📄 হযরত ঈসা (আঃ) এর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে আল হাদীস
হযরত ঈসা (আঃ) হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর ইমামতিতে নামাজ আদায় করবেনঃ
জেরুজালেমে ইমাম মাহদী (আঃ) যখন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে যাবেন, তখন হযরত ঈসা (আঃ), ইমাম মাহদী (আঃ) কে ঈমানদারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেন। হাদীস অনুযায়ী, হযরত ঈসা (আঃ) ইমাম মাহদী (আঃ) এর কাঁধে হাত রেখে বলবেন, “এ নামাজে ইমামতি করার জন্য আপনি নির্দেশিত”। তখন হযরত ঈসা (আঃ) এবং অন্যান্য ঈমানদাররা ইমাম মাহদী (আঃ) এর ইমামতিতে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। এ সময় দাজ্জালের সশস্ত্র রক্ষীবাহিনী মাহদী (আঃ) এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে ও তাঁর কার্যে বাধা প্রদান করার চেষ্টা করবে, কিন্তু আল্লাহর কুদরতে সত্য জয়যুক্ত হবে। যখন দাজ্জালের আগমন ঘটবে, তখন মাহদী (আঃ) তার বিরোধিতা করবেন এবং হযরত ঈসা (আঃ) এর সহযোগিতায় চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে।
📄 হযরত ঈসা (আঃ) এর পরিচয়
হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর সাথে হযরত ঈসা (আঃ) এর সাক্ষাৎ হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি ইসলাম ধর্মের সার্বিক নৈতিক মূল্যবোধ পুনঃসংস্থাপন করবেন। পৃথিবীতে শান্তি, কল্যাণ ও পবিত্রতা বিরাজ করবে, যা ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি। পুরাতন এবং নতুন বাইবেলে (ইসালে) উল্লেখিত আছে যে, জেসির (হযরত দাউদ (আঃ) এর পিতার নাম) বংশধারায় এক সত্য প্রকাশিত হবে। এর শাখা থেকে একটি ফল আত্মপ্রকাশ করবে, যার মধ্যে আল্লাহর রূহ বিকশিত হবে। যার মধ্যে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বুদ্ধিবৃত্তি, উপদেশ, শক্তি এবং খোদাভীতি বিদ্যমান থাকবে। তিনি খোদাভীতিতে আপ্লুত থাকবেন। তিনি ন্যায়নীতির সাহায্যে বিচার করবেন এবং পৃথিবীতে দরিদ্রদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।
জেরুজালেমে ইমাম মাহদী (আঃ) যখন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে যাবেন, তখন হযরত ঈসা (আঃ), ইমাম মাহদী (আঃ) কে ঈমানদারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেন। হযরত ঈসা (আঃ) ইমাম মাহদী (আঃ) এর কাঁধে হাত রেখে বলবেন, “এ নামাজে ইমামতি করার জন্য আপনি নির্দেশিত”। তখন হযরত ঈসা (আঃ) এবং অন্যান্য ঈমানদাররা ইমাম মাহদী (আঃ) এর ইমামতিতে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। তিনি হবেন সত্য এবং ন্যায়ের প্রতীক, যিনি দুষ্ট ও অসৎ ব্যক্তিদের প্রভাব নির্মূল করবেন।
📄 উপসংহার
এই পুস্তকে আমরা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর হাদীসসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। যে সব হাদীসে হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমনের নিদর্শনাদি বর্ণনা করা হয়েছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছি। এসব হাদীসসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, আখেরী জমানায় একজন মহামানব আগমন করবেন। তাঁর বিশেষ ধরনের বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে যাতে তাঁকে সহজেই চেনা যায়।
আমাদের নবী (সাঃ) কিছু কিছু হাদীসে ইমাম মাহদী (আঃ) এর নৈতিক মূল্যবোধ ও তাঁর চেহারা মোবারকের বিস্তারিত তথ্য বর্ণনা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর নৈতিক মূল্যবোধ আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনুরূপ হবে। তাঁর খোদাভীতি এবং ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও উচ্চ নৈতিকতা বজায় রাখার জন্য তিনি সর্বত্র প্রশংসিত হবেন এবং বিশ্ব মানবতার জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসাবে বিবেচিত হবেন। হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ব্যক্তি হবেন এবং এই দুনিয়া এবং আখিরাতের মুক্তিদূত হিসাবে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
আমরা বর্তমানে যে সময় অতিবাহিত করছি, এই ঐতিহাসিক মহা ঘটনা এই সময়ে সংঘটিত হতে যাচ্ছে, আমাদের মহানবী (সাঃ) যার সুসংবাদ আমাদেরকে দিয়েছিলেন। এ কারনেই পৃথিবীর সমগ্র মুসলিম জাতি, যারা ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমনের পর তাঁর সাথে থাকার গৌরব এবং সৌভাগ্য অর্জন করতে আগ্রহী, তারা অবশ্যই এই পুস্তকে প্রদত্ত তত্ত্ব ও তথ্যাদি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে এবং সতর্কতার সাথে পাঠ করবেন। এই বিশ্বে মুসলিম জাতিরই তাঁর আগমনের ভিত্তিভূমি প্রস্তুত করা এবং তাঁকে সাহায্য ও সহযোগিতা করার সবচেয়ে গুরুদায়িত্ব অর্পিত আছে। এর মাধ্যমেই ইসলাম তার মূল ধারায় ফিরে আসবে এবং কুরআনের নৈতিক মূল্যবোধ বিজয়ী হবে। হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসাবে তাঁর মহান ও পবিত্র কাজে তাঁকে সমর্থন করা ও সহযোগিতা করা বিশ্বমানবতার জন্য একটি বিরাট আশীর্বাদ ও মর্যাদার বিষয়।