📘 হযরত ঈসা আঃ এর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন > 📄 রিসালত আল নূর এর বর্ণনা

📄 রিসালত আল নূর এর বর্ণনা


বদিউজ্জামান সৈয়দ নূরসীর রিসালাত আল নূর গ্রন্থে হযরত ঈসা (আঃ) এর পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আগমনের ব্যাপারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোরআন ও হাদীসের আলোকে বলা যায় যে, কিভাবে আখেরী জমানায় হযরত ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করবেন। তিনি কিভাবে খৃষ্টানদের সঠিক ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসরণ করে তাদের ভ্রান্ত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পরিত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে তাঁকে অনুসরণ করার কথা উল্লেখ করবেন, কিভাবে মুসলমান ও খৃষ্টানগণ একত্রিত হয়ে একযোগে কাজ করবে এবং কিভাবে হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) সমগ্র বিশ্বে ইসলামী ধর্মীয় মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনবেন ইত্যাদি।

রিসালত আল নূর পুস্তকে জনাব বদিউজ্জামান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত ঈসা (আঃ) স্বয়ং আখেরী জামানায় এই পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করবেন। “সম্মিলিত ব্যক্তিত্ব” এর মতবাদ হযরত ঈসা (আঃ) এবং হযরত মাহদী (আঃ) এর মত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না, যা কোরআনে বর্ণিত আল্লাহ তাআলার আইনের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য। কোনো পয়গম্বর বা নবী সম্মিলিত ব্যক্তিত্ব নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেন না। কোরআনে বর্ণিত আল্লাহ তাআলার অমোঘ বিধান অনুযায়ী নবীগণ অদৃশ্য বা আধ্যাত্মিক সত্ত্বা হিসাবে ধর্ম প্রচার করেন নাই, বরং রক্তমাংসের মানুষ বা ব্যক্তি হিসেবে এই কাজ সমাধা করেছেন। বদিউজ্জামান বলেছেন, হযরত ঈসা (আঃ) ও ইমাম মাহদী (আঃ) ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে ঈমানদারদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব ও দিক নির্দেশনা দিবেন।

দজ্জাল (Anti-Christ) সম্পর্কে বদিউজ্জামান বর্ণনা করেছেন যে, সে সম্মোহনী শক্তি, কালো যাদু এবং বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে বহু লোককে তার অনুগত বানাতে সক্ষম হবে। দজ্জালের এই ভয়াবহ ফিতনা থেকে মানবজাতিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন এমন একজন মহান ব্যক্তি যিনি বিশেষভাবে আশীর্বাদপ্রাপ্ত এবং আল্লাহর অনুগ্রহে অলৌকিক কার্যাবলী ঘটাতে পারদর্শী হবেন—তিনি হলেন হযরত ঈসা (আঃ)। হাদীসের বর্ণনা মতে, হযরত ঈসা (আঃ) যখন আল্লাহর দুশমন দজ্জালকে দেখবেন, তখন সে লবণের মতো পানিতে গলে গিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।

বদিউজ্জামান আরও উল্লেখ করেছেন যে, হযরত ঈসা (আঃ) যখন পৃথিবীতে প্রথম প্রত্যাবর্তন করবেন, তখন সাধারণ মানুষ তাকে চিনতে সক্ষম হবে না। শুধুমাত্র তাঁর কাছের একনিষ্ঠ অনুসারীরা তাদের ঈমানের প্রখর আলোতে তাঁকে চিনতে পারবেন। তিনি হযরত ইমাম মাহদী (আঃ)-এর পিছনে নামাজ আদায় করবেন, যা ইসলাম ধর্মীয় নৈতিক মূল্যবোধের বিশ্বব্যাপী বিজয়ের একটি বড় নিদর্শন। আল্লাহর ইচ্ছায় খৃষ্ট ধর্ম তার বিদ্যমান ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়ে ইসলামের মূল ধারায় ফিরে আসবে এবং মুসলমান ও খৃষ্টানরা ঐক্যবদ্ধভাবে নাস্তিক্যবাদ ও ধর্মদ্রোহিতার বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামে বিজয়ী হবে।

টিকাঃ
১. সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০৭৭।
২. আল কওল আল মুস্তাদাসর ফি আলামত আল মাহদী আল মুনতাজার, পৃ-২৫।
৩. Treatise on the second coming of the Messiah, Istanbul: Ekmel Publishers, GP 121।
৪. মুহাম্মদ ইবন আব্দ আর রসুল বারজানী, আল ইসাহ্ আহলি আশরাত আস্সাহ, পৃ-২৯৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00