📄 একজন ত্রাণকর্তার জন্য বিপদগ্রস্থ আবেরদের প্রার্থনা
তোমাদের কি হইল যে, তোমরা যুদ্ধ করিবে না আল্লাহর পথে এবং অসহায় নরনারী এবং শিশুগণের জন্য, যাহারা বলে, 'হে আমাদের প্রতিপালক, এই জনপদ- যাহার অধিবাসী জালিম/সীমালংঘনকারী, উহা হইতে আমাদিগকে অন্যত্র লইয়া যাও, তোমার নিকট হইতে আমাদের জন্য অভিভাবক নিয়োগ কর এবং তোমার নিকট হইতে আমাদিগকে সহায়তা কর।
(সুরা নিসা-৭৫)
কোরআন থেকে আমরা জানতে পারি যে, কোন রাসূল বা পয়গম্বর প্রেরণের পূর্বে সমাজে প্রচলিত, নৈতিক অবক্ষয় এক চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। তখন কোন পয়গম্বর সমাজে আগমন করেন। তাঁর অনুসারীরা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে সংগ্রামরত থাকা সত্ত্বেও একটি সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধশালী জীবন যাপন করে। এই আশীর্বাদপুষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কিছু সংখ্যক লোক, এই আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় পথ থেকে বিচ্যুত হয়। আবার কেহ কেহ বিদ্রোহ ঘোষণা করে খোদাদ্রোহিতা বা নাস্তিক্যের পর্যায়ে উপনীত হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে আবার আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে উপাস্য স্থির করে নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করে মহা বিভ্রান্তির শিকার হয়।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে তাঁর প্রতিনিধি নবী ও রাসূলদের তাঁর প্রতি আনুগত্য, বিশ্বস্ততা, আন্তরিকতা সর্বোপরি তাদের খোদাভীরুতার প্রশংসা করে কিভাবে তাদের নবী পরবর্তী প্রজন্ম ঈমানহারা হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। যখন তাদের খেয়াল-খুশী, লোভ, লালসা প্রবৃত্তির দাসত্ব করার ফলে তারা নৈতিক মূল্যবোধ থেকে বহুদূরে চলে যায়।
এ বিষয়টি পবিত্র কোরআনে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে:
ইহাই তাহারা, নবীদের মধ্যে যাহাদিগকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। আদমের বংশ হইতে ও যাহাদিগকে আমি নুহের সহিত নৌকায় আরোহণ করাইয়াছিলাম এবং ইবরাহীম ও ইসমাইলের বংশোদ্ভূত ও তাহাদিগকে আমি পথ নির্দেশ করিয়াছিলাম ও মনোনীত করিয়াছিলাম, তাহাদের নিকট দয়াময়ের নিকট হইতে কিছু আবৃত্তি করা হইলে তাহারা সিজদায় লুটাইয়া পড়িত ক্রন্দন করিতে করিতে। উহাদের পরে আসিল অপদার্থ পরবর্তীগণ। যাহারা সালাত বিনষ্ট করল ও তাদের লালসা প্রবল হইল। সুতরাং অচিরেই উহারা তাহাদের কু-কর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে। (সুরা মরিয়াম ৫৮-৫৯)
আল্লাহ প্রদত্ত ঐ দায়িত্ব পালনে যে সমস্ত লোক অবহেলা করেছে, তারা আল্লাহ তাআলার ক্রোধের বা গজবের শিকার হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের দুর্ভোগের আকারে যা তাদের জীবনে প্রবেশ করে তাদের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলেছে। তারা আল্লাহর কৃপা বা অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, যে আমার স্মরণে বিমুখ থাকিবে, অবশ্যই তাহার জীবন হইবে সংকুচিত এবং আমি তাহাকে কেয়ামতের দিন উত্থিত করিব অন্ধ অবস্থায় (সুরা- ত্বহা-১২৪)। তাই তারা বিভিন্ন ধরনের দুঃখ কষ্ট ও দুর্ভোগের শিকার হবে যেমন দ্রব্য সামগ্রীর দুষ্প্রাপ্যতা, অভাব, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা বা নৈতিক ক্ষয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে সৃষ্টি হবে। ধর্মবিহীন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যারা ঐশী নির্দেশনা তথা ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি উদ্ধত আচরণ করে, তারা বিভিন্ন ধরনের অবিচার, চাপ ও নির্যাতনের শিকার হয়। কোরআনে বর্ণিত ফিরাউনের সময়কালের সামাজিক নির্যাতন এমন পরিস্থিতির একটি বাস্তব উদাহরণ। ফিরাউন তার পার্থিব বিজয়ের ও শক্তির গর্বে মত্ত থাকত এবং অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবন যাপন করত। অন্যদিকে তার প্রজাসাধারণ তার একনায়কতন্ত্রের চাপে এক দুর্বিষহ জীবন যাপনে বাধ্য হত। কোরআনে বিষয়টি এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
ফিরাউন দেশে পরাক্রমশালী হইয়াছিল এবং তথাকার অধিবাসীবৃন্দকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করিয়া উহাদের একটি শ্রেণীকে সে হীনবল করিয়াছিল। উহাদের পুত্র সন্তানগণকে সে হত্যা করিত এবং কন্যা-সন্তানকে জীবিত থাকিতে দিত। সে তো ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারী।
(সুরা আল কাসাস-৪)
এ ধরনের পরিস্থিতিতে জনগণ তার জুলুমবাজ নেতৃত্বের কারণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যায় পতিত হয়। তখন একজন ত্রাণকর্তার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভূত হয়। খোদার নির্দেশের প্রতি অবজ্ঞা ও ধর্মীয় বিচ্যুতির কারণে সমাজ ব্যবস্থায় যে অর্থনৈতিক বঞ্চনা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, অবিচার ও অনাচার সৃষ্টি হয় এই ত্রাণকর্তা তা অপসারণ করে জনগণকে আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি আনুগত্য সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজে শান্তি, ন্যায় বিচার ও নিরাপত্তা বিধান করেন।
হযরত মুসা (আঃ) এর পরবর্তী যুগে বনি ইসরাইলগণ তাদের স্বৈরশাসক নেতাদের জুলুম ও অত্যাচারে জর্জরিত হয়েছিলেন। তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ী থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের ভূমি থেকে উৎখাত করা হয় এবং তারা সকল ধরনের অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়ে অতি কষ্টে কালাতিপাত করতে থাকেন। যে সব উপাস্য তারা নির্বাচন অথবা নির্ধারণ করছে তা অথবা তাদের ধনসম্পদ অথবা তাদের মহান পূর্বপুরুষগণ তাদের কোন উপকারেই আসে নাই এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করার পর বনি ইসরাইলগণ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একজন রাজা তথা ত্রাণকর্তা প্রেরণের জন্য প্রার্থনা করে, যিনি তাদেরকে এই নিষ্ঠুর ও অমানবিক পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার বা মুক্ত করবেন।
আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন নাই:
কোরআনে বর্ণিত বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে আমরা দেখতে পাই যে, অতীতের সকল সভ্যতাই তাদের পয়গম্বরদের বিরোধিতা করেছে এবং সকলকেই একই ধরনের দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে। এই সব সভ্যতার জনগণ যে ধরনের লাগামহীন জীবনযাপন করেছে তাই তাদেরকে সতর্ক করার জন্য আল্লাহু নবী রসুল প্রেরণ করেছেন এবং তারা তাদের পয়গম্বরদের প্রদর্শিত জীবনযাত্রা অস্বীকার করেছে বা তাঁর অবাধ্য হয়েছে তাদের একই ধরনের প্রক্রিয়ায় উৎখাত বা ধ্বংস করা হয়েছে।
আধুনিক সমাজব্যবস্থায়ও অতি দ্রুত ব্যাপকভাবে দুর্নীতি, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে। দারিদ্র্য, দুঃখকষ্ট ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে ফেলেছে। তাই তারা শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক জীবন, অর্থাৎ যেখানে নৈতিক মূল্যবোধ, ন্যায় বিচার ও পুণ্য বিরাজ করবে এমন ধরনের সমাজ ব্যবস্থার জন্য প্রচন্ডভাবে আগ্রহান্বিত হয়ে পড়েছে। কোরআনের নৈতিক মূল্যবোধ যে সমাজে বিরাজমান থাকে সেই সমাজে কেবল ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। বর্তমান সমাজের সকল ধরনের অবিচার, অন্যায় ও দুঃখ-কষ্ট দূর করার একমাত্র পথ হল সঠিকভাবে ও পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে ধর্মীয় নৈতিকতা ও পুণ্য বজায় রাখা। প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের পরিস্থিতিতেই আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী সভ্যতা সমূহে নবী বা রাসূল প্রেরণ করে সেই জাতিকে উদ্ধার করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা কখনও কখনও তাদের প্রতি অযাচিত কৃপা ও করুণা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের ভয়াবহ সামাজিক নৈরাজ্য থেকে রক্ষা করেছিলেন।
এই ব্যাপারটি কোরআনের ভাষায়:
যদি সেই সকল জনগণের অধিবাসীবৃন্দ ঈমান আনয়ন করিত ও তাকওয়া অবলম্বন করিত তবে আমি তাহাদের জন্য আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সকল কল্যাণ উন্মুক্ত করিতাম। কিন্তু তাহারা তা প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল। সুতরাং তাহাদের কৃতকর্মের জন্য তাহাদিগকে শাস্তি দিয়াছি।
(সুরা আল আরাফ-৯৬)
পবিত্র কোরআনের এই আয়াত ও অন্যান্য আয়াতের মাধ্যমে এটা নিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে, আল্লাহ তাআলার নিকট থেকে দোয়া ও করুণা, শান্তি প্রাপ্তির একটি এবং শুধুমাত্র একটিই পদ্ধতি রয়েছে তা হল- ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ ও নিবিড়ভাবে অনুসরণ করা বা মেনে চলা। পূর্ববর্তী সমাজে যেমন এই বিধান চালু ছিল, তা বর্তমান এবং অনাগত সকল সভ্যতার জন্য এটি সমভাবে প্রযোজ্য হয়েছে, হচ্ছে এবং হতে থাকবে। ইসলামের জীবন দর্শন থেকে বঞ্চিত গোষ্ঠী অবশ্যই অবিচার, নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার হবে। এটাই আল্লাহর স্থায়ী বিধান। আর এই আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন নাই, যা পবিত্র কোরআনে বর্ণনা করা হয়েছে:
কিন্তু ইহাদের নিকট যখন পয়গম্বর আসিল, তখন তাহা কেবল উহাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি করিল। পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে। কূট ষড়যন্ত্র উহার উদ্যোক্তাদিগকেই পরিবেষ্টন করে। তবে কি ইহারা প্রতীক্ষা করিতেছে পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রযুক্ত বিধানের? কিন্তু তুমি আল্লাহর বিধানের কখনও কোন পরিবর্তন পাইবে না এবং আল্লাহর বিধানের কোন ব্যতিক্রমও দেখিবে না।
(সুরা ফাতির ৪২-৪৩)
কোরআন অনুযায়ী ইসলাম ধর্ম পালন:
পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহ তাআলা জনগণকে নাস্তিক্যতাবাদ ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে মুক্তি ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে নবী রসুল প্রেরণ করেন। এই পয়গম্বরগণ তার জনগণকে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন, খোদাভীতি, ঐশী প্রেম শিক্ষা দিয়ে থাকেন। এই জনগোষ্ঠী যদি আল্লাহর রসুলের শিক্ষা অনুসরণ করতে অস্বীকৃতি প্রদানে বা তাঁকে অমান্য করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়, তাহলে সেই নবী বা রাসূল আল্লাহর ক্রোধ বা শাস্তির ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করে দেন। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ঘোষণা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা কোন জাতিকে সতর্ক না করে তাদের কোন শাস্তি প্রদান করেন নাই বা ধ্বংস করেন নাই।
কোরআনে বর্ণিত হয়েছে: আমি এমন কোন জনপদ ধ্বংস করি নাই যাহার জন্য সতর্ককারী ছিলনা। ইহা উপদেশ স্বরূপ, আর আমি অন্যায়কারী বা জুলুমবাজ নই। (সূরা আস শুয়ারা- ২০৮-২০৯)
বর্তমানে আমরা যে যুগে বসবাস করছি সেই সমাজ ব্যবস্থার দিকে লক্ষ্য করলে ব্যাপক সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক ও বাহ্যিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যাপক অধঃপতন দেখতে পাওয়া যায়। ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান পীড়াদায়ক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সামাজিক অনাচার ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে। এই অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় অতিবাহিত হওয়ার পরই হযরত ঈসা (আঃ) এর আগমন ও ইমাম মাহদী (আঃ) এর আবির্ভাব ঘটবে। আল্লাহর মনোনীত সত্য ধর্মই সমস্ত বিশ্বে বিজয়ী হবে ও অন্যান্য সকল অধর্ম বাতিল হয়ে যাবে। সত্যিকার মুমিন বান্দাদের আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এরই সুসংবাদ প্রদান করেছেন:
তাহারা তাহাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর জ্যোতি নির্বাপিত করিতে চাহে। কাফিরগণ অপ্রীতিকর মনে করিলেও আল্লাহ তাহার জ্যোতির পূর্ণ উদ্ভাসন ব্যতীত অন্য কিছু চাহেন না। মুশরিকরা অপ্রীতিকর মনে করিলেও অপর সমস্ত দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করবার জন্য তিনি পথ নির্দেশ ও সত্য দ্বীনসহ তাহার রাসূল প্রেরণ করিয়াছেন। (সূরা তওবা-৩২-৩৩)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের সূরা নূর এ প্রকৃত ঈমানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যারা আল্লাহর একত্বের প্রতি অবিচল থেকে সৎকর্মে নিবেদিত থাকে এবং শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিই কামনা করে থাকে, তবে তাদেরকে ক্ষমতায়ন বা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা হবে যেমনটি অতীতেও করা হয়েছিলো:
তোমাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাহাদিগকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাহাদিগকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন। যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাহাদের পূর্ববর্তী দিগকে এবং তিনি অবশ্যই তাহাদের জন্য প্রতিষ্ঠা করবেন তাহাদের দ্বীনকে, যাহা তিনি তাহাদের জন্য পছন্দ করিয়াছেন এবং তাহাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে তাহাদিগকে নিরাপত্তা দান করিবেন। তাহারা আমার ইবাদত করিবে। আমার কোন শরীক করিবে না। অতঃপর যাহারা অকৃতজ্ঞ হইবে তাহারা তো সত্যত্যাগী। (সূরা নূর-৫৫)
পবিত্র কোরআনের উক্ত আয়াত থেকে আমরা ইসলাম প্রচারের পূর্বশর্ত জানতে পারলাম, আর তা হল সমাজে এমন ধরনের ঈমানদারদের উপস্থিতি যারা শিরকবিহীন ইবাদতে নিবেদিত হয়ে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সৎকর্ম করে থাকে।
ইতিহাসের প্রতিটি যুগেই আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রকৃত বান্দাদের ঠিকই সাহায্য করে থাকেন, যারা তাঁর সাহায্যের প্রকৃত প্রত্যাশী বা যাদের প্রথম ও শেষ আশ্রয়স্থল হল শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলা। এই অমোঘ বিধান অতীতে যেমন কার্যকর ছিল, বর্তমানে তেমনি কার্যকর রয়েছে, ভবিষ্যতেও একইভাবে তা কার্যকর থাকবে। আল্লাহ তাআলা বর্তমান সমাজে খোদাদ্রোহিতার আলোকে সৃষ্ট অনাচার অবিচার থেকে তাঁর বান্দাদের অবশ্যই রক্ষা করবেন।
ইসলামিক বিশ্ব বর্তমানে যে বিপদসংকুল পরিস্থিতিতে রয়েছে তা থেকেও আল্লাহ উদ্ধার করবেন। হাদীসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারে তা সন্নিকটে। প্রত্যেক যুগের মত এ যুগেও লোকে বিশ্বাস করে যে, তাদের উদ্ধারের জন্য একজন ত্রাণকর্তা আগমন করবেন। এই ত্রাণকর্তা যিনি মানব জাতিকে পাপ-পঙ্কিল অন্ধকার জগত থেকে উদ্ধার করে পুণ্যময় আলোকোজ্জ্বল পথে নিয়ে যাবেন। আর এই পথ হল ইসলাম। হযরত ঈসা (আঃ) ও ইমাম মাহদী (আঃ) যারা উন্নত জীবন যাপনের মাধ্যমে তাঁরা মানুষকে বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে যে সব খোদাদ্রোহিতার মতবাদ ইজম বা তত্ত তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে সেগুলো ধ্বংস করবেন।
আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, যারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে, তাঁকে ভালবাসে, ভয় করে, তাদেরকে তিনি সাহায্য করে থাকেন। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে:
"তাহাদিগকে তাহাদের ঘরবাড়ী হইতে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হইয়াছে শুধু এই কারনে যে, তাহারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্যদল দ্বারা প্রতিহত না করিতেন, তাহা হইলে বিধ্বস্ত হইয়া যাইত খৃষ্টান সংসার, বিরাগীদের উপাসনা স্থান গির্জা, ইয়াহুদীদের উপাসনালয় এবং মসজিদ সমূহ, যাহাতে অধিক স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাহাকে সাহায্য করেন যে তাহাকে সাহায্য করে। আল্লাহ নিশ্চয়ই শক্তিমান ও পরাক্রমশালী" (সুরা হজ্জ ৪০-৪১)
📄 হযরত ঈসা (আঃ) এর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন
পবিত্র কোরআনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে হযরত ঈসা (আঃ) এর এই পৃথিবীতে পুনরাগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং এ ব্যাপারে বহু প্রমান রয়েছে।
প্রথম প্রমানঃ সুরা আল ইমরানের ৫৫ আয়াতে আল্লাহ বলেন, "আর আমি তোমার অনুসারীদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপর প্রাধান্য দিতেছি।" এখানে হযরত ঈসা (আঃ) এর একনিষ্ঠ অনুসারী বলতে তাদের বোঝানো হয়েছে যারা আখেরী জমানায় তাঁর পুনরাগমনের পর তাঁর অনুসারী হবে। আল্লাহর নবী ও শেষ পয়গম্বর (সঃ) হযরত ঈসার (আঃ) প্রত্যাবর্তনের সুসংবাদ দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূল (সঃ) বলেছেন: "কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রান। মরিয়ম (আঃ) তনয় অবশ্যই শীঘ্রই তোমাদের মধ্যে অবতরন করে একজন ন্যায়বান বিচারক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবেন।"
দ্বিতীয় প্রমানঃ সুরা নিসার ১৫৯ আয়াতে আল্লাহ বলেন, "কিতাবীদের মধ্যে প্রত্যেকে নিজেদের মৃত্যুর পূর্বে তাহাকে বিশ্বাস করিবেই এবং কিয়ামতের দিন সে তাহাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে।" এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, হযরত ঈসা (আঃ) এর দ্বিতীয়বার আগমনের পর এবং তাঁর কায়িক মৃত্যুর পূর্বে সকল আহলে কিতাবগণ তাঁর উপর ঈমান আনবে এবং সমগ্র বিশ্বে ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধের বিজয় সূচিত হবে।
তৃতীয় প্রমানঃ সুরা যুখরুফের ৬১ আয়াতে বর্ণিত আছে, "ঈসা কিয়ামতের নিশ্চিত নিদর্শন। সুতরাং তোমরা কিয়ামতে সন্দেহ করিওনা এবং আমাকে অনুসরন কর।" কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার ৬০০ বছর পূর্বে তাঁর প্রথম আগমন ঘটেছিল, তাই তাঁর পুনরাগমনই কেয়ামতের আলামত হিসাবে গণ্য।
চতুর্থ প্রমানঃ সুরা আলে ইমরান ও সুরা মায়িদার বিভিন্ন আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ হযরত ঈসাকে (আঃ) কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইনজিল শিক্ষা দিবেন। এখানে 'কিতাব' বলতে অনেক মুফাসসির কোরআনকে বুঝিয়েছেন। এটি তখনই সম্ভব যদি তিনি কোরআন নাজিল হওয়ার পর পুনরায় পৃথিবীতে আসেন। হাদীসেও বলা হয়েছে, যখন হযরত ঈসা (আঃ) দ্বিতীয়বার দুনিয়ায় আগমন করবেন তিনি ইনজিল নয় বরং কোরআন দিয়ে শাসনকার্য পরিচালনা করবেন।
পঞ্চম প্রমানঃ সুরা আল ইমরানের ৫৯ আয়াতে বলা হয়েছে, "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ঈসার উদাহরন তো আদমের উদাহরনের মতই।" হযরত আদম (আঃ) যেমন বেহেশত থেকে পৃথিবীতে এসেছিলেন, হযরত ঈসাও (আঃ) আল্লাহর সান্নিধ্য থেকে আখেরী জামানায় পৃথিবীতে অবতরন করবেন।
ষষ্ঠ প্রমানঃ সুরা মরিয়মের ৩৩ আয়াতে ঈসা (আঃ) বলেন, "আমার প্রতি শান্তি যে দিন আমি জন্মলাভ করিয়াছি, সেদিন আমার মৃত্যু হইবে এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় উত্থিত হইব।" এই আয়াতে তাঁর যে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, তা হবে তাঁর দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আগমনের পর।
সপ্তম প্রমানঃ সুরা মায়িদা ও সুরা আল ইমরানে উল্লিখিত "কাহলান" শব্দটি। এর অর্থ হলো পরিণত বয়স (৩০-৫০ বছর)। হযরত ঈসা (আঃ) যৌবনকালেই উর্ধাকাশে গমন করেছিলেন। সুতরাং পৃথিবীতে পুনরাগমনের পরেই তিনি এই পরিণত বয়সে পৌঁছাবেন এবং জনগণের সাথে কথা বলবেন।
পবিত্র কোরআনে এমন ঘটনার উদাহরণ রয়েছে যেখানে মৃত ব্যক্তি বা ঘুমন্ত ব্যক্তি দীর্ঘকাল পর পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। যেমন সুরা বাকারার ২৫৯ আয়াতে বর্ণিত এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ১০০ বছর মৃত রাখার পর পুনর্জীবিত করেছিলেন। আবার সুরা কাহাফে আসহাবে কাহাফের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যারা ৩০০ বছরের বেশি সময় গুহায় ঘুমিয়ে থাকার পর পুনরায় জাগ্রত হয়েছিলেন। অনুরূপভাবেই হযরত ঈসা (আঃ) যখন পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, তখন তিনি স্বাভাবিক জীবনে প্রবেশ করবেন এবং আল্লাহপ্রদত্ত দায়িত্ব পালন শেষে মৃত্যুবরণ করবেন।
📄 হযরত ঈসা (আঃ) এর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে আল হাদীস
হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহর সান্নিধ্যে জীবিত অবস্থান করছেন এবং আখেরী জমানায় দুনিয়ায় পুনরায় আগমন করবেন—এ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বিভিন্ন হাদীস সংকলনে উল্লেখ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রাঃ) 'আল ফিকাহ আল আকবর' গ্রন্থে লিখেছেন: দজ্জাল, ইয়াজুজ ও মাজুজ এর আগমন এবং হযরত ঈসার (আঃ) বেহেশত থেকে অবতরন বাস্তব সত্য। হযরত ঈসা (আঃ) এর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক হাদীসসমূহ 'তাওয়াতুর' পর্যায়ের, যা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
সহীহ বোখারী ও মুসলিমের বিভিন্ন হাদীসে বলা হয়েছে: "হযরত মরিয়ম পুত্র ঈসা (আঃ) অচিরেই তোমাদের মধ্যে ন্যায়পরায়ন শাসক হিসাবে অবতরন করবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন এবং জিজিয়া কর বাতিল করবেন।" তিনি পৃথিবীতে ৪০ বৎসর অবস্থান করবেন এবং তাঁর সময়ে পৃথিবীতে নজিরবিহীন শান্তি ও প্রাচুর্য বিরাজ করবে।
হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) এই শতাব্দীতেই আগমন করবেন বলে অনেক ওলামায়ে কেরাম মত প্রকাশ করেছেন। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা প্রতি শতকের শুরুতে একজন সংস্কারক প্রেরণ করেন। বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী ইসলামী বর্ষপঞ্জীর ১৪০০ হিজরীর পরবর্তী সময়ে ইমাম মাহদী ও হযরত ঈসার (আঃ) আবির্ভাব ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
দজ্জাল (Anti-Christ) হবে আখেরী জমানার সবচেয়ে বড় ফিতনা। সে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে মানুষকে ঈমানহারা করবে। আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) দজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য বিশেষ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। হাদীসে বর্ণিত আছে, হযরত ঈসা (আঃ) যখন পৃথিবীতে অবতরন করবেন, তখন তিনি লুদ (Ludd) নামক স্থানে দজ্জালকে দেখতে পাবেন এবং তাকে ধ্বংস করবেন। হযরত ঈসাকে দেখে দজ্জাল এমনভাবে গলে যাবে যেমন লবন পানিতে গলে যায়।
হযরত ঈসা (আঃ) এর আগমনের পর বিশ্বে সত্য ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। মুসলিম ও প্রকৃত খৃষ্টানরা একতাবদ্ধ হয়ে দজ্জালের সকল অপশক্তিকে পরাজিত করবে। এই ঐতিহাসিক যুগ সন্ধিক্ষণের জন্য মুমিনদের আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।
টিকাঃ
১. মুহাম্মদ ইবন আব্দ আর রসুল বারজানী, আল ইসাহ্ আহলি আশরাত আস্সাহ, The Portents of the Doomsday, পৃ-২৯৯।
২. সুযুতী আল কাসকু আন মুজেয়াবাতী হাজিহিল উম্মাহ আল আলফু আল হায়ী লিল কাতাই; ২/২৪৮।
৩. তকসীর রহুল বায়ান বাসায়ী ৪/২৬২।
৪. আহমদ বিন হাম্বল, কিতাব আল ইলাল, পৃ-৮৯।
📄 হযরত ঈসা (আঃ) এর পরিচয়
হযরত ঈসা (আঃ) যখন পৃথিবীতে আগমন করবেন, তখন তাঁর চরিত্র ও কার্যকলাপ পবিত্র কোরআন ও হাদীসের বর্ণনার সাথে হুবহু মিলে যাবে। নিষ্ঠাবান ঈমানদারগণ, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাসী, তারা আল্লাহর দেওয়া সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী জ্ঞানের (ফুরকান) মাধ্যমে তাঁকে চিনতে সক্ষম হবেন। বদিউজ্জামান সাইয়েদ নূরসী বলেন, তাঁর অবতরণের পর তিনি যে প্রকৃতপক্ষে পয়গম্বর হযরত ঈসা (আঃ), এটি শুধু তারাই বুঝতে পারবেন যাদের ঈমানের আলো অত্যন্ত প্রখর।
হযরত ঈসা (আঃ)-কে চেনার জন্য প্রধানত নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষণীয় হবে:
১. অসাধারণ নৈতিক মূল্যবোধ: তিনি আল্লাহর প্রতি নিবেদিত, বলিষ্ঠ এবং সাহসী একজন প্রকৃত মুমিন হবেন। তাঁর উন্নত চারিত্রিক মাধুর্য তাঁর অনুসারীদের উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করবে।
২. চেহারার অভিব্যক্তি: তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং শারীরিক শক্তিতে তিনি শ্রেষ্ঠ হবেন। তাঁর খোদাভীরুতা ও ঈমানের দীপ্তি মুখমন্ডলে বিরাজ করবে, যা দেখে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে যে তারা একজন অতি অসামান্য ব্যক্তিত্বের সম্মুখীন হয়েছে।
৩. অসাধারণ প্রজ্ঞা ও বাগ্মিতা: আল্লাহ তাঁকে অসামান্য হিকমত ও বাগ্মিতা দান করেছেন। তিনি অত্যন্ত বিজ্ঞজনোচিত ফয়সালাকারী হবেন এবং তাঁর যুক্তিপূর্ণ কথাবার্তা মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিবে।
৪. বিশ্বস্ততা: সকল নবীর ন্যায় তিনিও হবেন চরম বিশ্বস্ত। তাঁর সত্যবাদিতা ও আল্লাহর প্রতি একাগ্রতা শীঘ্রই জনগণের নিকট প্রকাশিত হবে।
৫. আল্লাহর নিরাপত্তা বলয়: হযরত ঈসা (আঃ) যা করবেন তা-ই সফলতার মুখ দেখবে। আল্লাহর বিশেষ সাহায্যে তিনি সকল ষড়যন্ত্র থেকে সুরক্ষিত থাকবেন এবং তাঁর প্রতিটি মিশন নিশ্চিত বিজয় লাভ করবে।
৬. কোনো প্রতিদান প্রত্যাশা করবেন না: তিনি বিশ্ববাসীকে সত্যের পথে আহ্বান জানাবেন কিন্তু এর বিনিময়ে কোনো পার্থিব লাভ বা পারিশ্রমিক চাইবেন না। তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, হযরত ঈসা (আঃ) যখন পৃথিবীতে পুনরায় আগমন করবেন, তখন এই পৃথিবীতে তাঁর কোনো আত্মীয়, পরিবার বা পরিচিত বন্ধু থাকবে না। তাঁর মাতা হযরত মরিয়ম (আঃ) এবং পূর্ববর্তী সকল পরিচিত ব্যক্তি দুই হাজার বছর পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন। তিনি পৃথিবীতে হঠাৎ করেই আবির্ভূত হবেন, যার কোনো শৈশব বা বংশীয় ইতিহাস তৎকালীন মানুষের নিকট থাকবে না। এটিই তাঁকে মিথ্যা মসীহ বা প্রতারকদের থেকে আলাদা করে চেনার প্রধান মাধ্যম হবে।