায়গা জান্নাত কোথায়? সপ্ত আসমানের ওপর, আল্লাহর নিকটে। আর চিরদুর্ভোগের জাহান্নাম? নিচে। আচ্ছা, এবার বলুন জান্নাতের উচ্চতম স্থান কোনটি? আল-ফিরদাউসুল-আলা, যেখানে থাকবেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এরই ছাদ বা ঊর্ধ্বসীমা হলো আল্লাহর আরশ। আল্লাহর নিকটতম অবস্থান।[১] অন্য কথায়, এখানকার বাসিন্দাদের প্রতিবেশী স্বয়ং আল্লাহ!

আরেকটি ব্যাপার। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কায় জীবনের কঠিনতম কষ্টের সময় অতিক্রম করছিলেন, আল্লাহ তার কষ্ট লাঘব করতে কী করলেন? তাকে তুলে নিলেন নিজের কাছে। গোটা বিশ্বের ইতিহাসের স্মরণীয়তম ঘটনা: আল-ইসরা ওয়াল-মিরাজ [২]। মানুষের পক্ষে রবের যতটুকু নিকটে যাওয়া সম্ভব, ওই পর্যন্ত গেলেন নবিজি। এমনকি ইহকালের সুখের উৎস যে নেক কথা ও নেক আমল, সেগুলোও উঠে যায় আল্লাহর কাছে। সেখানেই তাদের স্থান। আল্লাহ বলেন—
... إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ...
উত্তম কথা তাঁর দিকে আরোহণ করে এবং সৎআমল তাকে (উত্তম কথাকে) উন্নীত করে।[১]

তাহলে সুখ কোথায়? ওই যে ঊর্ধ্বে আল্লাহর নিকটে। সূত্রটি দাঁড়াল এমন : আল্লাহর যত নিকটবর্তী হবেন, তত বেশি উঁচুতে উঠবে আত্মা, ততই বাড়বে সুখ। সেই সুখের কাছে পৌঁছানোর উপায় তাহলে কী? ওই উচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি যাওয়া। আর সেই উচ্চতায় পৌঁছানোর মাধ্যম? আল্লাহর সামনে নিজেকে নিচু থেকে নিচুতর করা। এ হাদিসটি তো শুনেছেন মনে হয়, যে আল্লাহর কাছে নিজেকে ছোট করে, আল্লাহ তাকে সমুচ্চ করেন।[২] আল্লাহ তাকে উঁচু করেন মর্যাদায়, উন্নীত করেন তার সুখ। এই হাদিসও দেখুন, বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয় সিজদা দেওয়ার সময়।[৩] সুরা আলাকের শেষ আয়াতে আল্লাহ কী বলছেন, দেখুন—
وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ
সিজদা দিন ও নিকটবর্তী হোন।[৪]

এবার বুঝলেন তো, কী পরিমাণ দামি একটি কাজ এত বছর ধরে করে এসেছেন একেবারে হেলায়-ফেলায়? প্রতিটি সিজদায় আপনি আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করেছেন। শরীর পড়ে আছে মাটিতে, কিন্তু আত্মা উঠে যাচ্ছে উচু থেকে উচুতে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানিয়েছেন, বেশি বেশি সিজদা দিয়ো। কারণ যতবারই কোনো মুসলিম সিজদা দেয়, ততই আল্লাহ জান্নাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করতে থাকেন এবং গুনাহ মাফ করতে থাকেন।[১] এভাবে করতে করতেই একসময় সে পৌঁছে যায় আল-ফিরদাউসুল-আলায়। যেখানে আল্লাহর আরশ নির্দেশ করে ঊর্ধ্বসীমা, যেথায় রয়েছেন আমাদের প্রাণপ্রিয় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

আরো প্রমাণ চাই? রবিআ ইবনু কাব রাযিয়াল্লাহু আনহু একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওযু করতে সাহায্য করছিলেন। নবিজি বললেন, কিছু একটা চাও।
রবিআর জবাব, জান্নাতে আপনার সাথে থাকতে চাই।
আর? নবিজির জিজ্ঞাসা।
শুধু এটাই।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে বেশি বেশি সিজদা দিয়ে তোমার ইচ্ছা পূরণ করতে আমাকে সাহায্য করো।[২]

এই যে প্রমাণ পেলেন। আত্মাকে উঁচুতে তুলতে হলে দেহকে ফেলতে হবে নিচে। আর হ্যাঁ, শরীরের সাথে সাথে হৃদয়ও যেন সিজদা করে। সিজদা করে সেই আল্লাহকে, যিনি আরশে অধিষ্ঠিত এবং প্রতিদিন নিত্যনতুন বিষয়ের তত্ত্বাবধানে রত। প্রত্যেকের আকাঙ্ক্ষা আর কর্ম তাঁরই কাছে পৌঁছে। সবার তাঁকে প্রয়োজন, তাঁর কাউকে প্রয়োজন নেই। এদিকে এর গুনাহ মাফ করছেন, তো ওদিকে ওর কষ্ট লাঘব করছেন। দুর্বলকে সাহায্য করছেন আর ভাঙা হৃদয়কে জোড়া লাগাচ্ছেন। জীবন দিচ্ছেন আর নিচ্ছেন। যাকে ইচ্ছে, দেখাচ্ছেন সুপথ। যাকে ইচ্ছে, করছেন পথভ্রষ্ট। কোনো জাতিকে অনুগ্রহ করছেন, আবার অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিতও করছেন অন্য কোনো জাতিকে। সম্মানিত করছেন, করছেন লাঞ্ছিত। কাউকে সুখী করছেন তো কারো কাছ থেকে সুখ কেড়ে নিচ্ছেন।

এগুলো উপলব্ধি করতে পারবেন, যদি হৃদয় সিজদা করে। কারণ সিজদা থেকে উঠবেন এক বিশেষ নুর সহকারে।
... سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ... (২৯)
তাদের চেহারায় সিজদার চিহ্ন [১]
এটি আল্লাহর দয়া ও নূরের চিহ্ন। চেহারায় তা ফুটিয়ে তোলে বিনয় ও দয়াশীলতা। এরকম শান্তি আর সুস্থিরতা আর কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়।

সিজদা সালাতের বিশেষ অংশ। কত দুশ্চিন্তাকে যে দূর করে দিয়েছে এই অমূল্য সম্পদ। সমাধা করে দিয়েছে কতই-না সমস্যা, পূরণ করেছে প্রয়োজন। সিজদায় আল্লাহকে বলার আগে কত দু'আ-ই না রয়ে গিয়েছিল নামঞ্জুর!

তাই রবের নিকটবর্তী যদি হতে চান, ছোট হোন আগে। তনু-মন-প্রাণ দিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ুন। অনুভব করে নিন জগতের সবচেয়ে মিষ্টি স্বাদ। আস্বাদন করুন আসল সুখ।

টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি : ২৭৯০
[২] আল ইসরা শব্দের অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ। জিবরিল আলাইহিস সালামের সাথে মক্কার মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসায় নবিজির সশরীরে ভ্রমণকে ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় 'ইসরা' বলা হয়। আর মসজিদে আকসা থেকে ঊর্ধ্বগমনকে বলা হয় মিরাজ।
[১] সুরা ফাতির, আয়াত : ১০
[২] যে আল্লাহর কাছে নিজেকে ছোট করে, আল্লাহ তাকে সমুচ্চ করেন। সহিহ মুসলিম : ২৫৮৮; জামিউত তিরমিযি : ২০২৯
[৩] সহিহ মুসলিম : ৪৮২; সুনানু আবি দাউদ : ৮৭৫
[৪] সুরা আলাক, আয়াত : ১৯
[১] সহিহ মুসলিম: ৪৮৮; জামিউত তিরমিযি: ৩৮৮
[২] সহিহ মুসলিম : ৪৮৯; সুনানু আবি দাউদ : ১৩২০
[১] সুরা ফাতহ, আয়াত : ২৯

📘 হৃদয় জুড়ানো সালাত 📄 সুনিপুণ সিজদা

📄 সুনিপুণ সিজদা


এখনো সালাতের শ্রেষ্ঠতম অংশে আছি আমরা। আচ্ছা, যদি স্বয়ং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সিজদারত অবস্থায় দেখতে পেতাম, তাহলে কত্ত ভালো হতো না? এই দৃশ্যই এখন আমরা দেখব। নবিজিকে সিজদা করতে দেখব নিজেদের সিজদাকে নিখুঁত করার আশায়।

>> সিজদায় যাওয়ার কালে অবশ্যই আল্লাহু আকবার বলবেন। আগেও নয়, পরেও নয়। ঠিক নিচে নামতে নামতে।
>> সিজদায় কোন অঙ্গ আগে ভূমি স্পর্শ করবে এ বিষয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী মত হলো, আগে হাত ও পরে হাঁটুকে মেঝে স্পর্শ করাতে হবে। এক্ষেত্রে পশু বা উটের বসার পদ্ধতির অনুকরণ করা যাবে না।[১]
তারপর আলতো করে মাটি স্পর্শ করবে মাথা। আস্তে আস্তে মাটিতে দৃঢ়ভাবে বসবে কপাল ও নাক। খেয়াল রাখবেন, যেন কাপড় বা এরকম কিছুর ফলে সিজদার স্থান থেকে কপাল পৃথক না থেকে যায়।[২]

আঙুলগুলো পরস্পর লেগে থাকবে। হাত-পায়ের সব আঙুল থাকবে কিবলামুখী। হাতের তালুদ্বয় মাথার সমান্তরালেও রাখা যাবে, কাঁধের সমান্তরালেও রাখা যাবে।

কনুই মাটি স্পর্শ করবে না। পুরুষদের ক্ষেত্রে হাত থাকবে দেহের পার্শ্বদেশ থেকে যথাসম্ভব দূরে। ঊরু আর তলপেট পরস্পর লেগে থাকবে না।

দেহের মোট সাতটি অঙ্গ দিয়ে করতে হয় সিজদা। নাকসহ কপাল, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু, আর দুই পায়ের পাতা। সুস্থিরভাবে এই অঙ্গগুলো মাটি স্পর্শ করবে।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো এ অবস্থানে কুরআন তিলাওয়াত করেননি। তবে দুআ করেছেন প্রচুর। তিনি বলেন, বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদা অবস্থায়। তাই এ সময়টায় প্রচুর দুআ করো।'[১] তিনি সিজদায় বলতে শিখিয়েছেন, সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা (سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى), মহামহিম আমার সুউচ্চ প্রতিপালক।[২] তিনবার বা আরো বেশি।

আরো বলা যায়, সুবহা-নাকাল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া বিহামদিক, আল্লাহুম্মাগফিরলি (سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ ، اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي); মহামহিম আপনি, হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক, আপনার প্রশংসা করি, আমাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ।[৩] আরো বলতে চাইলে, সুব্বুহুন কুদ্দুসুন, রব্বল মালা-ইকাতি ওয়াররূহ (سبوح قُدُّوْسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوْحِ); মহামহিম ও মহাপবিত্র তিনি, ফেরেশতা ও রুহের (জিবরিলের) প্রতিপালক। আর সিজদায় করণীয় দুআ তো শিখিয়েছেন অগণিত। প্রত্যেকটির আলাদা অর্থ, অনন্য স্বাদ। মনোযোগ বৃদ্ধির হাতিয়ার একেকটি।

দুআ করা মানে আল্লাহর সাথে কথোপকথন। যার প্রতি যত ভালোবাসা, তার সাথে কথা বলার তত সাধ। ততই তার সঙ্গ লাভের ইচ্ছে। সুরা ত-হা'র এগারোতম আয়াত খুলে দেখুন। সিনাই পর্বতের তুওয়া উপত্যকায় আল্লাহ কথা বলেছেন মুসা আলাইহিস সালামের সাথে। তন্ময় হয়ে আল্লাহর কথা শুনছিলেন মুসা। হঠাৎ যখন প্রশ্ন এল, তোমার ডান হাতে কী, মুসা? প্রিয় প্রতিপালকের সাথে কথা বলার এ সুযোগ মুসাকে এতই আচ্ছন্ন করে ফেলে যে, তিনি একনাগাড়ে বলতে থাকেন, এটা আমার লাঠি। আমি এতে হেলান দিই। এটা দিয়ে আমার ভেড়ার পালের জন্য পাতা ছিঁড়ি। কথার মাঝে যেন হারিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অকস্মাৎ মনে পড়ল, আল্লাহর মর্যাদার সাথে পাছে বেয়াদবি হয়! তাই তাড়াতাড়ি কথা সংক্ষিপ্ত করে ফেলেন, 'এছাড়া আরো অনেক কাজ করি এ দিয়ে।'

সিজদায় গিয়ে তাই মুসা আলাইহিস সালামের সেই আনন্দটি অনুভব করার চেষ্টা করুন। স্মরণ করুন আল্লাহর প্রতি আপনার ভালোবাসার কথা। কথা বলুন তাঁর সাথে। তাঁর প্রশংসা করুন, তাঁর কাছে চান। নিজের সব বোঝা নামিয়ে দিন তাঁর দ্বারে। খুঁজে নিন সেই শান্তি, যা একমাত্র তিনিই দিতে সক্ষম।

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِي ثَنَاءُ عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিরিদ্বাকা মিন সাখাতিক, ওয়া বিমুআ-ফা-তিকা মিন উকুবাতিক, ওয়া আঊযু বিকা মিংকা, লা উহসী সানাআন আলাইকা আংতা কামা আসনাইতা আলা নাফসিক।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার অসন্তুষ্টি থেকে আপনার সন্তুষ্টির আশ্রয় চাই, আপনার শাস্তি থেকে আপনার ক্ষমার আশ্রয় চাই, আপনার কাছ থেকে আপনারই কাছে আশ্রয় চাই, আপনার প্রশংসা করতে আমি অক্ষম, আপনি নিজেকে নিজে যেভাবে প্রশংসা করেছেন, ততটাই প্রশংসিত আপনি। [১]

সালাতের প্রতি রাকআতে একটি করে রুকু, কিন্তু সিজদা দুটি। কেন? সিজদা সালাতের এতই গুরুত্বপূর্ণ রুকন যে, তা দুইবার করা হয়। একবার যেন যথেষ্ট নয়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিজদাকে অনেক লম্বা করতেন। আল্লাহর সাথে অমূল্যতম সময়গুলোকে উপভোগ করে নিতেন পুরোপুরি। তার নাতিদের জন্যও অবশ্য এ সময়টা বেশ মজার ছিল। তাদের উট-উট খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিজদা থেকে মাথা তুলতেন না নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

টিকাঃ
[১] দাঁড়ানো থেকে সিজদায় গমনের পদ্ধতি নিয়ে সালাফদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। প্রথমে হাত রাখবে নাকি হাঁটু রাখবে? ইমাম মালিক ও আওযায়ির মতে, সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাত রাখবে। তবে অধিকাংশ ফকিহ যেমন হানাফি, শাফিয়ি ও হাম্বলি মাযহাবের ফকিহগণ এবং সালাফদের মতানুসারে, সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু রাখবে। ওয়ায়িল ইবনু হুজর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজিকে দেখেছি তিনি সিজদায় যাওয়ার সময় হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখতেন এবং সিজদা থেকে ওঠার সময় হাঁটুর পূর্বে হাত ওঠাতেন। সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে মাটিতে হাত রাখতাম। পরে আমাদেরকে হাঁটু আগে রাখার জন্য আদেশ করা হয়। সুনানু আবি দাউদ, ৮৩৮; সুনানুন নাসায়ি, ১০৮৯; সহিহু ইবনি খুযাইমা, ৬২৬, ৬২৮; আস-সুনানুল কুবরা, বায়হাকি, ২৬৩৭; আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খণ্ড: ২৪; পৃষ্ঠা: ২০৫, ২০৬
[২] এটি ইমাম শাফিয়ি রাহিমাহুল্লাহর মাযহাব। অপরদিকে হানাফি, মালিকি, ও হাম্বলি মাযহাব এবং অধিকাংশ ফকিহের মত হলো, সিজদার জায়গায় জায়নামাজ বা এ জাতীয় কোনো কিছু বিছানোর দ্বারা কপাল সরাসরি মাটি বা ফ্লোরে ঠেকাতে না পারলে কোনো সমস্যা নেই। যদি তা মাটির সাথে লাগানো থাকে। কেননা খরতাপ এবং কাদা থেকে বাঁচতে নবিজি এবং সাহাবিগণ কাপড় বা পরিধেয়ের বর্ধিত অংশের ওপর সিজদা করতেন। মুসনাদু আহমাদ, ২৩৮৫; সহিহুল বুখারি, ১২০৮; সহিহ মুসলিম, ৬২০; আল- মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ, খণ্ড: ২৪; পৃষ্ঠা: ২০৭-২০৮;
[১] সহিহ মুসলিম: ৪৮২; সুনানু আবি দাউদ: ৮৭৫
[২] মুসনাদু আহমাদ: ৩৫১৪ হাদিসের সনদ সহিহ।
[৩] সহিহুল বুখারি: ৮১৭; সহিহ মুসলিম: ৪৮৭
[১] সহিহ মুসলিম : ১১১৮; সুনানু আবি দাউদ: ৮৭৯

📘 হৃদয় জুড়ানো সালাত 📄 হৃদয় নিংড়ানো ফরিয়াদ

📄 হৃদয় নিংড়ানো ফরিয়াদ


এ পর্যন্ত আমরা দেখলাম, সালাতের প্রতিটি অংশের রয়েছে বিশেষ অর্থ ও অনন্য গুরুত্ব। একেকটি অবস্থান যেন একেকটি নতুন জগৎ। এই বৈচিত্র্যের ফলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়, একঘেঁয়েমি আসে না। পুরো সালাত জুড়ে অন্তর থাকে সজীব। হৃদয়ে চলতে থাকে নানা রকম অনুভূতি ও আবেগের কুচকাওয়াজ-আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, আশা, ভয় ও বিনয়।

এবারের অবস্থানটি প্রচণ্ড বিনয় ও ভীতি উদ্রেককারী। কারণ বিচারদিবসের অবস্থানের সাথে এর মিল রয়েছে।
وَتَرَى كُلَّ أُمَّةٍ جَاثِيَةٌ كُلُّ أُمَّةٍ تُدْعَى إِلَى كِتَابِهَا الْيَوْمَ تُجْزَوْনَ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ هَذَا كِتَابُنَا
يَنْطِقُ عَلَيْكُمْ بِالْحَقِّ إِنَّا كُنَّا نَسْتَنْسِخُ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ))

মানুষকে সেদিন দেখবেন নতজানু। প্রত্যেক জাতিকে ডাকা হবে তাদের হিসাব-নিকাশের প্রতি। আজ তোমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে তোমাদের প্রতিটি কৃতকর্মের জন্য। আমার (নিকট সংরক্ষিত) এ আমলনামা যা তোমাদের ব্যাপারে সত্য বলবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা করেছ, তার সবই আমি সংরক্ষণ করে রেখেছি।[১]

এই দুনিয়ায় এরকমভাবে বসে নিজের ব্যাপারে রায় শোনে আসামি। এই অবস্থায় প্রাণপণে আকাঙ্ক্ষা করা হয় ক্ষমার, অপেক্ষা করা হয় একজন উদ্ধারকারীর। আর তা হলো দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠক।

এসময় কোন কথাটি বলা সবচেয়ে জরুরি? অতি অবশ্যই রব্বিগফিরলী (رَبِّ اغْفِرْ لِي ); হে প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করে দিন। দুই, তিন, চার বা আরো বেশি বার। জীবনে তো আল্লাহর দেওয়া সীমা লঙ্ঘন করেছি অসংখ্যবার। তাই অসহায়ত্বের এই অবস্থানে একবার যখন বসেছেন, যত পারেন মাফ চেয়ে নিন। সিজদার সমপরিমাণ সময় এ অবস্থানে বসতেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। বলতেন—

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَاجْبُرْنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي وَارْفَعْنِي
আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াহদিনী ওয়াজবুরনী ওয়া 'আফিনী ওয়ারযুকনী ওয়ারফা'নী।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, সুপথে চালান, সমৃদ্ধ করুন, সুস্বাস্থ্য দিন, রিজিক দিন, আমার মর্যাদা উঁচু করুন।[২]

বিচারদিবসে মাখলুক যখন ভয়ার্ত অবস্থায় নিজের রায় শোনার অপেক্ষায় থাকবে, তখন আল্লাহর আরশের সামনে সুদীর্ঘ সিজদায় পড়ে থাকবেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। প্রশংসা, প্রার্থনা ও কান্নায় রত থাকবেন, কাঁদবেন নিজের উম্মাহর জন্য। যতক্ষণ না আল্লাহ বলেন, মাথা তুলুন, মুহাম্মাদ। চেয়ে নিন, মঞ্জুর করা হবে। সুপারিশ করুন, গ্রহণ করা হবে। সিজদা থেকে মাথা তুলে নবিজি আমাদের জন্য সুপারিশ করা শুরু করবেন। এ থেকে বোঝা যায়, সিজদায় যেমন দোয়া কবুল হয়, তেমনি এ থেকে ওঠার পরও কবুল হয়।[১]

ক্ষমা চাইতে চাইতেই আমরা প্রস্তুতি নিই দ্বিতীয় সিজদার। প্রতিপালক আল্লাহর নৈকট্য লাভের তৃষ্ণা তো কখনোই পুরোপুরি ঘোচে না। সর্বপ্রথম অবতীর্ণ সুরা আলাক শুরু হয় কিরাআত (পড়ো) দিয়ে আর শেষ হয় সিজদা দিয়ে। ঠিক যেভাবে সালাতের রাকআত শুরু ও শেষ হয়।

তাই প্রতিটি ইবাদতের আছে বিশেষ সৌন্দর্য ও অনন্য স্বাদ। যতই শিখব, ততই আস্বাদন করতে পারব সেগুলো। যত যা-ই হোক—
... هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ...
যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান?[২]

টিকাঃ
[১] সুরা জাসিয়াহ, আয়াত: ২৮-২৯
[২] সুনানুত তিরমিযি : ২৮৪; সুনানু আবি দাউদ: ৮৫০; সুনানু ইবনি মাজাহ : ৮৯৮; হাদিসটি সহিহ।
[১] সহিহ্বল বুখারি : ৭৪১০; সহিহ মুসলিম : ১৯৩
[২] সুরা যুমার, আয়াত : ৯

📘 হৃদয় জুড়ানো সালাত 📄 বিদায়বেলা

📄 বিদায়বেলা


এক রাকআত শেষ হয়ে গেলে দ্বিতীয় রাকআতের জন্য উঠুন। আগেরবার মনোযোগের ঘাটতি হয়ে থাকলে এবারই তা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ। এবার যেন আর বিনয়-একাগ্রতায় কোনো ত্রুটি না হয়।

আর যদি শেষ রাকআতে চলে এসে থাকেন, তবে তো এটিই বিদায়বেলা। বান্দা ও দয়াময় রবের মাঝে অনিন্দ্যসুন্দর সাক্ষাতের সুমিষ্ট সমাপ্তি। আমরা পৌঁছে গেছি তাশাহহুদে।

হাত রাখতে হবে হাঁটতে অথবা তার ঠিক ওপরে উরুতে। পুরো সাক্ষাতের মতোই শেষ বৈঠকও শুরু হবে আল্লাহর প্রচুর প্রশংসার মাধ্যমে। তাঁর চিরন্তন অস্তিত্ব, ত্রুটিহীনতা ও সার্বভৌমত্বের মহিমাকীর্তন করে। তাঁকে সরাসরি অভিবাদন জানিয়ে কথা বলুন গভীর সুন্দর কিছু শব্দে, আত্তাহিয়‍্যাতু লিল্লাহি (ٱلتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ), সকল তাহিয়্যাত (অভিবাদন-প্রশংসা-কীর্তন) শুধু এবং শুধুই আল্লাহর জন্য, আর কারো জন্য নয়।

ওয়ালাওয়াতু (ٱلصَّلَوَاتُ), আর আমাদের সকল দুআ ও সালাত তাঁর কাছে। ওয়ায়্যিবাতু (ٱلطَّيِّبَاث), আর সকল ভালো প্রচেষ্টা (কথা-কাজ) শুধু তাঁর জন্য। কারণ আল্লাহ শুধু উত্তম, পবিত্র ও একনিষ্ঠ জিনিসই কবুল করেন।

এরপর যে কথাগুলো বলবেন, সেগুলো পাহাড়সমুদ্র পাড়ি দিয়ে অন্য এক ভূখণ্ডে চলে যাবে। হাজার ক্রোশ দূরে একেবারে মদিনায়, যেখানে শায়িত আছেন আমাদের প্রিয় নবিজি। 'আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়ারহমাতুল্লহি ওয়াবারাকাতুহ” (اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ ); আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি, দয়া ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক আপনার প্রতি, হে নবি; প্রতিদিন যতবার আপনি এই বিশেষ অভিবাদন পাঠান, ততবার এর জবাব দেন তিনি। এ হাদিসটি দেখুন: নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখনই কেউ আমার প্রতি সালাত ও সালাম পাঠায়, তখনই আল্লাহ আমার রুহ ফিরিয়ে দেন যাতে তার ফিরতি সালাত ও সালাম জানাতে পারি। [১]

এই মুহূর্তে আপনার সবচেয়ে কাছে যে দরজাটা আছে, সেদিকে তাকান। মনে করুন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এইমাত্র প্রবেশ করছেন সেটা দিয়ে। নুরানি সুন্দর চেহারা, পরিপাটি করে বাঁধা পাগড়ি, সুগন্ধময় ধবধবে সাদা পোশাক। হৃদয়গলানো উন্ন হাসি ঠোঁটে। আজ তিনি একজনেরই সালামের জবাব দিতে এসেছেন, আর সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিটি হলেন আপনি! কেমন লাগবে তখন? কী বলবেন তাকে? উত্তেজনার বশে হয়তো মুখ দিয়ে কথাই বেরুবে না। অথচ ওপরের এই ভালোবাসাময় শব্দগুলো দিয়ে আপনি ঠিক এভাবেই রাসুলুল্লাহর সাথে কথা বলেন আর এই বিরল সম্মান আপনি পাচ্ছেন দিনে কমপক্ষে নয়বার!

কতজনেরই না ইচ্ছে হয়, ইশ! যদি নবিজির সাথে একই যুগে বাস করতে পারতাম। তাকে সরাসরি দেখতে পারতাম। ওপরের কথাগুলোর মাধ্যমে আমাদের এই ইচ্ছেরই বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাই প্রিয়নবিকে হৃদয় নিংড়ানো আবেগ সহকারে অভিবাদন জানাই, আসুন। যে অমূল্য আসমানি বার্তা তিনি এনেছেন, তার যথাযথ কৃতজ্ঞতা জানাই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার কথা তো স্মরণ করবেনই। তার পাশাপাশি মনে রাখবেন, আমরা এখন রাসুলুল্লাহর স্রষ্টা সেই অদ্বিতীয় সত্তা আল্লাহর সামনে। তাঁর প্রিয়পাত্র নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিবাদন ও সালাম জানাচ্ছেন দেখে আল্লাহ আপনাকে দিয়ে দিলেন তারও দশগুণ রহমত-বরকত!

আল্লাহ ও নবিজির পর আমরা এবার সালাত ও সালাম পাঠাব নিজেদের প্রতি। সেইসাথে আল্লাহর সকল সৎকর্মশীল দাসের প্রতি।
'আসসালামু আলাইনা ওয়া 'আলা 'ইবাদিল্লাহিস সলিহীন (السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّلِحِين অর্থাৎ ‘শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সকল নেককার বান্দার ওপর।' হোক সে বান্দা জমিনের অধিবাসী বা আসমানের, মানুষ বা ফেরেশতা।

এরপর তাওহিদের সেই শক্তিশালী বাণী দিয়ে নবায়ন করব আমাদের ঈমান ও ইখলাস।
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু ; (أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ) (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার শেষ কথা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সে জান্নাতে যাবে।[১] তাই ওপরের কথাগুলো রীতিমতো জান্নাতের টিকিট।

অবশেষে চমৎকার এই সাক্ষাৎ যখন সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে, এ সময় দুআ কবুল করা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। তাই প্রথমে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবারের প্রতি দরুদ পড়ে নিন। তারপর পড়ুন হাদিসে আসা বিভিন্ন দুআ, যেখানে আমাদের প্রতিটি প্রয়োজনের কথাই বলা হয়েছে।

তারপর ডানে-বামে ফিরে দুইবার সালাম দিন আপনার সাথের ব্যক্তিদের। এসময় আপনার এক গভীর প্রশান্তি ও স্নিগ্ধতার অনুভূতি হওয়া চাই। যদি না হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার হৃদয় স্থির হয়ে গেছে। এটি আপনারই বদ আমলের প্রভাব। এর ফলে রবের সাথে সৃষ্টি হয়েছে আপনার দূরত্ব। অন্তরের ত্রুটির জন্য সালাত শেষে তাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান, কমপক্ষে তিনবার। তারপর উঠে দাঁড়ান সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য। আল্লাহপ্রদত্ত শান্তি উপভোগের এটি আরো একটি সুযোগ। আল্লাহর প্রতি আপনার ভালোবাসা যত বাড়বে আর যতই তাঁর নৈকট্য লাভ করবেন, আপনার অন্তর ততই হয়ে উঠবে বিনয় ও একাগ্রতায় সজীব। এটা সবসময় মনে রাখবেন। ফলে বাড়বে আপনার মনোযোগ। আস্বাদন করতে পারবেন সালাতের সত্যিকার সৌন্দর্য।

টিকাঃ
[১] সুনানু আবি দাউদ: ২০৪১; হাদিসটি গ্রহণযোগ্য।
[১] সুনানু আবি দাউদ : ৩১১৬; হাদিসটি সহিহ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px