📄 রিসালত আল নূর এর বর্ণনা
১৩ শতকের মুজাহিদ বা সংস্কারক বদিউজ্জামান সাইয়েদ নুসরী তার বিভিন্ন লেখনীতে মুসলমানদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমন এবং সমগ্র বিশ্বে ইসলামিক মূল্যবোধের প্রাধান্যে তাঁর ভূমিকার কথা বর্ণনা করেছেন। কেহ কেহ মনে করেন যে, ইমাম মাহদী (আঃ) এর সম্পর্কে প্রকাশ্যে আলোচনা করা সঠিক নয় বা এটা আপত্তিকর। এ ব্যাপারে বদিউজ্জামান বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে মাহদী বিষয়ক আলোচনা ব্যাপক, বিস্তৃত এবং গোপনে আলোচনার পরিবর্তে প্রকাশ্যে বা জনসমক্ষে আলোচনা করা উচিত।
হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমন সম্পর্কিত সুসংবাদ স্বয়ং মহানবী (সাঃ) বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন ভাষায় বর্ণনা করেছেন, যা আমরা বিভিন্ন হাদীসের মাধ্যমে জানতে পারি। কোনো একটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, ইমাম মাহদী (আঃ) সম্পর্কে বেশী বেশী করে জানা মুসলিম জাতির জন্য বড় একটি সুসংবাদ। সে হবে কুরাইশ বংশের, এবং আমার পরিবারের একজন। অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে, "ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমন ঘটবে, সবাই শুধু তাঁর সম্পর্কে কথা বলবে, শুধু তাঁকেই ভালবাসবে এবং মাহদী (আঃ) ছাড়া কিছুই আলোচনা করবে না” (আল বুরহান ফি আলামত আল মাহদী, পৃষ্ঠাঃ ৩৩)। আমাদের নবী (সাঃ) বলেছেন, "যখন ইমাম মাহদী (আঃ) আসবেন, সবাই এই মহান ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করবেন"। নবী (সাঃ) ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমনের সম্পর্কিত যে সকল নিদর্শনাদি উল্লেখ করেছেন, তা আমাদের সময়ে দৃশ্যমান হচ্ছে এবং সবাই মাহদী (আঃ) এর সম্পর্কে আলোচনা করছে।
প্রকৃতপক্ষে যদি কোন বিষয় পরিত্যাজ্য হিসাবে বিবেচিত হত, তাহলে বদিউজ্জামান এটা “গোপনীয়” বলে তার বিভিন্ন লেখায় প্রকাশ করতেন না এবং এটা মুদ্রিত হত না। বদিউজ্জামান তার কোন একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, "আমি কোন কোন বিষয় গোপনীয় হিসাবে বিবেচনা করি, এবং সেক্ষেত্রে তার প্রকাশনা নিষিদ্ধ হিসাবে গণ্য করি" (বদিউজ্জামান ও তার ছাত্র, বিচার ও আত্মরক্ষা)। বদিউজ্জামানের মতে, গোপন বিষয় অপ্রকাশিতই থাকবে। কিন্তু ইমাম মাহদী (আঃ) এর বিষয়টি তার সম্পূর্ণ বিপরীত। বদিউজ্জামান এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখা প্রকাশ করেছেন, ফলে বিষয়টি সর্বসমক্ষে প্রচারিত হয়েছে। ফলে প্রমাণিত হয় যে, এটি গোপন রাখার মত কোন বিষয় নয়। কার্যত এই প্রবন্ধটি মানুষ বছরের পর বছর ধরে পাঠ করছে এবং বিস্তারিত জানছে। তাই বলা যায়, বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশের উপযুক্ত, এটি গোপন রাখার মত কোন বিষয় নয়।
যদিও বদিউজ্জামানের মতামত এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট, কিছু সংখ্যক লোক এর সাথে বহু মিথ্যা ও ভ্রান্ত তথ্য যোগ করে এই ভুল ধারণাকে সঠিক বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন। বদিউজ্জামানের কোন একটি বক্তব্য এমনি বিভ্রান্তকরভাবে জনসমক্ষে উপস্থাপিত করা হয়েছেঃ "আমার ভ্রাতৃবৃন্দের দ্বিতীয় ভুলটি হল যে, আমার কিছু অসহায় ভাইদের জন্য তারা একটি মারাত্মক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটি এমন একটি দল যারা প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিকভাবে আলোকিত শিষ্য। তারা ধর্মের একনিষ্ঠ সেবক"। যদিও এ দুটি বিভ্রান্তিকর বিষয় কোনক্রমেই প্রবন্ধে উল্লেখিত বিষয়বস্তু অথবা ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে কোন ক্ষতি করতে সমর্থ হয়নি তবে এটা রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর বিষয় হিসাবে মুদ্রিত হওয়ায় তাঁর সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় হতে কোন আধ্যাত্মিক ও মহান কোন ব্যক্তিত্ব ও চিরস্থায়ী সত্য কখনো পার্থিব গুরুত্বহীন পরিচিতি লাভ করতে পারে। ফলশ্রুতিতে এটা সঠিক হবে না যে, যে ব্যক্তি আগমন করবেন এবং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করবেন-এ ব্যাপারে প্রবন্ধটির অপব্যবহার কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। তা হবে ক্ষতিকারক এবং প্রকৃত সত্য জানা থেকে ঈমানদারদের দৃষ্টি আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে। যেহেতু আধ্যাত্মিক বিষয় সম্পর্কে তাদের জ্ঞান খুবই সীমিত, এর ফলে এমনও হতে পারে নিশ্চিত সন্দেহাতীত বিষয়টিও বিতর্কিত হয়ে পড়বে এবং এমনকি কোন কোন বিচ্ছিন্ন মতামত যা আংশিক সত্য, তাই প্রকৃত সত্য হিসাবে উপস্থাপিত হবে। তাই কঠোর প্রমাণিত সত্য ও ঘোর নাস্তিক্যবাদিতা কমজোর ঈমানদারদের মধ্যে দেখা যাবে না। রাজনৈতিক নেতৃত্ববৃন্দ ও ধর্মীয় আলেমগণ বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে সন্দেহের মধ্যে পড়ে যাবেন, তাই এটা সঠিক হবে না, যাতে এই প্রবন্ধে বিতর্কিত তথ্য দেওয়া হয়। তাই তার সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি পুনরুজ্জীবনকারী (সংক্ষেপিত)।
১৩ শতকের মুজাহিদ বা সংস্কারক বদিউজ্জামান সাইয়েদ নুসরী তার বিভিন্ন লেখনীতে মুসলমানদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমন এবং সমগ্র বিশ্বে ইসলামিক মূল্যবোধের প্রাধান্যে তাঁর ভূমিকার কথা বর্ণনা করেছেন। অনেকে মনে করেন যে, ইমাম মাহদী (আঃ) এর সম্পর্কে প্রকাশ্যে আলোচনা করা সঠিক নয় বা এটি আপত্তিকর। এ ব্যাপারে বদিউজ্জামান বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে মাহদী বিষয়ক আলোচনা ব্যাপক, বিস্তৃত এবং গোপনে আলোচনার পরিবর্তে প্রকাশ্যে বা জনসমক্ষে আলোচনা করা উচিত।
বদিউজ্জামানের মতে, গোপন বিষয় অপ্রকাশিতই থাকবে, কিন্তু ইমাম মাহদী (আঃ) এর বিষয়টি তার সম্পূর্ণ বিপরীত। বদিউজ্জামান এ বিষয়ে তাঁর ‘রিসালত আল নূর’ বা রিসালেত-ই-নূর সংগ্রহাবলীতে বিস্তারিত লেখা প্রকাশ করেছেন, ফলে বিষয়টি সর্বসমক্ষে প্রচারিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, এটি গোপন রাখার মত কোন বিষয় নয়। কার্যত এই প্রবন্ধগুলো মানুষ বছরের পর বছর ধরে পাঠ করছে এবং বিস্তারিত জানছে। বদিউজ্জামান উল্লেখ করেছেন যে, আখেরী জমানার সবচেয়ে নিকৃষ্ট সময়ে আল্লাহ তা'আলা একজন মহালোকিত ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক, সবচেয়ে বড় সংস্কারক, একজন সুশাসক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাদাতা, যিনি রাসূল (দঃ) এর বংশ থেকে আগমন করবেন।